জীবন দর্শন

মনকে কিভাবে শান্ত রাখবো এই পরিস্থিতিতে?

প্রশ্ন: বর্তমান পরিস্থিতিতে খুব বেশি টেনশন হচ্ছে। শান্ত থাকা কঠিন মনে হচ্ছে। কী হবে জানি না। এমন পরিস্থিতিতে দয়া করে মনকে শান্ত রাখার উপায়গুলো বলবেন। আর আমাদের এ সময়গুলোকে কিভাবে কাজে লাগাতে পারি সে বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিবেন আশা করি। জাযাকাল্লাহু খায়রান।

উত্তর:

وأنتم فجزاكم الله خيرا …الحمد لله والصلاه والسلام على رسول الله أما بعد:

আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, মুমিন জীবনে বিষন্নতা, হতাশা এবং অস্থিরতার কোনো স্থান নেই। সর্বাবস্থায় সে হবে আল্লাহর প্রতি আস্থাশীল এবং তার লিখিত তাকদীরের প্রতি বিশ্বাসী। কেননা মুমিনগণ বিশ্বাস করে, মহান আল্লাহর লিখিত তাকদীরের বাইরে পৃথিবীতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কোন ঘটনা ঘটে না এবং তার জ্ঞানের বাইরে একটি গাছের পাতাও পড়ে না। এই বিশ্বাস আমাদের মনকে প্রশান্ত রাখতে এবং হতাশা, অস্থিরতা, বিষন্নতা ইত্যাদি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

আরেকটি বিষয় হলো, মুমিনের জীবনে যা কিছু ঘটুক -চাই তা ভালো হোক অথবা মন্দ হোক- প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার জন্য রয়েছে অবারিত কল্যাণের বার্তা এবং শুভ সংবাদ। আর তা হল, সে কোন রোগ-ব্যাধি, সমস্যা-সংকট ও বিপদাপদে পতিত হলে, আল্লাহ তা’আলা এর মাধ্যমে তার মর্যাদা উন্নীত করেন এবং পাপ-পঙ্কিলতা থেকে তাকে পরিশুদ্ধ করেন।

বিশেষ করে হাদিস থেকে জানা যায় যছ, মহামারী ঈমানদারের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত প্রাপ্তি এবং শাহাদাত এর মর্যাদা লাভের কারণ । সুবহানাল্লাহ!

যাহোক, এ পর্যায়ে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের মানসিক চাপ কমানো, মনকে শান্ত রাখা এবং সময়কে কাজে লাগানোর দশটি উপায় তুলে ধরা হলো:

১) সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রতি সুদৃঢ় আস্থা এবং তাকদীরের প্রতি অবিচল বিশ্বাস রাখুন। বিশ্বাস করুন, মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা ও মহান অধিপতি আল্লাহ তাআলা সবকিছু দেখছেন এবং নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার ফয়সালা ও জ্ঞানের বাইরে এ বিশ্বচরাচরে কোন কিছুই ঘটে না।

২) মন শক্ত রাখুন। দুশ্চিন্তা করবেন না। অস্থির হবে না। কেননা এতে মনোবল ভেঙে যায়। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

৩) বেশি বেশি ইস্তেগফার করুন এবং দুআ, তসবিহ, তাহলীল ও জিকির-আজকারে জিহ্বা সচল রাখুন। সকাল সন্ধ্যার অজিফা গুলো পাঠ করুন। বিশেষ করে রোগ-ব্যাধি ও মহামারী-সংক্রান্ত দোয়াগুলো পাঠ করুন।

৪) দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা থেকে মুক্তির জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি বেশী বেশী দুরুদ পাঠ করুন। (একটি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল)

৫) পাঁচ ওয়াক্ত সালাত সময় মত ঘরেই আদায় করুন। পরিবারের লোকজনের সাথে জামাতে সালাত আদায় করার চেষ্টা করুন।

৬) এই ট্রাজেডিকে জীবনের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে গ্রহণ করুন। অর্থাৎ লাইফ স্টাইল পরিবর্তন করে বাকি জীবন আল্লাহর পথে পরিচালিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।

৭) হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা কালীন অবসর সময়কে পরিকল্পনা মাফিক কাজে লাগান। যেমন: কুরআন মুখস্থ, কুরআনের তাফসির পাঠ, দোয়া মুখস্থ, হাদিস পাঠ, ভালো আলেমদের লিখিত বই পড়া, ইউটিউব বা ইন্টারনেট থেকে প্রয়োজনীয় কোন কোর্স করা, নতুন কোন কিছু শেখা। পাশাপাশি স্ত্রীর কাজে সাহায্য করুন এবং পরিবার ও সন্তানদেরকে ভালো কিছু শেখান বা দীনি তারবিয়াত (প্রশিক্ষণ) দিন।

৮) সুশৃংখল জীবন যাপন করুন। অর্থাৎ পরিমিত পুষ্টিকর খাওয়া, যথাসময়ে ঘুমানো, শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম ইত্যাদির প্রতি যত্নশীল হোন।

৯) নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য নিন। গুজবে কান দেবেন না। কেননা অনির্ভরযোগ্য উৎস থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও পরিসংখ্যান শুনে মনের মধ্যে অতিরিক্ত ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি হবে।

১০) দরিদ্র ও অসচ্ছল লোকদের খোঁজখবর রাখুন এবং যথাসাধ্য তাদেরকে সাহায্য করুন।

১১) আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং বিশ্বস্ত লোকদের সাথে ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ইমো ইত্যাদি মাধ্যমে যোগাযোগ রাখুন। প্রয়োজনীয় বিষয়ে বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ লোকদের নিকট পরামর্শ নিন।

১২) এবং পাশাপাশি সতর্কতার সাথে সরকারি বা বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

পরিশেষে দোয়া করি, মহান আল্লাহ আমাদেরকে সব ধরণের অকল্যাণ থেকে হেফাজত করুন এবং তার সন্তুষ্টির উপর আমাদের বাকি জীবন পরিচালনা করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখাঃ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল (আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

Source

মতামত দিন