প্রবন্ধ

ইসলামের দৃষ্টিতে গুদামজাতকরণ

রচনায় : রাকিবুল হাসান বিন ইহসান

সহকারী শিক্ষক, আল-উসওয়াহ একাডেমি রাজশাহী

ইমাম ও খতিব, খরবোনা আহলেহাদীছ জামে’ মাসজিদ, বোয়ালিয়া, রাজশাহী ৬১০০।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য আকাশচুম্বী। বিশেষ করে পেঁয়াজের দাম মানুষের ক্রয় সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

এর মূল কারণ হচ্ছে গুদামজাতকরণ। আর এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যারা জাতি কষ্ট দেয়, তাদের জন্য হাদীছে কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।

صحيح لمسلم/١٦٠٥
عَنْ مَعْمَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : ” لَا يَحْتَكِرُ إِلَّا خَاطِئٌ “.

মা‘মার বিন আব্দুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ একমাত্র পাপাচারী ব্যক্তিই গুদামজাত করে থাকে।

ছহীহ মুসলিম, হাদিস হা/১৬০৫

গুদামজাত করা কোন ভালো চরিত্রের মানুষের কাজ নয়। আর কোন বস্তু গুদামজাত করা নিষেধ তাও হাদীছে বর্ণিত হয়েছে।

কি ধরনের পণ্য গুদামজাত নিষিদ্ধ:

سنن ابي داود/٣٤٤٧
عَنْ مَعْمَرِ بْنِ أَبِي مَعْمَرٍ، أَحَدِ بَنِي عَدِيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لاَ يَحْتَكِرُ إِلاَّ خَاطِئٌ ‏”‏ ‏.‏ فَقُلْتُ لِسَعِيدٍ فَإِنَّكَ تَحْتَكِرُ قَالَ وَمَعْمَرٌ كَانَ يَحْتَكِرُ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَسَأَلْتُ أَحْمَدَ مَا الْحُكْرَةُ قَالَ مَا فِيهِ عَيْشُ النَّاسِ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ الأَوْزَاعِيُّ الْمُحْتَكِرُ مَنْ يَعْتَرِضُ السُّوقَ ‏.‏

‘আদী ইবনু কা’বের(রাঃ) এক পুত্র মা‘মার ইবনু আবু মা‘মার (রাঃ) সুত্র থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি বলেন, রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জঘন্য অপরাধী ছাড়া কেউই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি (মূল্য বৃদ্ধির আশায়) গুদামজাত করে না। আমি (মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর) সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) -কে বলি, আপনি তো গুদামজাত করেন। তিনি বলেন, মা‘মারও গুদামজাত করতেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আমি আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, (কোন বস্তু) গুদামজাত করা নিষেধ? তিনি বললেন, মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আওযাঈ‘ (রহঃ) বললেন, গুদামজাতকারী হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে বাজারজাত করার পথে প্রতিবন্ধক হয়।
সুনানে আবু দাউদ, হাদীছ হা/৩৪৪৭

অত্র হাদীছে মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু গুদামজাত করা নিষেধ করা হয়েছে।

মানুষ যে কারণে গুদামজাত করে থাকে:

রাতারাতি অন্যের চাইতে বেশী অর্থ সম্পদের মালিক হওয়ার আশায়। অথচ আল্লাহ্ তা’আলা এটা নিষেধ করেছেন।

قال الله تعالى في سورة النساء/٣٢
وَلاَ تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللّهُ بِهِ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ لِّلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبُوا وَلِلنِّسَاء نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبْنَ وَاسْأَلُواْ اللّهَ مِن فَضْلِهِ إِنَّ اللّهَ كَانَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا

আর যা দ্বারা আল্লাহ তোমাদের কাউকে একে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন তোমরা তার লালসা করো না। পুরুষ যা উপার্জন করে তা তার প্রাপ্য অংশ এবং নারী যা উপার্জন করে তা তার প্রাপ্য অংশ। আর আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।

ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করা শুধু বৈধ নয় বরং এ বিষয়ে কুরআন ও ছহীহ সুন্নায় উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। তবে আল্লাহ্ তা’আলার সন্তুষ্টি ব্যতীত ধন সম্পদ কামনা করা বা অন্যের অনুরূপ আশা করা নিষিদ্ধ। অত্র আয়াতের শুরুতে এবং শেষে এমনটাই বর্ণিত হয়েছে।

আল্লাহ্ তা’আলা মানুষকে প্রয়োজন মাফিক রিজিক প্রদান করে থাকেন। তাই এর সঠিক ব্যবহার না করলে সকলের জন্যই বিপদ অবধারিত। তিনি চাইলে রিজিক বেশী করে দিতে পারতেন কিন্তু মানুষ এর দ্বারা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করতো।

قال الله تعالى في سورة الشورى/٢٧
وَلَوْ بَسَطَ اللَّهُ الرِّزْقَ لِعِبَادِهِۦ لَبَغَوْا فِى الْأَرْضِ وَلٰكِن يُنَزِّلُ بِقَدَرٍ مَّا يَشَآءُ ۚ إِنَّهُۥ بِعِبَادِهِۦ خَبِيرٌۢ بَصِيرٌ.
আর যদি আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের রিযিক বর্ধিত করে দিতেন, তবে তারা যমীনে অবশ্যই সীমালংঘন করত; কিন্তু তিনি তাঁর ইচ্ছেমত পরিমানেই প্রদান করে থাকেন। নিশ্চয় তিনি তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক অবহিত ও সর্বদ্ৰষ্টা। সূরা শুরা ৪২:২৭

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা যেটা জানলাম তা হচ্ছে –

১-গুদামজাত করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
২-গুদামজাতকারী পাপাচারী।
৩-নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের গুদামজাত করা নিষিদ্ধ।
৪-গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে আল্লাহ তাআলার দেয়া পরিমিত রিজিক কমে যাবে। ফলে সবার জন্যই বিপদ অবধারিত হয়ে যাবে।

Source

মতামত দিন