জীবন দর্শন

‘রূহ’ বা ‘বিদেহী আত্মা’র মাগফিরাত কামনা করছি

কেউ মারা গেলে জীবতদের উচিৎ তার জন্য মাগফিরাত কামনা করে। রাসূলুল্লাহ স. এ ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। রাসূলুল্লাহ স. দাফন শেষ করে বলতেন,

اسْتَغْفِرُوا لأَخِيكُمْ وَسَلُوا لَهُ التَّثْبِيتَ فَإِنَّهُ الآنَ يُسْأَلُ

তোমরা তোমাদের ভাইএর জন্য ইস্তিগফার করো এবং তোমরা দুআ করো সে যেন প্রশ্নের জবাব দিতে পারে। কেননা সে এখন প্রশ্নের সম্মুখীন হবে।[১]
তিনি আরও বলেন

مَنِ اسْتَغْفَرَ لِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ كَتَبَ اللهُ لَهُ بِكُلِّ مُؤْمِنٍ وَمُؤْمِنَةٍ حَسَنَةً

যে-ব্যক্তি মুমিন পুরুষ নারীর জন্য ইস্তিগফার করবে, আল্লাহ প্রত্যেক মুমিন পুরুষ নারীর বিনিময়ে তার জন্য নেকি লেখবেন।[২]

তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিৎ মৃতব্যক্তিদের জন্য দুআ ও ইস্তিগফার করা। এর বিনিময়ে যেমন মৃতব্যক্তি উপকৃত হবে, আমরাও পাব অনেক সওয়াব।

তবে আমাদের সমাজে মৃতব্যক্তির জন্য মাগফিরাত কামনায় একটি ভুল বাক্য পরিলক্ষিত হয়। বলা হয়ে থাকে, ‘আমরা তার রূহ বা বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি’। এভাবে শুধু রূহের জন্য মাগফিরাত কামনা করা হয়।

আমরা সবাই জানি, গুনাহ যেমন নফসের মাধ্যমে হয়, তেমন বাহ্যিক অঙ্গপ্রতঙ্গ বা দেহের মাধ্যমেও হয়। আর আল্লাহ যদি কাউকে তার গুনাহের কারণে শাস্তি দেন, তবে যেমন দেহের মাধ্যমে কৃত পাপের কারণে যেমন শাস্তি দেবেন, তেমন নফসের মাধ্যমে কৃত পাপের কারণেও দেবেন। ঠিক তেমনিভাবে জান্নাতের সুখ-শান্তি যেমন রূহ ভোগ করবে, দেহও ভোগ করবে। এ বিশ্বাস অনেক আয়াত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এবং এটাই সকল আহলুস সুন্নাহর আকীদাহ। তাই দেহকে বাদ দিয়ে শুধু রূহের জন্য ইস্তিগফার করার কোনো অর্থ হয় না। অতএব, আমরা মৃত ব্যক্তির আত্মা ও দেহ উভয়ের জন্য মাগফিরাত কামনা করব।

তথ্যসূত্র :

[১] সুনানু আবী দাউদ, ৩২২৩, হাদীসটি সহীহ

[২] আল-জামিউস সগীর ওয়া ‍যিয়াদাতুহ, ১০৯৭০, হাদীসটি হাসান বা গ্রহণযোগ্য

#যে_সব_কথা_যায়_না_বলা– (পর্ব : ৩ )

Source

মতামত দিন