অন্যান্য

স্বাগতম মাহে রামাদান

গতকাল সন্ধ্যায় এক ভাবীর বাসায় বেড়াতে গিয়ে দেখি হুলুস্থুল অবস্থা! কারন জিজ্ঞেস করায় বললেন, রামাদান আসছে, তাই ঘর সাফ করছি! ঘরের রঙ করানোর কাজ বাকি ছিল, সেটাও রোজা আসার আগেইই উনি তাড়াহুড়া করে শেষ করছেন।

খুব ভাল লাগল এসব দেখে! আসলেই তো, রামাদান তো এমন এক মাস যাকে স্বাগত জানাতেই হয়!

যে কোন বাসায় কোন উৎসব হলে, তার বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়, তখন ঐ বাসায় কেউ বেড়াতে গেলেই উৎসবের আবহ টের পেয়ে যায়! বাসার লোকজনও আগে থেকে তৈরি হতে থাকে উৎসবের সেই কাঙ্খিত দিনগুলোর জন্য।

মুসলমানদের জন্য শ্রেষ্ঠ মাস রামাদান আসার আগেও কি এমন প্রস্তুতি নেয়া যায় না? যেন ঘরের সকলেই অনুভব করতে পারেন, বছর ঘুরে শ্রেষ্ঠ মাসটি আবার এসে হাজির হয়েছে আমাদের দোড়গোড়ায়।

আজকের লেখায় থাকছে রামাদানকে স্বাগত জানানোর কিছু টিপস:

*রাসুল (সাঃ) এর সুন্নত হল রামাদানের আগে আগে এই মাস সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ম কানুন নিয়ে আশে পাশের মানুষদের সাথে বেশি বেশি আলোচনা করা। ঘরের সবার সাথে আমরা এখন থেকেই সিয়ামের গুরত্ব ও নিয়ম কানুন নিয়ে কথা বলা শুরু করতে পারি ইন শা আল্লাহ্‌।

*আমাদের অনেকেই সালাতের সময় সারাদিনের ঘর্মাক্ত, মসলার গন্ধ যুক্ত কাপড় পড়ে সালাত পড়েন, আবার কেউ কেউ আছেন সবচেয়ে মলিন ওড়নাটি সালাতের জন্য রেখে দেন।

যদি সম্ভব হয় সুন্দর কাপড় যোগাড় করুন, ঘরে না থাকলে বানিয়ে নিন। বিশ্বজাহানের মালিকের সামনে ইচ্ছাকৃত ভাবে সবচেয়ে খারাপ কাপড় পড়ে কি দাঁড়ানো উচিত?

* ঘরের শিশুদের সালাতের জন্য উৎসাহিত করতে নতুন জায়নামাজ কিনে দিতে পারেন।

*মেয়ে শিশুদের মনকাড়া কাপড়ের খিমার ও ছেলেদের নতুন জোব্বা বানিয়ে দেয়া যায়। নতুন কাপড় পেলে তাদের নামাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে।

*সালাতের সময় গায়ে আর জায়নামাজের সেজদার যায়গায় একটু আতর লাগিয়ে নিলে, মনে স্নিগ্ধ ভাব আসবে।

*শরীরেও সুগন্ধি লাগিয়ে নিতে পারেন সালাত শুরুর আগে। তবে এক্ষেত্রে নারীদের খেয়াল রাখতে হবে, তাদের ব্যবহৃত সুগন্ধির সুবাস যেনো কোন পর পুরুষ না পায়। নারীরা শুধু মাহরামের সামনে আতর লাগাতে পারবেন।

* ঘরের ভারী চাদর ইত্যাদি রোজার আগে ধুয়ে নিলে, রোজা রেখে কাজের প্রেশার কম পড়বে।

*বাসার বিভিন্ন কামরা, বাথরুম, রান্নাঘর উত্তম রুপে পরিষ্কার করে নিলে ঘরে একটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।

* যাদের ঈদ শপিং আর কাঁচা বাজার করা শেষ, তারা এখন ফ্রোযেন খাবার বানিয়ে বানিয়ে ফ্রিজে জমা করা শুরু করতে পারেন।

* এছাড়া স্বাস্থ্যকর ইফতারি বানানোর জন্য এখন থেকেই মানসিক প্রস্তুতি গ্রহন করুন ও ঘরের সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করুন যে এ বছর রান্নাঘরে কম সময় দেয়া হবে ও হেলদি ডায়েট অনুসরণ করা হবে ইন শা আল্লাহ্‌।

* বাসায় সবার তিলাওয়াত করার জন্য পর্যাপ্ত কুরআন না থাকলে, এখনই জোগাড় করে নিন, সাথে অন্যান্য ধর্মীয় কিছু বইও স্টকে রাখতে পারেন।

রামাদানকে স্বাগত জানানোর জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করার মূল উদ্দেশ্য হল, যেন ঘরের বাচ্চা থেকে বুড়ো, সবাই বুঝতে পারে যে আল্লাহ্‌র ইবাদত করার খুবই বিশেষ একটি সময় আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে এবং সবার মাঝে যেন রামাদানের অপেক্ষায় উত্তেজনা ও আনন্দ সৃষ্টি হয়।

আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যেন আমাদের সবাইকে অনেক গুলো রামাদান মাস প্রত্যক্ষ্য করার ও বছরের অন্যান্য মাসের চেয়ে এর আলাদা গুরত্ব অনুধাবন করার তৌফিক দেন। আমিন।

———————

স্বাগতম মাহে রামাদান

হাসনীন চৌধুরী

মতামত দিন