তাবলীগ

দাওয়াতী কাজের আধুনিক পদ্ধতি

শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, বর্তমান যুগে আমাদের দাওয়াতী কাজকে আল্লাহ অনেক সহজ করে দিয়েছেন। এমন কিছু কৌশল আমরা অর্জন করেছি, যা পূর্বের যুগের দাঈগণ অর্জন করেননি। সাথে সাথে বিভিন্ন তথ্যাদি ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে খুব সহজেই উপস্থাপন করতে পারি অথচ পূর্বের আলেমগণ এত সহজে তথ্য উপস্থাপন করেননি।[১] নিম্নে আমরা আধুনিক দাওয়াতের কিছু পদ্ধতি উপস্থাপন করব, যার মাধ্যমেও দাওয়াতী কাজ সহজভাবে করতে পারি। পূর্বেই বলেছি সব মানুষের চাহিদা বা স্বাদ এক ধরণের নয়, ভিন্ন চাহিদা বা স্বাদের মানুষ আছে। তাই যার কাছে যা গ্রহণযোগ্য মনে হয় তার কাছে তাই উপস্থাপন করা যেতে পারে।

ইন্টারনেটে দ্বীন প্রচার : নবী-রাসূলগণও দাওয়াতী কাজে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। মহান আল্লাহর বাণী নূহ (আলাইহিস সালাম) বলছেন, ‘আমি আমার সম্প্রদায়কে দিবারাত্রি দাওয়াত দিয়েছি, অতঃপর আমি তাদেরকে প্রকাশ্যে দাওয়াত দিয়েছি, অতঃপর আমি ঘোষণা সহকারে প্রচার করেছি এবং গোপনে চুপিসারে বলেছি’ (সূরা আন-নূহ : ৫, ৮-৯)। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

لَا يَبْقَى عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ بَيْتُ مَدَرٍ وَلَا وَبَرٍ إِلَّا أَدْخَلَهُ اللهُ كَلِمَةَ الْإِسْلَامِ بِعِزِّ عَزِيْزٍ أَوْ ذُلِّ ذَلِيْلٍ إِمَّا يُعِزُّهُمُ اللهُ فَيَجْعَلُهُمْ مِنْ أَهْلِهَا أَوْ يُذِلُّهُمْ فَيَدِيْنُوْنَ لَهَا

‘এ যমীনের উপরে এমন কোন মাটির অথবা পশমের ঘর বাকী থাকবে না, যেখানে ইসলামের বাণী আল্লাহ প্রবেশ করাবেন না। সম্মানীর ঘরে সম্মানের সাথে আর লাঞ্ছিতের ঘরে লাঞ্ছনার সাথে তা পৌঁছাবেন। আল্লাহ যাদেরকে সম্মানিত করবেন তাদেরকে স্বেচ্ছায় ইসলাম কবুলের উপযুক্ত করে মর্যাদাবান ও গৌরবময় করে দিবেন। পরে যারা ইসলাম গ্রহণ করবে না, আল্লাহ তাদের অপমানিত করবেন এবং তারা এ কালিমার প্রতি অনুগত হবার জন্য বাধ্য হবে’।[২] একটি সময় আসবে যখন পৃথিবীর প্রতিটি ঘরে ইসলাম প্রবেশ করবে। প্রশ্ন হল- কিভাবে? ২০ বছর আগেও হয়তো আমরা এ প্রশ্নের উত্তর মিলাতে পারিনি। কিন্তু আজ তার ভাব দৃশ্যমান। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার ‘সংকল্প’ কবিতায় বলেছেন, ‘বিশ্বটাকে দেখব আমি আপন হাতের মুঠোই পুরে’।

কম্পিউটার :

অমুসলিমরা যেখানে মুসলিম নিধনে বিভিন্ন পদ্ধতি কাজে লাগাচ্ছে সেখানে আমরা অন্তত আমাদের জন্য হলেও আধুনিক পদ্ধতি থেকে বিরত থাকব কেন? পৃথিবী সৃষ্টি থেকে এ পর্যন্ত পূর্ব যুগ ও বর্তমানে সর্বশ্রেষ্ঠ আবিষ্কার হল কম্পিউটার। অথচ আমরা সেই কম্পিউটার থেকেই অনেক দূরে আছি। তাতে বিভিন্ন এ্যাপস ব্যবহার করে দাওয়াতী কাজ আমরা আরো আধুনিক করতে পারি, যুগের চাহিদানুসারে মানুষের চাহিদা মেটাতে পারি। বিখ্যাত আরবী সাহিত্যক বদীউযযামান আল-হামাদানী তিনি তার কবিতায় বলেছিলেন, در بالليالي كما تدور ‘তুমি যুগের তালে তাল মিলিয়ে চল’। বর্তমানে ‘আল-মাকতাবাতুশ শামেলা’ নামে আরবী বইয়ের বিশাল সম্ভার একটি সফটওয়ার আছে, যা ব্যবহার করেও দাঈরা উপকৃত হতে পারেন।

অনলাইন টিভি :

বর্তমানে দাওয়াতী কাজের জন্য আরো একটি অন্যতম পদ্ধতি হল অনলাইন টিভি। টেলিভিশন এর পূর্ণাঙ্গ চ্যানেলের অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি জটিল। কিন্তু অনলাইনভিত্তিক ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে দাওয়াতী কাজ করা যেতে পারে। বিভিন্ন দেশের দাঈরা এ পদ্ধতিতে দাওয়াতী কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারীভাবে পূর্ণাঙ্গ টিভি চ্যানেলের অনুমতি নিয়ে দাওয়াতী কাজ করা গেলে দাওয়াতী কাজ আরো সমৃদ্ধ হবে। তাই দেশ-বিদেশের আনাচে-কানাচে দাঈ স্বশরীরে সেখানে না গিয়েও তাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছাতে পারেন।

ওয়েবসাইট :

আধুনিক পদ্ধতিতে দাওয়াত প্রচারের প্রথমে বলেছি ইন্টারনেটে দ্বীন প্রচার। ইন্টারনেটেরই একটি অধ্যায় ওয়েবসাইট। সেখানে দাঈদের বিভিন্ন কৌশল উপস্থাপন করা যায় এবং বিভিন্ন ভাষায়। সেখান থেকে উপকৃত হবে বিভিন্ন দেশের ও বিভিন্ন ভাষার মানুষ। যেমন সেখানে হরেকরকমের বই, পত্র-পত্রিকা, লিখনি, ব্লগ, অডিও-ভিডিও বিভিন্ন বক্তব্য, প্রশ্নোত্তর বিভাগ, পরামর্শ বিভাগ ইত্যাদি অপশন ওপেন করে রেখে মাদ‘ঊদের চাহিদা মিটিয়ে দাওয়াতী কাজ করা যায়।

এফএম রেডিও :

যুগের চাহিদা অনুযায়ী কোন কিছু উপস্থাপন করায় শারঈ কোন বাধা নেই; বরং উৎসাহিত করে। বর্তমানে বেদ্বীনরা তাদের কার্যকলাপ প্রচার করছে এফএম রেডিওর মাধ্যমে। আর মুসলিমরাও তা লুফে নিচ্ছে অনায়াসে। মানুষ সর্বদা তাদের বিনোদনের জন্যই শুনে তা নয়; বরং কেউ কেউ তাদের টাইম পাস করার জন্যও এফএম রেডিও শোনে থাকে। এরই মাঝে রেডিও পয়েন্ট ওপেন করে যদি বিষয়ভিত্তিক বক্তৃতা, কুরআন শিক্ষার আসর, হাদীছের গল্প, সালাফদের জীবনী, ঐতিহাসিক সত্য ঘটনা, ছওম, হজ্জ, সাময়িক প্রসঙ্গ, কিডস্ আইটেম বা শিশুদের প্রয়োজনীয় বিষয় উপস্থাপন করা যেতে পারে এফএম রেডিওর মাধ্যমে। সঊদী আরবে কয়েকটি এফএম রেডিও আছে। যেখানে ‘ইযা‘আতুল কুরআনিল কারীম’ নামে একটি পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টায় কুরআন কেন্দ্রিক যা আছে তা চলে- তেলাওয়াত, কুরআন শিক্ষা, কুরআনী প্রশ্নোত্তর, প্রতিযোগিতা, কুরআনের মহিমা, বিভিন্ন ফযীলত ইত্যাদি চালু আছে। যার যখন সময় অনুকূল হয় সে তখন শুনতে পারে।

ফেসবুক :

বিশ্ব সামাজিক আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থার একটি অন্যতম ওয়েবসাইট। যেখানে ১৪০টি ভাষায় লেখা যায়, বক্তৃতা আপলোড করা যায় এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা যায় আবার আপলোডও করা যায়। বিশে^র বিভিন্ন ভাষাভাষির প্রায় ২০০ কোটি মানুষ ফেসবুকের সদস্য এবং বর্তমানে ব্যবহারকারীর সংখ্যাও ৩০ কোটির উপর। দাওয়াত প্রচারের মানসিকতা আছে অথচ কোন মাধ্যম পাচ্ছেন না, যদি এমন হয় তাহলে একসাথে এত মানুষের নিকট দাওয়াত পৌঁছানোর অন্যতম মাধ্যম ফেসবুক। ‘সময় নষ্টের মেশিন হিসাবে পরিচিত’ চায়না, সিরিয়া, ইরানে ব্যবহারের উপর বিধিনিষেধ থাকলেও যারা কিছু করতে চায় তাদের নিরাপদ এবং স্বাধীন ক্ষেত্র হল ফেসবুক। অন্যরা যেখানে নষ্টামীতে ব্যস্ত সেখানে একজন দাঈ এরই মাঝে যদি কোন মাসআলা, প্রবন্ধ, একটি শিক্ষণীয় হাদীছ, সময়পযোগী কোন ক্লিপ ইত্যাদি শেয়ার করে আপনিও হতে পারেন একজন গুণী দাঈ। বর্তমানে লাইভে এসেও সাম্প্রতিক কোন বিষয় উপস্থাপন করা যায়। সচেতনমূলক কোন স্পট, সতর্কবার্তা, ইসলামবিদ্বেষী কার্যকলাপ, অনুভূতিতে নাড়া দেয় এমন চলমান কোন ঘটনাও লাইভে শেয়ার করা যেতে পারে, যা দাওয়াতী কাজেরই অংশ।

সংবাদপত্র :

পূর্বে একটি বিষয় আলোচনা করেছি লিখনি। যদিও সংবাদপত্রেরই একটি উপাদান হল লিখনি। তবুও সংবাদপত্রের ভূমিকাই ভিন্ন। দাওয়াতী কাজের স্বার্থে যদি কোন সংবাদপত্র নিজেদের আয়ত্বে রেখে প্রকাশ করা যায়, তাহলে খুবই কল্যাণকর হবে। আজকে মুসলিমদের যে অবস্থা তার অনেকটাই মিডিয়ার সৃষ্টি, যা হলুদ সাংবাদিকতার অংশ। তার বিপরীতে সরাসরি কুরআন-হাদীছ প্রচার না করলেও দেশ-বিদেশ, মাটি ও মানুষের কথাগুলোই যদি সত্য ও ন্যায়-নিষ্ঠার সাথে প্রকাশ করা যায়, সেটাই হবে অন্যতম দাওয়াতী কাজ। তাই যার যেমন সামর্থ্য আছে সে তার মত চেষ্টা করে। যদি সংবাপত্রের ব্যবস্থা করতে পারে, তাহলে জাতি এর জন্য কৃতজ্ঞ থাকবে।

বিতর্ক প্রতিযোগিতা :

ইসলাম প্রচারের আর একটি মাধ্যম হল বিতর্ক। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আপনি পালনকর্তার পথের প্রতি আহ্বান করুন জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে ও উপদেশ শুনিয়ে উত্তমরূপে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন পসন্দযুক্ত পন্থায় (সূরা আন-নাহল : ১২৫)। ইমাম আবু হানীফা, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, ইমাম বুখারী, ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন, শাইখুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়া, সানাউল্লাহ অমৃতসরী ড় সহ বিশ্বের বড় ওলামা-মাশায়েখ খোলা মঞ্চে ইসলামের সঠিকতা অথবা বিদ‘আতীদের কোন বিদ‘আতকে ব্যর্থ করার জন্য বিভিন্ন সময় তারা বিতর্কে হাযির হয়েছেন এবং সফলও হয়েছেন। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম দাঈ ডা. জাকির নায়েক প্রথম দাওয়াতী কাজ শুরু করেন বিতর্কের মত বিভিন্ন ইভেন্ট দিয়ে। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বিধর্মীদের কেউ কেউ যখন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়, তখন ডা. জাকির নায়েক তা গ্রহণ করেন এবং যৌক্তিক বিতর্কের মাধ্যমে বিশ^মঞ্চে ইসলামের সঠিকতা তুলে ধরতে স্বচেষ্ট হন। এমনভাবে আহমাদ দিদাত, মুহাম্মাদ হিজাবী, ড. বিলাল ফিলিপস সহ আরো অনেকে যৌক্তিক তর্কে অংশগ্রহণ করেছেন। আমরাও এমন বিতর্কের আয়োজন করে দাওয়াতী কাজ করতে পারি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন আয়োজনে বিষয়ভিত্তিক বিতর্ক প্রতিযোগিতা করে ছাত্রদের প্রশিক্ষণ দিলে দাওয়াতী কাজ আরো প্রসারিত হবে ইনশাআল্লাহ।

মোবাইল ফোন :

বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ ফযীলতের দিন ‘আরাফার দিন। সেদিন কেউ ছওম পালন করলে তার পূর্বের ও পরের দুই বছরের ছগীরা গুনাহ মাফ হয় (ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৭৬)। অথচ আমরা দেখেছি সমাজের অধিকাংশ মানুষই না জানার কারণে ছওম পালন করে না। তারপর যার যেখানে আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজন আছে তাদের পরস্পরে মোবইল ফোনের মাধ্যমে জানানো শুরু হল। বর্তমানে তারা সেই ফযীলতপূর্ণ দিন ‘আরাফাহ সহ অনেক বিষয়ই জানতে পেরেছে। জানার এই মাধ্যম হল মোবাইল ফোন। আমরা একই জিনিস যে যেভাবে নেব সে ঐভাবেই ব্যবহার করবে। মোবাইল শুধু কথা বলার জন্য আবিষ্কার হলেও বর্তমানে এমন কোন কাজ নেই, যা মোবাইলের মাধ্যমে হচ্ছে না। পুরো বিশ^টা যেন মানুষ মোবাইলের মাধ্যমে আপন হাতের মুঠোই নিয়ে নিয়েছে। তাই দাঈ হিসাবে আমিও পিছিয়ে থাকব কেন? মাত্র ১ মিনিটের একটি ফোন কলে তাবীয ছুঁড়ে ফেলে শিরকমুক্ত হতে পারে, বিদ‘আত পরিহার করতে পারে আপনার মাদ‘ঊ। তাই মোবাইলের যে ভাল দিকগুলো আছে তা দাওয়াতী কাজে ব্যয় করুন নিজে ফায়দা নিন অপরের নিকটও তা বিতরণ করুন।

বসবাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলা :

পরিবেশ এমন একটি অধ্যায়, যা আপনাকে তৈরি করে নিতে হয়- যা রেডি পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও তা তার মত, আপনার মত না। আমার ওস্তাদ শায়খ মুহাম্মাদ বিন হাদী বিন আলী আল-মাদখালী নাসাঈ পড়ানোর সময় আফ্রিকার এক ছাত্র প্রশ্ন করে জানতে চায়- শায়খ! আমরা যেখানে বসবাস করি সেখানে অনেক ছূফী ও কঠোর বিদ‘আতীদের বসবাস। তাদের সাথে আমরা কেমন আচরণ দেখাতে পারি? উস্তাদ উত্তরে বললেন, খেয়াল কর, আমাদের আদর্শ বিশ্বনবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাদের সাথে বসবাস করতেন। তিনি বসবাস করতেন ইয়াহুদী, নাছারা অমুসলিমদের সাথে। আর তোমরা বসবাস করছ মুসলিমদের সাথে। সুতরাং তুমি যাদের সাথে বসবাস করছ তারা তাদের আমলগুলো একদিন সংশোধন করতে পারে, হয়তো করবেও। তাই তাদের সাথে সর্বদায় ভাল আচরণ কর। একটি হাদীছ রয়েছে যা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তরবারীগুলো একত্রিত করতে গিয়ে একটি ফলাতে পেয়েছি তাতে লিখা ছিল,

اعف عمن ظلمك وصل من قطعك وأحسن إلى من أساء إليك وقل الحق ولو على نفسك

‘তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও, যে তোমার উপর যুল্ম করে। তুমি তার সাথে বন্ধন তৈরি কর, যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাই। তুমি তার সাথেই ভাল আচরণ কর, যে তোমার সাথে মন্দ আচরণ করে। তুমি সর্বদা সত্য বল যদিও তা তোমার বিপক্ষে যায়’।[৩]

বিবিধ বিষয় : উপরে লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও আরো অনেক বিষয় আছে, যা অবলম্বন করে একজন ব্যক্তি সমাজে দাওয়াতী কাজ করতে পারে। শুধু মানসিকতার বিষয়। এখানে যা উল্লেখ করা আছে হয়তো তার চেয়েও ভাল কোন পদ্ধতি দাঈর মাথায় আছে বা ভবিষ্যতে আবিষ্কার হবে। তখন সেটা ব্যবহার করাই উত্তম কৌশল বলে বিবেচিত হবে। আমরা মদীনা বিশ^বিদ্যালয়ের অনেক উস্তায পেয়েছি, যারা মাগরিব ছালাতের পর ক্লাস হওয়ায় তিনি নিজ খরচে সব ছাত্রদের নাস্তা করাতেন, যাতে ছাত্ররা উৎসাহ পায়। কেউ কেউ বাসায় নিয়ে গিয়ে দারসের পর যাতাওয়াত ও খাওয়ার ব্যবস্থা নিজের পক্ষ থেকে করতেন। কোন কোন শায়খকে দেখেছি তারা বিশেষ ছাত্রদের ওমরার ব্যবস্থা করতেন। ছহীহ বুখারীর ‘মদীনার ফযীলত’ বিষয়ের হাদীছগুলো পড়াতে গিয়ে কোন উস্তাদ ছাত্রদের মদীনার আশে পাশে জায়গাগুলো ঘুরিয়ে দেখাতেন এবং হাদীছের সাথে মিল আছে এমন স্থানগুলোও নির্দেশ করতেন। ছাত্রদের বিনোদনের জন্য অনেক অর্থ খরচ করে ঐতিহাসিক স্থান, সাগরে শিক্ষা সফরের ব্যবস্থা করতেন। তাই মাদ‘ঊর চাহিদানুসারে বিবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

ফ্রি বই বিতরণ করেও দাওয়াতী কাজে অংশগ্রহণ করা যায়। ‘বিনা মূল্যে বিতরণ’ এমন বই লিফলেটও হতে পারে আবার নিজে ক্রয় করে তা বিতরণ করা যেতে পারে। একজন দোকানীও তার দোকান থেকে বই/লিফলেট বিতরণ করে দাওয়াতী কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন স্কলারের বক্তৃতা সমৃদ্ধ মেমোরী কার্ড পাওয়া যায়, সেগুলোও বিতরণ করা যেতে পারে। এক এলাকায় দেখলাম তারা উদ্যোগ নিয়েছে চা স্টলে মনিটর বিতরণ করছে- শর্ত হল সিনেমা, মিউজিক বাদ দিয়ে শুধু কুরআন তেলাওয়াত ও হক্বপন্থী আলেমদের বক্তৃতা চালাতে হবে। বিভিন্ন রাস্তার পার্শে বা তিন রাস্তা/চার রাস্তার মোড়ে বিলবোর্ড দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করা যেতে পারে। পাবলিক পরিবহন, পাবলিক প্লেস, পার্ক, বাড়ির দরজায় অথবা যেখানে দিলে মানুষের চোখে পড়বে সেসব জায়গায় স্টিকার লাগানো যায়। অনেক কোম্পানী আছে যারা শুধু প্রচারের কারণে অতি কম সময়ে তাদের কোম্পানির নাম ঘরে ঘরে পৌঁছিয়ে দিয়েছে স্টিকার, দেয়াল লিখন, ব্যানার, ফেস্টুন ইত্যাদির মাধ্যমে। সঊদী আরবের রাস্তায় চলতে গিয়ে দেখা যায় মক্কা-মদীনার রাস্তার পাশে ‘সুবহানাল্লাহ’ আলহামদুলিল্লাহ’ ‘আল্লাহু আকবার’ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ ইত্যাদি ছোট ছোট যিকিরের শব্দগুলো লিখা আছে। ঠিক এ ধরণের কিছু করে মাদ‘ঊদের বা সাধারণদের আহ্বান করা যেতে পারে, যাতে তারা আকৃষ্ট হয়।

 

[১]. ইবনু বায, মাজমূঊ ফাতাওয়া, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৩১।

[২]. মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৮১৪; মিশকাত, হা/৪২, সনদ ছহীহ।

[৩]. মু‘জাম ইবনু আরাবী, হা/১৪৬৪; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৯১১।

______________________

লেখক: মুকাররাম বিন মুহসিন মাদানী

উৎস: মাসিক আল ইখলাস ।

_______________________________________

► আপনার যদি পোস্টটি ভাল লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করুন ও পরবর্তী আপডেট পেতে পেজটি লাইক দিয়ে রাখুন। কেননা রাসূল (সাঃ) বলেছেন,“যে ব্যক্তি মানুষকে হিদায়াতের দিকে ডাকে তার জন্য ঠিক ঐ পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে, যে পরিমাণ পাবে তাকে অনুসরণকারীরা।” [সহীহ মুসলিম/২৬৭৪,৬৮০৪]

► আমাদের পোস্টগুলি কপিরাইট মুক্ত! সুতরাং আপনি চাইলে পেজের কনটেন্টগুলো হুবহু কপি করে ফেসবুক বা যেকোন মাধ্যমে দাওয়াতের উদ্দেশ্যে প্রচার করতে পারেন বিনা অনুমতিতে।

জায্বাকুমুল্লাহ।

►আলিমদের সাথে,সালাফদের পথে।

►বার্তা-The Massage Of Allah S.W.T

► https://www.facebook.com/Barta.4u

Source

মতামত দিন