সিয়াম

তাক্বওয়া (পর্ব-০১)

দরজায় কড়াঘাত করছে রমাযান মাস, এই রমাযান মাসকে বলা হয় “তাক্বওয়া” অর্জনের মাস, যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, হে ঈমানদারগণ তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে যেমনটি ফরয করা হয়েছিলো তোমাদের পুর্ববর্তীদের উপর, যাতে করে তোমরা তাক্বওয়া অর্জন করতে পারো। (সুরা বাকারা: ১৮৩)

সুতরাং রমাযান আসার পুর্বেই “তাক্বওয়া” কি সে সম্পর্কে জানা আমাদের একান্ত প্রয়োজন। আজকের লিখাই সেসম্পর্কে আলোকপাত করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

#”তাক্বওয়া” শব্দের আভিধানিক অর্থ: الخشية والخوف অর্থাৎ ভয়-ভীতি।

পরিভাষায়: শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর আনুগত্য করা। (ক্বমুসুল ফিকহ: ৩৮৬ পৃ.), আল্লাহর ভয়ে তার নির্দেশিত বিষয় মেনে চলা ও নিষেধকৃত বিষয় থেকে বিরত থাকা। (মুজামুল ওয়াসিত : ২/১০৫২)

সুতরাং যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাষ স্থাপন করেছে অর্থাৎ যারা নিজেদেরকে মুমিন, মুসলিম হিসেবে দাবি করে তাদের তাদের সকলের জন্য আবশ্যক আল্লাহকে ভয় করে তার নির্দেশিত বিষয় যথাযথভাবে মেনে চলা ও নিষেধকৃত বিষয় থেকে বিরত থাকা।

মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে আল্লাহকে ভয় করার জন্য একাধিক স্থানে নির্দেশনা এসেছে, তন্মধ্যে اتَّقُوا اللَّهَ (নির্দেশমুলক শব্দ) কুরআনে ৯টি স্থানে এসেছে, যেমন-

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যেমনভাবে ভয় করা উচিত, আর তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (সুরা আলু ইমরান: ১০২)

এছাড়াও (সুরা আল-বাকারাহ: ২৭৮, সুরা আন-নিসা: ১৩১, সুরা আল-মায়েদাহ: ৩৫, ১১২, সুরা আত-তাওবা: ১১৯, সুরা আল-আহযাব: ৭০, সুরা আল-হাদীদ: ২৮, সুরা আল-হাশর: ১৮) এসকল স্থানে নির্দেশমুলক শব্দ ব্যবহার করে আল্লাহকে ভয় করার জন্য বলা হয়েছে।

আল্লাহর নির্দেশনার সাথে সাথে তার প্রেরিত রাসুল মুহাম্মাদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)ও তাক্বওয়া অর্জন অর্থাৎ আল্লাহকে ভয় করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন:

আবু যার আল-গিফারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছেন, اتَّقِ اللَّهَ حَيْثُمَا كُنْتَ তুমি যেখানেই থাকোনা কেন আল্লাহকে ভয় করো। (সুনন আত তিরমিযী: ১৯৮৭, ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন)

তিনি আরো বলেছেন, أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ আমি তোমাদেরকে তাক্বওয়া অর্জনের (অর্থাত আল্লাহকে ভয় করার)এবং তার নির্দেশসমুহ শুনার ও তা মেনে চলার জন্য নসীহাত করছি। (আবু দাউদ : ৪৬০৭, হাদীসটি সহীহ)

#তাকওয়া_অর্জনের_নির্দেশ_সকল_উম্মতের_জন্যই_ছিলো:

শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলা এই উম্মাতে মুহাম্মাদীকেই তাক্বওয়া অর্জন (আল্লাহকে ভয় করার) জন্য নির্দেশ দেননি বরং পুর্ববর্তী সকল উম্মতের জন্যও ছিলো সে নির্দেশ, যার বাস্তবায়ন করেছেন, যুগে যুগে প্রেরিত নাবী-রাসুলগণ। সেই

নাবী-রাসুলদের নিজ নিজ কওম (গোত্র)কে তাক্বওয়া অর্জনের নির্দেশনাগুলো আল্লাহ কুরআনে উল্লেখ করেছেন, যেমন:

১- #নুহ_(আলাইহিস সালাম):

{ وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ يَاقَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ أَفَلَا تَتَّقُونَ

আমি নুহকে তার সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম, সে বলেছিলো, হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ নেই, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় করবে না? (সুরা আল-মু’মিনুন: ২৩)

إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ نُوحٌ أَلَا تَتَّقُونَ

যখন তাদের ভাই নুহ তাদেরকে বলেছিল: তোমরা কি আল্লাহকে ভয় করবে না? (সুরা আশ শু’আরা: ১০৬)

২- #হুদ_(আলাইহিস সালাম):

وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا قَالَ يَاقَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ أَفَلَا تَتَّقُونَ

আর আদ জাতির কাছে (পাঠিয়েছিলাম) তাদের ভাই হুদকে, সে বলেছিলো: হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোন ইলাম নেই, তোমরা কি তাক্বওয়া অবলম্বন করবে না? (আল্লাহকে ভয় করবে না?) সুরা আল-আ’রাফ: ৬৫)

فَأَرْسَلْنَا فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ أَفَلَا تَتَّقُونَ

আর তাদের মাঝে তাদেরই একজনকে রাসুল করে পাঠিয়েছিলাম এই বলে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ নেই, তবুও কি তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে না? (সুরা আল-মু’মিনুন: ৩২)

إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ هُودٌ أَلَا تَتَّقُونَ

যখন তাদের ভাই হুদ তাদেরকে বলল- তোমরা কি আল্লাহকে ভয় করবে না? (সুরা আশ শু’ আরা: ১২৪)

৩- #স্বালেহ_(আলাইহিস সালাম):

إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ صَالِحٌ أَلَا تَتَّقُونَ* إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ

যখন তাদের ভাই স্বালিহ (আলাইহিস সালাম) বলেছিলো- তোমরা কি আল্লাহকে ভয় করবে না? আমি তোমাদের জন্য (প্রেরিত) বিশ্বস্ত রাসুল। (সুরা আশ শু’ আরা: ১৪২-১৪৩)

৪- #লুত_(আলাইহিস সালাম):

إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ لُوطٌ أَلَا تَتَّقُونَ * إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ

যখন তাদের ভাই লুত (আলাইহিস সালাম) তাদেরকে বলেছিলো, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় করবে না? আমি তোমাদের জন্য (প্রেরিত) একজন বিশ্বস্ত রাসুল। (সুরা আশ শু’আরা : ১৬১-১৬২)

৫- #শুআয়ব_(আলাইহিস সালাম):

إِذْ قَالَ لَهُمْ شُعَيْبٌ أَلَا تَتَّقُونَ * إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ

যখন শুআয়ব (আলাইহিস সালাম) তাদেরকে বলেছিলো, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় করবে না? আমি তোমাদের জন্য (প্রেরিত) একজন বিশ্বস্ত রাসুল। (সুরা আশ শু’ আরা : ১৭৭-১৭৮)

৬- #ইলয়াস_(আলাইহিস সালাম) :

وَإِنَّ إِلْيَاسَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ * إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَلَا تَتَّقُونَ

ইলয়াসও ছিলো অবশ্যই রাসুলদের একজন, তিনি যখন তার জাতিকে বলেছিলেন, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় করবে না? (সুরা আস সফফাত: ১২৩-১২৪)

৭- #মুসা_(আলাইহিস সালাম):

وَإِذْ نَادَى رَبُّكَ مُوسَى أَنِ ائْتِ الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ * قَوْمَ فِرْعَوْنَ أَلَا يَتَّقُونَ

স্বরণ করো, যখন তোমার প্রতিপালক মুসাকে ডাক দিয়ে বললেন, তুমি যালিম সম্প্রদায়ের কাছে যাও, ফেরাউনের সম্প্রদায়ের কাছে, তারা কি আল্লাহকে ভয় করে না? (সুরা আশ শু’আরা : ১০-১১)

৮- #মুহাম্মাদ_(সল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম):

قُلْ مَنْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ * سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ

বলো সাত আসমান ও মহান আরশের মালিক কে? তারা বলবে (এগুলোর মালিকানা) আল্লাহর, বলো, তবুও কি তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে না? (সুরা আল-মু’মিনুন: ৮৬-৮৭)

قُلْ مَنْ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَمَّنْ يَمْلِكُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَمَنْ يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَمَنْ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ فَسَيَقُولُونَ اللَّهُ فَقُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ

তাদের জিজ্ঞেস করুন, আকাশ এবং যমীন থেকে কে তাদের জীবিকার ব্যবস্থা করে? কিংবা শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কার মালিকানাধীন? আর মৃত থেকে জীবিতকে কে বের করেন, আর কে মৃতকে জীবিত থেকে কে বের করেন? যাবতীয় বিষয়ের শাসন ও নিয়ন্ত্রন কার অধীনস্থ? তারা বলে উঠবে, আল্লাহ। তাহলে তাদেরকে বলো, তুবুও কি তোমরা তাক্বওয়া অবলম্বন করবে না? (আল্লাহকে ভয় করবে না?) (সুরা ইউনুস : ৩১)

উপরোক্ত নির্দেশনা থেকে তাক্বওয়া অর্জনের অর্থাৎ আল্লাহকে ভয় করার জোরালো নির্দেশ পাওয়া গেলো, তাহলে আমরা কিভাবে তাকওয়া অর্জন করব?

তাক্বওয়া অর্জনের মাধ্যমসমুহ:

১. আল্লাহর ইবাদাত করা:

يَاأَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালকের ইবাদাত করো যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পুর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো। (সুরা আল-বাকারা: ২১) উল্লেখ্য যে, যিনি তাক্বওয়া অবলম্বন করেন তাকেই মুত্তাকি বলা হয়।

২. আল্লাহর দেয়া বিধানসমুহ যথাযথ ভাবে পালন করা:

وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ الطُّورَ خُذُوا مَا آتَيْنَاكُمْ بِقُوَّةٍ وَاذْكُرُوا مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

স্বরণ করো, যখন তোমাদের শপথ নিয়েছিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের উপর তুলে ধরেছিলাম, বলেছিলাম, আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি তা দৃঢ়তার সাথে গ্রহণ করো এবং তাতে যা আছে তা স্মরণ রেখো, যেন তোমরা তাক্বওয়া অর্জন করতে পারো। (সুরা আল-বাকারা: ৬৩)

وَإِذْ نَتَقْنَا الْجَبَلَ فَوْقَهُمْ كَأَنَّهُ ظُلَّةٌ وَظَنُّوا أَنَّهُ وَاقِعٌ بِهِمْ خُذُوا مَا آتَيْنَاكُمْ بِقُوَّةٍ وَاذْكُرُوا مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

স্মরণ করো, আমি যখন পাহাড়কে বানী ইসরাঈলদের উপর তুলে ধরলাম তা যেন একটা সামিয়ানা। তারা ভাবল, ওটা তাদের উপর বুঝি পতিত হবে। (এমত অবস্থায় তাদেরকে বললাম) তোমাদেরকে যা দিয়েছি তা শক্তভাবে ধারণ করো, আর তাতে যা আছে তা স্মরণ রেখো, যাতে তোমরা তাক্বওয়া অর্জন করতে পারো। (সুরা আল-আ’রাফ: ১৭১)

৩. আল্লাহর দেয়া নির্ধারিত বিধানের বাস্তবায়ন করা:

وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَاأُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

ক্বিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন নিহিত রয়েছে, হে জ্ঞানী সমাজ! যাতে করে তোমরা তাক্বওয়া অবলম্বন করতে পারো। (সুরা আল-বাকারা: ১৭৯)

৪. সিয়াম পালন করা:

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের প্রতি সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পুর্ববর্তীদের উপর ফরয করা হয়েছিলো, যাতে করে তোমরা তাক্বওয়া অর্জন করতে (মুত্তাকি হতে) পারো। (সুরা আল-বাকারা: ১৮৩)

৫. স্বিরাত্বল মুস্তাক্বীম তথা সঠিক পথের অনুরসণ করা:

وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

আর এটাই আমার সঠিক সরল পথ, কাজেই তোমরা তার অনুসরণ করো, আর নানান পথের অনুসরণ করো না, করলে তা তোমাদেরকে তার পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। এভাতে তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যাতে তোমরা তাক্বওয়া অর্জন করতে পারো (তাকে ভয় করে যাবতীয় পাপ থেকে বেঁচে বলতে পার) (সুরা আল-আনআম: ১৫৩)

৬. আল্লাহর আইনের লঙ্ঘন না করা:

ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ

অতঃপর রাতের আগমন পর্যন্ত তোমরা সিয়াম পুর্ণ করো, আর মসজিদে ইতিকাফ অবস্থায় তাদের সাথে সহবাস করো না। এসব আল্লাহর আইন, কাজেই এগুলোর নিকটবর্তী হয়ো না। আল্লাহ মানবজাতির জন্য নিজের আয়াতসমুহ বিস্তারিতবাবে বর্ণনা করেন, যাতে তারা তাক্বওয়া অর্জন করতে পারে (মুত্তাকি হতে পারে)। (সুরা আল-বাকারা : ১৮৭)

৭. পরকালের ভয়:

وَأَنْذِرْ بِهِ الَّذِينَ يَخَافُونَ أَنْ يُحْشَرُوا إِلَى رَبِّهِمْ لَيْسَ لَهُمْ مِنْ دُونِهِ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٌ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ

তুমি তা দিয়ে (অর্থাৎ কুরআন দিয়ে) তাদেরকে সতর্ক করো যারা ভয় করে যে, তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের দিকে একত্রিত করা হবে, যিনি ছাড়া তাদের জন্য কোন অভিভাবক নেই এবং সুপারিশকারী নেই, যাতে তারা তাক্বওয়া অর্জন করে (সংযত হয়ে চলে)। (সুরা আল-আনআম: ৫১)

৮. উপদেশ শুনা:

وَمَا عَلَى الَّذِينَ يَتَّقُونَ مِنْ حِسَابِهِمْ مِنْ شَيْءٍ وَلَكِنْ ذِكْرَى لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ

তাদের কোন কাজের হিসাব দেয়ার দায়-দায়িত্ব মুত্তাকীদের উপর নেই। কিন্তু উপদেশ দেয়া কর্তব্য যাতে ওরাও তাক্বওয়া অবলম্বন করে। (সুরা আল-আনআম: ৬৯)

وَإِذْ قَالَتْ أُمَّةٌ مِنْهُمْ لِمَ تَعِظُونَ قَوْمًا اللَّهُ مُهْلِكُهُمْ أَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا قَالُوا مَعْذِرَةً إِلَى رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ

স্মরণ করো, যখন তাদের একদল বলেছিলো, তোমরা এমন লোকদেরকে কেন নসীহাত করছো যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করবেন অথবা কঠিন শাস্তি দিবেন? নসীহাতকারীগণ বলেছিলো, তোমাদের প্রতিপালকের নিকট (দায়িত্ব পালন না করার) অভিযোগ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য এবং তারা যেন তাক্বওয়া অবলম্বন করে। (সুরা আল-আরাফ: ১৬৪)

৯. আল্লাহ প্রদত্ত সতর্কবাণীসমুহ মেনে চলা:

وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا وَصَرَّفْنَا فِيهِ مِنَ الْوَعِيدِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ أَوْ يُحْدِثُ لَهُمْ ذِكْرً

এভাবেই আমি কুরআনকে আরবী বাষায় নাযিল করেছি, আর তাতে সতর্কবাণী বিস্তারিতবাবে বিবৃত করেছি যাতে তারা আল্লাহকে ভয় করে অথবা তা হয় তাদের জন্য উপদেশ। (সুরা ত্বহা: ১১৩)

১০. বিভিন্ন দৃষ্টান্ত ও উপমা থেকে উপদেশ গ্রহণ করা:

{وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ (27) قُرْآنًا عَرَبِيًّا غَيْرَ ذِي عِوَجٍ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ } [الزمر: 27، 28]

আমি এই কুরআনে মানুষের জন্য সব রকমের দৃষ্টান্ত ও উপমা উপস্থিত করেছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে, আরবী ভাষায় (অবতীর্ণ) কুরআন, এতে নেই কোন বক্রতা (পেচানো কথা) যাতে তারা তাক্বওয়া অবলম্বন করতে পারে। (সুরা আয যুমার: ২৭-২৮)

সংকলন:

মোহাম্মাদ আলী গোদাগাড়ী

অধ্যায়নরত, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদীনা মুনাওয়ারাহ, সৌদি আরব।

Source

মতামত দিন