ইসলামের ইতিহাস

শেকড়ের সন্ধানে : স্পেন পর্ব

স্পেনের নাম শুনলেই বর্তমান প্রজন্মের মাথায় যে ভাবনাটি প্রথমে উঁকি দেয়, তাহলো রিয়াল বা বার্সা রিলেটেড কোন বিষয়। আর যারা ইতিহাসের পাতা একটু নাড়াচাড়া করেছেন, তারা জানেন যে, এক সময় মুসলমানরা দীর্ঘ আটশত বছরব্যাপী শাসন করেছে। ব্যাস, এতটুকুই। পক্ষান্তরে যাদের পরিচয়ের সৌভাগ্য হয়েছে ইসলামী আইন শাস্ত্রের সাথে, বা হাদিসের বিশাল জগতের বাসিন্দাদের সাথে এবং তাঁদের কর্মের সাথে, অথবা আরবি সাহিত্য জগতের উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কমালার সাথে, তাদের কাছে স্পেন মানে, মুসলিমদের হাতে শিল্প- সাহিত্য, জ্ঞান- বিজ্ঞান, সভ্যতা – সংস্কৃতির উৎকর্ষতার লীলাভূমি।

স্পেন মানে, ফকীহ, মুহাদ্দিস, সাহিত্যক, দার্শনিক, ও বিজ্ঞানীদের জ্ঞান চর্চার পাদপীঠ। স্পেন মানে, আলোর মিনার যা ইউরোপকে জ্ঞানের আলোয় সুসভ্য করে গড়ে তুলেছিল। কিন্তু সবকিছুর উত্থান যেমন রয়েছে, তার পতনের সময়কালও রয়েছে। তাই স্পেনের পতন মানে, আমরা যেখানে আমাদের ঐতিহ্য হারিয়েছি, এবং আমরা প্রতারিত হয়েছি ক্রুশের উপসাকদের কাছে। এর ফলে আজ আমরা পরিচয়হীন হয়েছি মুসলিম স্পেনের জনপদের সাথে, যেখানে বসে জ্ঞানচর্চা করেছেন অসংখ্য মনীষী। তাই অতীতের মুসলিম স্পেনের সাথে বর্তমান স্পেনের পরিচয় করিয়ে দেবার লক্ষে এ ক্ষুদ্র প্রয়াস।

★ স্পেনের মুসলিম শাসনকাল (৭১১-১৪৯২) খ্রিঃ পর্যন্ত।

★ স্পেন বিজেতা ত্বারেক বিন জিয়াদ।

★ মুসলিম শাসনামলে স্পেনের উল্লেখযোগ্য কিছু শহর এবং শহর কেন্দ্রিক প্রসিদ্ধ বিদ্বান ব্যক্তিবর্গ।

১/ কর্ডোভা (قرطبة) শহরটি জয় করেন মুগিছ আর রুমী। এটি অসংখ্য আলেমের জন্মস্হান। ‘বিদায়াতুল মুজতাহিদ’ এর লেখক ইবনে রুশদ এবং ‘মুহাল্লা’র লেখক ইবনে হাজাম আল কুরতুবী এখানে জন্মলাভ করেন। এখানে রয়েছে গোয়াদেলকুইভার নদী, যা আরবীতে নাহরুল ওয়াদী আল- কাবীর নামে পরিচিত।

২/ গ্রানাডা (غرناطة) অত্র শহর কেন্দ্রিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন ইবনুয যুবাইর আল- গারনাতী, লেখকঃ আল- বুরহান ফী তানাসুবি সুয়ারিল ক্বুরআন। এ শহরে অবস্থিত রয়েছে পৃথিবীখ্যাত সুরম্য আল-হামরা রাজপ্রসাদ।

৩/ সেভিলা (الإشبيلية) এ শহরের বিখ্যাত মনীষী হলেন আব্দুল হক্ব ইবনে আব্দির রহমান আল- ইশবিলী, আল- আহকাম আল- কুবরা ও উসত্বা এবং সুগরা গ্রণ্হের লেখক।

৪/ভ্যালেন্সিয়া ( البلنسية) এ শহরের আলেম হলেন আবুর -রাবী আল-বালান্সী, লেখকঃ ‘আল- ইকতেফা বি সীরাতিল মুস্তাফা’ গ্রন্হের।

৫/টলেডো ( الطليطلة) এ শহরের বিখ্যাত বিজ্ঞানী হলেন ইবনু ওয়াফেদ আত্ব-ত্বুলায়তিলী, তিনি বিশ বছর যাবত গবেষণা করে ওষুধের গুণাগুন নিয়ে যে গ্রন্হ রচনা করেন তাহলো, আল-আদ্ওয়িআহ আল-মুফরাদাহ।

৬/জাভিয়া (الشاطبة) ইমাম শাত্বেবীর নামেই এ শহরের খ্যাতি, যিনি আল-মুয়াফাক্বাত, ও আল-ইতিসাম গ্রন্থের রচয়িতা।

৭/ জারাগোজা (السرقسطة) মুহাদ্দিস ক্বাসেম আল- আওফী আস- সারক্বাসতী এ শহরের আলেম, তাঁর লিখিত গ্রন্থ হলোঃ আদ- দালায়েল ফী গারীবিল হাদীস।

পোষ্টির অন্যতম উদ্দেশ্য হল, আরবী নামের সাথে সাথে বর্তমান নামের সাথে পরিচিত হওয়া, তহলেই আমরা আমাদের শেকড়ের সাথে পরিচিত হতে পারব।

এ সম্পর্কিত বেশ কিছু ছবির বর্ণনা :

বর্ণনা: রেখা ত্বারিক বিন যিয়াদের বিজয়ী কাফেলার যাত্রাপথ। লাল রেখা মুসা বিন নুসাইরের যাত্রাপথ।

কর্ডোভার মসজিদ, যা এখন ক্যাথোলিক গীর্জা।

গ্রানাডার আল-হামরা রাজপ্রসাদ

আল- হামরার অংশ বিশেষ

গোয়াদেলকুইভার নদীর ওপর নির্মিত ব্রীজ, যা ওমর বিন আব্দুল আজীজের শাসনামলে নির্মাণকাজ শুরু হয়।

মতামত দিন