ইসলামের ইতিহাস

দেশ পরিচিতি :  এল সালভেদর

নাম : গণপ্রজাতন্ত্রী এল সালভেদর। রাজধানী ও বড় শহর সান সালভেদর। এটি মধ্য আমেরিকার একটি ছোট দেশ।

অবস্থান : এল সালভেদরের উত্তর-পূর্বে হন্ডুরাস, উত্তর-পশ্চিমে গুয়াতেমালা এবং দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগর।

আয়তন ও জনসংখ্যা : এল সালভেদরের আয়তন ৮ হাজার ১২৪ বর্গ মাইল। জনসংখ্যা ৬১ লাখ ২৫ হাজার ৫১২ জন (২০১৪)। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ মাইলে ৭৫৪ জন। জনগণের শতকরা ৬০-৬৫ ভাগ শহরে এবং বাকীরা পল্লী এলাকায় বাস করে। এদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭৪.১৮ বছর। সাক্ষরতার হার শতকরা ৮৪.৫ ভাগ (২০১০)।

প্রধান জাতিগত গ্রুপ : মেসটিজো মোট জনসংখ্যার ৮৬.৩ ভাগ, হোয়াইট ১২.৭ ভাগ এবং অন্যান্য/অজ্ঞাত ১ ভাগ।

প্রধান ধর্ম : রোমান ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট, খৃস্টান।

প্রধান ভাষা : স্প্যানিশ ও নাহুয়া।

ভূ-প্রকৃতি ও আবহাওয়া : এল সালভেদর দুর্গম পর্বতমালা, কোণাকৃতির আগ্নেয়গিরি, সবুজ উপত্যকা এবং নয়নাভিরাম হ্রদ সম্বলিত একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশ। দেশটি নিকারাগুয়ার মতোই ফনসেকা উপসাগরের পাড়ে অবস্থিত। এল সালভেদরে গ্রীষ্মমন্ডলীয় আবহাওয়া বিরাজ করে।

সালভেদরে ইসলাম :

এল সালভেদরে একটি ছোট্ট মুসলিম সম্প্রদায় রয়েছে। এদেশের মুসলিমদের বেশির ভাগই সালভেদরান নাগরিক এবং ধর্মান্তরিত। তবে এদেশে যে অল্প আরব জনগোষ্ঠী আছে তাদের বেশির ভাগই খৃস্টান। এরা বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে সিরিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিন থেকে এদেশে আসে। সান সালভেদরে মেজকুইটা ডি লা লুজ (আলোর মসজিদ) নামে একটি মসজিদ আছে। সেন্ট্রো ইসলামিকো এ্যারাবে সালভেদোরেনো মসজিদটি পরিচালনা করে থাকে। এদেশে প্রথম মুসলিম আগমণের তেমন কোন ইতিহাস পাওয়া যায় না। তবে স্পেনিশ উপনিবেশ আমলে মুসলিমদের আগমণ ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তারা অল্প সংখ্যায় এলেও এদেশে ইসলাম প্রচারের কোন চেষ্টা চালায় নি। ১৯৯৪ সালে এল সালভেদরে প্রথম মসজিদ চালু হয়। এর এক দশক পর ২০০৪ সালে রাজধানীতে দ্বিতীয় আরেকটি মসজিদ স্থাপন করা হয়। ২০০৭ সালে সান সালভেদরে মেজকুইটা দার ইব্রাহিম আরেকটি মসজিদ স্থাপন করা হয়।

ইতিহাস :

ইন্ডিয়ানরা হলো বর্তমান এল সালভেদরে বসবাসকারী প্রথম জনগোষ্ঠী। নহুয়া ইন্ডিয়ানরা খৃস্টপূর্ব ৩০০০ সালের দিকে মেক্সিকো থেকে এ অঞ্চলে আসে। পরে অন্যান্য ইন্ডিয়ানরা এই অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে। ১০০ খৃস্টাব্দ থেকে ১০০০ খৃস্টাব্দের মধ্যে মায়া ইন্ডিয়ানদের নির্মিত বিশাল বিশাল চুনাপাথরের পিরামিডগুলোর ধ্বংসাবশেষ এখনও এল সালভেদরের পশ্চিমাঞ্চলে দাঁড়িয়ে আছে। পিপিল উপজাতি প্রথম সহস্রাব্দকালে লেমপা নদীর পশু ভূখন্ডের নিয়ন্ত্রণ দখল করে। পিপিলরা নগরী গড়ে ও ফসল ফলায় এবং সেইসাথে তারা ছিল দক্ষ তাঁতী।

স্পেনিশরা ১৫২৪ সালে এই এলাকায় পৌঁছে এবং ১৫৩৯ সালের মধ্যে পিপিল ইন্ডিয়ান কাজকাটলান রাজ্যকে পরাভূত করে। দেশটি দু’টি অঞ্চলে বিভক্ত ছিল, সান সালভেদর ও সানসোনেট। উভয় অঞ্চল তখন গুয়াতেমালার সাথে যুক্ত ছিল। এল সালভেদর ১৮২১ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর স্পেন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। এরপর দেশটি প্রথম মেক্সিকান সাম্রাজের সাথে একীভূত হয়। ১৮২৩ সালে মেক্সিকান সাম্রাজ্য ভেঙে পড়লে এল সালভেদর আবার স্বাধীন হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে মধ্য আমেরিকান ফেডারেশনে যোগ দেয়। ১৮৪২ সালে এল সালভেদর রাষ্ট্র মধ্য আমেরিকান ফেডারেশন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এল সালভেদর উচ্চ মাত্রার রাজনৈতিক গোলযোগের মধ্যে পড়ে এবং ১৯৩১ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত সামরিক শাসনাধীনে থাকে। ১৯৭৯ সালে এক অভ্যুত্থানে সরকার উৎখাত হয়। ১৯৮২ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮৩ সালে নতুন সংবিধান গৃহিত হয়। তবে ১৯৮০’র দশক জুড়ে গৃহযুদ্ধ চলে। ১৯৯২ সালে এক চুক্তির মাধ্যমে এক অস্বস্তিকর যুদ্ধবিরতি সূচিত হয়।

২০০৬ সালের মার্চে এল সালভেদর যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মধ্য আমেরিকা-ডোমেনিকান রিপাবলিক ফ্রি ট্রেড চুক্তি (সিএএফটিএ-ডিআর) বাস্তবায়নকারী প্রথম মধ্য আমেরিকান রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

সরকার পদ্ধতিঃ

এল সালভেদরে প্রজাতন্ত্র ধাচের সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত। এদেশে লেজিসলেটিভ এ্যাসেম্বলি নামে ৮৪ সদস্যের একটি এককক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট বিদ্যমান।

প্রধান কৃষি : সীম, শস্য, ধান, কফি, তুলা, আখ, ভুট্টা ও সারগাম এবং গবাদি পশুর মধ্যে রয়েছে গরু, মহিষ।

প্রাকৃতিক সম্পদ : স্বর্ণ, রুপা ও চুনাপাথর।

প্রধান শিল্প : খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, তৈরি পোশাক ও ওষুধ।

প্রধান আমদানি-রফতানি পণ্য : যন্ত্রপাতি, কেমিকেল ও কেমিকেল জাতীয় পণ্য, খাদ্য, তেল, কফি, কাগজ ও কাগজজাত পণ্য, সুতা, ফ্যাব্রিকস ও তৈরি পণ্য।

প্রধান আমদানি-রফতানি : যুক্তরাষ্ট্র, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, মেক্সিকো, চায়না, জার্মানী, কোস্টারিকা ও নিকারাগুয়া।

সামরিক বাহিনী :

এল সালভেদরের সক্রিয় সৈন্য সংখ্যা ১৫ হাজার ৫শ’। সামরিক ব্যয় মোট জাতীয় উৎপাদনের ০.৯ ভাগ। বিশ্বমান ২.৪ ভাগ। মাথাপিছু প্রতিরক্ষা ব্যয় ১৮ মার্কিন ডলার।

তথ্যসূত্রঃ

১. http://www.infoplease.com/country/elsalvador.html

২. https://en.wikipedia.org/wiki/el salvador

. http://www.salvador-tours.com/about-salvador/religion-islam-salvador/islamsalvador/

গ্রন্থনায় : মুহাম্মাদ ইউছুফ [পুরনো মাসিক পৃথিবী থেকে সংগৃহীত]

মতামত দিন