ইসলামী শিক্ষা

রমযান পরবর্তী করণীয়

এক এক করে বিদায় নিল মহান বরকতের মাস, এ মাসে পেয়েছি অনেক শিক্ষা। পেয়েছি অনেক প্রশিক্ষণ। পারব কি সেগুলো ধরে রাখতে? আমাদের কি আছে চেতনা? যে প্রত্যয় ও গাড় মনোবল নিয়ে শুরু করেছিলাম মাহে রমাযান।

একটু ভেবে দেখবেন কি?

কি পেলাম রমযান মাসে?

পেয়েছি অনেক আনন্দ ও ইবাতদের মোহ।

থাকবে কি সে চেতনা?

একটু নিজেকে প্রশ্ন করুন, রমাযান কি একটি বাৎসরিক আনুষ্ঠিকতার নাম নাকি প্রশিক্ষণের মাস?

আসলে ভেবে দেখুন! আপনি হয়ত মনে করছেন,এ বছর রমাযান যা পারলাম করলাম, আগামী রমাযান পেলে এ করব, সে করব কত কি??

আপনি কি জানেন, আগামীতে সুযোগ পাবেন?

না না না, আশা করতে পারেন কিন্তু গ্যারান্টি দিতে পারেন না।

তাহলে কি আমরা সদ্য বিদায়ী রমাযানের শিক্ষা ও আমল অব্যাহত রাখব?

জী! অবশ্যই আপনি রামাদানের বাড়তি আমল পরবর্তী মাসে ধরে রাখুন।

যদি পারেন, তবেই বুঝবেন আপনি বড় সফল।

এবার তাহলে আত্মাকে প্রশ্ন করি রমাযানে আমরা অন্য মাসের তুলনায় বাড়তি আমল কি কি করেছি?

জ্বী! আপনি রমাযানে মৌলিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের সাথে সাথে দৈনিক ১২ রাকাত সুন্নাতে মুআক্কাদাহ আদায় করতেন।

নিয়মিত সালাত আদায় করতেন।

নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত করতেন।

সর্বদা যিকির করার চেষ্টা করতেন।

সর্বোপরি মিথ্যা পরিহার করতেন।

দিনে সিয়াম থাকতেন।

সর্বদা যাবতীয় অপকর্ম থেকে বিরত থাকতেন।

কিয়াম বা তারাবীর সালাত পড়তেন।

দান সাদাকাহ করতেন।

অন্যকে সম্ভবপর ইফতার করাতেন।

>ভালো কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন ইত্যাদি।

এবার বলুন! উপরের কোন কাজগুলো পরবর্তীতে আপনি করতে পারবেন না?

আমরা আশা করি সবগুলোই পালন করা সম্ভব। যদি আপনি সত্যিকার রমাযানের প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত হন।

জী! আমরাও খুব ভালো জানি যে অনেক সময় পারেন করা হয় না।

এখানেই আমার পরামর্শ। যা রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রিয় আমল সেটাই যা নিয়মিত করা হয়।

যেমন-কিয়াম্মুল লাইল নফল সালাত। আমরা যে আগ্রহ ও ভালোবাসা নিয়ে রমাযানে আদায় করতাম। তা আমরা পরবর্তীতেও নিয়মিত পালন যেন করতে পারি।

কেননা এ সালাতটি ফরয সালাতের পর সবচেয়ে প্রিয় সালাত আল্লাহর কাছে। আর এ সালাত আদায় করা খুবই সহজ। বলব কি?

জী! আপনার উপর ৫ ওয়াক্ত সালাত সময়মত আদায় করা ফরয। আর সে হিসেবে আপনি প্রতিদিন ফজর সালাত আদায় করার জন্য ঘুম থেকে উঠবেন। তাই ফজরের এক বা আধা ঘণ্টা আগে উঠে কিয়ামুল লাইল করতে সহজেই পারেন।

মানুষ যা অভ্যাস করে, আল্লাহ তা তার জন্য সহজ করে দেন।

আর এজন্যই রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি বলেছেন,

بَاب الْقَصْدِ وَالْمُدَاوَمَةِ عَلَى الْعَمَلِ مُحَمَّدُ بْنُ عَرْعَرَةَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَيُّ الأَعْمَالِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ قَالَ أَدْوَمُهَا وَإِنْ قَلَّ وَقَالَ اكْلَفُوا مِنْ الأَعْمَالِ مَا تُطِيقُونَ. [1]

৬৪৬৫. ‘আয়িশাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় ‘আমাল কী? তিনি বললেনঃ যে ‘আমাল সদাসর্বদা নিয়মিত করা হয়। যদিও তা অল্প হয়। তিনি আরও বললেন, তোমরা সাধ্যের অতীত কাজ নিজের উপর চাপিয়ে নিও না।[1]

(আধুনিক প্রকাশনী- ৬০১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০২১)গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)، অধ্যায়ঃ ৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)، হাদিস নম্বরঃ ৬৪৬৫

[ এখানে পরস্পর কয়েকটি হাদীসে সৎ আমলের ধারাবাহিকতা বা স্থায়ীত্বের উপর উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে, যদিও সৎ আমলগুলো অল্প হয়। (ফাতহুল বারী)]

মনে রাখতে হবে ইবাদত কোন দুনিয়ার চাকুরী ন্যায় না। বরং যার কোন ছুটি নাই। বিবেক থাকা পর্যন্ত আমল করতেই হবে। আল্লাহ বলেন,
وَ اعۡبُدۡ رَبَّکَ حَتّٰی یَاۡتِیَکَ الۡیَقِیۡنُ ﴿۹۹﴾

আর আপনার মৃত্যু আসা পর্যন্ত আপনি আপনার রবের ইবাদাত করুন [১]।

[১] এখানে কুরআন ব্যবহার করেছে (الْيَقِيْنُ) শব্দটি। সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম শব্দটির তাফসীর করেছেনঃ মৃত্যু [বুখারীঃ ৪৭০৬] কুরআন ও হাদীসে ইয়াকীন’ শব্দটি মৃত্যু অর্থে ব্যবহার হওয়ার বহু প্রমাণ আছে। পবিত্র কুরআনে এসেছেঃ

“তারা বলবে, আমরা মুসল্লীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না, আমরা অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করতাম না, এবং আমরা বিভ্রান্ত আলোচনাকারীদের সাথে বিভ্রান্তিমূলক আলোচনায় নিমগ্ন থাকতাম। আমরা কর্মফল দিন অস্বীকার করতাম, শেষ পর্যন্ত আমাদের কাছে মৃত্যু এসে যায় ” [সূরা আল-মুদ্দাসসিরঃ ৪৩-৪৭] অনুরূপভাবে হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান ইবনে মায’উন এর মৃত্যুর পর তার সম্পর্কে বলেছেনঃ “কিন্তু সে! তার তো (الْيَقِيْنُ) তথা মৃত্যু এসেছে, আর আমি তার জন্য যাবতীয় কল্যাণের আশা রাখি। [বুখারীঃ ১২৪৩]

সুতরাং বুঝা গেল যে, এখানে (الْيَقِيْنُ) শব্দের অর্থ মৃত্যুই। আর এ অর্থই সমস্ত মুফাসসেরীনদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। সে হিসেবে প্রত্যেক মানুষকে মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহর ইবাদত করে যেতে হবে। যদি কাউকে ইবাদত থেকে রেহাই দেয়া হতো তবে নবী-রাসূলগণ তা থেকে রেহাই পেতেন কিন্তু তারাও তা থেকে রেহাই পাননি। তারা আমৃত্যু আল্লাহর ইবাদত করেছেন এবং করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং যদি কেউ এ কথা বলে যে, মারেফত এসে গেলে আর ইবাদতের দরকার নেই সে কাফের। কারণ সে কুরআন, হাদীস এবং ইজমায়ে উম্মাতের বিপরীত কথা ও কাজ করেছে। এটা মূলতঃ মুলহিদদের কাজ। আল্লাহ আমাদেরকে তাদের কর্মকাণ্ড থেকে হেফাযত করুন। আমীন।

#সর্বোপরি_আল্লাহ_আমাদেরকে_রমাযানের_শিক্ষা_পালন_করার_তাওফিক_দান_করুন

রচনায় : যায়নুল আবেদীন বিন নুমান

শিক্ষার্থী, মদীনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদিআরব।

২৪-৫-২০২০

সূত্র

মতামত দিন

কমেন্ট