তাবলীগ

কিভাবে পরিবারে দাওয়াহ দেব?

আমাদের অনেক ভাই-বোন আছেন অনেক সুন্দর লিখালিখি করেন। সুন্দর দাওয়াহ দেন। কিন্তু দেখা যায় ফ্যামিলিতে দাওয়াহ দিতে গিয়ে আমাদের অনেক ভুল হয়ে যায়। যার ফলে আমাদের জন্য দ্বীনের উপর অটল থাকা, দ্বীনের কাজ করা অনেক কঠিন হয়ে যায়। কারন আমাদের পরিবার গুলো হচ্ছে আমাদের জন্য দূর্গ, আমাদের ভালোবাসা আসার প্রতিক।

● ফ্যামিলিতে দাওয়াহ দেয়ার জন্য জরুরি হচ্ছে পরিবার থেকে শয়তানকে দূরে রাখা। এজন্য ঘড়ে ঢোকার সময় আল্লাহ্‌র নাম স্বরন করা খুব জরুরি। ঘরে প্রবেশের সময় বিসমিল্লাহ, সালাম দেবার প্রচলন করুন। অনেককে দেখা যায় নিজের বাবা-মা, ভাই-বোন, আহলিয়াকে সালাম দেই না। লজ্জা পান। এটা দূর করা জরুরি

● দ্বিতীয় প্রয়োজনীয় বিষয় হচ্ছে উত্তম আখলাখ, মুখের ভাষা, কথা বলার ধরন। আমাদের অনেকেরি দ্বীনি ভাই-বোনদের সাথে কথা বলার সময় অনেক মিস্টভাষী কিন্তু নিজের ঘরে কথা বলার সময় এই বিষয় গুলো খেয়াল রাখি না। ফেসবুকে দাওয়াহ দেবার সময় আমরা কত সুন্দর গুছিয়ে, ধৈয্যের সাথে দাওয়াহ দেই। কত সময় দেই। অথচ পরিবারের দাওয়াহ দেবার ক্ষেত্রে আমরা কোন উসুলের ধার ধারিনা। অথচ আমাদের উচিত ছিল পরিবারে দাওয়াহ দেবার ক্ষেত্রে আরো যন্ত্রবান হওয়া। বাবা মায়ের সাথে সুন্দর আচরন করা। তাদের ইহসানের প্রশংসা করা। দরদ দিয়ে কথা বলা। মাকে রান্নার কাজে সাহয্য করতে করতে দাওয়াহ দেয়া, বাবার হাত পা টিপে দিয়ে দাওয়াহ দেওয়া। আহলিয়াকে সুন্দর একটা গিফট এনে দিয়ে দাওয়াহ দেয়া। বড় ভাই বোনের সাথে আড্ডা দিতে দিতে দাওয়াহ দেয়া। ছোট ভাই বোনকে হাদিয়ে দিয়ে দাওয়াহ দেওয়া। সন্তানের কপালে চুমু খেয়ে বলি আমি তোমাকে ভালোবাসি, এরপর দাওয়াহ দেই। ভালোবাসার সাথে বোঝানো। তারা যেন বুঝতে পারে আপনি তাদের ভালোবাসেন। তা না করে দেখা যায় আমরা রাগ করে বসি, একদিন কোন রকমে কিছু বলেই চিল্লাচিল্লি করে বসি। জাহান্নামে পাঠিয়ে দেই।

রসূল সল্লালালহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- তোমাদের মাঝে সর্বোত্তম হচ্ছে সে যে তার পরিবারের কাছে উত্তম। আর তোমাদের মধ্যে আমি আমার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।

আর একটি ব্যাপার হচ্ছে তাদের কস্টের প্রশংশা করা। আমাদের মা, বোন আহলিয়া আমাদের জন্য কস্ট করে রান্না করেন, অথচ একটু মজা না হলেই আমরা খারাপ আচরন করি। খারাপ আচরন যদি নাও করি, কিন্তু কখনো তাদের ধন্যবাদ দেই না, প্রশংশা করি না। আমরা তাদের প্রশংসার মাধ্যমে দাওয়াহ দেই।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) কখনো খাবারের দোষ-ত্রুটি ধরতেন না। তাঁর পছন্দ হলে খেতেন আর অপছন্দ হলে পরিত্যাগ করতেন। (বুখারি, হাদিস : ৫১৯৮, ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৩৮২)

দেখুন রসূল সল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার খাদেম এর সাথে কেমন আচরণ করতেনঃ

আনাস (রাঃ) বলেন, আমি একাধারে দশ বছর নবী করীম (ছাঃ)-এর খেদমত করেছি। তিনি কোন দিন আমাকে বলেননি- কেন এটা করেছ বা কেন এটা করনি?!

● আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে খেদমতঃ খেদমতের ক্ষেত্রে দেখা যায় আমাদের মাঝে দ্বীনে আগে পরে কোন তফাত দেখতে পাওয়া যায় না। আমরা বাবা মায়ের খেদমত করি না। তাহলে কিভাবে তারা দাওয়াহ গ্রহন করবে?

যখন তারা দেখতে আপনার মাঝে আমুল পরিবর্তন দেখতে পাবে। যখন দেখবে আপনি মায়ের ময়লা কাপর ধুয়ে দিচ্ছেন, বাবার হাত পা টিপে দিচ্ছেন, বাজার করে দিচ্ছেন। তাদের সাথে হাসিমুখে কথা বলছেন। তখন ইনশা’আল্লাহ দাওয়াহ কবুল করবে।

● বেশী বেশী পরিবারের জন্য দূয়া করা। কিয়ামুল লাইলে উঠে দূয়া করা। কান্না-কাটি করা।

● পরিবারের মাঝে দোষ চর্চা থেকে বিরত থাকি। সন্তানদের সামনে তাদের মায়ের কিংবা তাঁর পরিবারের দোষ চর্চা না করি। খারাপ আচরন রাগারাগি না করি।

● প্রতিদিন ঘরে তালিমের ব্যাবস্থা করি। একটু হলেও। যখন সবার মন ভালো থাকবে, ফ্রি থাকবে তালিম করি
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂

লেখাঃ তপু আহমেদ (আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

সূত্র

মতামত দিন