সিয়াম

রমাদান মাস- পুরোটাই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস

ভূমিকা:

রমাদানের প্রথম ১০ দিন রহমতের, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফেরাতের ও তৃতীয় ১০দিন নাজাতের জন্য নির্দিষ্ট নয়। বরং পুরো রমাদান মাসই রহমত, মাগফেরাত ও নাজাত পাওয়ার মাস। এই মাসে সিয়াম, কিয়াম ও বিভিন্ন নেক আমলের মাধ্যমে এগুলো অর্জন করার সুযোগ রয়েছে। নিম্নে আমরা এ মর্মে কয়েকটি বিশুদ্ধ হাদীস উল্লেখ করার চেষ্টা করছি ইনশাআল্লাহ।

রমাদান মাসের শুধুমাত্র প্রথম দশক রহমতের জন্য নির্দিষ্ট নয় বরং পুরো রমাদান মাসই রহমত ও বরকতের মাস:

হাদীস নং ১

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’রমাদান মাস উপস্থিত হলে রহমতের দরজা সমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজা সমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে শিকলে আবদ্ধ করে দেয়া হয়’’ মুসলিম ১৭৯৪-(২/…); মিশকাতুল মাসাবীহ ১৯৫৬

হাদীস নং ২

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’তোমাদের জন্য রমাদানের বরকতময় মাস এসেছে। এ মাসে সওম রাখা আল্লাহ তোমাদের জন্য ফরয করে দিয়েছেন। এ মাসে আসমানের দরজা গুলো খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা গুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। এ মাসে শয়তানকে আবদ্ধ করে রাখা হয়। এ মাসে একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল, সে অবশ্য অবশ্যই প্রত্যেক কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হল’’ সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব ৯৯৯; মিশকাতুল মাসাবীহ ১৯৬২ (আলবানি সহীহ বলেছেন)

রমাদান মাসে আসমান, জান্নাত ও রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়:

হাদীস নং ৩

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’রমাদান মাসের আগমন ঘটলে জান্নাতের দরজাসমুহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমুহ বন্ধ করে দেয়া হয়। এবং শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়’’ বুখারী ১৮৯৮, ১৮৯৯, ৩২৭৭; মুসলিম ১৭৯৩-(১/১০৭৯), ১৭৯৪-(২/…); রিয়াদুস স্বালিহিন ১২২৮; মিশকাতুল মাসাবীহ ১৯৫৬; সহীহ আত তারগীব আত তারহীব ৯৯৮

হাদীস নং ৪

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’রমাদান মাসের প্রথম রাতেই শয়তান ও দুষ্ট জিনদের বেঁধে রাখা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং একটি দরজাও তখন আর খোলা হয় না। জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং এর একটি দরজাও তখন বন্ধ করা হয় না।

এ মাসে একজন ঘোষণাকারী এই বলে ঘোষণা দিতে থাকেনঃ ‘হে কল্যাণ অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে পাপাসক্ত! বিরত হও। আর এ মাসে মহান আল্লাহর বিশেষ দয়ায় জাহান্নাম থেকে বহু লোককে মুক্তি দেয়া হয় এবং প্রতি রাতেই এরূপ হতে থাকে’’ তিরমিযি ৬৮২; ইবন মাযাহ ১৬৪২; মিশকাতুল মাসাবীহ ১৯৬০ (আলবানি সহীহ বলেছেন)

পুরো রমাদান মাসেই বিভিন্ন নেক আমলের মাধ্যমে গুনাহ হতে ক্ষমা বা মাগফিরাত লাভের সুযোগ রয়েছে। এটা শুধু দ্বিতীয় দশকের জন্য সীমাবদ্ধ নয়:

হাদীস নং ৫

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় রমাদানের সিয়াম পালন করে, তার অতীতের গুনাহসমুহ ক্ষমা করে দেয়া হয়’’ বুখারী ৩৮; মুসলিম ১২৬৮-(১৭৫/৭৬০); আবু দাউদ ১৩৭২; ইবন মাযাহ ১৩২৬, ১৬৪১; রিয়াদুস স্বালিহিন ১২২৭; মিশকাতুল মাসাবীহ ১৯৫৮

হাদীস নং ৬

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’তার নাক ভূলুণ্ঠিত হোক যার কাছে আমার নাম উল্লেখ করা হল, কিন্তু সে আমার উপর দরুদ পড়েনি। ভূলুণ্ঠিত হোক তার নাক, যার নিকট রমাদান মাস এলো অথচ তার গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়ার পূর্বেই তা পার হয়ে গেল। আর ভূলুণ্ঠিত হোক তার নাক যার নিকট তার বাবা-মা বৃদ্ধ অবস্থায় উপনিত হল কিন্তু (তাদের সেবা যত্ন করে ও তাদের সাথে ভালো আচরণ করে) সে জান্নাতে প্রবেশ করার উপযুক্ত হতে পারলোনা’’ তিরমিযি ৩৫৪৫; মিশকাতুল মাসাবীহ ৯২৭ (আলবানি হাসান সহীহ বলেছেন)

হাদীস নং ৭

কা’ব বিন উজরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, মিম্বর উপস্থিত করো। আমরা মিম্বর উপস্থিত করলাম। তিনি একটি সিঁড়িতে উঠে বললেন, ‘আমীন’। দ্বিতীয় সিঁড়িতে উঠে বললেন, ‘আমীন’। তৃতীয় সিঁড়িতে উঠে বললেন, ‘আমীন’। তিনি মিম্বর থেকে অবতরন করলে আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আজ আমরা আপনার নিকট থেকে এমন কিছু শুনলাম, যা আগে কখনো শুনিনি।

রাসুল (সাঃ) বললেনঃ ‘’জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসেছিলেন। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি রমাদান মাস পেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হল না, সে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হোক। আমি বললাম, ‘আমীন’। দ্বিতীয় সিঁড়িতে উঠার সময় জিবরীল (আঃ) বললেন, যার সামনে আপনার নাম উল্লেখ করা হল অথচ আপনার উপর দরুদ পাঠ করলো না, সে আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত হোক। আমি বললাম, ‘আমীন’। এরপর তৃতীয় ধাপে উঠার সময় তিনি বললেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা দু’জনকে অথবা একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল অথচ তাদের সেবা-যত্ন করে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না, সে আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত হোক। আমি বললাম, আমীন’’ সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৯৯৫, ৯৯৭ (আলবানি হাসান বলেছেন)

পুরো রমাদান মাসে সিয়াম পালনের মাধ্যমে গুনাহ সমূহের কাফফারা হয়ে যায়:

হাদীস নং ৮

হুযাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ ‘’মানুষ নিজ পরিবার, ধনসম্পদ, সন্তানাদি এবং প্রতিবেশীদের ব্যাপারে ফিতনায় লিপ্ত হয়ে পরে। সলাত, সিয়াম এবং সদকা এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ এর কাফফারা (অর্থাৎ এগুলোর মাধ্যমে তা ক্ষমা করে দেয়া হয়)’’ বুখারী ৫২৫, ১৪৩৫, ১৮৯৫, ৩৫৮৬, ৭০৯৬; তিরমিযি ২২৫৮; ইবন মাযাহ ৩৯৫৫

পুরো রমাদান মাস জুড়ে ‘কিয়ামুল্লাইল’ বা ‘তারাবীহ’ সলাতের মাধ্যমে ক্ষমা লাভের সুযোগ:

হাদীস নং ৯

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় রমাদান মাসে কিয়াম করবে, তাঁর পূর্বেকার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে’’ বুখারী ৩৫,৩৭, ২০০৮, ২০০৯, ২০১৪; মুসলিম ১২৬৬-(১৭৩/৭৫৯), ১২৬৭-(১৭৪/…); আবু দাউদ ১৩৭২; ইবন মাযাহ ১৩২৬; বুলুগুল মারাম ৬৯৭; সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৯৯৩; মিশকাতুল মাসাবীহ ১৯৫৮

নোট: তারাবীহ তো আমরা সারা রমাদানেই আদায় করি, তাহলে তারাবীহ আদায়ের মাধ্যমে যে ক্ষমা তা কি শুধু মাঝের দশদিন বা দ্বিতীয় দশকের জন্য সীমাবদ্ধ?

লাইলাতুল কদরের রাত্রিতে ইবাদতের মাধ্যমে গুনাহ হতে ক্ষমা লাভের বিশেষ সুযোগ:

হাদীস নং ১০

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদত করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করা হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানসহ সাওয়াবের আশায় রমাদানের সিয়াম পালন করবে, তারও অতীতের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে’’ বুখারী ১৯০১, ২০১৪; মুসলিম ১২৬৮-(১৭৫/৭৬০); তিরমিযি ৬৮৩; আবু দাউদ ১৩৭২; মিশকাতুল মাসাবীহ ১৯৫৮; সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৯৯২

হাদীস নং ১১

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’যে ব্যক্তি (ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায়) কদরের রাতে সলাত আদায় করলো এবং ঐ রাতকে কদরের রাত বলে জানলো, তাঁকে ক্ষমা করে দেয়া হবে’’ মুসলিম ১২৬৯-(১৭৬/…)

হাদীস নং ১২

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় কদরের রাতে কিয়াম করবে, তার পূর্বের গুনাহ সমুহ ক্ষমা করে দেয়া হবে’’ বুখারী ৩৫; সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ১০০৪

নোটঃ লাইলাতুল কদর বা শেষ দশকে মাগফিরাত বা ক্ষমা লাভের বিশেষ সুযোগ রয়েছে। মাগফিরাত দ্বিতীয় দশকের মধ্যে সীমিত নয়।

কদরের রাত্রির কল্যাণ হতে বঞ্চিত ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষেই হতভাগ্য:

হাদীস নং ১৩

আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমাদান মাস এলে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ ‘’রমাদান মাস তোমাদের মাঝে উপস্থিত। এ মাসে রয়েছে এমন এক রাত, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যাণ হতে বঞ্চিত রয়েছে, সে সকল কল্যাণ হতেই বঞ্চিত। শুধু হতভাগ্যরাই এ রাতের কল্যাণ লাভ হতে বঞ্চিত থাকে’’ ইবন মাযাহ ১৬৪৪; মিশকাতুল মাসাবীহ ১৯৬৪; সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ১০০০ (আলবানি হাসান বলেছেন)

হাদীস নং ১৪

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’তোমাদের জন্য রমাদানের বরকতময় মাস এসেছে। এ মাসে সওম রাখা আল্লাহ তোমাদের জন্য ফরয করে দিয়েছেন। এ মাসে আসমানের দরজা গুলো খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজ গুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। এ মাসে শয়তানকে আবদ্ধ করে রাখা হয়। এ মাসে একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল, সে অবশ্য অবশ্যই প্রত্যেক কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হল’’ সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব ৯৯৯; মিশকাতুল মাসাবীহ ১৯৬২ (আলবানি সহীহ বলেছেন)

কদরের রাত্রিতে ক্ষমা লাভ করার বিশেষ দু’আ:

হাদীস নং ১৫

আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসুল (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! যদি আমি লাইলাতুল কদর পেয়ে যাই, তাহলে কী দু’আ পাঠ করবো? রাসুল (সাঃ) বললেন, তুমি বলবেঃ ”আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফু’উন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি (অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালোবাসেন, সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন)” তিরমিযি ৩৫১৩; ইবন মাযাহ ৩৮৫০; মিশকাতুল মাসাবীহ ২০৯১ (আলবানি সহীহ বলেছেন)

সাহরী বরকতময় খাদ্য। একজন সিয়াম পালনকারী ব্যক্তি সাহরী খাওয়ার মাধ্যমে বরকত লাভ করতে পারে। মহান আল্লাহ তায়ালা সাহরী গ্রহণকারীর প্রতি রহমত প্রেরন করেন ও ক্ষমা করেন। সাহরী গ্রহণকারীদের জন্য ফেরেশতারা ক্ষমা প্রার্থনার দু’আ করেন:

হাদীস নং ১৬

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’তোমরা সাহরী খাও, সাহরীতে বরকত রয়েছে’’ বুখারী ১৯২৩; মুসলিম ১৮৩৫-(৪৫//১০৯৫); তিরমিযি ৭০৮; ইবন মাযাহ ১৬৯২; মিশকাতুল মাসাবীহ ১৯৮২; রিয়াদুস সালিহীন ১২৩৭; সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ১০৬৩

হাদীস নং ১৭

ইরবায ইবন সারিয়াহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে রমাদানের সাহরীর জন্য ডাকলেন এবং বললেনঃ ‘’বরকতময় খাবারের দিকে এসো’’ আবু দাউদ ২৩৪৪; মিশকাতুল মাসাবীহ ১৯৯৭; সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ১০৬৭, ১০৬৮ (আলবানি সহীহ বলেছেন)

হাদীস নং ১৮

ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা রহমত নাযিল করেন এবং ফেরেশতারা দু’আ করেন সাহরী গ্রহনকারীদের জন্য’’ সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ১০৬৬ (আলবানি হাসান বলেছেন)

হাদীস নং ১৯

আবদুল্লাহ বিন হারেস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (সাঃ)-এর জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদা আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তখন তিনি সাহরী খাচ্ছিলেন। রাসুল (সাঃ) বললেনঃ ‘’এটা বরকতময় খাদ্য। আল্লাহ তোমাদেরকে তা দান করেছেন। অতএব তোমরা তা পরিত্যাগ করো না’’ সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ১০৬৯ (আলবানি সহীহ বলেছেন)

হাদীস নং ২০

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’সাহরী পুরোটাই বরকতময়। তাই তোমরা তা ছেড়ে দিও না। যদিও তোমাদের মধ্যে একজন এক ঢোক পানি পান করে। কেননা নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা রহমত নাযিল করেন এবং ফেরেশতাগণ দু’আ করেন সাহরী গ্রহনকারীদের জন্য’’ সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ১০৭০ (আলবানি হাসান লিগাইরিহী বলেছেন)

সূর্যাস্তের সাথে সাথে দেরী না করে দ্রুত ইফতার করার মাধ্যমে কল্যাণ লাভের সুযোগ রয়েছে:

হাদীস নং ২১

সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’যতদিন পর্যন্ত মানুষ (সূর্যাস্তের সাথে সাথে) তাড়াতাড়ি ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে’’ বুখারী ১৯৫৭; মুসলি ম ১৮৩৮-(৪৮/১০৯৮); তিরমিযি ৬৯৯; ইবন মাযাহ ১৬৯৭; মুয়াত্তা মালিক ৬৩৮; মিশকাতুল মাসাবীহ ১৯৮৪; রিয়াদুস সালিহীন ১২৪১; সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ১০৭৩, ১০৭৪

হাদীস নং ২২

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’দ্বীন বিজয়ী থাকবে, যতদিন লোকেরা (সূর্যাস্তের সাথে সাথে) অবিলম্বে ইফতার করবে। কেননা ইয়াহুদী-খ্রিস্টানেরা বিলম্বে ইফতার করে’’ আবু দাউদ ২৩৫৩; ইবন মাযাহ ১৬৯৮; মিশকাতুল মাসাবীহ ১৯৯৫; সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ১০৭৫ (আলবানি হাসান বলেছেন)

সাওম পালনকারীকে জান্নাতের ‘রাইয়ান’ নামক দরজা থেকে আহবান করা হবে। সেই দরজা দিয়ে সিয়াম পালনকারী ব্যতীত অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না:

হাদীস নং ২৩

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’যে কেউ আল্লাহর পথে জোড়া জোড়া ব্যয় করবে তাঁকে জান্নাতের দরজাসমুহ থেকে ডাকা হবে, হে আল্লাহর বান্দা! এ দরজাটি উত্তম, এদিকে এসো। সলাত আদায়কারীকে সলাতের দরজা দিয়ে ডাকা হবে। যে মুজাহিদ, তাঁকে জিহাদের দরজা দিয়ে ডাকা হবে। যে সিয়াম পালনকারী, তাঁকে ‘রাইয়ান’ নামক দরজা দিয়ে ডাকা হবে। আর দান সদকাকারীকে দানের দরজা থেকে ডাকা হবে’’ বুখারী ১৮৯৭, ৩৬৬৬; মুসলিম ১৭০৫-(৮৫/১০২৭); তিরমিযি ৩৬৭৪; রিয়াদুস স্বালিহীন ১২২৪

হাদীস নং ২৪

সাহল বিন সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামক একটি দরজা রয়েছে। সেখান দিয়ে কেবল রোজাদারগনই প্রবেশ করবে। তাঁরা ছাড়া আর কেউ সেদিক দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা করা হবে, ‘রোজাদাররা কোথায়?’ (ঘোষণা শুনে) রোজাদাররা দণ্ডায়মান হবে (এবং ঐ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে)। অতঃপর যখন তাদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি প্রবেশ করবে, তখন দরজাটি বন্ধ করে দেয়া হবে। অন্যকেউ সেখান দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না’’ বুখারী ১৮৯৬; মুসলিম ১৯৪৭-(১৬৬/১১৫২); রিয়াদুস স্বালিহীন ১২২৫; সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৯৭৯

অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘’যে উক্ত দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে, সে কখনো পিপাসার্ত হবে না’’ তিরমিযি ৭৬৫; ইবন মাযাহ ১৬৪০ (আলবানি সহীহ বলেছেন)

হাদীস নং ২৫

সাহল ইবন সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’জান্নাতে আটটি দরজা। তার মধ্যে একটি দরজার নাম ‘রাইয়ান’। সাওম পালনকারী ছাড়া অন্য কেউ এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না’’ বুখারী ৩২৫৭; মিশকাতুল মাসাবীহ ১৯৫৭

নোট: সারা মাস সিয়াম পালন করার মাধ্যমে একজন মু’মিন জাহান্নাম থেকে নাজাত লাভ করে জান্নাতের ‘রাইয়ান’ নামক দরজা দ্বারা প্রবেশের সুযোগ লাভ করবে। এই সিয়াম হচ্ছে সারা মাসব্যপির আমল, শুধু শেষ দশক নাজাতের জন্য নির্দিষ্ট হল কীভাবে?

সিয়াম জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢাল স্বরূপ। যুদ্ধের ময়দানে ঢাল যেমনিভাবে যোদ্ধাকে সুরক্ষা দেয় তেমনিভাবে সাওম একজন সিয়াম পালনকারীরকে জাহান্নামের আগুন থেকে ঢালের মতো রক্ষা করে এবং এর মাধ্যমে সিয়াম পালনকারী নিজেকে সুরক্ষিত দুর্গের অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ নিরাপদ করে নেয়:

হাদীস নং ২৬

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’সিয়াম ঢাল স্বরূপ। সুতরাং অশ্লীলতা করবে না এবং মূর্খের মতো কাজ করবে না। যদি কেউ তার সাথে ঝগড়া করতে চায়, তাকে গালি দেয়, তবে সে যেন দুইবার বলে, ‘আমি সাওম পালন করছি’।

ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রান! অবশ্যই সাওম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকের সুগন্ধির চাইতেও উৎকৃষ্ট। সে আমারই (আল্লাহর) জন্য আহার, পান, যৌনকাজ পরিত্যাগ করে, তাই এর পুরস্কার আমি নিজেই দান করবো। আর প্রত্যেক কাজের বিনিময় দশগুন’’ বুখারী ১৮৯৪; মুসলিম ১৯৪৩-(১৬২/০০০); তিরমিযি ৭৬৪ (আলবানি সহীহ বলেছেন)

হাদীস নং ২৭

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, সাওম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য। তাই আমি এর প্রতিদান দিবো। সিয়াম ঢাল স্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সঙ্গে ঝগড়া করতে আসে, তাহলে সে যেন বলে, আমি সাওম পালন করছি।

যার হাতে মুহাম্মাদের প্রান তার শপথ! অবশ্যই সায়িমের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকের গন্ধের চাইতেও অধিক সুগন্ধি। সায়িমের জন্য রয়েছে দু’টি খুশি যা তাকে খুশি করে। যখন সে ইফতার করে, সে খুশি হয় এবং যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন সাওমের বিনিময়ে আনন্দিত হবে’’ বুখারী ১৯০৪; রিয়াদুস স্বালিহীন ১২২৩

হাদীস নং ২৮

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন যে, সাওম আমার জন্যই, আর আমিই এর প্রতিদান দিব। যেহেতু সে আমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তার প্রবৃত্তি, তার আহার ও তার পান ত্যাগ করেছে। আর সাওম হল ঢাল। সাওম পালনকারীর জন্য আছে দু’টি আনন্দ। এক যখন সে ইফতার করে আর যখন সে তার রবের সঙ্গে মিলিত হবে। আল্লাহর কাছে সাওম পালনকারীর মুখের গন্ধ মেশকের সুগন্ধির চাইতেও উত্তম’’ বুখারী ৭৪৯২

হাদীস নং ২৯

উসমান বিন আবুল আ’স (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ ‘’সিয়াম আগুন থেকে বাঁচার ঢাল, যেমন তোমাদের কেউ যুদ্ধের সময় ঢাল ব্যবহার করে। উত্তম সিয়াম হচ্ছে প্রত্যেক মাসে তিনটি (নফল) সিয়াম পালন করা’’ ইবন মাযাহ ১৬৩৯; সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৯৮০, ৯৮১, ৯৮২ (আলবানি সহীহ বলেছেন)

সিয়াম পালনের মাধ্যমে জাহান্নাম হতে নাজাত ও জান্নাত লাভ:

হাদীস নং ৩০

হুযায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (সাঃ)-কে আমার বুকে হেলান দিয়ে বসিয়ে রেখেছিলাম। তখন তিনি বললেন, যে ব্যক্তি বলবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ যদি এ কথার উপরেই তার জীবন শেষ হয়, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি একদিন আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্যেশ্যে সিয়াম পালন করবে, এবং এ অবস্থাতেই তার জীবন শেষ হয়, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করে একটি সদকা করবে, যদি তার উপরেই তার জীবন শেষ হয়, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’’ সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৯৮৫ (আলবানি সহীহ বলেছেন)

অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ”হে হুযায়ফা! একদিন সিয়াম পালনের মাধ্যমে যে ব্যক্তির জীবন শেষ হবে, যা দ্বারা সে মহামহিম আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করবে, তবে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন’’ সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৯৮৫ (আলবানি সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন)

হাদীস নং ৩১

আবু উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে এমন আমলের সন্ধান দিন যা দ্বারা আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো। রাসুল (সাঃ) বললেন, তুমি সিয়াম পালন করো, কেননা তার অনুরুপ কোনো কিছু নেই। আমি আবার বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে কোনো আমলের নির্দেশ দিন। তিনি বললেন, তুমি সিয়াম পালন করো। কেননা তার সমকক্ষ অনুরূপ কোনো কিছু নেই’’ সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৯৮৬ (আলবানি সহীহ বলেছেন)

রমাদান মাসের প্রত্যেক দিন ও প্রত্যেক রাত্রিতে মহান আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন এবং প্রত্যেক মুসলিমের দু’আ কবুল করেন:

হাদীস নং ৩২

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’আল্লাহ তায়ালা প্রতি ইফতার অর্থাৎ রাতে অসংখ্য লোককে (জাহান্নাম থেকে) মুক্তি দেন’’ ইবন মাযাহ ১৬৪৩; সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ১০০১ (আলবানি হাসান বলেছেন)

হাদীস নং ৩৩

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’রমাদান মাসে আল্লাহ তায়ালা (অসংখ্য) মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করেন এবং এটা রমাদান মাসের প্রত্যেক রাতেই হয়ে থাকে’’ তিরমিযি ৬৮২; ইবন মাযাহ ১৬৪২; মিশকাতুল মাসাবীহ ১৯৬০ (আলবানি সহীহ বলেছেন) (সংক্ষেপিত)

হাদীস নং ৩৪

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাক ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকে প্রত্যেক দিন ও রাতে অসংখ্য লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করা হয় অর্থাৎ রমাদান মাসে। আর নিঃসন্দেহে (রমাদান মাসে) প্রত্যেক দিন ও রাতে মুসলিমের দু’আ কবুল করা হয়’’ সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ১০০২ (আলবানি সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন)

নোট: রমাদান মাসের প্রত্যেক দিনে ও রাতে অসংখ্য মানুষ জাহান্নাম থেকে নাজাত লাভ করে এবং রমাদানের প্রত্যেক মুহূর্তে দু’আ কবুল হয়। তাহলে এই নাজাত লাভ ও দু’আ কবুলকে দশ দিনে সীমাবদ্ধ করা কি ঠিক?

রমাদান মাসে অথবা যে কোনো মাসে আল্লাহর পথে সিয়াম পালনের মাধ্যমেও জাহান্নামের আগুন থেকে নাজাত লাভের সুযোগ:

হাদীস নং ৩৫

আবু সাইদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় (যুদ্ধের সময়) একদিনও সিয়াম পালন করবে, আল্লাহ তায়ালা তাঁর চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের পথ দূরে রাখবেন’’ বুখারী ২৮৪০; মুসলিম ১৯৮৪(ক)-(১৬৭/১১৫৩), ১৯৪৯-(১৬৮/০০০); তিরমিযি ১৬২৩; ইবন মাযাহ ১৭১৭; মিশকাতুল মাসাবীহ ২০৫৩; রিয়াদুস স্বালিহীন ১২২৬; সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৯৮৭ সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৯৮৯; তিরমিযি ১৬২২; ইবন মাযাহ ১৭১৮

হাদীস নং ৩৬

আবু উমামা আল-বাহিলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’কোনো লোক যদি একদিন আল্লাহ তায়ালার রাস্তায় সিয়াম পালন করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার ও জাহান্নামের মাঝখানে আকাশ ও যমিনের মাঝখানের দুরত্বের সমতুল্য একটি পরিখা (গর্ত) সৃষ্টি করে দিবেন’’ তিরমিযি ১৬২৪; সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৯৯১ (আলবানি হাসান বলেছেন)

হাদীস নং ৩৭

আমর বিন আবসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন্, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একদিন সিয়াম পালন করবে, তার থেকে জাহান্নামকে একশত বছর রাস্তা পরিমান দূরে রাখা হবে’’ সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৯৮৮ (আলবানি সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন)

অতএব উল্লিখিত বিশুদ্ধ হাদীস সমূহের আলোকে আমরা বলতে পারি যে, পুরো রমাদান মাসই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। পক্ষান্তরে দুর্বল ও প্রত্যাখ্যাত হাদীসকে কেন্দ্র করে এসব ফযিলতকে দশ দিন দশ দিন করে ভাগ করে সংকুচিত করা বোকামি বৈ কিছু নয়। আসুন পুরো রমাদান ব্যাপী আমরা রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভে সচেষ্ট হই। মহান আল্লাহ তায়ালাই তৌফিকদাতা।

বি.দ্র: প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের ও তৃতীয় দশক নাজাতের- এর মর্মে যে হাদীসটি সমাজে বহুলভাবে প্রচলিত তা বিশুদ্ধ নয়। হাদীসটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই লিংকটি দেখতে পারেন:

লেখাটি সংগ্রহ করা হয়েছে এখান থেকে।

মতামত দিন