আক্বীদা

যাদুবিদ্যা এবং ইসলাম

হিন্দুধর্ম, খ্রিষ্টানধর্ম এবং ইহুদি ধর্মের সাথে ইসলামের বিরোধ কোথায় এটা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু যাদুবিদ্যার সাথে ইসলামের বিরোধ কোথায় এটা আমরা অনেকেই জানি না। সত্যি বলতে যাদুবিদ্যার সাথে ইসলামের বিরোধ একেবারে মৌলিক পর্যায়ে। ইসলামে যাদু করা কুফুরী। এবং যাদুকরের শাস্তি মৃত্যুদন্ড।

শয়তানরা প্রচার করেছিল যে, হযরত সুলায়মান (আঃ) নবী ছিলেন না, বরং তিনি যাদুকর ছিলেন। তিনি এ যাদুর বলে জ্বিন, বাতাস, পশু-পাখি নিয়ন্ত্রণ করতেন। প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল হযরত সুলায়মানের উপর অপবাদ। হযরত সুলায়মান (আঃ) শয়তানদের যাদু সম্পর্কিত বই, কিতাব তার সিংহাসনের নিচে পুঁতে রেখেছিলেন এবং শয়তানরা সেখানে পৌঁছতে পারত না। পরবর্তীতে শয়তান মানুষদের দিয়ে সিংহাসনের নিচ থেকে বই গুলো বের করে এবং প্রচার করে দেয় যে, জদু হচ্ছে সুলায়মানের শাসনের মূলমন্ত্র।

মহান আল্লাহ তাদের এ ভ্রান্ত দাবিকে খন্ডন করেন।
সূরা আল বাক্বারাহ:102 – তারা ঐ শাস্ত্রের অনুসরণ করল, যা সুলায়মানের রাজত্ব কালে শয়তানরা আবৃত্তি করত। সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিল। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত। তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই তুমি কাফের হয়ো না। অতঃপর তারা তাদের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত, যদ্দ্বারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। তারা আল্লাহর আদেশ ছাড়া তদ্দ্বারা কারও অনিষ্ট করতে পারত না। যা তাদের ক্ষতি করে এবং উপকার না করে, তারা তাই শিখে। তারা ভালরূপে জানে যে, যে কেউ জাদু অবলম্বন করে, তার জন্য পরকালে কোন অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা আত্নবিক্রয় করেছে, তা খুবই মন্দ যদি তারা জানত।

হারুত মারুত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তাফসীর ইবনে কাসির দেখুন।

মানুষের মাঝে প্রচার হয়ে গেল যে, হযরত সুলায়মান (আঃ) যাদুকর ছিলেন। কিন্তু যাদুর অস্তিত্ব তার আগে থেকেই ছিল।

Magic শব্দটি magea যা একটি গ্রিক শব্দ magoi থেকে এসেছে। Magoi বলতে এক দল পার্সিয়ান যাজকদের বোঝাতো যারা Astrology চর্চা করত। কিন্তু যাদুর ইতিহাস আরো বেশি পুরোনো। মিশরে যাদুবিদ্যার শৈশব কেটেছে। অধিকাংশ যাদুর মূলে রয়েছে মিশর। মুসা (আঃ) কাহিনী থেকেও আমরা তার সত্যতা উপলব্ধি করতে পারি। আর এজন্য মহান আল্লাহ নবীকে মুসাকে মুজেজা হিসেবে লাঠি দিয়েছিলেন, যাতে তিনি তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।

প্যাগানিজম এবং জাদুবিদ্যার সম্পর্ক পিতা-পুত্রের মতো। তাই বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে যাদু মৌলিক উপাদান হয়ে উঠে।

সেল্টিক প্যাগানদের কাছে প্রকৃতি-ই হচ্ছে ঈশ্বর। আধুনিক যাদুবিদ্যায় রয়েছে সেল্টিক রুট। তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজন্য তারা গাছ, বাতাস, পানি, আগুন, মাটি এগুলোকে সম্মান করে। এরা Pantheism বা সর্বেশ্ববাদে বিশ্বাসী। এদের কাছে প্রকৃতিই হল ঈশ্বর। ঈশ্বর প্রকৃতির বাইরের কোনো সত্তা নয়। সবকিছুতেই ঈশ্বর বা সবকিছুই ঈশ্বর। যাদুবিদ্যার মৌলিক রসদ হল এগুলো।

খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শতাব্দীতে ‘আজীবিক’ নামে এক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। ভারতীয় দর্শনে এদের গুরুত্ব রয়েছে। এরা ভারতীয় দর্শনে বস্তুবাদী মত পোষণ করত। এরা বিশ্বাস করত সৃষ্টির মূলে চারটি উপাদান রয়েছে- মাটি, পানি, আগুন, বাতাস। প্রাচীন গ্রিকরাও এটা বিশ্বাস করত। এদের অণুবাদীও বলা হয়। এটাও প্যাগানিজমের আরেকটি রূপ, তবে একটু ভিন্ন কারণ এরা আত্মায় বিশ্বাস করত না। এবং যাদু প্রয়োগের জন্য এ চার উপাদান জরুরি।

এবার মূল কথায় আসি। যাদুবিদ্যায় আসলে কি এমন করা হয় যার ফলে এটা চর্চা করা কুফুরি। প্রথমত ঈমান থাকা অবস্থায় যাদু করা সম্ভব নয়। যাদু করতে হলে প্রথমে অবিশ্বাসী হতে হয়। এবং যাদুমন্ত্র গুলো সবই কুফুরি শব্দ।

যাদুর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ করানো যায়, যা আল্লাহ কুরআনেও উল্লেখ করেছেন। অবৈধ প্রেম, সম্পদ অর্জন যাবতীয় খারাপ কাজে যাদুর ব্যবহার রয়েছে। যাদুতে কী ধরণের কুফুরী করতে হয় তার উদাহরণ দিচ্ছি:

নতুন প্রেম বা ভালবাসা পাওয়ার ক্ষেত্রে পঠিত মন্ত্র:
Earth, Water,Air, Fire,
Bring me ****’s true love as I desire.
And let it be done that it harm no one.

আরেকটি দেখুন:
Earth, Air, Fire & Water,
Spirit of the elements be with me.
যারা তাওহীদ সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন তারা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন কী ধরণের কুফুরি আকিদা পোষণ করতে হচ্ছে।
সুতরাং যাদু দেখা কিংবা যাদুভিত্তিক কোনো অনুষ্ঠান কিংবা সংস্কৃতি থেকে আমাদের অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

আরেকটি মূল্যবান তথ্য হল, যাদুর জন্য মোমবাতি জরুরি উপাদান। এটা ছাড়া যাদু করাই যায় না বলা চলে। বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় বিভিন্ন রঙের মোমবাতি ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে অনেক চেতনাধারীদের দেখা যায়, মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোক শোভাযাত্রা করে। এটা দ্বারা তারা কাকে সন্তুষ্ট করতে চাইছে? শয়তান!!!

উৎসঃ ফেসবুক

মতামত দিন