সিয়াম

ইতেকাফ : ফযীলত ও বিধান

#ইতেকাফ:

ই’তেকাফ শব্দটি আরবী শব্দ, এর অর্থ সম্পর্কে অভিধান প্রণেতাগণ শব্দগত ভাবে পৃথক পৃথক সঙ্গা প্রদান করলেও অর্থগত দিক থেকে কাছাকাছি একই অর্থ ব্যক্ত করেছেন : যেমন-

মিসবাহুল মুনীর গ্রন্থপ্রণেতা ফাইয়ুমী বলেছেন, এর আভিধানিক অর্থ: অবস্থান করা বা নিজেকে আবদ্ধ রাখা, অর্থাৎ গতানুগতিক দুনিয়াবী কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। 📘(আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আল-ফাইয়ুমী কর্তৃক রচিত মিসবাহুল মুনীর- ২১৯ পৃ.)

মুজামুল ওয়াজীয গ্রন্থ প্রণেতা ইতেকাফ শব্দের অর্থ সম্পর্কে বলেছেন, কোন কিছুকে নিজের উপর আবশ্যক করে নিয়ে তার উপর অটুট থাকা। 📘 (মুজামুল ওয়াজীয-৪৩০পৃ.)

#শারঈ_পরিভাষায়: জুমুআহর মাসজিদে রোযাদার ব্যক্তির অবস্থান করা নির্দিষ্ট নিয়তে এবং দুনিয়াবী ব্যস্ততা থেকে অন্তরকে পৃথক করে আল্লাহর নিকট সমর্পন করা। 📘(আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আল-জুরজানী কর্তৃক রচিত আত তা’রীফাত- ৪৭ পৃ.)

ইমাম আবু হানীফা (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ইতেকাফ হচ্ছে- রোযার সাথে ইতেকাফের নিয়তে জুমুআহ’র মাসজিদে অবস্থান করা। 📘(আদ দুররুল মুখতার- ২/১৭৬)

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, নির্দিষ্ট নিয়মের সাথে জ্ঞানসম্পন্ন মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করার জন্য মসজিদে অবস্থানকে আবশ্যক করে নেয়াকে ইতিকাফ বলা হয়। 📘(কাশফুল ক্বান্না’-২/৩৪৭)

#ইতেকাফের_গুরুত্ব:

আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

এবং ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে বলেছিলাম, আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতেকাফকারী এবং রুকু ও সাজদাহকারীদের জন্য পবিত্র রাখবে। (সুরা বাকারা: ১২৫)

অতঃপর তোমরা রাতের আগমন পর্যন্ত রোযা পুর্ণ করো, আর মসজিদে ইতেকাফ অবস্থায় তাদের সাথে সহবাস করো না, এটি আল্লাহ তাআলার বিধান, সুতরাং তোমরা এর নিকটবর্তী হয়োনা। (সুরা বাকারা: ১৮৭)

আয়েশাহ (রাযিয়াল্লাহ আনহা) বলেছেন,

নাবী(সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান মাসের শেষ দশকে ইতেকাফ করেছেন (আর এই আমলটি তিনি)মৃত্যুর পুর্ব পর্যন্ত করেছেন, পরবর্তীতে তার স্ত্রীগণও করেছেন। (বুখারী: ২০২৬)

#হুকুম: আহলে ইলমের নিকট ইতেকাফ করা সুন্নাহ। তবে কিছু ফুকাহাদের নিকট এটি সুন্নাতে মুআক্কাদাহ।

ইবনু কুদামাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ইতেকাফ করা সুন্নাত এব্যাপারে উলামায়ে কেরামদের মাঝে কোন ইখতিলাফ নেই। আর নযর বা মান্নত করা ছাড়া ইতেকাফ কখনো ওয়াজিব (আবশ্যক) হয় না।

#ইতেকাফের_শর্ত:

১- ইসলাম: ইতেকাফ করার জন্য প্রথম শর্ত হচ্ছে ব্যক্তিকে মুসলিম হতে হবে। সুতরাং অমুসলিমের ইতেকাফ শুদ্ধ হবে না।

২- ভালোমন্দ পার্থক করার বৈশিষ্ট থাকা: ইতেকাফের জন্য বালেগ হওয়া শর্ত করে না, কিন্তু যে শিশু ভালোমন্দ পার্থক্য করতে পারে না তার ইতেকাফ শুদ্ধ হবে না। তেমনি ভাবে শুধু পুরুষরাই ইতেকাফ করতে পারবে এমনটি নয় বরং মহিলারাও ইতেকাফ করতে পারবে।

৩- জ্ঞানবান হওয়া: ইতেকাফকারী ব্যক্তিকে অবশ্যই জ্ঞানবান হতে হবে, কোন পাগল ব্যক্তির ইতেকাফ শুদ্ধ হবে না।

৪- পবিত্রতা: জমহুরুল ফুকাহা হায়েয ও নিফাস থেকে পবিত্র হওয়াকে ইতেকাফের শর্ত করেছেন। আর গোসল ফরয হয় এমন অপবিত্রতাকে ইমাম আবু হানীফা (রহিমাহুল্লাহ) ইতেকাফ ভঙ্গের কারণ হিসেবে গণ্য করেছেন।

৫. আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নিয়ত করা।

#ইতেকাফের_সময়:

আবদুল্লাহ বিন উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) কর্তৃক বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমাযানের শেষ দশকে ইতেকাফ করতেন। (বুখারী: ২০২৫, মুসলিম: ১১৭২)

নাবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইতেকাফের কাযা শাওয়াল মাসের প্রথম দশকে আদায় করেছেন। (মুসলিম: ১১৭২)

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)জাহেলী যুগে ইতেকাফের নযর/মান্নত করেছিলেন, তাই নাবী(সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)তাঁকে সেটি পুর্ণ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন কিন্ত সেব্যাপারে কোন সময় নির্ধারণ করে দেননি। সুতরাং নযর/মান্নতের ইতিকাফ যে কোন সময় করতে পারে। ওয়াল্লাহু আ’লাম।

#ইতেকাফের_স্থান:

যে মাসজিদে জামাআত অনুষ্ঠিত হয় এমন মাসজিদে ইতেকাফ করা শরীআত সম্মত। অর্থাৎ ইতেকাফের শর্তের মধ্যে অন্যতম শর্ত হচ্ছে মসজিদে হতে হবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় তাদের সাথে সহবাস করনা। (সুরা বাকারা: ১৮৭)

হাফিয ইবনু হাজার আল-আসকালানী (ফাতহুল বারী: ৪/৩৪২) বলেছেন, যদি ইতেকাফের জন্য মাসজিদ ছাড়া অন্যত্র বৈধ হতো তবে আল্লাহ তাআলা উক্ত আয়াতে মাসজিদের কথা উল্লেখ করতেন না। সুতরাং উক্ত আয়াত থেকে প্রমাণিত হচ্ছে- ইতেকাফের জন্য স্থান হিসেবে মাসজিদে হওয়া আবশ্যক।

ইবনে কুদামাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, জামাআত অনুষ্ঠিত হয় এমন মাসজিদ ছাড়া অন্য কোন স্থানে ইতেকাফ করা বৈধ হবে না, কেননা জামাআতে সালাত আদায় করা ওয়াজিব। অপরদিকে যদি কেউ এমন কোন স্থানে ইতেকাফ করে যেখানে জামাআত অনুষ্ঠিত হয় না তাহলে তার দুটি অবস্থা হতে পারে- হয়তো তার ওয়াজিব জামাআত ছুটে যেতে পারে অথবা জামাআতের জন্য দিনে বার বার ইতেকাফের স্থান থেকে বের হতে হবে। অতচ ইতেকাফের স্থান থেকে বারংবার বের হওয়া নিষিদ্ধ। কেননা সে আল্লাহর আনুগত্য করাকে নিজের উপর আবশ্যক করে নিয়েছে।

আর এজন্যই অনেক উলামাগণ ইতেকাফের স্থান হিসেবে জুমুআহর মাসজিদ শর্ত করেছেন। যাতে ইতেকাফ কারী ব্যক্তিকে জুমুআহর নামাজের জন্যও বের হতে না হয়।

#ইতেকাফে_প্রবেশের_সময়:

জামহুরুল উলামাহ (চার ইমাম) সকলে একমত যে, ইতেকাফকারী ব্যক্তি ২১শে রাত সুর্য ডুবার পুর্বেই অর্থাৎ ২০শে রমাযান মাগরীবের পুর্বে ইতেকাফের স্থানে প্রবেশ করবে। তারা সকলে দলীল হিসেবে উল্লেখ করেছেন- নাবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমাযান মাসের শেষ দশকে ইতেকাফ করতেন, (বুখারী : ২০৩৩) এই হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, তিনি রাত থেকেই ইতেকাফ শুরু করতেন দিন থেকে নয়। কেননা আল্লাহ তাআলা দশটি রাতকে বিশেষ বৈশিষ্টমণ্ডিত করেছেন। وليال عشر দশ রজনীর শপথ (সুরা ফাজর: ২) আর শেষ দশক শুরু হয় ২১শে রজনীর মাধ্যমে।

সুতরাং ২১শে রাত সুর্য ডুবার পুর্বেই ইতেকাফের স্থানে প্রবেশ করা আবশ্যক।

যদিও কিছু উলামাগণ ইতেকাফে প্রবেশের সময় সম্পর্কে ফজরের নামাজ পর বলেছেন। তারা দলীল হিসেবে নিম্নোক্ত হাদীসটি উল্লেখ করে থাকেন-

আয়েশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাহম) যখন ইতেকাফের ইচ্ছাপোষণ করতেন তখন তিনি ফজরের নামাজ আদায় করে ইতেকাফের স্থানে প্রবেশ করতেন। (বুখারী: ২০৪১)।

জামহুর উলামাগণ তাদের একথার উত্তরও দিয়েছেন:

নাবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাহম)ইতেকাফ শুরু করেছেন সুর্যডুবার পুর্বেই, তবে তিনি তাঁর ইতেকাফের নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশ করেছেন ফজর নামাজের পর।

বুখারীর ২০৪১ নং হাদীস সম্পর্কে শাইখ ইবন উসায়মীন (রহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি উত্তরে বলেছেন, জমহুর আহলে ইলমের নিকট ইতেকাফ শুরু হয় ২১শে রজনী থেকে ২১শে রজনীর ফজর নামাজ থেকে নয়। যদিও কিছু উলামা আয়েশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)র বর্ণিত হাদীস দ্বারা ফাতাওয়া দিয়েছেন যে, ইতেকাফ শুরু হয় ফজর নামাজ পর। তবে জামহুর উলামাগণ তার উত্তরে বলেছেন, রাসুল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাহম) মানুষদের থেকে পৃথক হয়েছেন ফজর নামাজ পর কিন্তু তিনি মুলত ইতেকাফের নিয়ত করেছেন সুর্য ডুবার পুর্বেই। কেননা শেষ দশক শুরু হয় ২০ রমাযান সুর্য ডুবার সাথে সাথেই।

#পদ্ধতি:

ইতেকাফকারী ব্যক্তির জন্য উচিৎ হবে আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় কথা-বার্তা ও কাজ থেকে বিরত থাকা। একই সাথে তর্ক, গালিগালাজ, ফাহেশাপুর্ণ কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকবে। যখন এসব কাজ ও কথাবার্তা ইতেকাফকারী ছাড়া অন্যদের জন্যও নিষিদ্ধ তখন ইতেকাফকারী ব্যক্তির জন্য তা থেকে বিরত থাকা আরো বেশী প্রয়োজন। যদিও এসবে তার ইতেকাফ বাতিল হয়ে যাবে না, কিন্তু তা থেকে বিরত থাকাটাই সবচেয়ে উত্তম। (আল-মুগনী: ২/১৬৪)

– ইতেকাফকারীগণ তাবু টানিয়ে মাসজিদকে মুসল্লীদের জন্য সংকির্ণ করাও উচিত হবে না।

– এমন কোন বিষয় বা বস্তু নিয়ে ব্যস্ত থাকাটিও উচিত নয় যা তার উদ্দেশ্যকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

– ইতেকাফরত অবস্থায় উক্ত স্থানে বাইরের লোকজনের আনাগোনা যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবে, যাতে তারা এসে ইতেকাফকারী ব্যক্তির উদ্দেশ্যে কোন ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে।

– ইতেকাফে প্রবেশ করার পর সেখান থেকে বের হবে না। যদি কেউ বের হয়ে দুনিয়াবী কাজে লিপ্ত হয় তাহলে পুনরায় ইতেকাফের স্থানে প্রবেশ করার তার কোন প্রয়োজন থাকে না।

– ইতেকাফকারী ব্যক্তির উচিত পানাহার অল্প পরিসরে করা, যাতে ইবাদাত করতে তার কোন অসুবিধা না হয় এবং সাধ্যানুযায়ী অল্প সময় ঘুমাবে।

– কুরআন তিলাওয়াত, সালাত আদায়, দুআ ও যিকির-আযকারের মধ্য দিয়ে সময় পার করবে।

#মহিলাদের_জন্য_ইতেকাফ:

আয়েশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয় নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃত্যুর পুর্ব পর্যন্ত রমাযানের শেষ দশকে ইতেকাফ করেছেন। অতঃপর তাঁর পরে তাঁর স্ত্রীগণও ইতেকাফ করেছেন। (বুখারী: ২০২৬)

মহিলাদের ইতেকাফের জন্য শর্ত হলো স্বামী কর্তৃক অনুমতি নেয়া। জামহুরুল ফুকাহা (হানাফী, শাফেঈ, হাম্বালী) তারা স্বামীর থেকে অনুমতি নেয়াকে মহিলাদের জন্য ইতেকাফের শর্ত করেছেন। আর মালেকী মাযহাবের ফুকাহাগণ বলেছেন স্বামীর অনুমতি ব্যাতীত তার ইতেকাফ শুদ্ধ হয়ে যাবে কিন্তু অনুমতি না নেয়ার জন্য সে পাপী হবে। (ফিকহুল ইসলামী: ৩/১৭৬৩)

ইবনে কুদামাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, মহিলাদের জন্য যে কোন মাসজিদে ইতেকাফ করা বৈধ, কেননা তাদের উপর জামাআত আবশ্যক নয়।

ইমাম শাফেঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, তাদের জন্য বাড়িতে ইতেকাফ করাও বৈধ হবে না। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন, وانتم عاكفون في المساجد অর্থাৎ তোমরা মাসজিদে ইতেকাফরত অবস্থায়….। (সুরা বাকারা: ১৮৭) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন কোন স্থান যা মুলত নামাজের জন্যই নির্মান করা হয়েছে। (আল-মুক্বনী: ২/১৫৬)

#ইতেকাফ_ভঙ্গের_কারণসমুহ:

১. স্ত্রী সহোবাস, সকলের ঐক্যমতে ইতেকাফরত অবস্থায় স্ত্রী সহবাস নিষিদ্ধ, কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমরা মাসজিদে ইতেকাফরত অবস্থায় তাদের সাথে সহবাস করো না, এটি আল্লাহর একটি বিধান সুতরাং তোমরা তার নিকটবর্তী হয়ো না। (সুরা বাকারা: ১৮৭)

যদি ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সহবাস করে তবে সকল উলামাদের ঐকমত্যে তার ইতেকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে। আর যদি ভুলক্রমে তা করে ফেলে তবে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল, ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম মালেকের নিকট তার ইতেকাফ ভঙ্গ হয়ে। (আল-মুক্বনী: ২/১৬০)

ইবনু হাজার আল-আসকালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, সকলে একমত যে, স্ত্রী সহবাস করলে ইতেকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে। এমনকি হাসান আল-বাসরী ও ইমাম যুহরী তারা বলেছেন, যদি ইতেকাফরত অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করে তবে তার জন্য কাফফারা আবশ্যক। বিশিষ্ঠ তাবেঈ মুজাহিদ (রহিমাহুল্লাহ) সেই কাফফারার পরিমাণ সম্পর্কে বলেছেন, কাফফারা হিসেবে দুই দিনার বা দুই দিনার সমপরিমাণ সাদাকা করবে। (ফাতহুল বারী: ৪/৩৪২)

২. মসজিদ থেকে বের হওয়া: তবে একান্ত প্রয়োজন যেমন- বাথরুম, ওজু কিংবা ফরজ গোসলের জন্য বের হলে ইতেকাফ ভঙ্গ হবে না।

#ইতেকাফে_থেকে_বের_হওয়ার_সময়:

ইতেকাফকারী রমাযানের শেষ দিন সুর্য ডুবার পর ঈদের রাতে ইতেকাফে স্থান থেকে বের হবে। (ইবনু উসায়মিনের ফাতাওয়া আস সিয়াম- ৫০২)

ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ (১০/৪১১) তে এসেছে, ইতেকাফের সময় শেষ হয় রমাযান মাসের শেষ দিন সুর্য ডুবার সাথে সাথে। তবে যদি ইতেকাফকারী ব্যক্তি সুর্য ডুবার পর বের না হয়ে ফজর নামাজ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে এবং ইতেকাফের স্থান থেকে সোজা ঈদের মাঠে যায় তাহলে তাতে তার জন্য কোন অসুবিধা নেই। এটিকে কিছু সালাফগণ মুস্তাহাব হিসেবে গণ্য করেছেন।

যদি ইতেকাফ কারী ব্যক্তি সোজা ঈদের মাঠে যেতে যায় তবে যেতে চায় তবে তার পুর্বে গোসল ও সুগন্ধি ব্যাবহার করে নিবে। কেননা এটি ঈদের সুন্নাহ।

সংকলন:

মোহাম্মাদ আলী আব্দুল খাবীর

অধ্যয়নরত: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদীনা মুনাওয়ারাহ, সৌদি আরব।

Source

মতামত দিন