সলাত সাম্প্রতিক বিষয়

মাস্ক পড়ে সালাত আদায়ের বিধান

এ প্রসঙ্গে নিম্নে কয়েকজন বড় আলেমের ফতোয়া তুলে ধরা হল:

◯ ১. সালাতে মুখ ঢাকা জায়েজ কি না এ বিষয়ে শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন:

“কোন কারণ ছাড়া সালাতে মুখ ঢাকা মাকরূহ”। (ইবনু বায, মাজমুঊল ফাতাওয়া, ১১/১১৪।)

শায়েখের এ কথা দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, বিশেষ কোনো কারণ পাওয়া গেলে সালাতে মুখ ঢাকা মাকরূহ নয় বরং জায়েজ।

◯ ২. এক প্রশ্নের জবাবে ইবনু উছায়মীন (রাহঃ) বলেছেনঃ

“সালাতে মুখ ঢাকা মাকরূহ। কিন্তু যদি প্রয়োজন দেখা দেয় যে, কেউ হয়তো সর্দিতে আক্রান্ত তাহলে তার মুখ ঢাকার প্রয়োজন তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই। কেননা সে মা’যুর (অপারগ)।

এমনিভাবে কারো যদি অ্যালার্জি থাকে এবং ঠাণ্ডা বা ধূলাবালি অথবা বাতাসের কারণে তার সমস্যা হয় তাই চাদর দিয়ে সে মুখ ঢেকে রাখে তাহলে এটাও একটা প্রয়োজন। সুতরাং তা তার সালাতে কোন প্রভাব ফেলবে না।

উত্তরের লিংক: 

– ইবনু আব্দুল বার রাহিমাহুল্লাহও বলেছেনঃ প্রয়োজন দেখা দিলে এ কারাহাত (মাকরূহ হওয়ার বিধান) দূর হয়ে যাবে। (আল-মুগনী)

◯ ৩. প্রশ্নকর্তা: করোনার ভয়ে মাস্ক পড়ে সালাত আদায় করার বিধান কি?

উত্তর দিচ্ছেন ড. আব্দুল আযীয আর-রাইস হাফিযাহুল্লাহ:

“সালাতে মুখ বা নাক-মুখ উভয়টি ঢাকা মাকরূহ। এ বিষয়ে আবু দাউদে আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে একটি হাদীস এসেছে। তা হল:

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত আদায় করার সময় ‘সাদল’ করতে ও কারও মুখমণ্ডল ঢাকতে নিষেধ করেছেন।” (আবু দাঊদ/৬৪৩০

কিন্তু হাদীসটি মারফু (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মুখ নি:সৃত বাণী) হিসেবে ছহীহ নয়। তবে মাওকুফ (সাহাবীর বক্তব্য হিসেবে) ছহীহ। তবে এ বিষয়ে সাহাবী ও তাবেঈদের থেকে আছার (উক্তি ও মতামত) রয়েছে।

সুতরাং সালাতে মুখ ঢাকা মাকরূহ। তবে মূলনীতি হচ্ছেঃ “প্রয়োজনের সময় মাকরুহ দূর হয়ে তা বৈধ হয়ে যায়।”

সুতরাং যখন সাব্যস্ত হয় যে, মাস্ক পরিধান রোগ-ব্যাধি থেকে হেফাজত থাকার ক্ষেত্রে উপকারী এবং মুসল্লী তা পরিধানও করে তাহলে ঠিক আছে। কেননা, প্রয়োজনের সাথে কারাহাত (মাকরূহ হওয়ার বিধান) দূর হয়ে গেছে। অথবা যদি সাব্যস্ত হয় যে, মাস্ক পরিধান আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে রোগ বিস্তার না হওয়ার ক্ষেত্রে উপকারী অতঃপর সে তা পরিধান করে তাহলে কোনরকম কারাহাত (মাকরূহ হওয়া) ছাড়াই তার জন্য এটা পরিধান করা বৈধ।

উত্তরের লিংক: 

অনুবাদক: Azharul Islam

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারাহ।

Source

মতামত দিন