ভ্রান্ত মতবাদ

হিউম্যানিজম : নতুন দ্বীনের উদ্ভব

উম্মাহ আজ হাজার রকমের ফিতনাহ-তে জর্জরিত! তার মধ্যে সবচাইতে বড় ফিতনাহ হলো সেইগুলো যেগুলোর কারনে মুসলিমরা আজ দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে! উম্মাহর এই শোচনীয় অবস্থা দেখে মাঝে মধ্যে হতাশ হয়ে পড়ি!

এরকমই এক ফিতনাহ-র নাম হিউম্যানিজম, বা মানবতাবাদ, বা মানবধর্ম। যা মুসলিমদেরকে আজ নাস্তিকতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে! এটা ইসলামের বিপরীতে এক নতুন মতাদর্শ, নতুন চিন্তাধারা, এক নতুন দ্বীন! আধুনিক উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞানমনস্কতা, আর যুক্তিবাদী চিন্তাভাবনার ফলে অমুসলিমদের সাথে সাথে মুসলিমদের মধ্যে থেকেও অনেকে এই চিন্তাধারায় প্রভাবিত হচ্ছে। আপাতভাবে নামটা বেশ সুন্দরঃ মানবতাবাদ। এটা মানবতা, humanity, human values এগুলো নিয়ে কথা বলে, মানুষকে ভালোবাসার কথা বলে, মানুষের মধ্যে সাম্যের কথা বলে। শব্দগুলো প্রাথমিকভাবে যে কারো চিন্তাজগতে শিহরণ তোলার মতো! খুব সহজেই হৃদয়কে নাড়া দেওয়ার মতো! কিন্তু এগুলো আসলে মনমুগ্ধকর কিছু কথার ফুলঝুরি ছাড়া কিছুই না! ভেতরটা অন্তঃসারশূন্য!

কেনো এই হিউম্যানিজম শিরক? কেনো এটা স্বতন্ত্র একটা দ্বীন? কারন হিউম্যানিজম নামক দ্বীনের রব হলো মানুষের বিবেক (human intellect)। মানুষের বিবেক এখানে সবকিছুর মাপকাঠি। কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল, কোনটা ন্যায়, কোনটা অন্যায় – এগুলো সবকিছু নির্ধারিত হবে মানুষের বিবেকের ভিত্তিতে। বিবেক-ই এখানে বিধানদাতা, আইনপ্রণেতা। কিন্তু ইসলাম নামক দ্বীনের রব হচ্ছেন কেবলমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা। আর তিনিই একমাত্র বিধান (legislation) দেওয়ার মালিক। “বিধান দেওয়ার অধিকার কেবলমাত্র আল্লাহরই।” (১২:৪০)

দুঃখের বিষয় যে, আমাদের ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে হয়তো এরকম একাধিক মুসলিম (?) বন্ধুর নাম পাওয়া যাবে যারা নিজেদের info তে Religious view এর জায়গায় Humanism লিখেছে। জানিনা তারা ইসলামের মধ্যে কী এমন খারাপ দেখলো যে এটাকে নিজের দ্বীন হিসেবে পৃথিবীর সামনে পরিচয় দিতে লজ্জিত? আর হিউম্যানিজমের মধ্যে তারা কী এমন মানবতা আর human values দেখতে পেলো যা ইসলামে ছিলো না, কিংবা ইসলামে ঘাটতি পড়ে গেছিলো?

যারা ইসলামের পরিবর্তে হিউম্যানিজমকে নিজেদের দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করেছে তাদের জেনে রাখা উচিতঃ

“যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন অন্বেষণ করবে, তা কখনোই তার নিকট হতে গৃহীত হবে না! এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে (অর্থাৎ চিরকালের জন্য জাহান্নামের অধিবাসী হবে)!” (কুরআন ৩:৮৫)

আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলকে এই ফিতনাহ গুলো থেকে হিফাজত করুন।

Source

মতামত দিন