অন্যান্য

১০০ খন্ডে এক হাদীসের কিতাব!

হাল যামানায় হাদীসের যে সকল গ্রন্থ পাওয়া যায় তাঁর মধ্যে সর্বাধিক বৃহৎ গ্রন্থ হচ্ছে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (১৬৪-২৪১ হি) রহিমাহুল্লাহর ‘মুসনাদু আহমাদ’। ৪৫ খন্ডের এ হাদীসের কিতাবে হাদীস রয়েছে ২৭৬৪৭ টি (মাকতাবাতুশ শামেলা অনুযায়ী)। তবে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও বরিষ্ঠ অভিমত হচ্ছে এ কিতাবে হাদীস রয়েছে ৩০ হাজার (৪০ হাজারেরও একটি মত রয়েছে)। [১]

তবে হাদীসের সংখ্যা পরিজ্ঞাত না হলেও ইতিহাস হতে জানা যায় খন্ড-বিচারে এর চেয়েও বৃহৎ গ্রন্থ ছিলো। সে হাদীস গ্রন্থটির নাম হচ্ছে ‘মুসনাদু কাবীর’। যা ছিলো ১০০ খন্ডে বিভক্ত। [২]

এ কিতাবের রচয়িতা হচ্ছেন ইমাম আল-হাফিয আল-ফাক্বীহ শাইখুল ইসলাম আবূ বাক্‌র আহমাদ ইবনু ইবরাহীম ইবনু ইসমাঈল আল-ইসমাঈলী (২৭৭-৩৭১ হি) রহিমাহুল্লাহ। শাফিয়ী মাযহাবের বিখ্যাত ফক্বীহ। [৩] হাদীস-জগতেও তিনি ইমাম হিসেবে বরিত।

ইমাম যাহাবী (৬৭৩-৭৪৮ হি) রহিমাহুল্লাহ তাঁর সম্পর্কে উদ্ধৃত করেন, ”ফিক্‌হ ও হাদীস বিষয়ে তাঁর রচিত তাসনীফাতগুলোই (রচনাসম্ভার) তাঁর ইমাম হওয়ার বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করে।” [৪]

ইমাম আশ-শাইখ আবূ ইসহাক আশ-শীরাযী (৩৯৩-৪৭৬ হি) রহিমাহুল্লাহ তাঁর সম্পর্কে বলেন, ”তিনি ছিলেন এমন এক ব্যক্তিত্ব যার মাঝে ফিক্‌হ, হাদীস, দীন ও দুনিয়ার নেতৃত্বের সমাহার ঘটেছিলো।” [৫]

তাঁর শত খন্ডের এ গ্রন্থটি প্রসিদ্ধি পায়নি। বিপরীতে ‘সহীহ বুখারী’ এর উপর মুস্তাখরাজ [৬] করে লেখা তাঁর গ্রন্থ ‘সহীহ আল-ইসমাঈলী’ বেশ প্রসিদ্ধি পায়। এ কিতাবকে কেন্দ্র করে তাঁর সম্পর্কে হাসান ইবনু আলী বাসরী (৩৬৯ হি) মন্তব্য করেন, ”শাইখ আবূ বাক্‌রের উপর আবশ্যকীয় ছিলো তিনি নিজেই স্বতন্ত্র এক ‘সুনান’ [৭] সংকলন করবেন। এ বিষয়ে বাছ-বিচার করবেন এবং নিজের চেষ্টাকে কাজে লাগাবেন। কেননা তাঁর সমৃদ্ধ রচনাসম্ভার এবং বিদ্যা, বুদ্ধি ও মহত্ত্বের অসীমতায় তিনি এ কাজের জন্য পুরোপুরি যোগ্য লোক ছিলেন। আর মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাইল আল-বুখারীর কিতাব (সহীহুল বুখারী) এর সঙ্গে নিজেকে পুরোপুরি সম্পৃক্ত করা তাঁর জন্য উচিত হয়নি। কেননা অন্যের অনুসরণ করা হতেও তিনি বহু উর্ধ্বে ছিলেন।” [৮]

তবে ইমাম যাহাবী (৬৭৩-৭৪৮ হি) রহিমাহুল্লাহ বলেন, ”আল-ইসমাঈলীর মর্যাদা তো এতেই ফুটে উঠে যে, তিনি সহীহ বুখারীর কদর বুঝেছিলেন এবং নিজেকে এর সঙ্গে পুরোদস্তর সম্পৃক্ত করেছিলেন।” [৯]

#দুনিয়ার_যত_আজব_রেকর্ড_(১৫)

[১] বিস্তারিত জানতে, আহমাদ শাকির তাহকীককৃত ‘মুসনাদু আহমাদ’ এর ভূমিকা (দারুল হাদীস), ১/৩৭; বুস্তানুল মুহাদ্দিসীন (মাকতাবাতুল আযহার অনূদিত), আব্দুল আযীয দেহলবী, পৃঃ ১৪১

[২] ত্বাবাক্বাতুশ শাফিয়িয়্যাহ, তাজুদ্দীন সুবকী, ৩/৮; বুস্তানুল মুহাদ্দিসীন (মাকতাবাতুল আযহার অনূদিত), আব্দুল আযীয দেহলবী, পৃঃ ২১৬

[৩] সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, যাহাবী, ১৬/২৯২

[৪] সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, যাহাবী, ১৬/২৯৩

[৫] ত্বাবাক্বাতুল ফুক্বাহা, আবূ ইসহাক আশ-শীরাযী, পৃঃ ১১৬

[৬] মুস্তাখরাজ ঐ কিতাবকে বলা হয়, যেখানে এক মুহাদ্দিস অন্য কোনো মুহাদ্দিসের কিতাব গ্রহণ করেন, তারপর সে কিতাবের সবকিছু ঠিকঠাক রেখে নিজের সনদে এমনভাবে বর্ণনা করেন যাতে কিতাবের সঙ্গে নিজের সনদ তাঁর কোনো উস্তায বা তারও উপরের কোনো স্তরে মিলে যায়। দেখুন, বুস্তানুল মুহাদ্দিসীন (মাকতাবাতুল আযহার অনূদিত), আব্দুল আযীয দেহলবী, পৃঃ ২০৪

[৭] ‘সুনান’ বলা হয় ঐ সকল হাদীস গ্রন্থকে যেগুলোর অধ্যায়গুলো ফিক্‌হের নির্দিষ্ট ক্রমধারায় সাজানো, তবে এতে মাওকূফ হাদীসের (সাহাবীদের বাণী) কোনো অবস্থান নেই। দেখুন, আর-রিসালাতুল মুসতাত্বরফাহ, মুহাম্মাদ ইবনু জা’ফার আল-কাওানী, পৃঃ ৩২। ফিক্‌হের উপর নির্ভর করে সাজানো হয় বলে এমন গ্রন্থ রচনার মধ্য দিয়ে একজন মুহাদ্দিসের ফিক্‌হী জ্ঞানের পরিপক্কতাও প্রমাণিত হয়।

[৮] সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, যাহাবী, ১৬/২৯৪

[৯] সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, যাহাবী, ১৬/২৯৪

SOURCE

মতামত দিন