ইসলামের ইতিহাস

দেশ পরিচিতি : ওমান

নাম : সরকারি নাম ওমান সালতানাত। রাজধানী ও বড় শহর মাস্কাট। এটি একটি মরুময় দেশ যেখানে সুউচ্চ পর্বতমালার ঠিক পাশেই রয়েছে উজ্জ্বল ও শুভ্র বালুর সৈকত।

অবস্থান : ওমানের পশ্চিমে ইয়েমেন, সৌদি আরব, উত্তর পশ্চিমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, পূর্ব-দক্ষিণে আরব সাগর এবং উত্তরে ওমান উপসাগর।

আয়তন ও জনসংখ্যা : ওমানের আয়তন ৩০৯৫০০ বর্গকিলোমিটার। ওমানের জনসংখ্যা ৪২,৯৮,৩৩০ জন (২০১৫)। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গমাইলে ৩৪ জন।

প্রধান ভাষা : ওমানের প্রধান ও সরকারী ভাষা আরবী।

প্রধান জাতিগত গ্রুপ : আরবি, বেলুচি, দক্ষিণ এশীয় ও আফ্রিকান।

প্রধান ধর্ম : প্রধান ধর্ম ইসলাম। ওমানে বসবাসরত জনসংখ্যার প্রায় ৮৬ ভাগই মুসলিম। ৬.৫ ভাগ খ্রিস্টান, ৫.৫ ভাগ হিন্দু, বৌদ্ধ ০.৮ ভাগ এবং অন্যান্য ১.২ ভাগ (২০১৩)।

ওমানে ইসলাম : ওমানে ইসলামের দাওয়াত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায়ই পৌঁছে যায়। ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে ওমানের তৎকালীন দুই রাজা ছিলেন আবদ এবং ও জেফার। তাদের পিতার নাম ছিল জুলাভা। তারা সোহারে বসবাস করতেন। ঐ সময়ে নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিনিধিদের দিয়ে চিঠির মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত রাজাদের কাছে পৌছে দেন এবং তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং রাজাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে চিঠি আদান প্রদানের মধ্য দিয়ে রাজারা ইসলাম সম্পর্কে অবহিত হন এবং স্বেচ্ছায় তারা ইসলামের দাওয়াত কবুল করেন। ফলে কোনো যুদ্ধবিগ্রহ ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ঐ অঞ্চল ইসলামের ছায়াতলে চলে আসে। খিলাফাতের শাসনামলে প্রথমে আবু বাকর (রা) এবং পরে উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) এর শাসনাধীন ছিল এই অঞ্চল।

ইতিহাস : ১৩৫০০০ থেকে ৯০০০০০ বছর আগে আফ্রিকায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রচণ্ড খরার কারণে মানুষ মূল ভূমি থেকে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এমনকি এই খরা তাদেরকে অন্য মহাদেশে যেতে বাধ্য করে। বর্তমানে আফ্রিকার মালাউই হ্রদের আশেপাশের এলাকায় আজ যে বনভূমি দেখা যাচ্ছে সেখানে ১৩৫০০০ হাজার থেকে ৯০০০০০ হাজার বছর আগে ছিল মরুভূমি। প্রায় ১৩০০০০০ হাজার বছর আগে আরব উপদ্বীপ এলাকা ছিল উষ্ণ! বৃষ্টিপাতের ফলে ক্রমান্বয়ে উক্ত এলাকাগুলো মানববসতির উপযোগী হয়ে উঠে। ঐ সময়ে লোহিত সাগরের মধ্যবর্তী দূরত্ব হ্রাস পেতে থাকে। ফলে। মানুষ সহজেই লোহিত সাগর অতিক্রম করে অন্য মহাদেশে পাড়ি দিতে পারত। আফ্রিকার। বৈরী জলবায়ুর কারণে আফ্রিকা থেকে মানব বসতি আরব এলাকাগুলোতে স্থানান্তর হতে থাকে। কারণ তখন আরব উপদ্বীপের অঞ্চলগুলোর জলাবায়ু মানব বসতির জন্য উপযোগী ছিল। ঐ সময়েই মানব বসতি বর্তমান ওমান ও ইয়েমেন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। দক্ষিণ এবং মধ্য ওমানের গুহার মধ্যে এবং হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি পারসিয়ান উপসাগরীয় অঞ্চলে যে পুরতান প্রস্তুরযুগের পাথর পাওয়া গেছে তা থেকেও প্রমাণ মেলে যে প্রায় ১২৫০০০০ বছর আগে আফ্রিকা থেকে মানুষ এই এলাকায় বসতি স্থাপন করেছে।

আলেজান্ডার যখন পারস্য অঞ্চলে বিজয়লাভ করেন তখন ওমানের উত্তরে বর্তমান সময়ের সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাইহরাইনের পাশাপাশি বেলুচিস্তান ও পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশ ফার্সি আচমে সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। ওই সময়ে এই অঞ্চলগুলো স্বাধীন ছিল। কয়েক হাজার বছর আগে পূর্ব থেকে অর্থাৎ বর্তমান ইরান থেকে আরব উপজাতিরা ওমানসহ আরব অঞ্চলের দিকে এসে বসতি স্থাপন করতে থাকে। ৬ষ্ঠ শতাব্দীর দিকে আরবরা যখন ঐ উপজাতিদের সাথে লড়াই করে তাদেরকে পরাজিত করে পারস্য সাম্রাজ্য বিজয় লাভ করে তখন ঐ অঞ্চলে পারস্য সাম্রাজ্যের আধিপত্য শেষ হয়ে যায়।

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শক্তির দ্বারা ওমান আক্রান্ত ও শাসিত হয়েছে। ক্যারিবীয়রা ৯৩১ সাল থেকে ৯৩২ এবং ৯৩৩ থেকে ৯৩৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত শাসন করে। ৯৬৭ থেকে ১০৫৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ওমান ইরানের ডোমেনে পরিণত হয়। ১০৫৩ থেকে ১১৫৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ওমান সেলজুক সাম্রাজ্যের অংশে পরিণত হয়। ১১৫৪ খ্রিষ্টাব্দে আদিবাসী নভনি রাজবংশ ওমানের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে ১৪৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত নভনি রাজারা ওমান শাসন করেন। ১৫১৫ সালের পুর্তগিজরা মাসকাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং ১৬৫০ সাল পর্যন্ত তারা এই শাসনক্ষমতা ধরে রাখে। একই সময়ে ১৫৮১ থেকে ১৫৮৮ সাল পর্যন্ত ওমান ওসমানী সাম্রাজ্যের শাসনাধীন ছিল। ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে নভনি পুনরায় ওমানের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং তা ১৬২৪ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

১৯৫০ সালের ১৮ নভেম্বর পর্তুগীজদের থেকে ওমান স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৭১ সালের ৭ অকটোবর ওমান জাতিসংঘ সদস্যপদ লাভ করে।

সরকার পদ্ধতি : ওমানে রাজতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। ওমানের রাজাকে সুলতান বলা হয়। সুলতান একই সাথে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান। সুলতানকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি একটি মন্ত্রী পরিষদ নিয়োগ করে থাকেন। সুলতান নিজেই প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

প্রধান কৃষি : খেজুর, কলা, শাকসবজি, উট, গবাদিপুশ, মাছ ইত্যাদি। প্রাকৃতিক সম্পদ ও পেট্রোলিয়াম, তামা, চুনাপাথর, মার্বেল, ক্রোমিয়াম, জিপসান, গ্যাস।

প্রধান রফতানিকারক দ্রব্য : পেট্রোলিয়াম, মাছ, ধাতব পদার্থ, বস্ত্র ইত্যাদি।

প্রধান আমদানিকারক দ্রব্য : যন্ত্রপাতি ও পরিহন সরঞ্জাম, পণ্যজাত দ্রব্য, খাদ্য, পশুসম্পদ, লুম্বিকেন্টস ইত্যাদি।

প্রধান ব্যবসায়িক পার্টনার : চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও ভারত।

সামরিক বাহিনী : ওমানের সামরিক বাহিনী সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত। বিশ্বে ওমানের সামরিক বাহিনীর অবস্থান ৭৯। সামিরক বাহিনীর চাকুরির বয়স ১৬-৪৯ বছর। সামরিক বাহিনীতে মোট জনশক্তি ৬১ হাজার ৮০০ জন। এর মধ্যে সক্রিয় ৫৭ হাজার ৩০০ জন এবং রিজার্ভ ৪ হাজার ৫০০ জন।

যোগাযোগ ব্যবস্থা : ওমানে কোনো রেলপথ নেই। প্রায় ৬৫০০০ কি.মি. সড়ক পথ আছে। প্রধান বন্দর- মিনা, কৃাবস, সালালাহ, সুহার। বিমান বন্দর ১৩২টি (২০১৩)।

তথ্যসূত্রঃ

১. http://www.infoplease.com/country/oman.html

২. https://en.wikipedia.org/wiki/oman

৩. http://www.oman-tours.com/about-oman/religion-islam-oman/islam-oman

সংকলনে : মুহাম্মাদ ইউছুফ [মাসিক পৃথিবী পুরনো সংখ্যা থেকে সংকলিত]

মতামত দিন