ইসলামিক গল্প ইসলামের ইতিহাস

জেলখানা যখন দ্বীনী শিক্ষালয়

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ রাহি.-এর ছাত্র ইমাম ইবনে আব্দুল হাদী রাহি. ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ রাহি.-এর ব্যাপারে বলেন:

ইমাম ইবনে তাইমিয়াহকে জেলখানায় বন্দি করা হলে তিনি দেখেন যে, আসামিরা বিভিন্ন রকম খেলা-তামাশা ও আমোদ-প্রমোদে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে, যেমন—তাস খেলা, দাবা খেলা, পাশা খেলা ইত্যাদি। এমনকি সালাতের দিকেও তাদের কোনো ভ্রক্ষেপ নেই।

এ অবস্থা দেখে শাইখুল ইসলাম তাদেরকে খুব তিরস্কার করেন।

সালাতের প্রতি তাদেরকে উৎসাহিত করেন। নেক আমলে তাদেরকে অভ্যস্ত করেন। কীভাবে আল্লাহমুখি হতে হয়, তার প্রশিক্ষণও দেন। তাসবীহ পাঠ, যিকির-আযকার, ইস্তিগফার, দু’আ-সহ অন্যান্য নেক আমলে তাদেরকে ব্যস্ত করে তুলেন। দৈনন্দিন জীবনের নিত্য প্রয়োজনীয় নানান বিষয়ে সুন্নাহ-ভিত্তিক জ্ঞান দান করেন। এভাবে একপর্যায়ে সে-জেলখানা দ্বীনী শিক্ষালয়ে রূপ নেয়। অনেক দ্বীনী মজলিস, মাদরাসা, খানকা ইত্যাদির চেয়ে সেখানে দ্বীন চর্চা বেশি হতে শুরু করে। ফলে শাইখুল ইসলামের সাহচর্যে থেকে দ্বীনী জ্ঞানার্জনের আশায় অনেক আসামি জেল থেকে মুক্তি নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এমনকি অসংখ্য মুক্ত আসামি আবার জেলখানায় ফিরে আসে। এভাবে জেলখানা কানায় কানায় ভরে যায়।

(আল-উকূদুদ দুররিয়াহ ফী যিকরি মানাকিবি শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ, ৩৩০-৩৩১)

 

সূত্র

মতামত দিন