সিয়াম

রামাদান মাসে একজন মুসলিমের জন্য প্রস্তাবিত রুটিন

সকল প্রশংসা একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য।

আল্লাহ তা’আলা সকলের সৎ কথা ও কাজ কবুল করুন এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে আমাদেরকে ইখলাস (একনিষ্ঠতা) দান করুন।

এটি এই মুবারক মাসে একজন মুসলিমের জন্য প্রস্তাবিত রুটিন।

রামাদান মাসে একজন মুসলিমের সারাদিন

একজন মুসলিম তাঁর দিন শুরু করবে ফজরের সালাতের আগে সেহেরী গ্রহণের মাধ্যমে। উত্তম হচ্ছে – যদি রাতের শেষ সময় পর্যন্ত বিলম্ব করে সেহেরী গ্রহণ করা যায়। আযানের আগে তিনি ফজরের সালাতের জন্য প্রস্তুতি নিবেন। বাসা হতে ওজু করে আযানের আগেই মসজিদে যাবেন। মসজিদে প্রবেশ করে প্রথমে ‘তাহিয়্যাতুল মসজিদ’ দুই রাকাত সালাত আদায় করবেন।

এরপর মুয়াজ্জিন আযান দেয়ার আগ পর্যন্ত বসে বসে দোয়া-দুরুদ, কুরআন তিলাওয়াত বা যিকির-আযকারে মশগুল থাকবেন। আযান দিলে মুয়াজ্জিনের সাথে সাথে আযানের বাক্যগুলোর পুনরাবৃত্তি করবেন। আযান সমাপ্ত হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণিত দু’আ পাঠ করবেন। এরপর ফজরের দুই রাক’আত সুন্নাত নামায আদায় করবেন। তারপর ফরজ সালাত দাঁড়ানোর আগ পর্যন্ত যিকির, দু’আ ও কুরআন তিলাওয়াতে মনোনিবেশ করবেন।

“সালাতের জন্য অপেক্ষমাণ ব্যক্তি সালাতেই রয়েছেন”। [ বুখারী (৬৪৭) ও মুসলিম (৬৪৯)]

জাম’আতের সাথে সালাত আদায় শেষে, সালাম ফিরানোর পর তিনি মাসনুন দু’আসমূহ পাঠ করবেন। এই মাসনুন দু’আর ‘আমল প্রতি ওয়াক্তের সালাতের পরে করবেন। এরপর চাইলে সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে থেকে যিকির, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদিতে ব্যস্ত থাকবেন। এটি করতে পারলে ভাল। ফজরের পর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এভাবে ‘আমল করতেন। এরপর সূর্যোদয়ের পর সূর্য কিছুটা উপরে উঠলে এবং উদয়ের পর ১৫ মিনিটের মতো অতিক্রান্ত হলে তিনি চাইলে সালাতুদ্‌ দোহা তথা চাশ্‌তের নামায (সর্বনিম্ন দুই রাক’আত) আদায় করবেন। এটি ভাল। আর চাইলে কিছুটা দেরী করে এই নামায পড়ার উত্তম সময়ে নামাযটি পড়তে পারেন। উত্তম সময় হলো – সূর্য আরো উপরে উঠলে এবং রোদের প্রখরতা বাড়লে। এই সময়ে নামাযটি পড়তে পারলে আরো ভাল। [মুসলিম (৭৪৮), তিরমিযী (৫৮৬)]

এরপর কর্মস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি স্বরূপ কিছু সময় ঘুমাতে চাইলে এই ঘুমের দ্বারা ‘ইবাদত ও রিযিক অন্বেষণের নিমিত্তে শক্তি অর্জনের নিয়্যত করবেন। যাতে আল্লাহ চান তো এ ঘুমের মাধ্যমে সওয়াব পেতে পারেন। ইসলামী শরিয়ত যেসব কথা ও কাজকে ঘুমের আদব হিসেবে নির্ধারণ করেছে, সেগুলো পালনে যত্নবান হওয়া উচিত।

এরপর তিনি তার কর্মস্থলে যাবেন। যোহরের নামাযের ওয়াক্ত নিকটে এলে যথাসম্ভব শীঘ্রই আযানের আগে অথবা আযানের পরপরই মসজিদে হাযির হবেন। নামাযের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে থাকবেন। এরপর তিনি যোহরের ৪ রাকাত সুন্নত নামায আদায় করবেন। এরপর কুরআন তিলাওয়াতে মনোনিবেশ করবেন যতক্ষণ পর্যন্ত না জাম’আত শুরু হয়। এরপর জাম’আতের সাথে সালাত আদায় করবেন। জাম’আতের পর যোহরের ২ রাকাত সুন্নাত নামায আদায় করবেন। সালাত আদায় শেষে তার ডিউটির বাকী অংশ সম্পন্ন করবেন। ডিউটি শেষে তিনি বাসায় ফিরে আসবেন।

যদি আসরের সালাতের পূর্বে লম্বা সময় বাকি থাকে, তাহলে কিছু সময় বিশ্রাম নিবেন। আর যদি ঘুমানোর মতো বেশি সময় বাকি না থাকে এবং ঘুমিয়ে পড়লে আসরের সালাত ছুটে যাওয়ার আশংকা করেন, তাহলে নামাযের ওয়াক্ত হওয়া পর্যন্ত উপযুক্ত কোন কাজে ব্যস্ত থাকবেন। যেমন – বাসার লোকজনের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী কিনতে বাজারে যাওয়া। নতুবা কর্মস্থল থেকে ফিরে সোজা মসজিদে চলে যাবেন এবং আসরের সালাত পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করবেন। আসরের পর একজন মানুষ তার নিজের অবস্থা বিবেচনা করবে। তিনি যদি মসজিদে বসে কুরআন তিলাওয়াতে নিয়োজিত থাকার মত শক্তি পান, তাহলে এটা এক মহান সুযোগ। আর যদি তিনি ক্লান্তি বোধ করেন, তবে এ সময়ে বিশ্রাম নিবেন; যাতে রাতে তারাবীর নামাযের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন।

মাগরিবের আযানের আগে তিনি ইফতারের জন্য প্রস্তুতি নিবেন। এই মুহূর্তগুলোকে তিনি যে কোন ভালো কাজে ব্যয় করবেন। যেমন – কুরআন তিলাওয়াত করা, দু’আ করা, অথবা পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে ভাল কোন কথা আলোচনা করা। এ সময়ের সবচেয়ে ভাল কাজ হলো – রোযাদারদের ইফতার করানোতে অংশ নেওয়া; হয়তো তাদের জন্য খাবার কিনে দেয়ার মাধ্যমে অথবা তা বিতরণ করার মাধ্যমে অথবা এর ব্যবস্থাপনা করার মাধ্যমে। এই ‘আমলের মধ্যে অপরিসীম আনন্দ রয়েছে। এটা তিনিই জানেন – যিনি নিজে এ ‘আমল করেছেন।

ইফতারের পর তিনি জাম’আতের সাথে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাবেন। জাম’আতের পরে এরপর দুই রাক’আত মাগরিবের সুন্নাত সালাত আদায় করবেন। বাসায় ফিরে তিনি প্রয়োজন মাফিক খাদ্য গ্রহণ করবেন। অতিরিক্ত খাবেন না। এরপর এই সময়কে তার নিজের জন্য ও তার পরিবারের জন্য “কল্যাণকর” কোন পন্থায় ব্যয় করবেন। যেমন – সীরাহ পড়া, দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় হুকুম-আহকামের কোনো বই পড়া, বৈধ কোন আলাপ-আলোচনায় রত থাকা অথবা অন্য যে কোন কল্যাণকর কাজে ব্যয় করা এবং এগুলোর মাধ্যমে মিডিয়ায় সম্প্রচারিত হারাম অনুষ্ঠান থেকে পরিবারের সদস্যদেরকে বিরত রাখা। কারণ চ্যানেলগুলোর জন্য এটি পিক আওয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই আপনি দেখবেন, এ সময় তারা সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে, যে অনুষ্ঠানগুলো আক্বীদা বিনষ্টকারী ও আখলাক বিনষ্টকারী বিষয়াদিতে ভরপুর থাকে।

প্রিয় ভাই, এসব অনুষ্ঠান থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করুন এবং আপনার অধীনস্থদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন, যাদের ব্যাপারে কিয়ামাতের দিন আপনি প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন। সেদিনের প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্য এখনই প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।

এরপর ইশার সালাতের জন্য প্রস্তুতি নিন এবং মসজিদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হোন। মসজিদে গিয়ে কুরআন তিলাওয়াতে মশগুল হোন। অথবা মসজিদে কোন ‘ইলমী আলোচনা অনুষ্ঠান থাকলে তা শুনুন। এরপর ইশার সালাত আদায় করুন। অতঃপর ২ রাকাত ইশার সুন্নাত নামায আদায় করুন। এরপর ইমামের পিছনে তারাবীর নামায খুশূ (আল্লাহর ভয়), তাদাব্বুর (অনুধাবন), তাফাক্‌কুর (চিন্তাভাবনা) এর সাথে আদায় করুন। ইমাম নামায শেষ করার আগে আপনি নামায ছেড়ে চলে যাবেন না। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ

” إنه من قام مع الإمام حتى ينصرف كتب له قيام ليلة “.

رواه أبو داود (1370) وغيره ، وصححه الألبانيفي “صلاة التراويح ” (ص 15)

“ইমাম নামায শেষ করা পর্যন্ত যে ব্যক্তি তাঁর সাথে নামায আদায় করবে, তার জন্য পুরো রাত নামায পড়ার সওয়াব লিখে দেয়া হবে।”

[হাদিসটি আবু দাউদ (১৩৭০) এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ সংকলন করেছেন। আলবানী সালাতুত্‌ তারাবীহ অধ্যায়ে হাদিসটিকে সহীহ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন]

সালাতুত্‌ তারাবীর পর আপনি আপনার নিজস্ব ব্যতিব্যস্ততার সাথে সামঞ্জস্যশীল প্রোগ্রাম তৈরি করে নিন।

এক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখবেন:

– সমস্ত হারাম থেকে এবং হারামের আহ্বায়ক বিষয়বস্তু থেকে বিরত থাকুন।

– আপনার বাসার সদস্যদেরকে হারাম থেকে ও হারামের যাবতীয় উপকরণ থেকে কৌশলে বিরত রাখুন। যেমন – তাদের জন্য বিশেষ কোন প্রোগ্রাম তৈরি করুন। অথবা তাদের নিয়ে শরীয়াত অনুমোদিত স্থানে ঘুরতে বের হোন। তাদেরকে অসৎসঙ্গ থেকে দূরে রাখুন। তাদের জন্য সৎ সাহচর্যের অনুসন্ধান করুন।

– কম ফজিলতপূর্ণ বিষয়ের পরিবর্তে বেশি ফজিলতপূর্ণ ‘আমলে মশগুল হওয়া।

আগে আগে বিছানায় যেতে চেষ্টা করুন। ইসলামী শরীয়াত যেসব কথা ও কাজকে ঘুমের আদব হিসেবে নির্ধারণ করেছে, সেগুলো পালনে যত্নবান হবেন। ঘুমের আগে যদি কিছু কুরআন তিলাওয়াত বা ভাল কোন বইয়ের কিছু অংশ পড়তে পারেন, তবে তা ভাল। বিশেষ করে আপনি যদি কুরআন থেকে আপনার দৈনন্দিনপাঠ্য (ওয়াজীফাহ্) শেষ না করে থাকেন, তবে তা সম্পন্ন না করে ঘুমাবেন না।

এরপর সেহেরীর আগে যথেষ্ট সময় নিয়ে ঘুম থেকে উঠুন। যাতে ক্বিয়ামুল লাইল ও দু’আতে ব্যস্ত হতে পারেন। কারণ এই সময় – রাতের শেষ তৃতীয়াংশ – আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করে থাকেন। আল্লাহ তা’আলা এ সময়ে ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের প্রশংসা করেছেন। এ সময়ে দু’আকারীদের দু’আ কবুলের এবং তওবাকারীদের তওবা কবুলের ওয়াদা করেছেন। তাই এই মহা সুযোগটি আপনার হাতছাড়া করা উচিত হবে না।

জুম’আ বারঃ

জুম’আ বার সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম। তাই এই দিনের ‘ইবাদত ও আনুগত্যের জন্য বিশেষ প্রোগ্রাম থাকা উচিত। এক্ষেত্রে নিম্নের বিষয়গুলোখেয়াল রাখা দরকারঃ

– জুমার সালাতে উপস্থিত হওয়ার জন্য আগে আগে বের হওয়া।

– আসরের সালাতের পর মসজিদে অবস্থান করা এবং এ দিনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিলাওয়াত ও দু’আতে ব্যস্ত থাকা। কারণ এ সময়ে দু’আ কবুল হওয়ার আশা করা হয়।

– সপ্তাহের মাঝে যে কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারেন নি, তা সম্পন্ন করতে এই দিনকে একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করুন। যেমন কুরআনের সাপ্তাহিক পাঠ্য (ওয়াজীফাহ) বা কোন বই পাঠ অথবা অডিও শোনা অথবা এ জাতীয় কোন ভাল কাজের কিছু অসম্পন্ন থাকলে এদিনে তা সম্পন্ন করুন।

শেষ দশকঃ

রামাদানের শেষ দশকে আছে লাইলাতুল ক্বদর, যে রাত হাজার মাস থেকে উত্তম। তাই এই দশকে মসজিদে ই‘তিকাফ করার বিধান এসেছে। লাইলাতুল ক্বদর পাওয়ার জন্য রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এভাবে ইতিকাফ করেছেন। সুতরাং যার ইতিকাফ করার সুযোগ রয়েছে, তার জানা উচিত – এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য এক মহান করুণা। আর যার পুরো দশদিন ইতিকাফ করার সুযোগ নেই, তিনি যে কয়দিন পারেন – ইতিকাফ করতে পারেন। আর যার একেবারেই ইতিকাফ করার সুযোগ নেই, তিনি যেন এ রাত্রিগুলোতে ‘ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে কাটাতে সচেষ্ট হন। যেমন কুরআন তিলাওয়াত করা, যিকির করা, দু‘আ করা। রাতজেগে এসব ‘আমল করার জন্য তিনি যেন দিনের বেলা বিশ্রাম নিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।

লক্ষণীয় কিছু বিষয়ঃ

– এই রুটিন একটি প্রস্তাবিত রুটিন। এটি একটি পরিবর্তনযোগ্য রুটিন। যে কেউ তার ব্যস্ততার আলোকে এটি পরিবর্তন করে নিতে পারেন।

– এই রুটিনে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এঁর কাছ থেকে প্রমাণিত সুন্নাত সমূহ যথাযথভাবে পালনের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর মানে এই নয় যে, এতে উল্লেখিত সবকিছুই ওয়াজিব বা ফরজ। বরং এতে অনেক সুন্নাহ ও মুস্তাহাব কাজ রয়েছে।

– আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো সে কাজ যা নিয়মিত করা হয় – তা অল্প হলেও। রামাদান মাসের শুরুতে মানুষ আনুগত্য ও ‘ইবাদতের খুব উদ্যম নিয়ে সক্রিয় থাকে। কিছুদিন পর নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তাই এ ব্যাপারে সাবধান থাকুন এবং এই মহান মাসে পালনকৃত সমস্ত কাজ নিয়মিতভাবে ধরে রাখতে সচেষ্ট হোন।

– একজন মুসলিমের উচিত এই মুবারক মাসে তার সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনায় সচেষ্ট হওয়া। যাতে করে কল্যাণ ও ভাল কাজে এগিয়ে যাওয়ার বড় বড় সুযোগ তার হাতছাড়া হয়ে না যায়। যেমন – রামাদান মাস শুরু হওয়ার আগেই পরিবারেরসদস্যদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী কিনে দিতে সচেষ্ট হওয়া। একইভাবে দৈনিক প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি এমন সময়ে কিনতে সচেষ্ট হওয়া যখন বাজারে ভিড় থাকে না। আরেকটি উদাহরণ হলো – ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দেখা সাক্ষাতের জন্য এমন রুটিন করে নেয়া যাতে ইবাদতে বিঘ্ন না ঘটে।

– এই মুবারক মাসে বেশি বেশি ‘ইবাদত করা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভকে আপনার প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করুন।

– সালাতের নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই মসজিদে হাযির হওয়ার ব্যাপারে মাসের শুরুতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। আল্লাহ তাআলার কিতাব তিলাওয়াত খতম (সমাপ্ত) করার সিদ্ধান্ত নিন। এই মহান মাসে নিয়মিত ক্বিয়ামুল লাইল পালন করার সংকল্প করুন। স্বীয় সম্পদ থেকে সাধ্যানুপাতে দান করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হোন।

– এই রামাদান মাসে আল্লাহ তা’আলার কিতাবের সাথে সম্পর্ক মজবুত করার সুযোগ গ্রহণ করুন। নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে হতে পারে:

[] সঠিক উচ্চারণে কুরআন তিলাওয়াত করা। ভাল একজন কুরআনের শিক্ষকের (ক্বারীর) নিকট কুরআন পড়া সংশোধন করে নেয়া। আর তা সম্ভব না হলে দক্ষ ক্বারীগণের তিলাওয়াতের অডিও অনুসরণ করা।

[] আল্লাহ আপনাকে যতটুকু কুরআন হিফ্‌জ করার তাওফিক দিয়েছেন, তা রিভিশন দেওয়া এবং হিফ্‌জ করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া।

[] কুরআনের আয়াতের তাফসীর পাঠ করা। এটা হতে পারে, যে আয়াত বুঝতে আপনার সমস্যা হয়, সে আয়াতের তাফসীর নির্ভরযোগ্য তাফসীরগ্রন্থগুলো (যেমন– তাফসীরে বাগাবী, তাফসীরে ইবনে কাসীর ও তাফসীরে সা‘দী ইত্যাদি) থেকে সেটা জেনে নেওয়া। অথবা নির্দিষ্ট কোন তাফসীর গ্রন্থ থেকে নিয়মিত পড়ার জন্য রুটিন তৈরি করে নেয়া। প্রথমে ‘আম্মা পারা (পারা-৩০), তারপর তাবারাকা পারা (পারা-২৯) এভাবে পড়তে থাকবেন।

[] আল্লাহ তা’আলার কিতাবে যে আদেশাবলী পাওয়া যায়, তা বাস্তবায়নেযত্নশীল হওয়া।

আমরা দু‘আ’ করছি – যাতে আল্লাহ তা’আলা সিয়াম, ক্বিয়াম সম্পন্ন করার তাওফিক দানের মাধ্যমে আমাদের উপর রামাদান মাস পাওয়ার নিয়ামত পূর্ণ করে দেন। আমাদের পক্ষ থেকে তা কবুল করে নেন এবং আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো মাফ করে দেন।

—————————

[“ইসলামকিউএ ডট ইনফো” থেকে সংগৃহীত]

মতামত দিন