ইসলামী শিক্ষা সাম্প্রতিক বিষয়

ইমাম মাহদীর আগমন

ইমাম মাহদীর আগমন

সংকলনে: মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আলগালিব

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمَهْدِيُّ مِنِّي، أَجْلَى الْجَبْهَةِ، أَقْنَى الْأَنْفِ، يَمْلَأُ الْأَرْضَ قِسْطًا وَعَدْلًا، كَمَا مُلِئَتْ ظُلْمًا وَ جَوْرًا، يَمْلِكُ سَبْعَ سِنِينَ» رَوَاهُ أَبُوْ دَاؤُدَ

অনুবাদঃ আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ইরশাদ করেছেন যে, মাহদী হবেন আমার বংশের, উজ্জ্বল চেহারা বিশিষ্ট ও উঁচু নাক বিশিষ্ট। তিনি ন্যায় ও ইনছাফ দ্বারা যমীনকে এমনভাবে পরিপূর্ণ করে দিবেন, যেমনভাবে তার পূর্বে উহা যুলুম ও অত্যাচারে পরিপূর্ণ ছিল। তিনি সাত বৎসর পৃথিবী শাসন করবেন।[1]

হাদীছের ব্যাখ্যাঃ ‘মাহদী’ অর্থ হিদায়াত প্রাপ্ত। অত্র হাদীছে কিয়ামতের প্রাক্কালে হযরত ঈসা (আঃ)-এর অবতরণের অব্যবহিত কাল পূর্বে আগমনকারী ইমাম মাহদী সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। ঈসা (আঃ) মুসলমানদের ‘আমীর’ ইমাম মাহদীর পিছনে ছালাত আদায় করবেন ও মুহাম্মাদী শরীআত বাস্তবায়ন করবেন। এটি আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের একটি গুরুত্বপূর্ণ আকীদার বিষয়, যা সম্পূর্ণরূপে একটি গায়েবী খবর। এতে যুক্তির কোন অবকাশ নেই। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হ’তে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত কোন বিষয়ে কোনরূপ অবিশ্বাস, দ্বিধা-সংশয় সংকোচ বোধ করা ঈমানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। মাহদী ও ঈসা (আঃ)-এর আগমনের বিষয়টি মুসলমানদের দৃঢ় আকীদার অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের আগমন শুধু মুসলিম উম্মাহর জন্য নয়, বরং এটি পৃথিবীর নির্যাতিত মানবতার জন্য একটি সুখময় ও শান্তিদায়ক খবর।

‘মাহদী’ সম্পর্কিত হাদীছের বর্ণনাকারী ছাহাবীর সংখ্যা ২৬। এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীছ সমূহ স্ব স্ব কিতাবে সংকলনকারী বিদ্বানের সংখ্যা ৩৬। শুধু এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনাকারী খ্যাতনামা বিদ্বানগণের সংখ্যা ১০। মাহদী সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছের সংখ্যা ছহীহ-যঈফ মিলে ৫০টি। সেকারণ মাহদী সম্পর্কিত হাদীছ সমূহকে প্রায় সকল বিদ্বান মুতাওয়াতির পর্যায়ের বলেছেন, যাতে সন্দেহের কোন অবকাশ থাকে না। শব্দগত মুতাওয়াতির না হলেও মর্মগত মুতাওয়াতির হওয়ার ব্যাপারে বিদ্বানগণের মধ্যে কোনই মতভেদ নেই।

যে ২৬ জন ছাহাবী ‘মাহদী’ বিষয়ে হাদীছ বর্ণনা করেছেন, তাঁদের নামসমূহ নিম্নরূপঃ ওছমান ইবনু ‘আফফান, ‘আলী ইবনু আবী ত্বালিব, ত্বালহা ইবনু ওবায়দুল্লাহ, আবদুর রহমান ইবনু আওফ, হুসাইন ইবনু ‘আলী, উম্মে সালামা, উম্মে হাবীবাহ, আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনু ওমর, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর, আবু সাঈদ খুদরী, জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ, জাবের ইবনু সামুরা, আবু হুরায়রা, আনাস ইবনু মালেক, আম্মার ইবনু ইয়াসির, আওফ ইবনু মালেক, ছওবান (রাসূলের গোলাম), কুররাহ বিন ইয়াস, ‘আলী আল-হিলালী, হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান, আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিছ ইবনুল জুয, ইমরান ইবনু হুছায়েন, আবুত তুফায়েল জাবের আছ-ছাদাফী (রাঃ)। যে ৩৬ জন বিদ্বান স্ব স্ব কিতাবে ‘মাহদী’ বিষয়ক হাদীছ সমূহ জমা করেছেন ও উক্ত হাদীছ সমূহের সনদ পর্যালোচনা করেছেন, তাদের নামসমূহ নিম্নরূপঃ (১) আবুদাঊদ স্বীয় সুনানে (২) তিরমিযী স্বীয় জামে’-তে (৩) ইবনু মাজাহ স্বীয় সুনানে (৪) নাসাঈ (সাফারীনী এটি উল্লেখ করেছেন। নাসাঈ কুবরাতে নেই, তবে সম্ভবতঃ নাসাঈ ছুগরাতে মাহদী বিষয়ে হাদীছ থাকতে পারে) (৫) আহমাদ স্বীয় মুসনাদে (৬) ইবনু হিব্বান স্বীয় ছহীহ’ গ্রন্থে (৭) হাকেম স্বীয় মুস্তাদরাকে (৮) আবুবকর ইবনু শায়বাহ স্বীয় মুছান্নাফে’ (৯) নাঈম বিন হাম্মাদ কিতাবুল ফিতানে (১০) হাফেয আবু নাঈম কিতাবুল মাহদী’ ও ‘কিতাবুল হিলইয়াহ’-তে (১১) বারাণী স্বীয় কাবীর, আওসাতু ও ছাগীর গ্রন্থে (১২) দারাকুতী ‘আফরাদ’-এর মধ্যে (১৩) বাওয়াদী মারিফাতুছ ছাহাবা’ গ্রন্থে (১৪) আবু ইয়ালা মূছেলী স্বীয় মুসনাদে’ (১৫) বাযযার স্বীয় মুসনাদে (১৬) হারেছ বিন আবু উসামা স্বীয় মুসনাদে (১৭) খাত্বীব ‘তালখীছুল মুতাশাবিহ’ এবং ‘ফিল মুত্তাফাক্ ওয়াল মুফরাক্ক’-এর মধ্যে (১৮) ইবনু ‘আসাকির স্বীয় তারীখ’-এর মধ্যে (১৯) ইবনু মানদাহ স্বীয় তারীখে ইস্পাহান’-এর মধ্যে (২০) আবুল হাসান হাবী ‘আল-আউওয়াল মিনাল হারবিয়াত’-এর মধ্যে (২১) তাম্মাম আর-রাযী স্বীয় ফাওয়ায়েদ’ কিতাবের মধ্যে (২২) ইবনু জারীর ‘তাহযীবুল আছারের মধ্যে (২৩) আবুবকর ইবনুল মাকাররী স্বীয় মুজাম’-এর মধ্যে (২৪) আবু ‘আমর দানী স্বীয় সুনানের মধ্যে (২৫) আবু গানাম কূফী কিতাবুল ফিতানের মধ্যে (২৬) দায়লামী মুসনাদুল ফেরদৌস’-এর মধ্যে (২৭) আবুল হুসাইন ইবনুল মানাদী কিতাবুল মালাহিম’-এর মধ্যে (২৮) বায়হাকী দালায়েলুন নবুওয়াত’-এর মধ্যে (২৯) ইবনুল জাওযী স্বীয় তারীখ’-এর মধ্যে (৩০) ইয়াহইয়া ইবনু আব্দিল হামীদ আল-হামানী স্বীয় মুসনাদ’-এর মধ্যে (৩১) আর-রুয়ানী স্বীয় মুসনাদ’-এর মধ্যে (৩২) ইবনু সা’দ স্বীয় ত্বাবাকাত’-এর মধ্যে (৩৩) ইবনু খুযায়মা (৩৪) হাসান বিন সুফিয়ান (৩৫) ওমর ইবনু শিবৃহ (৩৬) আবু ‘আওয়ামাহ।

মাহদী সম্পর্কিত হাদীছসমূহ পৃথকভাবে সংকলন করে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের মধ্যকার শীর্ষস্থানীয় বিদ্বানগণের নাম নিম্নরূপঃ

 (১) আবু বকর ইবনু আবী খায়ছামাহ যুহায়ের ইবনু হারব (২) হাফেয আবু নাঈম (৩) জালালুদ্দীন সৈয়ুত্বী (৮৪১-৯১১ হিঃ)। কিতাবের নামঃ العرف الوردي في أخبار المهدي এই কিতাবে তিনি দু’শতের অধিক হাদীছ জমা করেছেন। যার মধ্যে ছহীহ, হাসান, যঈফ, মওযু সব ধরনের বর্ণনা রয়েছে (৪) হাফেয ইবনু কাছীর (৭০১-৭৭৪ হিঃ) আন-নিহায়াহ ফিল ফিতান ওয়াল মালাহিম-এর মধ্যে (৫) ইবনু হাজার মাক্কী (মৃঃ ১৭৪ হিঃ)। কিতাবের নামঃ القول المخيصر في علامات المهدي المنتظر (৬) আলী মুত্তাক্বী জৌনপুরী (মৃঃ ৯৭৫ হিঃ) কানযুল উম্মাল’-এর সংকলক। তিনি মাহদী সম্পর্কে পৃথক একটি পুস্তিকা প্রণয়ন করেন। (৭) মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী (মৃঃ ১০১৪ হিঃ)। তার বইয়ের নামঃ المشرب الوردي في مذهب المهدي (৮) মার’আ ইবনু ইউসুফ হাম্বলী (মৃঃ ১০৩৩ হিঃ)। তাঁর কিতাবঃ فوائد الفكر في ظهور المهدي المنتظر (৯) কাযী মুহাম্মাদ বিন ‘আলী শাওকানী (১১৭২-১২৫০ হিঃ)। তাঁর কিতাবের নামঃ التوضيع في تواتر ما جاء فبي المهدي و الدجال و المسيح (১০) মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আমীর ছান’আনী (মৃঃ ১১৮২ হিঃ) ‘সুবুলুস সালাম’-এর লেখক। যাঁরা ‘মাহদী সম্পর্কিত হাদীছ সমূহকে মুতাওয়াতির গণ্য করেছেন, তাঁদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় বিদ্বানগণ হলেনঃ

(১) মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আল-আবেরী (মৃঃ ৩৬৩ হিঃ) كتاب مناقب الشافعي -এর লেখক।

(২) মুহাম্মাদ আল-বারযানজী (মৃঃ ১১০৩ হিঃ) الإشاعة لأشراط الساعة -এর লেখক।

(৩) মুহাম্মাদ আস-সাফারীনী (মৃঃ ১১৮৮ হিঃ) لوامع الأنوار البهيمة -এর লেখক।

(৪) মুহাম্মাদ বিন আলী শাওকানী (১১৭২-১২৫০ হিঃ)التوضيح في تواتر ما جاء في المهدي والدجال و المسيح -এর লেখক।

(৫) নওয়াব ছিদ্দীক হাসান খান ভূপালী (১২৪৬-১৩০৭ হিঃ)। الإذاعة لما كان و ما يكون بين يدي الساعة -এর লেখক।

(৬) মুহাম্মাদ বিন জাফর আল-কাতানী (মৃঃ ১৩৪৫ হিঃ) النظم المتناثر من الحديث المتواتر -এর লেখক।

(৭) বর্তমান যুগে এ বিষয়ে গবেষণামূলক ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ হিসাবে সউদী আরবের বাদশাহ আবদুল আযীয বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দুস্তানী ছাত্র আবদুল আলীম বিন আবদুল আযীম বিরচিত এম,এ, থিসিস الأحاديث الواردة في المهدي في ميزان الجرح و التعديل নামক ছয়শত পৃষ্ঠার ঊর্ধের বিরাট গ্রন্থটি নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।

উল্লেখ্য যে, শী‘আরাও মাহদীর আকীদা পোষণ করে থাকে। তবে তাদের দাবীকৃত মাহদীর নাম হ’ল মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-আসকারী, যিনি হুসাইন’ বংশীয়। উক্ত মাহদী ইছনা আশারী শীআ উপদলের ১২তম নিস্পাপ ইমাম। যিনি তাদের ধারণা মতে তৃতীয় শতাব্দী হিজরীর মধ্যবর্তী সময়ে জন্মগ্রহণ করে পাঁচ বছর বয়সে শৈশব অবস্থায় সামুরার নিম্ন কুঠিতে প্রবেশ করে আর বের হননি। তারা এযাবত উক্ত কুঠি থেকে তাঁর বের হবার অপেক্ষায় রয়েছে। পক্ষান্তরে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদা মতে মাহদী হ’লেন হাসান বংশীয় এবং তার নাম হ’ল মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ। তিনি নিস্পাপ নন। তিনি কিয়ামতের প্রাক্কালে আবির্ভূত হবেন। অতএব মাহদী সম্পর্কে শী’আ ও সুন্নীদের আকীদার মধ্যে আসমান ও যমীনের প্রভেদ বিদ্যমান।

মাহদী সম্পর্কে বিদ্বানগণ চারটি মতে বিভক্ত হয়েছেনঃ

১. তিনি হলেন ঈসা মসীহ ইবনু মারিয়াম (আঃ)। এঁরা মুহাম্মাদ ইবনু খালেদ আল-জুনদী হতে আনাস বিন মালিক (রাঃ) বর্ণিত হাদীছ থেকে দলীল গ্রহণ করেন। কিন্তু হাদীছটি ছহীহ নয়। ইবনু মাজাহ বর্ণিত উক্ত হাদীছটির শেষাংশ হ’লঃ ولا المهدي إلا عيسى ابن مريم” “। .. ..এবং মাহদী নেই ঈসা ইবনু মারিয়াম ব্যতীত।[2]

উপরােক্ত শেষাংশটি মুনকার। যদি হাদীছটিকে ছহীহও ধরা হয়, তবে তার অর্থ হবে لا مهدي كاملا معصوما إلا عيسى بن مريم “পূর্ণাঙ্গ নিস্পাপ মাহদী নেই ঈসা ইবনু মারিয়াম ব্যতীত”। যেমন অন্য হাদীছে এসেছে, ঐ ব্যক্তির ঈমান নেই যার আমানতদারী নেই।[3] অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি পূর্ণ ঈমানদার নয়। অসংখ্য ছহীহ হাদীছে কিয়ামত প্রাক্কালে ঈসা (আঃ)-এর অবতরণ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। মুহাম্মাদ (ছাঃ) ও কিয়ামতের মধ্যবর্তী সময় ঈসা হচ্ছেন একমাত্র ও পূর্ণাঙ্গ মাহদী। তিনি দামেস্কের পূর্ব প্রান্তের সাদা মিনার হতে দু’টি হলুদ বস্ত্র পরিহিত অবস্থায় দু’জন ফেরেশতার ডানায় ভর দিয়ে অবতরণ করবেন। তিনি পৃথিবীতে ইসলামী শাসন জারি করবেন। ইহুদী-নাছারাদের হত্যা করবেন। অন্য সকল ধর্মের ধ্বংস সাধন করবেন। জিযিয়া কর আরোপ করবেন। মুসলমানদের আমীরকে সহযোগিতা করবেন ও তার পিছনে ছালাত আদায় করবেন। দাজ্জালদের নিধন কাজে তাকে সাহায্য করবেন। অবশেষে মূল দাজ্জালটিকে বায়তুল মুকাদ্দাসের নিকটবর্তী ‘লুদ শহরের দরজায় হত্যা করবেন। তিনি সাত বছর অবস্থান করবেন। সারা পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে ও তিনি মৃত্যুবরণ করবেন। অতঃপর পুনরায় অন্যায়-অনাচার শুরু হবে। এমতাবস্থায় একটি শীতল বায়ু প্রবাহিত হবে ও এর ফলে যাদের অন্তরে বিন্দু পরিমাণ ঈমান বা কল্যাণ চিন্তা থাকবে, তারা সবাই মৃত্যুবরণ করবে। তখন পৃথিবীতে কেবল দুষ্ট লোক থাকবে। যাদের মধ্যে ভাল-মন্দের বাছ-বিচার থাকবে না। এ সময় শয়তান মানুষের রূপ ধারণ করে এসে তাদেরকে মূর্তি পূজার আহ্বান জানাবে। মানুষ তাই-ই করবে। অতঃপর ইস্রাফীলের শিঙ্গায় ফুকদানের মাধ্যমে কিয়ামত সংঘটিত হবে।[4]

 ২. ইনি হলেন আব্বাসীয় খলীফা মাহদী বিন মানছুর (১৫৮-১৬৯ হিঃ)। এমতটি যে সঠিক নয়, তার বড় প্রমাণ হল এই যে, তার খেলাফতকাল বহু পূর্বেই শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ঈসা (আঃ) অবতরণ করেননি ও মাহদীর পিছনে ছালাত আদায় করেননি। যদি এমতটিকে সঠিক বলে ধরে নেওয়া যায়, তবে তিনি হতে পারেন ঐ সকল হেদায়াত প্রাপ্ত খলীফাদের অন্তর্ভুক্ত, যাদের সম্পর্কে হাদীছে ইঙ্গিত এসেছে। যেমন বুখারী ও মুসলিমে জাবের ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেন,

عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا يَزَالُ أَمْرُ النَّاسِ مَاضِيًا مَا وَلِيَهُمُ اثْنَا عَشَرَ رَجُلًا»، ثُمَّ تَكَلَّمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكَلِمَةٍ خَفِيَتْ عَلَيَّ، فَسَأَلْتُ أَبِي: مَاذَا قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَ: «كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ»،

ও, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, জনগণের শাসন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে যতদিন তাদের মধ্যে ১২ জনের শাসন থাকবে। অতঃপর তিনি চুপে চুপে বলেন, তারা সকলেই হবে কুরায়েশ বংশীয়।[5] হাদীছের শব্দগুলি ছহীহ মুসলিমের। সরলার্থ এই যে, পৃথিবীতে ১২ জন ন্যায়পরায়ণ শাসকের আবির্ভাব ঘটবে, যারা হক ও ইনছাফ কায়েম করবেন। তারা একত্রে বা একই সময়ে পরপর হওয়া আবশ্যক নয়। বরং বিভিন্ন যুগে ও সময়ে হতে পারেন। তাদের মধ্যে চারজন হলেন প্রথম যুগের চার খলীফা হযরত আবুবকর, ওমর, ওছমান ও আলী (রাঃ)। এ বিষয়ে রাসূলের স্পষ্ট হাদীছ এবং মুসলিম উম্মাহর অধিকাংশের ঐক্যমত রয়েছে কিছু সংখ্যক শী’আ ব্যতীত। তাদের মতে আলী (রাঃ) ব্যতীত বাকী তিন খলীফা অবৈধ ও জবর দখলকারী। এমনকি তাদের মতে ১২ জন ন্যায়নিষ্ঠ খলীফার সকলকে আলী (রাঃ)-এর বংশের হতে হবে। শী’আদের ইছনা আশারী গ্রুপটি তাদের ধারণা মতে আলী বংশের ১২তম ইমামের আগমনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। উক্ত গ্রুপের নেতা ইমাম খোমেনীর মাধ্যমে ১৯৭৯ সালে ইরানে বিপ্লব সাধিত হয়েছে ও রেযা শাহ পাহলবীর পতন ঘটেছে।

শীআ ব্যতীত বাকী সকল মুসলিম বিদ্বানের ঐক্যমত অনুযায়ী খুলাফায়ে রাশেদীনের চার খলীফার পরে উমাইয়া খলীফা উমার বিন আবদুল আযীয (৯৯-১০১ হিঃ) সহ উমাইয়া ও আব্বাসীয় খলীফাদের মধ্যে উক্ত বারো জন ন্যায়নিষ্ঠ খলীফা রয়েছেন। অতঃপর কুরায়েশ বংশ থেকেই সর্বশেষ ও প্রকৃত মাহদীর আবির্ভাব ঘটবে কিয়ামতের প্রাক্কালে। যার নাম হবে মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ। কখনোই তার নাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-আসকারী নয়, যে দাবী শীআরা করে থাকে। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ) বলেন, মাহদী হবেন ন্যায় ও ইনছাফের চূড়ান্ত যেমন দাজ্জাল হবে অন্যায় ও অত্যাচারের চূড়ান্ত। তবে প্রধান মাহদী ও প্রধান দাজ্জালের আগমনের পূর্বে অনেক দাজ্জাল ও অনেক মাহদীর আগমন ঘটবে।

৩. তিনি হবেন নবী পরিবারের মধ্যকার হযরত হাসান বিন আলী (রাঃ)-এর বংশধর। যিনি আখেরী যামানায় আগমন করবেন ও জগত সংসারকে ন্যায় ও ইনছাফে ভরে দেবেন। অধিকাংশ হাদীছ এই বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে। আবুল হাসান সামহুদী (মৃঃ ৯১১ হিঃ) বলেন, হাদীছ সমূহ দ্বারা একথা প্রমাণিত হয় যে, মাহদী হবেন ফাতেমার বংশধর। যেমন আবুদাঊদে এসেছে, إنه من ولد الحسن তিনি হবেন হাসান-এর বংশধর। একথার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম বিষয় লুকিয়ে রয়েছে। সেটি হল এই যে, উম্মতের প্রতি স্নেহ পরায়ণ হয়ে তিনি (মু’আবিয়া (রাঃ)-এর অনুকূলে) খেলাফত পরিত্যাগ করেছিলেন। এমনকি স্বীয় কনিষ্ঠ ভ্রাতাকেও এ ব্যাপারে নিষেধ করে গিয়েছিলেন। হুসাইন (রাঃ) নিহত হবার পূর্ব রাতে এ বিষয়টি স্মরণ করেন ও জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার উপরে রহমতের দো’আ করেন। অতঃপর মাহদী হুসাইন বংশীয় হবেন বলে যে কথা বলা হয়ে থাকে, তা নিতান্তই বাজে উক্তি। বলা চলে যে, এটাই আল্লাহর নীতি যে, কোন ব্যক্তি বৃহত্তর স্বার্থে কোন কিছু ছাড় দিলে আল্লাহ তাকে সেটা পরবর্তীতে দিয়ে দেন। সেকারণ এক্ষেত্রে হাসান (রাঃ)-এর বংশে ইমারত আসাটাই যুক্তিযুক্ত। পক্ষান্তরে হুসাইন (রাঃ) খেলাফত কামনা করেছিলেন ও কূফাবাসীদের ধোঁকায় পড়ে অবশেষে নিহত হয়েছিলেন।

ইবনু হাজার মাক্কী (মৃঃ ৯৭৪ হিঃ) স্বীয় القول المختصر কিতাবে বলেন, و الحاصل أن للحسن في المهدي الولادة العظمى لأن أحاديث كونه من ذريته أكثر সারকথা এই যে, মাহদীর জন্ম হাসান (রাঃ)-এর বংশেই হবে। কেননা তার বংশে হওয়ার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীছের সংখ্যা সর্বাধিক। মোল্লা আলী কারী হানাফী (মৃঃ ১০১৪ হিঃ) বলেন, তিনি হাসান ও হুসাইন উভয় বংশের সম্মিলনে হতে পারেন এবং এটাই সর্বাধিক স্পষ্ট যে, তিনি পিতার দিক দিয়ে হবেন ‘হাসানী ও মাতার দিক দিয়ে হবেন হুসাইনী। যেভাবে ইব্রাহীম (আঃ)-এর দু’ছেলে ইসমাঈল ও ইসহাকের বংশধারার মধ্যে ঘটেছিল। বনু ইস্রাঈলের সমস্ত নবী ছিলেন ইসহাক বংশের। কিন্তু মাত্র একজন নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) ছিলেন ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশের। ফলে আমাদের নবী হলেন সকল নবীর স্থলাভিষিক্ত ও সর্বশেষ নবী। কতই না সুন্দর বদল। অনুরূপভাবে অধিকাংশ ইমাম ও উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণ এসেছেন হুসাইন বংশ থেকে। এক্ষণে এটাই যুক্তিযুক্ত যে, হাসান বংশে এমন একজন আসবেন, যিনি হবেন পূত হৃদয় ব্যক্তিদের শেষ এবং সকলের স্থলাভিষিক্ত।[6]

আবুদাউদ (রহ.) আবু ইসহাক সূত্রে আলী (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি একদা স্বীয় পুত্র হাসানের দিকে তাকিয়ে বলেন, আমার এই পুত্র একজন নেতা। কেননা ঐ নামে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে অভিহিত করেছিলেন। (উক্তিটি ছিলঃ “আমার এই পুত্রটি একজন সাইয়িদ বা নেতা। সম্ভবতঃ আল্লাহ এর মাধ্যমে মুসলমানদের বড় দুটি দলের মধ্যে সন্ধি স্থাপন করাবেন)। শীঘ্রই তার বংশ থেকে একজন ব্যক্তির জন্ম হবে, যার নাম হবে তােমাদের নবীর নামানুসারে। তার সঙ্গে চরিত্রগত মিল থাকবে, কিন্তু চেহারাগত মিল থাকবে না। অতঃপর তিনি হাদীছের বাকী অংশ বলেন যেখানে বলা হয়েছে যে, তিনি জগত সংসারকে ন্যায় ও ইনছাফ দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেবেন ইত্যাদি। আবুদাউদ হাদীছটি কর্মবাচ্যের শব্দরূপ দিয়ে (حُدِّثْتُ) বর্ণনা করেছেন, কর্তৃবাচ্যের (حَدَّثَنَا) শব্দরূপ দিয়ে নয়। মানারী বলেন, সনদটি মুনকা বা ছিন্নসূত্র। কেননা আবু ইসহাক্ক হযরত আলীকে মাত্র একবার দেখেছিলেন। আবুদাউদ-এর ভাষ্যকার শামসুল হক আযীমাবাদী (১২৭৩-১৩২৯ হিঃ) বলেন, অত্র হাদীছ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, মাহদী হবেন হাসান বংশের।[7]

৪. মাহদী হবেন হুসাইন বংশের মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-আসকারী, যার আগমনের অপেক্ষায় রাফেযী শীআগণ নিয়ত প্রহর গুনছে। যিনি তৃতীয় শতাব্দী হিজরীর মাঝামাঝিতে তার জন্মের পর শিশু অবস্থায় ৫ বছর বয়সে এখন থেকে প্রায় ১১০০ বছর আগে সামুরার নিম্নকক্ষে প্রবেশ করেছেন। যার পর থেকে এযাবত কেউ তাকে দেখেনি বা তার সম্পর্কে কোন খবরও প্রকাশিত হয়নি। অথচ শীআরা উক্ত কল্পিত কক্ষের দরজার সম্মুখে প্রতিদিন মাগরিবের পরে ঘোড়া নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, আর উচ্চৈঃস্বরে প্রার্থনা করে বলে أُخْرُجْ يَا مَوْلاَنَا ও ‘বেরিয়ে আসুন হে আমাদের প্রভু! অতঃপর ফিরে আসে প্রতিদিন নিরাশ হয়ে হতাশ মনে। হাফেয ইবনুল কাইয়িম (৬৯১-৭৫১ হিঃ) এজন্যই বলেছেন যে, শয়তানের অন্যতম খেলা হ’ল এই যে, ইহুদীরা দাউদ (আঃ)-এর বংশের একজন মাসীহ’-এর আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে। অথচ ওরা মূলতঃ মাসীহে দাজ্জাল’-এর অপেক্ষায় রয়েছে। কেননা তাদের অধিকাংশের আচরণ দাজ্জালের ন্যায়। নইলে মাসীহুল হুদা’ বা হিদায়াতের মাসীহ যার জন্য মুসলিম উম্মাহ প্রতীক্ষায় রয়েছে, তিনি হলেন মাসীহ ঈসা (আঃ) ও তাঁর সময়কার পৃথিবীর শাসক ও আমীর ইমাম মাহদী ।

মাহদীসম্পর্কে পরােক্ষভাবে বর্ণিত ছহীহ হাদীছ সমূহ নিম্নরূপঃ

(1)  عن أبي هريرة قال قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا نَزَلَ ابْنُ مَرْيَمَ فِيكُمْ وَإِمَامُكُمْ مِنْكُمْ؟» (متفق عليه)

১. আবু হুরায়রা (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, তােমরা কেমন থাকবে যখন ঈসা ইবনু মারিয়াম তোমাদের মাঝে অবতরণ করবেন ও ইমাম হবেন তোমাদের মধ্য থেকে?[8] এ হাদীছে পরোক্ষভাবে ইমাম মাহদীর কথা বলা হয়েছে। যিনি ঈসা (আঃ)-এর আগমনের পূর্ব থেকেই পৃথিবীর শাসন ক্ষমতার অধিকারী হবেন ও তার ইমামতিতে ঈসা (আঃ) ছালাত আদায় করবেন।

(2)  عن أبي هريرة قال قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا نَزَلَ ابْنُ مَرْيَمَ فِيكُمْ فَإِمَامُكُمْ مِنْكُمْ؟» و في رواية: وَإِمَامُكُمْ مِنْكُمْ؟ قَالَ ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ: «تَدْرِي مَا أَمَّكُمْ مِنْكُمْ؟» قُلْتُ: تُخْبِرُنِي، قَالَ: «فَأَمَّكُمْ بِكِتَابِ رَبِّكُمْ تَبَارَكَ وَتَعَالَى، وَسُنَّةِ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»

২. আবু হুরায়রা (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, তােমরা কেমন থাকবে যখন ঈসা ইবনু মারিয়াম তােমাদের মাঝে অবতরণ করবেন ও নেতৃত্ব হবে তােমাদের মধ্য থেকে? অন্য বর্ণনায় এসেছে ‘নেতা হবেন তোমাদের মধ্য থেকে? বর্ণনাকারী ইবনু আবী যি’ব প্রশ্নকারীকে বললেন, তুমি কি জানোনা কিসের দ্বারা তোমাদের নেতৃত্ব দেওয়া হবে? আমি বললামঃ আপনি বলে দিন। তিনি বললেন, তিনি নেতৃত্ব দেবেন তোমাদের প্রভুর কিতাব দ্বারা ও তোমাদের নবীর সুন্নাহ দ্বারা।[9]

(3) عن جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ»، قَالَ: ” فَيَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَيَقُولُ أَمِيرُهُمْ: تَعَالَ صَلِّ لَنَا، فَيَقُولُ: لَا، إِنَّ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ أُمَرَاءُ تَكْرِمَةَ اللهِ هَذِهِ الْأُمَّةَ “

৩. জাবের ইবনু আব্দিল্লাহ (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, আমার উম্মতের মধ্যে কিয়ামত পর্যন্ত একটি দল হক-এর উপরে বিজয়ী থেকে লড়াই করবে। তিনি বলেন, অতঃপর ঈসা ইবনু মারিয়াম অবতরণ করবেন। তখন ঐ দলের ‘আমীর’ তাকে বলবেন, আসুন! আমাদের ছালাতে ইমামতি করুন। তখন তিনি বলবেন, না। নিশ্চয়ই তোমরা পরস্পরের উপরে নেতৃত্ব দিবে। এটা এই উম্মতের জন্য আল্লাহর দেওয়া বিশেষ মর্যাদা।[10]

ছহীহায়েনে বর্ণিত উপরোক্ত হাদীছগুলি দুটি বিষয়ে ইঙ্গিত করেঃ (১) আসমান থেকে ঈসা (আঃ)-এর অবতরণকালে মুসলমানদের শাসন তাদেরই একজন ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তির হাতে থাকবে (২) উক্ত শাসকের ছালাতে ইমামতি করা এবং ঈসা (আঃ)-কে ইমামতির জন্য আহ্বান করা তার নেককার হওয়ার ও হেদায়াত প্রাপ্ত শাসক হওয়ার প্রমাণ বহন করে।

এক্ষণে কিয়ামত প্রাক্কালের ঐ হেদায়াত প্রাপ্ত শাসক ব্যক্তি কে হবেন, সে বিষয়ে অন্যান্য হাদীছে ব্যাখ্যা এসেছে যে, তিনি হবেন কুরায়েশ বংশীয় এবং ফাতেমার রক্ত ধারার। তাঁর নাম হবে মুহাম্মাদ’ ও পিতার নাম হবে ‘আবদুল্লাহ। যিনি মাহদী’ বা হেদায়াত প্রাপ্ত নামে অভিহিত হবেন। উক্ত মর্মে প্রত্যক্ষভাবে বর্ণিত হাদীছ সমূহের কিছু উদ্ধৃতি নিয়ে পেশ করা হল।

মাহদীর নামে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হাদীছ সমূহঃ

(1) عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- « لاَ تَذْهَبُ الدُّنْيَا حَتَّى يَمْلِكَ الْعَرَبَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ بَيْتِى يُوَاطِئُ اسْمُهُ اسْمِى »، رواه الترمذي و أبوداؤد، وفي رواية له قال: لَوْ لَمْ يَبْقَ مِنَ الدُّنْيَا إِلاَّ يَوْمٌ لَطَوَّلَ اللَّهُ ذَلِكَ الْيَوْمَ حَتَّى يَبْعَثَ اللَّهُ فِيهِ رَجُلاً مِنِّي  أَوْ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي – يُوَاطِئُ اسْمُهُ اسْمِي ، وَاسْمُ أَبِيهِ اسْمُ أَبِي يَمْلأُ الأَرْضَ قِسْطًا ، وَعَدْلاً كَمَا مُلِئَتْ ظُلْمًا وَجَوْرًا .

 ১. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন যে, পৃথিবী নিশ্চিহ্ন হবে না যতদিন না আমার খান্দানের একজন ব্যক্তি গােটা আরব ভূখণ্ডের শাসক হবে। তার নাম হবে আমার নামে’ (তিরমিযী ও আবুদাউদ)। আবুদাউদের অপর বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেছেন, যদি দুনিয়া শেষ হতে মাত্র একদিনও বাকী থাকে, তবুও আল্লাহ তা’আলা ঐ দিনটি অত্যধিক দীর্ঘায়িত করবেন। অতঃপর ঐদিনের মধ্যে আমার বংশের (অথবা তিনি বলেছেন) আমার পরিবারের একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন। তার নাম হবে আমার নামে এবং তার পিতার নাম হবে আমার পিতার নামে। তিনি ন্যায় ও ইনছাফ দ্বারা যমীনকে তেমনিভাবে পূর্ণ করে দিবেন, যেমনভাবে তাঁর পূর্বে উহা যুলুম ও অত্যাচারে পরিপূর্ণ ছিল।[11]

(2) عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ ، قَالَتْ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : الْمَهْدِيُّ مِنْ عِتْرَتِي ، مِنْ وَلَدِ فَاطِمَةَ رواه أبوداود

২. উম্মে সালামা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, মাহদী আমার খান্দানের ও ফাতেমার বংশে জন্মগ্রহণ করবে।[12]

(3) عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : الْمَهْدِيُّ مِنِّي ، أَجْلَى الْجَبْهَةِ ، أَقْنَى الأَنْفِ ، يَمْلأُ الأَرْضَ قِسْطًا وَعَدْلاً ، كَمَا مُلِئَتْ جَوْرًا وَظُلْمًا ، يَمْلِكُ سَبْعَ سِنِينَ. رواه أبوداود

৩, আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, মাহদী’ হবে আমার (বংশের) মধ্য হতে, উজ্জ্বল চেহারা বিশিষ্ট, উঁচু নাক বিশিষ্ট। তিনি ন্যায় ও ইনছাফ দ্বারা যমীনকে এমনভাবে পরিপূর্ণ করে দিবেন, যেমনভাবে তার পূর্বে উহা যুলম ও অত্যাচারে পরিপূর্ণ ছিল। তিনি সাত বছর পৃথিবী শাসন করবেন।[13]

(4) عن ثوبان قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم… فقال: فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَبَايِعُوهُ وَلَوْ حَبْوًا عَلَى الثَّلْجِ، فَإِنَّهُ خَلِيفَةُ اللَّهِ الْمَهْدِيُّ ” ، رواه ابن ماجه

৪. ছওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, …. যখন তােমরা তাকে দেখতে পাবে, তখন বরফের উপরে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তোমরা গিয়ে তার নিকটে আনুগত্যের বায়’আত নিবে।[14]

হাফেয ইবনু কাছীর (রহঃ) উক্ত হাদীছ বর্ণনা শেষে বলেন, هذا إسناد قوي صحيح ‘এই হাদীছের সনদ শক্তিশালী ও বিশুদ্ধ’। অতঃপর তিরমিযী বর্ণিত একটি হাদীছের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন… তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ আলাভী ফাতেমী আল-হাসানী রাযিয়াল্লাহু আনহু।[15]

(5)  عن أبي سعيد الخدري قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أبشركم بالمهدي يبعث على اختلاف من الناس وزلازل فيملأ الأرض قسطا كما ملئت ظلما وجورا، ..رواه أحمد

৫. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, আমি তোমাদেরকে মাহদীর সুসংবাদ দিচ্ছি। যাকে মানবজাতির চরম বিশৃংখলা ও ভাঙনের সময় প্রেরণ করা হবে। অতঃপর তিনি পৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পরিপূর্ণ করে দিবেন, যেমন তার পূর্বে যুলম ও অত্যাচারে উহা পরিপূর্ণ ছিল…। আহমাদ, আবু ইয়ালা; হায়ছামী মাজমাউয যাওয়ায়েদ-এর মধ্যে বলেন যে, এই হাদীছের বর্ণনাকারীগণ সকলে বিশ্বস্ত।

 (1) عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: ” يَكُونُ فِي أُمَّتِي الْمَهْدِيُّ إِنْ قُصِرَ فَسَبْعٌ، وَإِلَّا فَتِسْعٌ، فَتَنْعَمُ فِيهِ أُمَّتِي نِعْمَةً، لَمْ يَنْعَمُوا مِثْلَهَا قَطُّ، تُؤْتَى أُكُلَهَا وَلَا تَدَّخِرُ مِنْهُمْ شَيْئًا، وَالْمَالُ يَوْمَئِذٍ كُدُوسٌ، فَيَقُومُ الرَّجُلُ، فَيَقُولُ: يَا مَهْدِيُّ أَعْطِنِي، فَيَقُولُ خُذْ ” رواه الطبراني في الأوسط و ابن ماجه –

৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, আমার উম্মতের মধ্যে মাহদী’ আসবেন। তিনি কম করে হলেও সাত বছর অবস্থান করবেন, অথবা আট বছর অথবা নয় বছর। আমার উম্মত ঐ সময়ে এমন নেমতরাজির মালিক হবে, যা ইতিপূর্বে তারা কখনোই হয়নি। আসমান তাদের উপরে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবে। যমীন তার উৎপাদনের কিছুই অবশিষ্ট রাখবে না (অর্থাৎ সমস্তই বের করে দিবে)। সম্পদ সমূহের বিশাল বিশাল ভাণ্ডার হবে। লোকেরা দাড়িয়ে বলবেঃ হে মাহদী! আমাকে দিন। তিনি বলবেনঃ লও।[16]

(7)  عَنْ أَبِى سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم « إِنَّ فِى أُمَّتِى الْمَهْدِىَّ يَخْرُجُ يَعِيشُ خَمْسًا أَوْ سَبْعًا أَوْ تِسْعًا يَجِىءُ إِلَيْهِ رَجُلٌ فَيَقُولُ يَا مَهْدِىُّ أَعْطِنِى أَعْطِنِى ». قَالَ « فَيَحْثِى لَهُ فِى ثَوْبِهِ مَا اسْتَطَاعَ أَنْ يَحْمِلَهُ .

رواه الترمذی

(৭) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেছেন যে, নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে মাহদীর আবির্ভাব হবে। যিনি পাঁচ, সাত বা নয় বছর অবস্থান করবেন। লোকেরা এসে তার কাছে বলবে, হে মাহদী! আমাকে দাও! আমাকে দাও! তখন তিনি উক্ত ব্যক্তির কাপড়ের উপরে নিক্ষেপ করবেন যতক্ষণ সে বইতে পারে’।[17]

মাহদীর আগমন সম্পর্কে হাদীছ জমা কারী ও গ্রন্থ রচনা কারী প্রসিদ্ধ বিদ্বানগণঃ

(১) ইমাম আবুদাউদ (২০২-২৭৫ হিঃ), (২) ইমাম তিরমিযী (২০৯-২৭৯) (৩) ইমাম ইবনু মাজাহ (২০৭-২৭৫), (৪) হাফেয আবু জাফর উল্কায়লী (মৃঃ ৩২৩), (৫) ইমাম ইবনু হিব্বান (মৃঃ ৩৫৪), (৬) ইমাম আবুল হুসাইন আবেরী (মৃঃ ৩৬৩), (৭) ইমাম খাত্ত্বাবী (মৃঃ ৩৮৮), (৮) ইমাম বায়হাক্বী (৩৮৪-৪৫৮ হিঃ), (৯) কাযী আয়ায (মৃঃ ৫৪৪), (১০) ইমাম কুরতুবী (মৃঃ ৬৭১), (১১) ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (৬৬১-৭২৮), (১২) ইমাম আবুল হাজ্জাজ আল-মাযী (মৃঃ ৭৪২), (১৩) ইমাম যাহাবী (৬৭৩-৭৪৮), (১৪) হাফেয ইবনুল কাইয়িম (৬৯১-৭৫১), (১৫) হাফেয ইবনু কাছীর (৭০১-৭৭৪), (১৬) ইবনু হাজার আসকালানী (৭৭৩-৮৫২), (১৭) হাফেয সাখাভী (মৃঃ ৯০২), (১৮) ইমাম সৈয়ুত্বী (৮৪৯-৯১১), (১৯) মোল্লা আলী কারী হানাফী (মৃঃ ১০১৪), (২০) মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আমীর ছানআনী (১০৯৯-১১৮২), (২১) মুহাম্মাদ ইবনু আব্দিল ওয়াহহাব নাজদী (১১১৫-১২০৬), (২২) ইমাম শাওকানী (১১৭২-১২৫০), (২৩) নওয়াব ছিদ্দীক হাসান খান ভূপালী (১২৪৬-১৩০৭), (২৪) মুহাম্মাদ বাশীর সাহসােয়ানী (মৃঃ ১৩২৬), (২৫) শামসুল হক আযীমাবাদী (১২৭৩-১৩২৯), (২৬) আবদুর রহমান মুবারকপুরী (১২৮৩-১৩৫৩ হিঃ)।

আহলুস সুন্নাত বিদ্বানগণের মধ্যে যাঁরা ছহীহ হাদীছ সমূহের মাধ্যমে আখেরী যামানায় মাহদীর আগমন সম্পর্কে প্রমাণপঞ্জী উপস্থাপন করেছেন ও দৃঢ় আকীদা পোষণ ও প্রচার করেছেন- উপরের নামগুলি সে তুলনায় সমুদ্রের মধ্যে ফোঁটা সমতুল্য। ইমাম বায়হাক্কী (৩৮৪-৪৫৮ হিঃ) বলেন, মাহদীর আগমন সম্পর্কিত হাদীছগুলি অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح إسناداً )। হাফেয ইবনুল কাইয়িম (৬৯১-৭৫১ হিঃ) এ সম্পর্কিত সকল হাদীছ স্বীয় ‘আল-মানারুল মুনীফ’ কিতাবের মধ্যে জমা করে পরিশেষে বলেন, এই হাদীছগুলি চারভাগে বিভক্তঃ ছহীহ, হাসান, গরীব ও মওযূ’। ছিদ্দীক হাসান খান (১২৪৬-১৩০৭) বলেন, মাহদী’ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য হাদীছের সংখ্যা ৫০। ইহা নিঃসন্দেহে মুতাওয়াতির শ্রেণীভুক্ত। মাহদীর আগমন সম্পর্কিত হাদীছের আধিক্যের কারণে আবুল হুসাইন আল-আবেরী (মৃঃ ৩৬৩ হিঃ) উক্ত হাদীছকে মুতাওয়াতির শ্রেণীভুক্ত বলে মন্তব্য করেছেন। অনুরূপভাবে ইমাম শাওকানী (১১৭২-১২৫০ হিঃ) মাহদী’ সম্পর্কিত হাদীছ সমূহকে মুতাওয়াতির স্তরভুক্ত গণ্য করে বলেন, ছাহাবীগণের নিকট থেকে স্পষ্টভাবে প্রাপ্ত মাহদী’ সম্পর্কিত আছার সমূহের সংখ্যা অত্যধিক, যা মরফু হাদীছের হুকুম রাখে। এই ধরনের হাদীছে ইজতিহাদের কোন সুযোগ নেই। কেননা এগুলি ভবিষ্যদ্বাণী এবং গায়েবী বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। পয়গম্বর ব্যতীত এ বিষয়ে কারুর কিছু বলার অধিকার নেই। আর এটা জানা কথা যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আল্লাহর ‘ওয়াহী’ ব্যতীত স্বীয় খেয়াল-খুশী মতে কিছু বলেননি। আল্লাহ নিজেই সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ইচ্ছামত কোন কথা বলেন না, ‘ওয়াহী’ দ্বারা প্রত্যাদিষ্ট না হওয়া পর্যন্ত নাজম ৩-৪)।

অতএব নিঃসন্দেহে মাহদী’ আসবেন এবং কিয়ামতের পূর্বে তিনি পাঁচ, সাত, আট বা নয় বছর পৃথিবীর একচ্ছত্র শাসনকর্তা হবেন। সর্বত্র শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। এমন সময় ঈসা (আঃ)-এর আগমন ঘটবে ও তিনি মুহাম্মাদী শরী’আত প্রতিষ্ঠায় তাঁকে সর্বতােভাবে সাহায্য করবেন ও দাজ্জাল নিধন করবেন।

মাহদীর আগমনে সন্দেহ পোষণ!

অসংখ্য ছহীহ হাদীছ ও উম্মতের ঐক্যমত সত্ত্বেও প্রাচীন ও আধুনিক কালের কিছু বিদ্বান উক্ত বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন। প্রাচীন বিদ্বানগণের মধ্যে বিশ্ববিশ্রুত ঐতিহাসিক ও সমাজ বিজ্ঞানের জনক বলে খ্যাত ইমাম আবদুর রহমান ইবনে খালদুন (৭৩২-৮০৮ হিঃ)-এর নাম করা হয়ে থাকে। যদিও তাঁর বক্তব্যে তা পুরোপুরি বুঝা যায় না। যেমন তিনি স্বীয় মুকাদ্দামাহ’র মধ্যে মাহদী সম্পর্কিত হাদীছ সমূহ উদ্ধৃত করে বলেন, لم يخلص من النقد الا القليل و الأقل منه হাদীছগুলি তর্কের ঊর্ধ্বে নয় কিছু সংখ্যক বা আরও স্বল্পসংখ্যক হাদীছ ব্যতীত। এতে প্রমাণিত হয় যে, তার দৃষ্টিতে অধিকাংশ হাদীছ বিতর্কিত হলেও কিছু সংখ্যক হাদীছ বিশুদ্ধ রয়েছে। অতএব বিশুদ্ধ হাদীছকে অস্বীকার বা অমান্য করার কোন কারণ থাকতে পারে না।

দ্বিতীয়তঃ ইবনু খালদূন ছিলেন মূলতঃ একজন ঐতিহাসিক। হাদীছ শাস্ত্রে তাঁর পারদর্শিতা তেমন ছিল না। যেমন ভাষ্যকার আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির মুসনাদে আহমাদ-এর হাদীছ সমূহ যাচাইকালে বলেন, ইবনু খালদূন ইতিহাস শাস্ত্রের অন্যতম দিকপাল হ’লেও হাদীছ শাস্ত্রে তিনি ছিলেন জিজ্ঞাসু অনুসারীদের ন্যায়। তিনি অনুসরণীয় ও সিদ্ধান্ত দানকারীদের মধ্যে ছিলেন না।

২. সাইয়িদ আবুল আ’লা মওদূদী (১৯০৩-১৯৭৯ খৃঃ) স্বীয় ‘আল-বায়ানাত’ নামক বইয়ে লিখেছেন, মাহদী সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছসমূহ দু’ধরনেরঃ (১) যেগুলিতে শাব্দিক ভাবে মাহদী আগমনের বিষয়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে (২) যেগুলিতে অস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আখেরী যামানায় একজন খলীফা আসবেন, যিনি ইসলামের ঝাণ্ডাকে সমুন্নত করবেন। উক্ত দ্বিবিধ প্রকারের কোন হাদীছ সমালোচনা নিরিখে ঐ মানে পৌঁছতে পারেনি, ইমাম বুখারীর গৃহীত মানদণ্ডের সম্মুখে দাঁড়াতে পারে। কেননা ইমাম বুখারী (১৯৪-২৫৬ হিঃ) উক্ত মর্মে কোন হাদীছ তাঁর ‘ছহীহ’ গ্রন্থে জমা করেননি। ইমাম মুসলিম (২০৪-২৬১ হিঃ) একটিমাত্র হাদীছ এনেছেন। কিন্তু সেখানেও ইমাম মাহদীর নাম স্পষ্টভাবে আসেনি। অতঃপর তিনি মন্তব্য করেন যে, দূরতম কোন ব্যাখ্যা দ্বারা ইসলামের মধ্যে এমন কোন ধর্মীয় পদ সৃষ্টি করা সম্ভব নয়, যিনি মাহদী বলে পরিচিত হবেন এবং প্রত্যেক মুসলমানের জন্য তার উপরে ঈমান আনা ওয়াজিব হবে..’। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একথা বলাই যুক্তিযুক্ত হবে যে, ইসলামী আকায়েদের মধ্যে ‘মাহদী’ বিষয়ে কোন আক্কীদা নেই এবং আহলুন সুন্নাত বিদ্বানগণের কোন আকীদার বইয়ে উক্ত বিষয়ে কোন উল্লেখ নেই।

উপরোক্ত বক্তব্যের জবাব এই যে, ছহীহায়েনে স্পষ্টভাবে বর্ণিত না হওয়ায় তা গ্রহণযোগ্য নয়, একথা মোটেই ঠিক নয়। বরং ছহীহায়েন-এর বাইরে কোন হাদীছ ছহীহ-শুদ্ধভাবে প্রমাণিত হলে তা অবশ্যই কবুলযোগ্য এবং আকীদার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। ইবনুছ ছালাহ, ইবনু হাজার আসকালানী প্রমুখ বিদ্বানগণের রচিত সকল উছুলে হাদীছের কিতাবে এর প্রমাণ রয়েছে। ছহীহায়েনে নেই এমন ছহীহ হাদীছের উপরে মুসলিম উম্মাহর সম্মিলিত আকীদা গড়ে উঠেছে এরূপ উদাহরণের মধ্যে প্রধান প্রধান হ’ল- (১) কবরে সওয়াল- জওয়াবের জন্য মুনকার-নাকীর ফেরেশতাদ্বয়ের আগমন (২) স্ব স্ব জীবদ্দশায় জান্নাতের – সুসংবাদপ্রাপ্ত চার খলীফাসহ ১০ জন ছাহাবী, যারা ‘আশারায়ে মুবাশশারাহ’ নামে খ্যাত (৩) মুমিনদের রূহগুলি পাখিরূপে জান্নাতের বৃক্ষসমূহে ঝুলে থাকবে ও বিচরণ করবে। অতঃপর কিয়ামতের দিন স্ব স্ব ব্যক্তির দেহে ফিরে আসবে (৪) কবরের শান্তি অথবা শাস্তি (৫) আমল সমূহের ওযন হওয়া ইত্যাদি। এতদ্ব্যতীত ইসলামী শরীআতের অসংখ্য বিষয় এমন রয়েছে যা ছহীহায়েন-এর বাইরে অন্যান্য হাদীছ গ্রন্থে ছহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং মুসলিম উম্মাহ তার উপরে শুরু থেকে এযাবত আমল করে আসছে। অতএব হাদীছ ছহীহ’ হওয়াটাই মূল কথা। সেটি ছহীহায়েনে বর্ণিত হওয়াটা শর্ত নয়।

দ্বিতীয়তঃ মাহদী সংক্রান্ত হাদীছ ছহীহায়েনে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত না হলেও ছহীহ মুসলিমে হযরত জাবের ইবনু আব্দিল্লাহ (রাঃ) থেকে পরোক্ষভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং একই রাবী থেকে সুনানে বর্ণিত হাদীছে মাহদী’ নাম স্পষ্টভাবে এসেছে, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

তৃতীয়তঃ মাওলানা মওদূদীর দাবী অনুযায়ী মাহদীর আকীদা কোন দূরতম তাবীলের বিষয়ভুক্ত নয়, বরং এটি ছহীহ হাদীছ সমূহে স্পষ্টভাবে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ভবিষদ্বাণী হতে উদ্ভূত। আর প্রত্যেক মুসলমানের উপরে ওয়াজিব হ’ল রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) প্রদত্ত ভবিষ্যদ্বাণীর উপরে নিঃশংকচিত্তে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা। কেননা এগুলি গায়েবী বিষয় এবং তিনি আল্লাহর ‘ওয়াহী’ ব্যতীত কোন কথা বলেননি।

চতুর্থতঃ ইসলামী আকায়েদের মধ্যে মাহদীর কোন আকীদা নেই এবং আহলেসুন্নাত বিদ্বানগণের কেউ তাদের কিতাবে মাহদী’ বিষয়ক আক্বীদার কথা বলেননি- মাওলানার এ দাবী সঠিক নয়। কেননা আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের আক্বীদা হ’ল ছহীহ হাদীছের উপরে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা। চাই তেগুলি কারু লিখিত কোন বইয়ে উল্লেখ থাকুক বা না থাকুক। তাছাড়া ইমাম মুহাম্মাদ সাফারীনী (মৃঃ ১১৮৮ হিঃ) তাঁর الدرة المضية في عقد الفرقة المرضية নামক আক্বীদার উপরে লিখিত কাব্যপুস্তকে উল্লেখ করেছেন যে,

وما أتى بالنص من اشراط + فكله حق بلا شطاط

منها الامام الخاتم الفصيح + محمد المهدي والمسيح

দলীলের মাধ্যমে কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, সবকিছুই নিঃসন্দেহে সত্য। এগুলির মধ্যে রয়েছে সর্বশেষ ও শুদ্ধভাষী ইমাম মুহাম্মাদ আল-মাহদী এবং মাসীহ ঈসা (আঃ)’। অতঃপর তিনি তার لوامح الأنوار البهيمة  নামক বইয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করেন যে, কিয়ামতের আলামত সমূহের মধ্যে যে বিষয়ে অবিরত ধারায় হাদীছসমূহ বর্ণিত হয়েছে, তন্মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও প্রথম আলামত হ’ল ইমাম মাহদীর আগমন। তিনিই হবেন সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ নেতা, যেমন মুহাম্মাদ (ছাঃ) ছিলেন সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ রাসূল। উভয়ের নাম ও পিতার নাম একই হবে।… অতঃপর তিনি মাহদীর চেহারা, চরিত্র, আবির্ভাবের পূর্ব লক্ষণ, আবির্ভাব-পূর্ব সময়ের ফিত্না-ফাসাদ, জন্ম, বায়আত ও শাসনকালের উপরে মােট ৫টি ফায়েদা’ আলােচনা করেছেন। সবশেষে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, মাহদী সম্পর্কে অনেক কথা বলা হয়েছে। এমনকি একথাও বলা হয়েছে যে, ঈসা (আঃ) ব্যতীত কোন মাহদী নেই। অথচ সঠিক কথা ওটাই যার উপরে হকপন্থীগণ রয়েছেন। সেটি হল এই যে, মাহদী হলেন ঈসা (আঃ) ব্যতীত অন্যজন এবং তিনি ঈসা (আঃ)-এর আগমনের পূর্বে আবির্ভূত হবেন। তাঁর আবির্ভাব সম্পর্কে অগণিত হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, যা মর্মগত মুতাওয়াতির’ পর্যায়ে পৌছে গেছে এবং যা আহলেত বিদ্বানগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। অতঃপর লেখক অনেকগুলি হাদীছ ও আছার এবং বর্ণনাকারী ছাহাবী ও তাবেঈদের নাম উল্লেখ করার পর বলেন, যেগুলি সামগ্রিকভাবে অকাট্য জ্ঞান ( العلم القطعي) প্রদানে সহায়তা করে। অতএব মাহদীর আগমনের বিষয়ে ঈমান আনা ওয়াজিব (فالإيمان بخروج المهدي واجب)। এটি বিদ্বানগণের নিকটে প্রতিষ্ঠিত সত্য বিষয় এবং আহলেসুন্নাত ওয়াল জামা’আতের আকীদার গ্রন্থসমূহে লিপিবদ্ধ’।

মাহদীর আগমন সম্পর্কে অন্যান্য আহলেসুন্নাত বিদ্বানগণের আকীদা বিষয়ক কিতাবসমূহেও উল্লেখ রয়েছে। যেমন ইবনু হাজার মাক্কী, মোল্লা আলী কারী হানাফী, সা’দুদ্দীন তাফতানী প্রমুখ বিদ্বানগণ।

অবশ্য মাওলানা মওদূদী ‘মাহদী’ সংক্রান্ত হাদীছ গুলিকে মওযু বা জাল বলেননি। বরং তিনি বলেছেন যে, এগুলি ছহীহ বুখারীর মানে পৌঁছতে পারেনি। তিনি স্বীয় تجديد وإحياء دين বইয়ে তাঁর রায় মোতাবেক মুজাদ্দিদ বা সংস্কারকগণের তালিকার শুরুতেই ইমাম মাহদীর নাম এনেছেন, যিনি ভবিষ্যতে সমাজ সংস্কার করবেন। যদিও এই বইয়ের রচনাকাল ‘আল-বায়ানাত’ পুস্তকের রচনাকালের পূর্বেকার। সেকারণ তাঁর শেষের বক্তব্যটিই গ্রহণযোগ্য হবে। তবে এটা সর্বজন বিদিত যে, মাওলানা মওদূদী হাদীছশাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন না। অতএব মুহাদ্দিছ বিদ্বানগণের গৃহীত বিশুদ্ধ হাদীছসমূহের বিপরীতে তাঁর নিজস্ব মতামত গ্রহণযোগ্য নয়।

বিগত যুগের মনীষীদের মধ্যে ‘মাহদী’ বিষয়কে অস্বীকার বা ইতস্ততঃ করেছেন, এমন ব্যক্তিত্ব হিসাবে দু’জনকে পাওয়া যায়। একজন হলেন মরক্কোর ঐতিহাসিক আবদুর রহমান ইবনু খালদুন আল-মাগরেবী (৭৩২-৮০৮ হিঃ) এবং অন্যজন হলেন আবু মুহাম্মাদ ইবনুল ওয়ালীদ আল-বাগদাদী। এরা সবাই ইবনু মাজাহ বর্ণিত যঈফ হাদীছটিকে ভিত্তি হিসাবে ধরেছেন। যেখানে বলা হয়েছে ‘ঈসা ইবনু মারিয়াম ব্যতীত কোন মাহদী নেই’। এ হাদীছকে যদি ছহীহও ধরা হয়, তবে তার অর্থ হবে ‘পূর্ণাঙ্গ মাহদী নেই ঈসা ইবনু মারিয়াম ব্যতীত। ইতিপূর্বে এবিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

আধুনিক যুগে উক্ত আক্বীদার অনুসারী বিদ্বানগণের মধ্যে মাওলানা মওদূদী ছাড়াও রয়েছেন মিসরের খ্যাতনামা মুফাসসির সৈয়দ রশীদ রিযা (১২৮২-১৫৪ হিঃ/১৮৬৫-১৯৩৫ খৃঃ), মুফতী মুহাম্মাদ আবদুহু (১৮৪৯-১৯০৫ খৃঃ), মুহাম্মাদ ফরীদ বেজদী (১৮৭৫-১৯৫৪ খৃঃ), শায়খ বালাগী, মুহাম্মাদ ইবনু মানে, ডঃ আহমাদ আমীন (১৮৭৮-১৯৫৪ খৃঃ), আবদুল্লাহ বিন মাহমুদ প্রমুখ বিদ্বানগণ। এঁদের মধ্যে সৈয়দ রশীদ রিযা কেবল মাহদী নয়, তিনি ঈসা (আঃ)-এর উর্দ্ধারোহন ও অবতরণ বা দাজ্জালের হত্যাকাণ্ড কোনটাতেই বিশ্বাস করেন না। মুহাম্মাদ ফরীদ বেজদী ‘মাহদী’ তো বটেই, ছহীহায়েনে বর্ণিত দাজ্জালের হাদীছ সমূহকেও মওযূ বা জাল বলেন (ঐ, দায়েরাতুল মাআরেফ ৮/৭৮৮ পৃঃ)। ডঃ আহমাদ আমীন মাহদীর আকীদাকে শী’আদের আক্বীদা হতে অনুপ্রবিষ্ট বলেন এবং এর পিছনে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় স্বার্থ জড়িত আছে বলে মনে করেন ও এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীছসমূহকে জাল (خرافة) বলেন (দুহাল ইসলাম ৩/২৪১-২৪৩)। আব্দুল্লাহ বিন মাহমূদ তো ওঁদের অন্ধ অনুসারী বৈ কিছুই নন। অতএব তিনি যে এ বিষয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক।

পরিশেষে আমরা প্রতিশ্রুত ‘মাহদীসম্পর্কে দুজন বিদগ্ধ মনীষীর বক্তব্য উল্লেখ করে আলোচনা ইতি টানব।

(১) সুনানে আবুদাউদ-এর ভাষ্যকার শামসুল হক আযীমাবাদী (১২৭৩-১৩২৯ হিঃ) স্বীয় ভাষ্যগ্রন্থ আওনুল মা’বুদ-এর মধ্যে বলেন, বিদ্বানগণের অনেকেই মাহদী সংক্রান্ত হাদীছসমূহ জমা করেছেন। তন্মধ্যে রয়েছেন আবুদাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, বাযযার, হাকেম, হ্বাবারাণী, আবু ইয়ালা মুছেলী প্রমুখ এবং তারা এগুলি বর্ণনা করেছেন একদল ছাহাবী থেকে। যেমন আলী, ইবনু আব্বাস, ইবনু ওমর, জ্বালহা, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবু হুরায়রাহ, আনাস, আবু সাঈদ খুদরী, উম্মে হাবীবাহ, উম্মে সালামাহ, ছাওবান, কুররাহ বিন আয়াস, আলী আল-হিলালী, আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিছ বিন জুয প্রমুখ। এই সকল সনদগুলির মধ্যে ছহীহ, হাসান, যঈফ সব ধরনের সনদ রয়েছে। তবে ঐতিহাসিক আবদুর রহমান ইবনু খালদূন স্বীয় ইতিহাস গ্রন্থে মাহদী বিষয়ক হাদীছ সমূহকে ‘যঈফ’ গণ্য করে বাড়াবাড়ি করেছেন। এটা তিনি ঠিক করেননি। বরং ভুল করেছেন।[18]

(২) মুহাম্মাদ বশীর সাহসোয়ানী (মৃঃ ১৩২৬ হিঃ) স্বীয় ‘ছিয়ানাতুল ইনসান’ কিতাবে বলেন, ছাহাবীগণের যুগ শেষে উম্মতের উপরে ওয়াদাকৃত দুর্ঘটনা ও বিদ‘আতসমূহের উদ্ভব ঘটে। আর যখনই একটি বিদআতের উৎপত্তি ঘটেছে, তখনই অনুরূপ পরিমাণে সুন্নাত সেখান থেকে উঠে গেছে। কিন্তু তাবেঈ ও তাবে তাবেঈগণের যুগে ব্যাপকহারে বিদ’আতের প্রসার ঘটেনি। অতঃপর তাবে তাবেঈগণের পরের যুগে অবস্থার চরম পরিবর্তন ঘটে। সর্বত্র বিদআতের জয়জয়কার ঘটে এবং সুন্নাত দুর্লভ হয়ে যায়। লোকেরা তখন বিদআতকে সুন্নাত এবং সুন্নাতকে বিদআত মনে করতে থাকে। এইভাবে আগামী দিনে সুন্নাত সমূহ দুর্লভই থাকবে, যতদিন না মাহদী ও ঈসা (আঃ)-এর যামানা আসবে। অতঃপর দুষ্ট লোকেদের উপরে কিয়ামত সংঘটিত হবে।

বলাবাহুল্য যোগ্য ও মুত্তাকী আলেমের এই তীব্র অভাবের যুগে দুষ্টমতি কিছু নামধারী আলেম ও সমাজ নেতাদের মাধ্যমে সর্বত্র শিরক ও বিদআতের জয়জয়কার চলছে। দ্বীনে হক্ব-এর উজ্জ্বল জ্যোতি বাতিলের অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে। তাই প্রতিশ্রুত মাহদী ও ঈসা (আঃ)-এর শুভাগমনের বুকভরা আশা নিয়ে তাদের অনুসরণীয় শরী’আতে মুহাম্মাদীর উপরে যেকোন মূল্যে টিকে থাকা ও তার প্রচার-প্রসারে জান-মাল, সময় ও শ্রম ব্যয় করা জান্নাত পিয়াসী প্রত্যেক মুমিন নর-নারীর জন্য একান্ত কর্তব্য বলে মনে করি। আল্লাহ আমাদের সহায় হৌন! আমীন!!

{প্রবন্ধের অধিকাংশ তথ্য মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল মুহসিন বিন হামাদ আল-আব্বাদ-এর الرد على من كذب بالأحاديث الصحيحة الواردة في المهدي و يليله عقيدة أهل السنة و الأثر في المهدي المنتظر নামক বই (১ম সংস্করণ ১৪০২ হিঃ মোট পৃঃ ২২২) হতে গৃহীত। আল্লাহ তাঁকে উত্তম জাযা দান করুন। আমীন! -লেখক।}

তথ্যসূত্র:

[1] আবুদাউদ, সনদ হাসান; ছহীহ আবুদাউদ হা/৩৬০৪ ‘মাহদী’ অধ্যায়; আলবানী-মিশকাত হা/৫৪৫৪; বঙ্গানুবাদ মিশকাত-আফলাতুন হা/৫২২০, ‘ফিৎনা সমূহ অধ্যায় ‘কিয়ামতের পূর্ব লক্ষণ সমূহ’ অনুচ্ছেদ।

[2] ইবনে মাজাহ হা/৪০৩৯ফিতনা সমুহঅধ্যায়, ‘দুরুহকালঅনুচ্ছেদ নং ২৪; ইবনু কাছীর, আননিহায়াহ ফিল ফিতান ওয়াল মালাহিম (বৈরুতঃ ১৪১১/১৯৯১) পৃঃ ২৭; সিলাসিলা যঈফাহ হা/৭৭

[3] বায়হাকী, মিশকাত হা/৩৫ সনদ হাসান।

[4] মুসলিম, মিশকাত হা/৫৪৭৫ হা/৫৫১৯-২০ ফিতনা সমূহ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ : ৭।

[5] মুত্তাফাক আলাইহ, মিশকাত হা/৫৯৭৪ ‘মর্যাদা সমূহ’ অধ্যায়; মুসলিম হা/১৮২১ ইমারত অধ্যায় হা/৬।

[6] মিরকাত ১০/১৭৪, ‘কিয়ামতের পূর্ব লক্ষণ সমূহ’ অধ্যায়।

[7] আওনুল মাবুদ শরহে সুনানে আবুদাঊদ হা/৪২৬৯ মাহদী’ অধ্যায় ১১/৩৮২ (কায়রোঃ মাকতাবা ইবনে তায়মিয়াহ ৩য় সংস্করণ ১৪০৭/১৯৮৭।

[8] বুখারী হা/৩৪৪৯, নবীদের বর্ণনা অধ্যায়, ঈসা ইবনু মারিয়ামের অবতরণঅনুচ্ছেদ; মুসলিম হা/২৪৪ ঈমান অধ্যায়; মিশকাত হা/৫৫০৬, “ফিতনা সমূহঅধ্যায়।

[9] মুসলিম হা/২৪৬ ঈমান অধ্যায় ঈসার অবতরণ হবে শাসক হিসাবে’ অনুচ্ছেদ নং ৭১; , (দিল্লী ছাপা) ১৮৭ পৃঃ।

[10] মুসলিম হা/২৪৭ ঈমান অধ্যায়, অনুচ্ছেদ নং ৭১; ঐ, মিশকাত হা/৫৫০৭, ফি সমূহ অধ্যায়, ‘ঈসা (আঃ)-এর অবতরণ’ অনুচ্ছেদ।

[11] তিরমিযী হা/২৩৪৫; ছহীহ তিরমিযী হা/১৮১৮; আবুদাউদ হা/৪২৮২; হহীহ আবুদাউদ হা/৩৬০১; মিশকাত-আলবানী হা/৫৪৫২ সনদ হাসান; বঙ্গানুবাদ মিশকাত-আফলাতুন হা/৫২১৮ ফিৎনা সমূহ অধ্যায়, কিয়ামতের নিদর্শন সমূহঅনুচ্ছেদ ১০/৩৯ পৃঃ।

[12] আবুদাউদ হা/৪২৮৪; সনদ জাইয়িদ বা উত্তম; ছহীহ আবুদাউদ হা/৬০৩ ‘মাহদীঅধ্যায়; ইবনু মাজাহ হা/৪০৮৬ “ফিৎনা সমূহ” অধ্যায় ৩৪ অনুচ্ছেদ; ছহীহ ইবনু মাজাহ হা/৩০১; মিশকাত হা/৫৪৫৩; ঐ বঙ্গানুবাদ হা/৫২১৯।

[13] আবুদাউদ হা/৪২৮৫, সনদ হাসান, ছহীহ আবুদাউদ হা/৩৬০৪; মিশকাত হা/৫৪৫৪; ঐ, বঙ্গানুবাদ হা/৫২২০।

[14] ইবনু মাজাহ হা/৪০৮৪ “ফিতনা সমূহ” অধ্যায়, “মাহদীর আবির্ভাব” অনুচ্ছেদ, সনদ ছহীহ-যাওযায়েদ।

[15] ইবনু কাছীর, আন-নিহায়াই ফী কিতাবিল ফিতান ওয়াল মালাহিম পৃঃ ২৬।

[16] ত্ববারাণী আওসাত্ব, হায়ছামী বলেন, বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত। একই মর্মে আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) প্রমুখাৎ ইবনু মাজাহতে বর্ণিত হয়েছে হা/৪০৮৩, ছহীহ ইবনু মাজাহ হা/৩২৯৯, ‘মাহদীর আবির্ভাব’ অনুচ্ছেদ।

[17] তিরমিযী হা/২৩৪৭; ছহীহ তিরমিযী হা/১৮২০ ‘মাহদী’ বিষয়ক অনুচ্ছেদ; মিশকাত হা/৫৪৫৫; ঐ বঙ্গানুবাদ হা/৫২২১; ইবনু কাছীর, আন-নিহায়াহ ফিল ফিতান পৃঃ ২৭।

[18] আওনুল মাবুদ শরহে সুনানে আবুদাউদ  ‘মাহদীঅধ্যায়ের শুরু ১১/৩৬১।

পুরো লিখাটি সংগ্রহ করা হয়েছে “মাসিক আত-তাহরীক”, ডিসেম্বর-২০০৩ সংখ্যা থেকে। 

মতামত দিন

কমেন্ট