অর্থনীতি

বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন

এদেশের অনেক মানুষের একটি সাধারন অভিজ্ঞতা আছে। অভিজ্ঞতাটি হল ইসলামি ব্যাংক এবং প্রচলিত ব্যাংকিং এর ভেতর তুলনা নিয়ে কোন আলোচনার এবং সবশেষে ইসলামি ব্যাংকগুলো সুদকেই মুনাফা বলে ব্যবসায় করছে এরকম একটি মন্তব্য শোনা। বাংলাদেশে প্রায় সব জায়গাতেই ইসলাম নিয়ে ওয়াজ, নসিহত, তর্ক বিতর্ক খুব প্রচলিত। ধর্ম এমন একটি বিষয় যা নিয়ে অনেকেই যার যার নিজের মত একটি ব্যখ্যা দেয় এদেশে। ধর্মীয় অনেক বিষয় নিয়ে খুব বেশি জানা না থাকলেও দেখা যায় একটি মতামত দিয়ে দেওয়া হয়। তেমনি একটি বিষয় হল ইসলামি ব্যাংকিং।

ইসলামি ব্যাংকিং বাংলাদেশে প্রচলিত আছে প্রায় কয়েক দশকের ও বেশি সময় ধরে। শুরুতে মাত্র একটি ব্যাংক থেকে শুরু হলেও এখন ইসলামি ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে বেশ কয়েকটি ব্যাংক। এছাড়া আরো বেশ কিছু ব্যাংক এখন হয় শাখা ভিত্তিক অথবা কাউন্টার ভিত্তিক ইসলামি ব্যাংকিং সুবিধা দিচ্ছে গ্রাহক দের। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে সব ব্যাংক মিলে ইসলামি ব্যাংকিং এর  শাখা রয়েছে ১০ হাজার ৪০৬টি। নতুন করে দুটি ব্যাংক (স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এবং এন আর বি গ্লোবাল ব্যাংক) ইসলামী ব্যাংকিয়ে রূপান্তরিত হওয়ায় এখন পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকের শাখা দাঁড়াল এক হাজার ৪৩৫টি। এর মধ্যে শহরের শাখার সংখ্যা ৮৬৬টি। আর গ্রামীণ শাখা ৫৬৯টি। এ ছাড়া বর্তমানে প্রচলিত ধারার আটটি ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখা রয়েছে ২১টি। এছাড়া ৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের রয়েছে ৬১টি ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো।২০১৯ এর সেপ্টেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে আমানত ছিল ১০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ১১১ কোটি টাকা, যা ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের ২৩ শ্রমিক ৯৮ শতাংশ। একইভাবে পুরো ব্যাংক খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ১৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ৫০ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ২৪ শ্রমিক ৫৯ শতাংশ। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স সংগ্রহেও এগিয়ে রয়েছে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স ব্যাংকিং মাধ্যমে আসছে তার ৩১ দশমিক ১২ শতাংশ আসছে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে। দেশের ব্যাংকিং নেটওয়ার্কেও আট ভাগের এক ভাগ ইসলামি ব্যাংকিংয়ের অধীনে।ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ৩৬ হাজার ৩৩৭ জন কর্মী কাজ করছেন। গ্রাহকদের একটি বড় অংশ এখন ইসলামি ব্যাংকিং সেবার দিকে ঝুকছে, তার প্রধান কারন যে ধর্মীয় মূল্যবোধ একথা জানার জন্য কোন গবেষনার দরকার পড়ে না। এমনিতেই তা বুঝা যায়।

কিন্তু এই ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে এরপরেও তর্ক বিতর্ক, মতামত, বক্তব্য পালটা বক্তব্যের শেষ নেই দেশে। দেশের উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে সাধারন জনগনের ও বড় একটা অংশ মনে করে ইসলামি ব্যাংকিং হচ্ছে প্রতারনা। বলা হয় যে ইসলামি ব্যাংক গুলো সুদকেই মুনাফা বলে এবং ইসলামি ব্যাংক ও প্রচলিত ব্যাংকগুলোর  মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে এক সেমিনারে কয়েক বছর আগে বক্তারা সমালোচনা করেন। বক্তাদের ভেতর কেউ কেউ ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে বেশ অভিজ্ঞ। উক্ত সেমিনারের গুরুত্বপুর্ন কিছু উক্তি ছিল “বাংলাদেশে যেভাবে ইসলামি ব্যাংকিং হচ্ছে, তাতে ইসলাম ধর্মের নিয়মকানুন বা শরিয়া পালিত হচ্ছে না। শরিয়াভিত্তিক অর্থায়নের ৫২টি মান আছে। বাংলাদেশে মাত্র দু-একটি পালন করা হয়”।“ইসলামি ব্যাংকে গ্রাহকের আমানত মূলধন নয়, দায় হিসেবে দেখানো হয়। মুদারাবা আমানত শুধু নামে, কারণ এতে গ্রাহককে লোকসানের ভাগ দেওয়া যায় না”।“ইসলামি ব্যাংকগুলো এখন ক্রেডিট কার্ড চালু করেছে। এ কার্ড শরিয়া অনুমোদন করে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে”।“আমি পুরোপুরি একটি ইসলামি ব্যাংককে কলমানি মার্কেট (আন্তব্যাংক ঋণ) থেকে ঋণ নিতে দেখেছি। এটা কি ইসলামসম্মত?” প্রত্যেক্ টা অভিযোগ গুরুতর এবং সবগুলো অভিযোগই করা হয়েছে ইসলামি ব্যাংকিং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উ্পস্থিতিতে। ইসলামি ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকেও এসব বক্তব্যের ব্যাপারে প্রকাশ্যে কিছু বলা হয় নি।

ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে একাডেমিক কাজ, লেখালেখি, সেমিনার ইত্যাদি হচ্ছে অনেকদিন ধরেই। ইসলামি ব্যাংকিং আরো সুচারুভাবে করার জন্য অনেক সুপারিশের কথা আমরা দেখতে পাই এসব প্লাটফর্মে। ইসলামি ব্যাংকের লেনদেনের ধরন যথা মুদারাবা, মুশারাকা, মুরাহাবা ইত্যাদির বিষয় আমরা আলোচনা দেখতে পাই। আরো অনেক লেখা দেখা যায় প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার সাথে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার তুলনামুলক পার্থক্য আর ইসলামি ব্যাংকিং যে কল্যানমূলক তা প্রমান করার জন্য বিভিন্ন যুক্তি। এখানে কোন সন্দেহ নেই যে এসকল কার্যকলাপ খুবই দরকারি এবং প্রশংসনীয়। কিন্তু এরপর ও বড় একটি Gap থেকে যায়, আর সে Gap টি পূরন না করতে পারলে অনেক কিছুই প্রশ্নের সম্মুক্ষীন হওয়ার যে ধারা তা বন্ধ হবে না।

এখানে ১ম যে বিষয়টা আমাদের সামনে উঠে আসছে তাহল কয়েক দশক পড়েও আমাদের দেশের সাধারন জনগনের সুদের ভয়াবহতা এবং বিকল্প ইসলামি অর্থসংস্থান নিয়ে সার্বিক জ্ঞানের বড় অভাব। আসলে এখানে সার্বিক না বলে যদি বলা হয় সাধারন জ্ঞান তাহলে আরো যুক্তিযুক্ত হয়। খুব ভাল্ ভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে সাধারন মুসলমানদের ভেতর অনেকেই নিয়মিত নামাজ পড়তেছে, সাওম পালন করতেছে, হজ্বেও যাচ্ছে কিন্তু তাদের সুদের সাথে সংশ্লিষ্টতা আছে। এটা হতে পারে সুদী ব্যাংকে টাকা জমা করা, জমা টাকার উপর সুদ ভোগ করা, সুদী ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া ইত্যাদি। গ্রামের সাধারন মানুষ অনেকে যারা নিয়মিত নামায রোযা করতেছে তারাও দেখা যায় এনজিও দের কাছ থেকে সুদের বিনিময় টাকা ধার করছে। জুমার খুতবায় আমাদের দেশে অনেক কিছু আলোচনা করা হলেও সরাসরি এসব বিষয়ে কথাবার্তা অত হচ্ছে না। ওয়াজের মাহফিলে এক বক্তা আরেক বক্তা কে নিয়ে অনেক জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখলেও সাধারন মুসলিমদের জন্য সহজবোধ্য ভাষায় ইসলামি ব্যাংকিং ও অর্থনসংস্থানের মাসায়লা আলোচনা হচ্ছে না। সর্বোচ্চ যে কাজটি করা হচ্ছে তা হল মানুষ কে বলা হচ্ছে সুদী ব্যাংকের সাথে সম্পর্ক না রাখতে আর সুদী লেনদেনে জড়িত না হতে। অনেক ধর্মপ্রান মুসলমান সুদী লেনদেনে জড়িত হচ্ছেন না, সুদ থেকে বেচে থাকার জন্য চেষ্টা করছেন, অবশ্যই তারা প্রশংসার দাবিদার। অনেক মানুষ এমন কি বিভিন্ন ইসলামি ব্যাংকের দীর্ঘদিনের গ্রাহকদের দেখা যাবে মুদারাবা, মুশারকা, মুরাহাবা ইত্যাদি শব্দগুলোর সাথে পরিচিত হলেও শব্দগুলোর মানে কি তা জানেন না।

কিন্তু, সবার পক্ষে কি সুদী ব্যাংকের সাথে লেনদেন না করে টিকে থাকা সম্ভব? অর্থনীতি নিয়ে যাদের ভাল ধারনা আছে তারা বুঝবেন যে তা আসলে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় অসম্ভবের কাছে। ব্যাংক এখন অর্থনীতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের বড় আকারের ব্যবসায় বানিজ্য এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপ অনেকাংশেই ব্যাংকের সাথে অবিচ্ছেদ্য । আরো একটি বিষয় হল কর্মসংস্থান। এখননকার শিক্ষিত অনেক মানুষই ব্যাংকিং পেশায় জড়িত। ব্যাংকিং সেক্টরের ক্যারিয়ার অনেকদিন ধরেই বেশ জনপ্রিয়। এই অংশটাও ফেলে দেওয়ার মত নয়। যদিও স্কলাররা বলেন যে অন্য বৈধ পেশায় যোগ দিয়ে এই পেশা ছেড়ে দেওয়ার জন্য কিন্তু প্রায় বড় অংশ কিন্তু এই কাজটি করছেন না। এমন কি তারা ব্যাংকের সুদের পক্ষে অনেক যুক্তি দাড় করাচ্ছেন যা কিনা সরাসরি কুরআনী নির্দেশের সাথে সাংঘর্ষিক।

আল কুরআন এবং হাদিসে সুদ নিয়ে কি বলা আছে তা আমরা একবার দেখে আসি।

যারা সুদ খায় তারা (কিয়ামতের দিন) সেই ব্যক্তির মতো দাঁড়াবে, যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে। এটা এজন্য যে, তারা বলে, ক্রয়-বিক্রয় তো সুদের মতোই। অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম। যার নিকট তার প্রতিপালকের উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, তবে অতীতে যা হয়েছে তা তারই। আর তার ব্যাপার আল্লাহর এখতিয়ারে। আর যারা পুনরায় করবে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী হবে। সেখানে তারা হবে চিরস্থায়ী। -সূরা বাকারা (২) : ২৭৫

আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বর্ধিত করেন। আল্লাহ কোনো অকৃতজ্ঞ পাপীকে ভালোবাসেন না। -সূরা বাকারা (২) : ২৭৬

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হও। যদি তোমরা না ছাড় তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও। আর যদি তোমরা তাওবা কর তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই। এতে তোমরা (কারও প্রতি) জুলুম করবে না এবং তোমাদের প্রতিও জুলুম করা হবে না। -সূরা বাকারা  (২) : ২৭৮-২৭৯

হে মুমিনগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধিহারে সুদ খেয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। -সূরা আলে ইমরান (৩) : ১৩০

ভালো ভালো যা ইহুদীদের জন্য বৈধ ছিল আমি তা তাদের জন্য অবৈধ করেছি; তাদের সীমালংঘনের জন্য, আল্লাহর পথে অনেককে বাধা দেওয়ার জন্য এবং তাদের সুদ গ্রহণের জন্য, যদিও তা তাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল; এবং অন্যায়ভাবে লোকদের ধন-সম্পদ গ্রাস করার জন্য। তাদের মধ্যে যারা কাফের তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছি। -সূরা নিসা (৪) : ১৬০-১৬১

এবার দেখা যাক সহীহ হাদিসে সুদের ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল(সঃ) কি বলেছেনঃ

যে ব্যক্তি সুদ খায় এবং যে সুদ খাওয়ায় উভয়কে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা‘নত করেছেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৯৭; জামে তিরমিযী, হাদীস ১২০৬; সুনানে নাসাঈ, হাদীস ৫১০৪

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে ৭টি গুনাহকে বড় গুনাহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তন্মধ্যে অন্যতম হল সুদ খাওয়া। -মুসনাদে বাযযার; আল মু‘জামুল কাবীর, তবারানী, হাদীস ১০২; আলমুজামুল আওসাত, তবারানী, হাদীস ৫৭০৯। যে সুদ খায়, যে সুদ খাওয়ায়, যে সাক্ষী থাকে এবং যে ব্যক্তি সুদের হিসাব-নিকাশ বা সুদের চুক্তিপত্র ইত্যাদি লিখে দেয় সকলের প্রতি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা‘নত করেছেন। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৬৬০; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৩৩৩; জামে তিরমিযী, হাদীস ১২০৬

এছাড়া ও আরো অনেক নিষেধাজ্ঞা আছে ইসলামে সুদের ব্যাপারে। এসব নিষেধাজ্ঞা থেকে বুঝা যায় যে ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সাথে সুদের সাংঘর্ষিক অবস্থান। সুদের ক্ষতিকর দিক নিয়ে ইসলামি স্কলারগন আগে অনেক আলোচনা করেছেন, বর্তমান লেখায় সে সব বিষয়ের উদ্ধৃতি আর দিচ্ছি না।

ইসলামি অর্থসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে অনেক কাজ করা হয়েছে । স্বীকৃত ইসলামি স্কলারগন বর্তমান সময় এই জটিল অর্থনীতির ভিতরেও কোন কোন বিকল্প উপায়ে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালানো যেতে পারে সে বিষয় অনেক আলোচনা করেছেন। ইসলামি অর্থসংস্থানের এসকল মূলনীতি নিয়ে এখনই যে আলোচনা শুরু হয়েছে বিষয়টা এরকম নয়। প্রাচীন স্কলারগন এবং আমাদের মাযহাবের ইমামগন ইসলামি অর্থসংস্থানের নীতিমালা এবং জায়েয নাজায়েয এর পরিধি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করেছেন। আগ্রহী পাঠকগন ইসলামি অর্থসংস্থান নিয়ে আল্লামা তকী ওসমানীর বই পড়লেই এ বিষয় জানতে পারবেন।

বাংলাদেশের সাধারন মানুষজন ইসলামি অর্থসংস্থানের মৌলিক নীতিমালা নিয়ে জানেন না। ইসলামি ব্যাংকগুলো কিভাবে পরিচালিত হচ্ছে তার ব্যাপারে ভাসা ভাসা ধারনা আছে এরকম মানুষ ও সমাজে খুব অল্প। আর তাই মানুষজন ইসলামি ব্যাংক গুলোর উপর নির্ভর করতে পারছে না। অনেক সাধারন মানুষ বিরূপ মন্তব্য করছেন। ইসলামের অন্যান্য বিধি বিধান মানার পরেও সুদের সাথে জড়িত হয়ে পড়ছেন। ইসলামি ব্যাংকগুলোর অনেক গ্রাহকরাও জানেন না তাদের ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ডে কারা আছেন। আর শরিয়াহ বোর্ডের সদস্যদের ব্যাংকের কার্যকলাপ নিয়ে কি মূল্যায়ন তাও ব্যাপক ভাবে জানানো হচ্ছে না। অথচ এসব বিষয় ব্যাংকের গ্রাহকদের জানার পূর্ন অধিকার থাকা উচিত। কারন একজন গ্রাহক একটি ইসলামি ব্যাংকে একাউন্ট অপেন করে যেন সুদমুক্ত লেনদেনে থাকতে পারে তার জন্য, কিন্তু যদি শুধুমাত্র নামেই ইসলামি ব্যাংক রাখা হয় কিন্তু কাজকর্ম অন্যান্য সাধারন ব্যাংকের মতই তাহলে তো আর লাভের কিছু হল না। প্রত্যেকটি ব্যাংক Shariah Compliance কতটুকু নিশ্চিত করতে পারছে আর কতটুকু পারছে না এবং কেন পারছে না তার যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা বিশ্লেষন সাধারন জনগনের কাছে তুলে ধরা দরকার। তাহলে অনেক বিষয় নিয়ে ভুল বুঝাবুঝির অবসান হবে।

দেশের স্কলারদের ভেতর ও মতামতের তারতম্য দেখা যায় ইসলামি ব্যাংক গুলোর মুনাফা নিয়ে। কেউ কেউ বলেন গ্রাহক ইসলামি ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত মুনাফা ভোগ করতে পারেন যেহেতু এখানে শরিআহ বোর্ড আছে, আবার কোন স্কলার বলেন মুনাফাটা ভোগ না করতে সাবধানতার জন্য। এই জায়গা গুলোতে আসলে এরকম মতভিন্নতা কাম্য নয়। কারন এরকম মতভিন্নতা অনেক মানুষ কে সংশয়ে ফেলবে। স্কলারদের উচিত প্রত্যেকটি ইসলামি ব্যাংকের কার্যকলাপের বিষয় ওয়াকিবহাল থাকা, ইসলামি অর্থসংনস্থানের নীতিমালা নিয়ে পরিপূর্ন ধারনা রাখা, এবং বিশ্লেষন করে প্রত্যেকটা ব্যাংকের বিষয়ে আলাদা মতামত দেওয়া।

আল্লামা তক্বী উসমানী সাহেব কোন কোন ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ড থেকে পদত্যাগ ও করেছেন। শরিয়াহ বোর্ডের সদস্যদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টা খুব গুরুত্বপূর্ন। স্বাধীনচেতা, দক্ষ, বাস্তবিক জ্ঞানসম্পন্ন স্কলার শরিয়াহ বোর্ডের জন্য খুব দরকারি। বিজনেস এডুকেশনে একটা কনসেপ্ট আছে হুইসেল ব্লোয়ার (আভিধানিক অর্থে যে বাশি বাজিয়ে সবাইকে সতর্ক করে দেয়)। প্রতিষ্ঠানে কোন দুর্নীতি অথবা প্রতারনামূলক কাজ হলে যদি প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট কেউ তা সবাইকে জানিয়ে দেয় তখন তাকে বলা হয় Whistle Blower. দরকার পড়লে একজন শরিয়াহ বোর্ডের সদস্যকে হুইসেল ব্লোয়ারের ভূমিকা পালন করতে হবে। কারন এতে অসংখ্য গ্রাহক সন্দেহজনক অথবা প্রতারনাপূর্ন লেনদেন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে।

সাধারন মুসলিম জনসাধারনের মাঝে যে ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে ভুল ধারনা অথবা খন্ডিত ধারনা রয়েছে তার জন্য পুরো ইসলামি ব্যাংকিং শিল্প দায়ী। বাংলাদেশের অনেক কর্পোরেট ফার্ম বিভিন্ন উপায়ে নিজেদের পন্য এবং সেবা নিয়ে অনেক তাড়তাড়ি এবং কার্যকরী উপায়ে জনসাধারন কে জানাচ্ছে। শুধুমাত্র টেলিকম সেক্টরের দিকে তাকালেই বুঝা যায়। টেলিকম ফার্মগুলো জনসাধারন কে নিজেদের অফার, কার্যকলাপ, এমন কি নিজেদের কর্মীদের ব্যাপারেও বিভিন্ন ভাবে জানাচ্ছে। মাত্র কয়েক বছরের ভেতর মোবাইল ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রি নিজেদের অনেক প্রতিষ্ঠিত অবস্থায় নিয়ে গেছে। গ্রামের সাধারন জনগন ও মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ে এখন বেশ ধারনা রাখে।

সেই তুলনায় আমাদের দেশের ইসলামি ব্যাংকগুলো অনেকটা জনবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ইসলামি ব্যাংকিং আলাদা এবং বিগত কয়েক দশকেও এই আলাদা হওয়ার ক্ষেত্র গুলো নিয়ে জনগনকে পরিষ্কার কোন ধারনা দেওয়া হয়নি। এখানে একটা যুক্তি হয়ত আসতে পারে যে ব্যাংকের প্রচার প্রচারনা আর অন্যান্য ব্যবসায় বানিজ্যের প্রচার প্রচারনার প্রকৃতি আলাদা। কিন্তু একথা ভুলে গেলে চলবে না যে পুরো ইসলামি ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রি দাড়িয়ে আছে ইসলামি অর্থসংস্থানের নীতিমালার উপর এবং স্বতন্ত্র প্র্যাক্টিসের উপর। এখন এই নীতিমালা এবং প্র্যাক্টিসের বিষয়ে জনগন কে ধারনা দেওয়া একটা বড় কর্তব্য। অনেক কোম্পানিকে দেখা যায় এরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি সেম্পলিং করে, বিভিন্ন জায়গায় কনসার্টের আয়োজন করে, সাধারন গ্রাহকদের সাথে বসার চেষ্টা করে। এখানে এই কথা বলা হচ্ছে না যে ইসলামি ব্যাংক গুলো একই কাজ করবে, বরং বলা হচ্ছে যে বিভিন্ন উপায়ে সাধারন জনগ্নের কাছে সহজবোধ্য উপায়ে তথ্য উপাত্ত তুলে ধরা যাতে জনগন ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে বেশ ভাল একটা ধারনা পায়। কোন একক ইসলামি ব্যাংকের পক্ষে এ কাজটা কঠিন হয়ে দাড়ালে সবগুলো ব্যাংক একসাথে মিলে প্রচার প্রচারনা করতে পারে। Industrial Advertising এর এই ধারনা অনেক আগে থেকেই প্রয়োগ করা হচ্ছে যেখানে কোন ইন্ডাস্ট্রির প্রায় সব গুলো ফার্ম এক সাথে বিশেষ কোন বিষয়ে প্রচার প্রচারনা চালায়।

এছাড়া বড় কিছু সমালোচনা এড়ানোর জন্য ইসলামি ব্যাংক গুলো অন্তত পাইলট প্রজেক্ট ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে। যেমনঃ গ্রাহকদের সাথে ক্ষতির শেয়ার করা। বিশেষ কিছু হিসাব খোলা উচিত যেসব হিসাবের গ্রাহকগন উপযুক্ত তথ্য প্রমান এবং জবাবদিহিতার ভিত্তিতে ব্যাংকের ক্ষতি বহন করতে রাজি থাকবে তার বিনিয়োগের অনুপাতে। এরকম পদক্ষেপ গ্রাহকদের বাস্তব প্রতিক্রিয়া পেতে ইসলামি ব্যাংকগুলোকে সাহায্য করবে এবং তার ভিত্তিতে ইসলামি অর্থসংস্থানের সর্বোচ্চ মানের চর্চায় ব্যাংকগুলো নিজেদের নিয়োজিত করতে পারবে।

জনগনের সাথে সরাসরি সংস্পর্শে থাকে দেশের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম- মুয়াজ্জিন গন। এছাড়া ওয়াজ নসিহতের দিকেও ধর্মপ্রান মানুষদের আগ্রহ আছে। এদের সাথে ইসলামি অর্থসংস্থান, ইসলামি ব্যাংক গুলোর কার্যকলাপ, আর সীমাবদ্ধতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার দরকার আছে। কারন এরা জনগন কে ধর্মীয় অনেক বিষয়ে মতামত দিয়ে থাকে আর এদের মতামতের দিকে মানুষের পজিটিভ ধারনা থাকে।

যে কোন ব্যবসায়িক সেক্টরের উপর বিশ্লেষন এবং মন্তব্য করার জন্য দরকার স্বাধীনভাবে পরিচালিত নির্ভরযোগ্য মানের গবেষনা। বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম, গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়া এবং সম্ভাবনা নিয়ে কাজ খুব কম। ইসলামি ব্যাংকিং এবং এর গ্রাহকদের উপর বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে কিছু গবেষনা হয়েছে। এসব গবেষনার প্রায় বেশিরভাগ পুরোপুরি একাডেমিক ঘরানার। গবেষনা যে কজন গ্রাহকের উপর করা হয়েছে তাদের সংখ্যা ও খুব বেশি নয়। কিন্তু তারপর ও বেশ কিছু ধারনা এসব গবেষনা থেকে পাওয়া যেতে পারে। ২০১৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষনায় দেখা যায় যে অমুসলিম গ্রাহকদেরও ইসলামি ব্যাংকিং এর প্রডাক্ট এবং সেবার প্রতি ‘Positive’ ধারনা আছে। তবে গবেষনাটি করা হয়েছে মাত্র ১১৭ জন গ্রাহকের উপর এবং যেই জার্নালে কাজটি প্রকাশিত হয়েছে তাও খুব উচু মানের কোন জার্নাল নয়। এছাড়া শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি ব্যাংকের উপর কাজটি করা হয়েছে। ২০০৭ সালের দিকে প্রকাশিত আরেকটি গবেষনায় দেখা যায় যে শিক্ষিত গ্রাহকগন ইসলামি ব্যাংকিং এর গ্রাহক বেশি। এর কারন হতে পারে শিক্ষিত ধর্মীয় মনা গ্রাহকরা নিজেদের পড়াশোনার মাধ্যমে ইসলামি ব্যাংকিং এর উপর আস্থা রাখেন। উক্ত গবেষনায় আরেকটি বিষয় উঠে আসে, আর তা হল ইসলামি ব্যাংকিং সেবা নেওয়ার প্রধাণ কারন হল ‘ধর্মীয় অনূভুতি’ যাকে উক্ত গবেষনায় বলা হয়েছে Religious Preference. গবেষনাটি চালানো হয়েছে মাত্র ১০০ জন গ্রাহকের উপর এবং প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশের একটি জার্নালে। এই গবেষনা থেকে যদিও গুরুত্বপূর্ন কিছু ধারনা পাওয়া যায় তারপর ও মনে রাখতে হবে মাত্র ১০০ জন গ্রাহকের উপর করা গবেষনা সার্বিক অবস্থা কখনোই তুলে ধরতে পারে না। তবে ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাসের আরেকটি গবেষনায় ও একি তথ্য পাওয়া যায় যে ধর্মীয় কারনেই ইসলামি ব্যাংকিং সেবা নিচ্ছে গ্রাহকরা।

২০১৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষনায় উঠে আসে আরো একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয় আর তাহল সাধারন সুদ ভিত্তিক ব্যাংকের তুলনায় ইসলামি ব্যাংক গুলোর সেবার মান বেশ ভাল। Emerald Publishers থেকে প্রকাশিত এই জার্নাল টি বেশ মান সম্পন্ন কিন্তু এখানেও ২২৫ জন গ্রাহকের উপর গবেষনাটি করা হয়েছিল। ২০১২ সালের আরেকটি গবেষনায় দেখা যায় যে একটি বড় অংশের মুসলিমগন মনে করেন যে সাধারন ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং ইসলামি ব্যাংকিং এর ভেতর আসলে তেমন কোন পার্থক্য নেই। এসব গবেষনা বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা দ্বারা আক্রান্ত হলেও কিছু ধারনা আমরা এসব গবেষনা থেকে পাই। আর সেই ধারনাগুলো হল মূলত ধর্মীয় কারনেই ইসলামি ব্যাংকিং সেবার দিকে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়, ইসলামি ব্যাংক গুলোর গ্রাহক সেবার মান ও বেশ ভাল, এবং জনসাধারনের একটি বড় অংশ মনে করে যে সাধারন ব্যাংকিং আর ইসলামি ব্যাংকিং এর ভেতর আসলে তেমন কোন পার্থক্য নেই। আরো অনেক গবেষনা দরকার এবং আরো বড় Sample এর উপর তাহলে পরিষ্কার ধারনা পাওয়া যাবে। অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ভাবে এত গুরুত্বপূর্ন একটি সেক্টর হওয়ার পরেও ইসলামি ব্যাংকিং এর উপর বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বড় কোন গবেষনা না পাওয়া আসলে দুঃখজনক। এ বিষয়ে ইসলামি ব্যাংক গুলোর এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশে কয়েক দশক আগে শুরু হওয়া ইসলামি ব্যাংকিং এর আকার বড় হয়েছে। কিন্তু তারপর ও অবস্থানটা বিব্রতকর অনেকটা। অবস্থান বিব্রতকর হওয়ার প্রধান কারন হচ্ছে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার তাত্ত্বিক আলোচনা ও ব্যবহারিক চর্চা সংক্রান্ত তথ্যের দুষ্প্রাপ্যতা। তথ্য যখন পর্যাপ্ত না থাকে তখন আন্দাজ, অনুমান, গুজব ইত্যাদির মাধ্যমে সাধারন মানূষের ধারনা তৈরি হয়। সাধারন মানুষ, অর্থনীতিবিদ এবং আলেম ওলামা থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরে ইসলামি ব্যাংকিং এর নীতিমালা, বাস্তব চর্চা এবং পরিস্থিতিতিজনিত সীমাবদ্ধদতা নিয়ে আলোচনা সমালোচনার দ্বার উন্মুক্ত করতে পারলে এই সমস্যার  সমাধান সম্ভব। শুধুমাত্র গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি, লেনদেনের পরিমান, মুনাফার পরিমান, শাখার পরিমান, আর নতুন নতুন ব্যাংকের ইসলামি ব্যাংকিং এ প্রবেশ ইসলামি ব্যাংকিং এর সার্বিক সফলতার নির্দেশনা দেয় না। তাত্ত্বিক নীতিমালার সাথে পরিস্থিতিজনিত সাময়িক Adjustment এর ব্যাখ্যা দিয়ে ব্যবহারিক চর্চায় দীর্ঘমেয়াদী বৈসাদৃশ্য রাখাটা বেমানান। এখানে মনে রাখাতে হবে ইসলামি অর্থসংস্থানের মূল নীতিমালা অনুযায়ী চলার অংগীকার নিয়েই কিন্তু ইসলামি ব্যাংকিং দাঁড়িয়ে থাকে এবং গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে, আর তাই এ বিষয়ে উত্তোরোত্তর উন্নতি খুবই আবশ্যক।

লেখকঃ মাহামুদুল হাসান
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক ও গবেষক
tuhinjobs46@gmail.com

তথ্যসূত্রঃ

  1. Mamunur Rashid & Mamunur Rashid (2009) “Customer Demographics Affecting Bank Selection Criteria, Preference, and Market Segmentation: Study on Domestic Islamic Banks in Bangladesh” International Journal of Business and Management, Vol. 4, No. 6, 2009
  2. Md. Bashir Uddin, Anisul Mannan Shammo, Meshkat Mahbub,Neser Ahmed (2016) “Non-Muslim Customers’ Attitude and Perceptions toward the Products and Services of Islamic Banks: An Exhaustive Study on Islamic Bank Bangladesh Limited”. IOSR Journal of Business and Management (IOSR-JBM) e-ISSN: 2278-487X, p-ISSN: 2319-7668. Volume 18, Issue 10. Ver. IV.
  3. Mohammad Saif Noman Khan, M. Kabir Hassan & Abdullah Ibneyy Shahid (2008) “Banking Behavior of Islamic Bank Customers in Bangladesh” Journal ofIslamic Economics, Banking and Finance.
  4. Md Abu Saleh, Ali Quazi, Byron Keating, Sanjaya S. Gaur (2016) “Quality and image of banking services: a comparative study of conventional and Islamic banks” International Journal of Bank MarketingEmerald Publishers.
  5. A H M Yeaseen Chowdhury, Nishat Saba, Md. Mamun Habib (2019) “Factors Affecting the Choice of Islamic Banking by the Customers: A Case Study” Frontiers in Management Research, Vol. 3, No. 1 .
  6. https://www.deshrupantor.com/rupantorer-bangladesh-2/2020/01/21/194271
  7. BD’s Islamic finance industry keeps booming (https://thefinancialexpress.com.bd/views/reviews/bds-islamic-finance-industry-keeps-booming-1582034749)
  8. সাধারণ ব্যাংক ঝুঁকছে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে (https://www.kalerkantho.com/print-edition/industry-business/2020/02/24/878110).
  9. ইসলামী ব্যাংকিং ও অর্থায়ন পদ্ধতি: সমস্যা ও সমাধান। লেখকঃ মুফতি মুহাম্মদ তকি ওসমানী।

মতামত দিন