কুরআন

কুরআন হিফয করার সবচে’ সহজ পদ্ধতি

কুরআনে কারিম হিফয করা এটা প্রত্যেকের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ। আগ্রহী ব্যক্তিরা তা হিফয করার জন্যে প্রতিযোগিতা করে। কারণ, এটা আল্লহর কালাম, কেয়ামতের দিন তা বক্ষে ধারণকারীর জন্যে সুপারিশ করবে। এই ফজিলত ও মর্যাদা অর্জনের জন্যে কুরআন হিফয করার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। আপনার সামনে একটি সহজ পদ্ধতি পেশ করছি; যা দ্রুত হিফযকরণ, হিফযটা পাকাপোক্ত ও পরিপক্ব হওয়া- এই তিনো বৈশিষ্ট্যে পূর্ণ। সুরা জুমআর একটি পৃষ্ঠা থেকে উদাহরণ দিয়ে এই পদ্ধতিটি নিম্নে উল্লেখ করছি-

১- প্রথম আয়াতটি ২০ বার মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করুন-

يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ (١)

২- দ্বিতীয় আয়াতটি ২০ বার মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করুন-

هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ (٢)

৩- তৃতীয় আয়াতটি ২০ বার মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করুন-

(٣) وَآخَرِينَ مِنْهُمْ لَمَّا يَلْحَقُوا بِهِمْ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

৪- চতুর্থ আয়াতটি ২০ বার মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করুন-

ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ (٤)

৫- এই চারো আয়াত শুরু থকে শেষ পর্যন্ত একই সাথে ২০ বার মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করুন, যাতে এগুলোর মাঝে একটা সংযোগ থাকে।

৬- পঞ্চম আয়াতটি ২০ বার মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করুন-

مَثَلُ الَّذِينَ حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا بِئْسَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِ اللَّهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ (٥)

৭- ষষ্ঠ আয়াতটি ২০ বার মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করুন-

قُلْ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ هَادُوا إِنْ زَعَمْتُمْ أَنَّكُمْ أَوْلِيَاءُ لِلَّهِ مِنْ دُونِ النَّاسِ فَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (٦)

৮- সপ্তম আয়াতটি ২০ বার মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করুন-

وَلَا يَتَمَنَّوْنَهُ أَبَدًا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ (٧)

৯- অষ্টম আয়াতটি ২০ বার মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করুন-

قُلْ إِنَّ الْمَوْتَ الَّذِي تَفِرُّونَ مِنْهُ فَإِنَّهُ مُلَاقِيكُمْ ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَى عَالِمِ الْغَيْبِ (٨) تَعْمَلُونَ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ َ

১০- পঞ্চম আয়াত থেকে অষ্টম আয়াত পর্যন্ত একই সাথে ২০ বার মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করুন, যাতে এগুলোর মাঝে একটা সংযোগ থাকে।

১১- এবার প্রথম আয়াত থেকে অষ্টম আয়াত পর্যন্ত একই সাথে ২০ বার মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করুন, যাতে এই পৃষ্ঠাটি পরিপক্বতার সাথে আয়ত্তে এসে যায়। এভাবে পুরো কুরআনের প্রতিটি পৃষ্ঠা হিফয করার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অবলম্বন করুন। এক দিনে আট আয়াত বা এক পৃষ্ঠার চেয়ে বেশি হিফয করবেন না। কারণ, এতে হিফযকৃত অংশ অতিরিক্ত হওয়ায় ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরবর্তী দিন নতুন পৃষ্ঠা হিফয করার পদ্ধতি:

পরবর্তী দিন আপনি যদি অন্য একটি পৃষ্ঠা হিফয করার ইচ্ছা করেন, তাহলে উল্লিখিত পদ্ধতিতে নতুন পৃষ্ঠা হিফয করার আগে পূর্ববর্তী পৃষ্ঠাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ২০ বার মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করুন। যাতে পূর্ববর্তী পৃষ্ঠাটির হিফয পাকাপোক্ত হয়। তারপর নতুন পৃষ্ঠাটি উল্লিখিত পদ্ধতিতে হিফয করুন।

হিফয ও পুনরাবৃত্তির মাঝে সমন্বয়ের পদ্ধতি:

পুনরাবৃত্তি ছাড়া হিফয পরিপক্ব হয় না। যিনি পুনরাবৃত্তি ছাড়া পুরো কুরআন হিফয করেছেন, তিনি যদি তার হিফযকৃত পৃষ্ঠাগুলোর দিকে ফিরে তাকান তাহলে দেখতে পাবেন, তিনি যা হিফয করেছেন তা ভুলে গেছেন। নিম্নে হিফয ও পুনরাবৃত্তির মাঝে সমন্বয়ের কিছু পদ্ধতি উল্লেখ করা হল। এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করুন-

১- প্রত্যেক দশ পারাকে এক ভাগ করে পুরো কুরআনকে তিন ভাগ করুন। প্রথম ভাগ সুরা নাস থেকে সুরা আনকাবুত পর্যন্ত। দ্বিতীয় ভাগ সুরা কাসাস থেকে সুরা ইউনুস পর্যন্ত। তৃতীয় ভাগ সুরা তাওবা থেকে সুরা বাকারা পর্যন্ত।

২- আপনি যদি দিনে এক পৃষ্ঠা বা দুই পৃষ্ঠা হিফয করেন, তাহলে দশ পারা মুখস্থ করা পর্যন্ত প্রতিদিন চার পৃষ্ঠা পুনরাবৃত্তি করুন। যখন সুরা নাস থেকে সুরা আনকাবুত পর্যন্ত এই প্রথম ভাগ মুখস্থ করা শেষ হবে, তখন সেগুলো পুনরাবৃত্তির জন্য পূর্ণ এক মাস রাখুন। এ সময় প্রতিদিন আট পৃষ্ঠা করে মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করবেন।

৩- এক মাস পুনরাবৃত্তির পর সামর্থ্য অনুযায়ী এক বা দুই পৃষ্ঠা করে বাকিগুলোর হিফয চালিয়ে যান। পাশাপাশি সুরা নাস থেকে সুরা আনকাবুত পর্যন্ত এই প্রথম ভাগ থেকে দৈনিক আট পৃষ্ঠা করে মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করুন। সুরা কাসাস থেকে সুরা ইউনুস এই দ্বিতীয় ভাগ মুখস্থ করা শেষ হওয়া পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত রাখুন।

৪- যখন দ্বিতীয় ভাগ পুরো মুখস্থ করা শেষ করবেন, তখন সুরা নাস থেকে সুরা ইউনুস পর্যন্ত এই বিশ পারা পুনরাবৃত্তির জন্যে দুই মাস রাখুন। এ সময় প্রতিদিন আট পৃষ্ঠা করে মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করুন।

৫- দুই মাস পুনরাবৃত্তিতে অতিবাহিত হলে সুরা তাওবা থেকে সুরা বাকারা পর্যন্ত এই তৃতীয় ভাগ হিফয করা শুরু করুন। সামর্থ্য অনুযায়ী এক বা দুই পৃষ্ঠা করে প্রতিদিন হিফয করুন। পাশাপাশি সুরা নাস থেকে সুরা ইউনুস পর্যন্ত এই অংশ থেকে আট পৃষ্ঠা করে মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করুন। এই ধারা পুরো কুরআন হিফয শেষ করা পর্যন্ত অব্যাহত রাখুন।

৬- পুরো কুরআন হিফয করা শেষ করলে, সুরা নাস থেকে সুরা আনকাবুত পর্যন্ত এই প্রথম ভাগ এক মাসে প্রতিদিন আধা পারা করে মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করুন।

৭- তারপর সুরা কাসাস থেকে সুরা ইউনুস এই দ্বিতীয় ভাগ এক মাসে প্রতিদিন আধা পারা করে মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করুন। এর পাশাপাশি সুরা নাস থেকে সুরা আনকাবুত পর্যন্ত এই প্রথম ভাগ থেকে দৈনিক আট পৃষ্ঠা করে মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করুন।

৮- এবার সুরা তাওবা থেকে সুরা বাকারা পর্যন্ত এই তৃতীয় ভাগ এক মাসে প্রতিদিন আধা পারা করে মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করুন। পাশাপাশি সুরা নাস থেকে সুরা ইউনুস পর্যন্ত এই অংশ থেকে দৈনিক এক পারা করে মুখস্থ পুনরাবৃত্তি করুন।

এরূপ পুনরাবৃত্তির পর পূর্ণ কুরআন পুনরাবৃত্তির পদ্ধতি:

আবার পূর্ণ কুরআন পুনরাবৃত্তি শুরু করুন। আর এর পদ্ধতি হল- দৈনিক দুই পারা করে পড়ুন এবং তা তিনবার পুনরাবৃত্তি করুন। এভাবে দুই সপ্তাহে পূর্ণ কুরআন পুনরাবৃত্তি করা সমাপ্ত হবে। এ পদ্ধতি এক বছর অবলম্বন করুন। এর মাধ্যমে এক বছরেই আপনার পূর্ণ কুরআন পরিপক্কতার সাথে হিফয হয়ে যাবে।

কুরআন হিফযের এই এক বছর পর করণীয়:

পরিপক্কতার সাথে কুরআন হিফয ও পুনরাবৃত্তির পর সাহাবাদের কুরআন খতমের মতো দৈনিক কুরআন খতমের একটি অংশ যেন মৃত্যু পর্যন্ত আপনার পাঠের অন্তর্ভুক্ত থাকে। সাহাবারা সাত দিনে কুরআন খতম করতেন। আউস ইবনে হুজায়ফা রা বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসসাল্লামের সাহাবাদের জিজ্ঞেস করলাম, তোমরা কিভাবে কুরআন খতম কর? তাঁরা বলেন, তিন সূরা, পাঁচ সূরা, সাত সূরা, নয় সূরা, এগার সূরা, তের সূরা তারপর সূরা কাফ থেকে শেষ পর্যন্ত। (আমদ)

অর্থাৎ-

-প্রথম দিন সূরা ফাতেহা থেকে সূরা নিসা পর্যন্ত।

-দ্বিতীয় দিন সূরা মায়েদা থেকে সূরা তাওবা পর্যন্ত।

-তৃতীয় দিন সূরা ইউনুস থেকে সূরা নাহল পর্যন্ত।

-চতুর্থ দিন সূরা ইসরা থেকে সূরা ফুরকান পর্যন্ত।

-পঞ্চম দিন সূরা শুআরা থেকে সূরা ইয়াসিন পর্যন্ত।

-ষষ্ট দিন সূরা সাফফাত থেকে সূরা হুজরাত পর্যন্ত।

-সপ্তম দিন সূরা কাফ থেকে সূরা নাস পর্যন্ত।

সাহাবাদের কুরআন খতমের এই ধারাকে আলেমগণ এক কথায় একত্রিত করেছেন। তা হল, (فمي بشوق)

এই দু’টি শব্দের প্রত্যেকটি হরফই সাহাবাদের প্রতিদিনের কুরআন খতমের ধারার শুভ সূচনা। অর্থাৎ (فمي) শব্দে যে ‘ফা’ রয়েছে তা সূরা ফাতেহার দিকে ইঙ্গিত করছে। সাহাবারা প্রথম দিন এই সূরা দিয়ে শুরু করেন। এই শব্দে ‘মিম’টা সূরা মায়েদার দিকে ইঙ্গিত করছে। সাহাবারা দ্বিতীয় দিন এই সূরা দিয়ে শুরু করেন। আর ‘ইয়া’টা এখানে সূরা ইউনুসের দিকে ইঙ্গিত করছে। তৃতীয় দিন সাহাবারা এই সূরা দিয়েই শুভ সূচনা করেন। আর (بشوق) শব্দে যে ‘বা’ আছে তা দ্বারা সূরা বনি ইসরাইলের দিকে ইঙ্গিত করছে, এটাকে ‘সূরা ইসরা’ও বলা হয়। চতুর্থ দিন সাহাবারা এই সূরা দিয়ে শুরু করেন। এতে যে ‘শিন’ আছে তা সূরা ‘শু’আরা’র দিকে ইঙ্গিত করছে। পঞ্চম দিন সাহাবারা এই সূরা দিয়ে শুরু করেন। ‘ওয়াও’টি ‘সূরা ওয়াস সাফফাতে’র দিকে ইঙ্গিত করছে। ষষ্ঠ দিন সাহাবারা এই সূরা দিয়ে শুরু করেন। আর ‘কাফ’টি ‘সূরা কাফে’র দিকে ইঙ্গিত করছে। সপ্তম দিন সাহাবারা এই সূরা দিয়ে শুরু করে ‘সূরা নাসে’র শেষ পর্যন্ত পৌঁছেন। কুরআনের বর্তমান হিযব বা মানজিল হাজ্জাজ বিন ইউসুফের তৈরি।

কুরআনের মুতাশাবিহ বা সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতগুলো যেভাবে পার্থক্য করবেন

দুটি আয়াত যদি আপনার কাছে সাদৃশ্যপূর্ণ মনে হয়, তাহলে কুরআন খুলে উভয় আয়তের পার্থক্য মনোযোগ সহকারে দেখে নিন এবং একটি চিহ্ন দিয়ে রাখুন। পুনরাবৃত্তির সময় এই চিহ্ন আপনি বারবার নিবিষ্ট চিত্তে দেখবেন। এর মাধ্যমে উভয় আয়াতের সাদৃশ্যটা আপনি নিশ্চিতরূপে জানতে পারবেন।

কুরআন হিফযের কিছু নিয়ম-নীতি

১. তেলাওয়াত শুদ্ধ করার জন্য একজন উস্তাদের কাছে হিফয করা আবশ্যক।

২. প্রতিদিন দুই পৃষ্ঠা হিফয করুন। এক পৃষ্ঠা ফজরের পর। অপর পৃষ্ঠা আছরের পর বা মাগরিবের পর। এভাবে এক বছরে পুরো কুরআন যথাযথভাবে হিফয করতে পারবেন। এতে আপনার হিফয শক্তিশালী হবে। আর আপনি যদি দুই পৃষ্ঠার চেয়ে বেশি হিফয করেন, তাহলে আপনি যা হিফয করেছেন তা দুর্বল হয়ে পড়বে।

৩. হিফয শুরু হবে সূরা নাস থেকে, শেষ হবে বাকারা দিয়ে। কেননা এই পদ্ধতিটিই সহজ। পুরো কুরআন হিফজের পর আপনার পুনরাবৃত্তি হবে সূরা বাকারা থেকে শুরু করে সূরা নাস পর্যন্ত।

৪. একটি নির্দিষ্ট কুরআনের কপি থেকেই আপনি হিফয করবেন। হিফযের পরিপক্কতা এবং আয়াতের স্থান, পৃষ্ঠার শুরু-শেষ দ্রুত স্মরণে রাখার ক্ষেত্রে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৫. যারা হিফয করে তাদের প্রথম দুই বছর যা হিফয করেছে তা ছুটে যায়। এটা হল পূর্ণ মনোযোগ অর্পন করার স্তর। সুতরাং হিফয ছুটে যাওয়া বা অত্যধিক ভুল করার কারণে চিন্তিত হওয়ার দরকার নেই। আর এটা হল কঠিন একটা স্তর যাতে শয়তান কুরআনের হিফজ থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। আপনি শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্ত হোন এবং কুরআন হিফজ চালিয়ে যান। এটা এমন এক সম্পদ যা যে কাউকেই দান করা হয় না।

-শাইখ আবদুল মুহসিন আল কাসিম

ইমাম ও খতিব: মসজিদে নববী

অনুবাদ: সাঈদ হোসাইন

সূত্র

মতামত দিন