পর্যালোচনা

আত্মসমীক্ষা

আত্মসমীক্ষা

কত বড় অপরাধী আমরা,

১। যারা আলেম বা ক্বারী হচ্ছি অথবা ইলম বা কুরআন-হাদীস শিখছি ও শিক্ষা দিচ্ছি পার্থিব কোন সম্পদ (অর্থ, পদ, প্রসিদ্ধি) লাভের উদ্দেশ্যে।

২। যারা ফেসবুকে দ্বীন প্রচার করছি, নিজেদের ব্যবসা-পণ্য প্রচার করার উদ্দেশ্যে।

৩। যারা ফেসবুকে দ্বীন প্রচার করছি, একটি ভালো চাকুরি লাভের উদ্দেশ্যে।

৪। যারা ফেসবুকে দ্বীন প্রচার করছি, বিয়ের জন্য একটি ভালো পাত্র বা পাত্রী লাভের উদ্দেশ্যে।

৫। যারা ফেসবুকে দ্বীন প্রচার করছি, টাইম-পাশ বা বিনোদনের উদ্দেশ্যে।

৬। যারা লেখার শেষে অথবা কোন পিকচার বানিয়ে তার নিচে উক্ত প্রকার কোন উদ্দেশ্যে নিজের নাম অ্যাড করছি।

৭। যারা অন্যের লেখা কপি ক’রে উক্ত প্রকার কোন উদ্দেশ্যে নিজেদের নামে লাইক নিচ্ছি।

#জিজ্ঞাসা———————-

** আমরা কি কোন সওয়াব পাব?

—না।

আবু হুরাইরা (রায্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! এক ব্যক্তি জিহাদ করতে চায়, কিন্তু সে তাতে পার্থিব কোন স্বার্থ কামনা করে।’ রসূল ﷺ বললেন, “তার জন্য কোন সওয়াব নেই।” লোকটি ঐ একই কথা তিনবার ফিরিয়ে বলল।

নবী ﷺ প্রত্যেক বারেই উত্তরে বললেন, “তার জন্য কোন সওয়াব নেই।” (আবূ দাঊদ ২৫১৮নং)

** আমরা কি পরকালে জান্নাত লাভ করতে পারব?

—না।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

(( مَنْ تَعَلَّمَ عِلْماً مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللهِ – عَزَّ وَجَلَّ – لاَ يَتَعَلَّمُهُ إِلاَّ لِيُصِيبَ بِهِ عَرَضاً مِنَ الدُّنْيَا ، لَمْ يَجِدْ عَرْفَ الجَنَّةِ يَوْمَ القِيَامَةِ ))

“যে বিদ্যা দ্বারা সুমহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়, তা যদি একমাত্র সামান্য পার্থিব স্বার্থ লাভের উদ্দেশ্যে কেউ শিক্ষা করে, তাহলে সে কিয়ামতের দিনে জান্নাতের সুগন্ধটুকুও পাবে না।” (আবূ দাঊদ ৩৬৬৬নং)

** আমরা কি জাহান্নাম থেকে বাঁচতে পারব?

—না।

আল্লাহর রসূল ﷺ বলেছেন,

((مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِيُجَارِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ ، أَوْ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ ، أَوْ يَصْرِفَ بِهِ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْهِ ، أَدْخَلَهُ اللهُ النَّارَ))

“যে ব্যক্তি উলামাদের সাথে তর্ক করার জন্য, অথবা মূর্খ লোকেদের সাথে বচসা করার জন্য এবং জন সাধারণের সমর্থন (বা অর্থ) কুড়াবার জন্য ইলম অন্বেষণ করে, সে ব্যক্তিকে আল্লাহ জাহান্নাম প্রবেশ করাবেন।” (তিরমিযী ২৬৫৪, ইবনে আবিদ্দুনয়্যা, হাকেম ২৯৩, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ১৭৭২, সহীহ তারগীব ১০০ নং)

** আখেরাতে কি আমাদের কোন অংশ থাকবে?

—না।

আল্লাহর রসূল ﷺ বলেন,

((بَشِّرْ هَذِهِ الْأُمَّةَ بِالسَّنَاءِ وَالتَّمْكِينِ فِي الْبِلَادِ وَالنَّصْرِ وَالرِّفْعَةِ فِي الدِّينِ وَمَنْ عَمِلَ مِنْهُمْ بِعَمَلِ الْآخِرَةِ لِلدُّنْيَا فَلَيْسَ لَهُ فِي الْآخِرَةِ نَصِيبٌ))

“এই উম্মতকে স্বাচ্ছন্দ্য, সমুন্নতি, দ্বীন সহ সুউচ্চ মর্যাদা, দেশসমূহে তাদের ক্ষমতা বিস্তার এবং বিজয়ের সুসংবাদ দাও। কিন্তু যে ব্যক্তি পার্থিব কোন স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে পরকালের কর্ম করবে তার জন্য পরকালে প্রাপ্য কোন অংশ নেই।” (আহমাদ ২১২২৪, ইবনে মাজাহ, হাকেম, বাইহাকীর শুআবুল ঈমান ৬৮৩৩ ইবনে হিব্বান ৪০৫, সহীহ তারগীব ২১নং)

** আমরা কি লাঞ্ছনার হাত থেকে রেহাই পাব?

—না।

আল্লাহর রসূল ﷺ বলেছেন,

((مَنْ سَمَّعَ النَّاسَ بِعَمَلِهِ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ سَامِعَ خَلْقِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَحَقَّرَهُ وَصَغَّرَهُ))

“যে ব্যক্তি লোককে শুনাবার জন্য (সুনাম নেওয়ার উদ্দেশ্যে) আমল করবে আল্লাহ তার সেই (বদ নিয়তের) কথা সারা সৃষ্টির সামনে (কিয়ামতে) প্রকাশ করে তাকে ছোট ও লাঞ্ছিত করবেন।” (ত্বাবারানীর কাবীর ১৪৯৩, বাইহাকী, সহীহ তারগীব ২৩ নং)

** শুধু তাই নয়, বরং এমন আত্মপ্রচারকারী স্বার্থান্বেষী মানুষদেরকে দিয়েই জাহান্নাম উদ্বোধন করা হবে!

এ প্রসিদ্ধ হাদীস সবাই শুনে থাকবেন, আল্লাহর রসূল ﷺ বলেছেন, “কিয়ামতের দিন অন্যান্য লোকেদের পূর্বে যে ব্যক্তির প্রথম বিচার হবে সে হচ্ছে একজন শহীদ। তাকে আল্লাহর দরবারে হাজির করা হবে। আল্লাহ তাকে তাঁর দেওয়া নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। সুতরাং সে তা স্মরণ করবে। অতঃপর আল্লাহ বলবেন, ‘ঐ নেয়ামতের বিনিময়ে তুমি কী আমল ক’রে এসেছ?’ সে বলবে ‘আমি তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য জিহাদ করেছি এবং অবশেষে শহীদ হয়ে গেছি।’ আল্লাহ বলবেন, ‘তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি এই উদ্দেশ্যে জিহাদ করেছ, যাতে লোকেরা তোমাকে বলে, অমুক একজন বীর পুরুষ। সুতরাং তা-ই বলা হয়েছে।’ অতঃপর (ফিরিশ্তাদেরকে) আদেশ করা হবে এবং তাকে উবুড় ক’রে টেনে নিয়ে গিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

দ্বিতীয় হচ্ছে এমন ব্যক্তি, যে ইলম শিক্ষা করেছে, অপরকে শিক্ষা দিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে। তাকে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করা হবে। আল্লাহ তাকে (পৃথিবীতে প্রদত্ত) তাঁর সকল নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। সেও সব কিছু স্মরণ করবে। অতঃপর আল্লাহ বলবেন, ‘এই সকল নেয়ামতের বিনিময়ে তুমি কী আমল ক’রে এসেছ?’ সে বলবে, ‘আমি ইলম শিখেছি, অপরকে শিখিয়েছি এবং তোমার সন্তুষ্টিলাভের জন্য কুরআন পাঠ করেছি।’ আল্লাহ বলবেন, ‘মিথ্যা বলছ তুমি। বরং তুমি এই উদ্দেশ্যে ইলম শিখেছ, যাতে লোকেরা তোমাকে আলেম বলে এবং এই উদ্দেশ্যে কুরআন পড়েছ, যাতে লোকেরা তোমাকে ক্বারী বলে। আর (দুনিয়াতে) তা বলা হয়েছে।’ অতঃপর (ফিরিশ্তাদেরকে) নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উবুড় ক’রে টেনে নিয়ে গিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

তৃতীয় হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যার রুযীকে আল্লাহ প্রশস্ত করেছিলেন এবং সকল প্রকার ধন-দৌলত যাকে প্রদান করেছিলেন। তাকে আল্লাহর দরবারে হাজির করা হবে। আল্লাহ তাকে তাঁর দেওয়া সমস্ত নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। সেও সব কিছু স্মরণ করবে। অতঃপর আল্লাহ প্রশ্ন করবেন, ‘তুমি ঐ সকল নেয়ামতের বিনিময়ে কী আমল ক’রে এসেছ?’ সে বলবে, ‘যে সকল রাস্তায় দান করলে তুমি খুশী হও সে সকল রাস্তার মধ্যে কোনটিতেও তোমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে খরচ করতে ছাড়িনি।’ তখন আল্লাহ বলবেন, ‘মিথ্যা বলছ তুমি। বরং তুমি এ জন্যই দান করেছিলে; যাতে লোকে তোমাকে দানবীর বলে। আর তা বলা হয়েছে।’ অতঃপর (ফিরিশ্তাবর্গকে) হুকুম করা হবে এবং তাকে উবুড় ক’রে টেনে নিয়ে গিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (মুসলিম ১৯০৫ নং)
ফালা হাউলা ওয়ালা ক্বুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

হে আল্লাহ! আমরা কারো নিয়তের খবর জানি না, তুমি জানো। তুমি আমাকে ও আমার ফেসবুকী ফ্রেন্ডদেরকে এই সকল অপরাধ থেকে তথা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার তওফীক দান করো। আমীন।

আহ্বানে —–

জান্নাতকামী আব্দুল হামীদ আল-ফাইযী আল-মাদানী

SOURCE

মতামত দিন