সাম্প্রতিক বিষয়

“Out of Facebook”

রচনায়: শিহাব আহমেদ তুহিন

১।

আমাদের দেশে সবচে’ জনপ্রিয় সোশাল প্ল্যাটফর্ম নিঃসন্দেহে ফেইসবুক। তবে বাইরের দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে টুইটার। কারণ, এখানে চাইলেও খুব বেশি সময় নষ্ট করা কঠিন। ১৪০ ক্যারেক্টার লিমিট থাকায় অল্প কথায় প্রতিক্রিয়া জানানোর কৌশল এখানে রপ্ত করতে হয়। অনেক বড়ো বড়ো আলেমদের, ব্যক্তিত্ত্বদের এখানে ফলো করা যায়, যারা ফেইসবুকে এক্টিভ নন। ব্যক্তিগতভাবে, আমার কাছে ১ ঘণ্টা ফেইসবুকে থাকার চেয়ে ৫ মিনিট টুইটারে থাকা বেশি উপকারি এবং ইনফর্মেটিভ মনে হয়েছে।

যাদের টুইটারে একাউন্ট রয়েছে তারা লেখককে ফলো করতে পারেন- 

২।


বিভিন্ন ভাষার প্রতি যাদের ভালোবাসা আছে, তারা অবশ্যই Duolingo এর নাম শুনেছেন। এখানে প্রাক্টিসের মাধ্যমে ভাষা রপ্ত করা শেখানো হয়। কোনো কিছু বুঝতে না পারলে অনলাইনে হেল্পও পাওয়া যায়। প্রতি লেসন শেষে 10-15 XP দেয়া হয় (XP মানে হচ্ছে Experience Point)। XP অর্জন করলে সেখানে লেভেলও বাড়তে থাকে। সর্বোচ্চ লেভেল হচ্ছে 25। 25000 XP অর্জন করলে 25 লেভেলে যাওয়া যায়।

25000 XP মানে CEFR (The Common European Framework of Reference for Languages) এর স্কেলে B1 এমনকি B2 সমমান (যেখানে কিনা সর্বোচ্চ লেভেল হচ্ছে C2)। CEFR TEST এ আমার ইংলিশ স্কিল C1 রেঞ্জে দেখায়। তাই বলা যায় বেশ ভালোই জ্ঞান রপ্ত করা যায়। মজার ব্যাপার, শেখার কৌশলটা অনেকটা গেইমের মতো। তাই পেইনফুল মনে হয় না। আমি হিন্দি ভাষা Duolingo থেকে বেশ অল্প সময়ে শিখেছি। যুক্তবর্ণ ছাড়া হিন্দি পড়তে খুব একটা সমস্যা হয় না আমার।

বিভিন্ন ভাষা সম্পর্কে জানা আমার এমন একটি শখ, যেটা আমি মৃত্যু পর্যন্ত লালন করে যেতে চাই। আমার মতো কারো একই শখ থাকলে তারা Duolingo-তে এক্টিভ হতে পারেন (যদিও আমি আপাতত কিছুদিনের জন্য ইনএক্টিভ থাকব)। দৈনিক ৫-১০ মিনিট সময় দিলেও অনেক কিছু শেখা যাবে ইন শা আল্লাহ। আর এটা এমন সময় ব্যবহার করতে পারেন যখন আপনার হাতে করার কিছু থাকবে না। বাসে জ্যামের মধ্যে বসে আছেন কিংবা কোথাও কারো জন্য অপেক্ষা করছেন এই সময়ে। লেখকের Duolingo Profile

Quora এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে দুনিয়ার তাবৎ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়। আর বেশিরভাগ উত্তর এমন মানুষই দেন, যাদের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো। গুগল মামাকে জিজ্ঞেস না করে Quora-তে একাডেমিক বিষয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে অধিকাংশ সময়েই নির্ভুল উত্তর পাওয়া যায়। লেখকের Quora ID:

কয়েক বছর আগেও ফেইসবুকে যে ধরনের অনুপ্রেরণামূলক লেখা পাওয়া যেতো, এখন আর তেমন পাওয়া যায় না। ভালো লেখকরা তাদের ভালো লেখাগুলো বেশিরভাগ সময়েই বইয়ের জন্য রেখে দেন। ফেইসবুক হয়ে গেছে তাই কাদা ছুড়াছুড়ির তীর্থস্থান। কিছু সময় অনলাইনে থাকা যদি আপনার অভ্যেস হয়ে থাকে, তবে ওপরের তিনটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারেন। ফেইসবুক আসক্তি ধীরে ধীরে কমবে। তারপর যদি ওপরের প্ল্যাটফর্মগুলোও উপকারি মনে না হয় ছেড়ে দিতে পারেন। আর আপনার যদি মনে হয় ফেইসবুক আপনি ইফেক্টিভলি ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে ওপরের প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।

সবচেয়ে ভালো হয় যদি সব ছেড়ে কাগুজে দুনিয়ার নেশাটা আবার নিজের ভেতর জাগ্রত করতে পারেন। কিন্তু সব ভালো কিছু কি আর একজীবনে এই ডিজিটাল দুনিয়াতে রপ্ত করা যায়?

সম্পাদকের মন্তব্যঃ

লেখাটি যদিও লেখকের নিজস্ব মতামত। তবুও আমাদের মনে হয়েছে আসলেই আমাদের সার্বিক মনযোগ বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন। এজন্যই লেখাটি প্রকাশ করা হলো।

Source

 

মতামত দিন