ইসলামিক গল্প

ইসলামী গল্প : বিড়াল ছানার বাবা

ছোটোদের হাদিসের গল্প-৬
বিড়াল ছানার বাবা
তাঁর নাম আবদুর রহমান। বিড়াল ছানা তাঁর খুব পছন্দ। তুলতুলে শরীর আর আদুরে মুখ দেখে খুব মায়া লাগে তাঁর। মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। মিউ মিউ করে আদরের জবাব দেয় ছানাটি।
আবদুর রহমান অনেক সময় বাইরে যেতেও বিড়াল ছানাটি সাথে নিয়ে যান। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি গিয়েছিলেন নবিজি মুহাম্মাদ সা.-এর কাছে। নবিজির সাথে দেখা করার সময় বিড়াল ছানাকে লুকিয়ে রাখলেন। কোথায়? আবদুর রহমানের জামার হাতাটি ছিল অনেক ঢোলা। বিড়াল ছানাটিও ছিল খুব ছোট্ট। জামার হাতার ভেতরে লুকালেন ছানাটিকে।

কিন্তু কী দুষ্টু বিড়াল ছানাটি! হাতার ভেতর থেকে মিউ মিউ করে বেরিয়ে এলো। সবাই অবাক হয়ে গেল। মজাও পেল। জামার হাতা থেকে বিড়াল ছানা বের হতে দেখে সবাই হাসল একচোট। নবিজি মজা করে আবদুর রহমানকে ডাকলেন, ‘ওহে, বিড়াল ছানার বাবা!’
আরবিতে আবু হুরায়রা। নবিজির ভাষা ছিল আরবি। তাঁরা আরবি ভাষায় কথা বলতেন। আবু হুরায়রা অর্থ বিড়াল ছানার বাবা। আবদুর রহমান নবিজির বলা এ বাক্যে খুব মজা পেলেন। খুব খুশি হলেন। তিনি নিজের নাম হিসেবে সেটিই পছন্দ করে নিলেন। এভাবে তাঁর নাম হয়ে গেল আবু হুরায়রা বা বিড়াল ছানার বাবা।
আবু হুরায়রা সবসময় নবিজির সাথে থাকতেন। নবিজি যার সাথে যে কথাই বলতেন তা তিনি মুখস্থ করে নিতেন। নবিজি যা করতেন তাও মনে রাখতেন। আর নবিজি যা করতেন, যা বলতেন আর যা করার অনুমতি দিতেন তাকে বলা হয় হাদিস। এভাবে আবু হুরায়রা অনেক অনেক হাদিস মুখস্থ করে ফেলেন।
মুখস্থ করা হাদিসগুলো তিনি অন্যদেরকে শেখাতেন। এমনকি নবিজির ইন্তেকালের পরে লোকজন তাঁর কাছ থেকে হাদিস শিখতেন। তার শেখানো হাদিসের সংখ্যা ৫,৩৭৪টি।
যাহোক, আবু হুরায়রা ছিলেন নবিজির প্রিয় সাথি। কিন্তু তখনও তাঁর মা মুসলিম হননি। মা তখনও মূর্তির পূজা করেন। এটা আবু হুরায়রাকে খুব কষ্ট দিত। তাই তিনি সবসময় মাকে বলতেন ইসলামের কথা। কিন্তু মা তাতে রাগ করেন।
সেদিনও আবু হুরায়রা মাকে ইসলামের কথা বলছিলেন। মা খুব রাগ করলেন। রাগ করে নবিজির নামে কিছু কটু কথা বলে বসলেন। এতে আবু হুরায়রা দুঃখ পেলেন। তিনি নবিজিকে অনেক ভালোবাসতেন। তাই নবিজির নামে এমন কথা শুনে তাঁর খুব কান্না পেল। চোখের পানি টলোমল করে ওঠল। কাঁদতে কাঁদতে তিনি চলে গেলেন নবিজির কাছে। আবু হুরায়রার চোখে পানি দেখে নবিজি স্নেহভরে জানতে চাইলেন, কী হয়েছে?
আবু হুরায়রা বললেন,
— ‘ও আল্লাহর রাসূল। আমি আমার মাকে ইসলামের কথা বলছিলাম। তাতে তিনি রাগ করেছেন। আপনার নামে এমন কথা বলেছেন, যা আমার খুব খারাপ লেগেছে। তাই কাঁদছি। ও আল্লাহর রাসূল, আমার মায়ের জন্য একটু দুআ করুন, যেন আল্লাহ তাকে ইসলামের পথ দেখান।’
নবিজি দুআ করলেন, ‘হে আল্লাহ! আবু হুরায়রার মাকে সুপথ দেখান।’
এবার খুশি মনে বাড়ি ফিরলেন আবু হুরায়রা। ঘরের কাছাকাছি আসতেই মা ঘরের ভেতর থেকে বললেন, ‘ও আবু হুরায়রা! একটু ওখানে থামো।’ বাইরে থেকে আবু হুরায়রা পানির আওয়াজ শুনতে পেলেন। গোসল করছিলেন মা। গোসল করে পরলেন পরিচ্ছন্ন কাপড়। তারপর দরজা খুলে দিলেন। এরপর ছেলের সামনে এসে তিনি কালিমা পড়ে মুসলিম হয়ে গেলেন।
মায়ের ইসলাম গ্রহণের আনন্দে আবু হুরায়রার চোখে পানি চলে এলো। তিনি আবার নবিজির কাছে ছুটে গেলেন। এবারও তাকে কাঁদতে দেখে নবিজি জানতে চাইলেন, কী হয়েছে।
এ কান্না ছিল আনন্দের কান্না। খুশির কান্না।
— ‘ও আল্লাহর রাসূল। সুসংবাদ আছে। আল্লাহ তায়ালা আপনার দুআ কবুল করেছেন। আমার মা ইসলাম গ্রহণ করেছেন। মুসলিম হয়েছেন মা। আপনি আমাদের জন্য আরও দুআ করুন, যেন আমাকে ও আমার মাকে মুমিনরা ভালোবাসে। আমরা যেন সবার প্রিয়জন হতে পারি।’
নবিজি আবার দুআ করলেন, ‘ও আল্লাহ! আবু হুরায়রা ও তাঁর মাকে মুমিনদের প্রিয়জন বানিয়ে দিন।’
এরপর থেকে মুমিনরা আবু হুরায়রাকে খুব ভালোবাসে। যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান রাখে তাদেরকে বলা হয় মুমিন। আমরাও আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান রাখি। তাই আমরাও মুমিন। তাই আমরা বিড়াল ছানার বাবা আবু হুরায়রাকে অনেক অনেক ভালোবাসি।
এ হাদিসটি যেখানে পাবেন
সহিহ মুসলিম : ৬১৭১
অধ্যায় : কিতাবু ফাদাইলুস সাহাবা (সাহাবিদের মর্যাদা অধ্যায়)
বর্ণনাকারী : আবু হুরায়রা রা.
হাদিসের মান : সহিহ

মতামত দিন