সলাত সিয়াম

তারাবির সালাতের ৪ রাকাত পর পর বসে দোয়া করা

তারাবির সালাতের ৪ রাকাত পর পর বসে দোয়া করা কেমন?

আমাদের দেশে অনেক জায়গায় দেখা যায় যে, প্রতি চার রাকাত পর পর সকলে সমস্বরে দোয়া পাঠ করতে থাকে অথবা ইমাম পড়ে আর সবাই তাঁর সাথে আমিন আমি বলতে থাকে। নানান ধরনের দোয়া পড়া হয়। তবে আমরা দুটি উল্লেখ করছি,
هذا من فضل ربي يا كريم الاحسان

(বিদ’আত- ১/৩১৭)

«سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ، سُبْحَانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظَمَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوتِ، سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ، سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ، لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ نَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، نَسْأَلُك الْجَنَّةَ وَنَعُوذُ بِك مِنْ النَّارِ

(রদ্দুর মুহতার-২/৪৬)

এই দুইটার কোনটি-ই হাদিসে বা সাহাবাদের জীবনিতে পাওয়া যায় না। আসলে তারাবীহ নামাজের ৪ রাকাত পর পর দোয়া করা কি জায়েজ, মুস্তাহাব না বিদ’আত? এই নিয়ে ফেকাহবিশেষজ্ঞদের নিকট এখতেলাফ আছে তবে আমরা যদি সকল কথা সামনে রেখে বিচার করি তবে সমাধান খুবি সহজ হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ্‌। আসুন আমরা দেখি ফকিহগণ কি বলেছেনও কেন বলেছেন,

হানাফী মাজহাবের বিজ্ঞ ফকিহ আল্লামা কাসানি(রাহি) লিখেছেন,

وَمِنْهَا أَنَّ الْإِمَامَ كُلَّمَا صَلَّى تَرْوِيحَةً قَعَدَ بَيْنَ التَّرْوِيحَتَيْنِ قَدْرَ تَرْوِيحَةٍ يُسَبِّحُ، وَيُهَلِّلُ وَيُكَبِّرُ، وَيُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – وَيَدْعُو وَيَنْتَظِرُ أَيْضًا بَعْدَ الْخَامِسَةِ قَدْرَ تَرْوِيحَةٍ؛ لِأَنَّهُ مُتَوَارَثٌ مِنْ السَّلَفِ
وَأَمَّا الِاسْتِرَاحَةُ بَعْدَ خَمْسِ تَسْلِيمَاتٍ فَهَلْ يُسْتَحَبُّ؟ قَالَ بَعْضُهُمْ: نَعَمْ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَا يُسْتَحَبُّ وَهُوَ الصَّحِيحُ؛ لِأَنَّهُ خِلَافُ عَمَلِ السَّلَفِ.

অর্থঃ এবং তাঁর একটি হল, ইমাম যখন তারাবীহ সালাত পড়বে তো দুই তারাবীহ সালাতের মাঝে এক তারাবীহ সালাত পরিমাণ বসে , তাসবীহ, লা ইলাহা ইল্লাহু, তাকবির এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওইয়া সাল্লামের উপর দুরুদ পাঠ করবেন। দোয়া করতে থাকবে এবং পঞ্চম রাকাতের পরও এক তারাবীহ পরিমাণ বসবে। এটাই সালাফদের ধারাবাহিক আমল।

তবে পাঁচ সালাম (১০ রাকাতের পর) আরাম করা মুস্তাহাব কি না? কেউ কেউ বলেছে , হ্যাঁ, মুস্তাহাব। আর কেউ কেউ বলেছে, না, মুস্তাহাব না। এটাই বিশুদ্ধ মত। কেননা, এটা সালাফদের আমলের খেলাফ। (বাদায়ে সানায়ে-১/২৯০)

বিঃদ্রঃ আল্লামা কাসানী দোয়া পড়ার কথা বলেছেন, তবে না এখানে নির্দিষ্ট কোন দোয়ার কথা বলেছেন আর না না জামাত বদ্ধ হয়ে দোয়ার কথা বলেছেন।

ইবনে হজর হাইতামিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন,
هل تسن الصلاة عليه صلى الله عليه وسلم بين تسليمات التراويح أو هي بدعة ينهى عنها؟ (فأجاب): بقوله: الصلاة في هذا المحل بخصوصه لم نر شيئاً في السنة ولا في كلام أصحابنا فهي بدعة

অর্থঃ (প্রশ্ন) তারাবীহের সালামের(৪ রাকাত) পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দুরুদ পাঠ করা কি সুন্নাত না বিদ’আত?

উত্তরঃ এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সালাম দেওয়ার কথা আমি সুন্নাতে কিছু পাইনি। আর না আমাদের সাথীদের কথার মধ্যে কিছু পেয়েছি। এটা বিদ’আত।

আল্লাম ইবনে হাজ (রাহি), তাঁর কিতাব “মাদখালের” লেখেন,

فصل في الذكر بعد التسليمتين من صلاة التراويح)”. وينبغي له أن يتجنب ما أحدثوه من الذكر بعد كل تسليمتين من صلاة التراويح، ومن رفع أصواتهم بذلك، والمشي على صوت واحد، فإن ذلك كله من البدع،

অর্থঃ তারাবীহ সালাতে প্রত্যেক দুই সালামের পর পর জিকির করার অনুচ্ছেদঃ তারাবীহ সালাতে প্রত্যেক দুই সালামের পর পর জিকির করার যে বিদ’আত চালু হয়েছে তা থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। এবং উচ্চ স্বরে ও একি আওয়াজে জিকির করার বিদ’আত থেকেও। এই সকল কাজ-ই বিদ’আত। (মাদখাল-২/৪৫৭)

তবে শায়েখ মুহাম্মদ সালেহ মুনাজ্জিদ (ফাঃআ) লিখেছনে,

إلا أنه لا بأس للمصلي أن يدعو الله ، أو يقرأ القرآن ، أو يذكر ربَّه تعالى ، من غير تخصيص آيات معينة أو سور أو ذِكرٍ بين الركعات ، ومن دون أن يكون ذلك بصوتٍ واحد ، ولا بقيادة الإمام أو غيره

অর্থঃ মুসাল্লিরা যদি একি সুরে ইমাম বা অন্য কারোর সুরের সাথে তাল মিলানো ছাড়া এবং কোনো আয়াত, সূরা ও জিকির নির্দিষ্ট করা ব্যতীত যদি ৪ রাকাত পর পর আল্লাহর কাছে দোয়া করে, জিকির করে ও কোরআন পাঠ করে তবে সমস্যা নেই।(ফাতাওয়া নংঃ৫০৭১৮)

সুতরাংঃ কেউ যদি একা একা নির্দিষ্ট সূরা, আয়াত বা অন্য যে কোনো বিষয় নির্দিষ্ট করা ব্যতীত ও নির্দিষ্ট কোন সুরাত গ্রহণ করা ব্যতীত একা একা দোয়া-জিকির করে, তবে বিদ’আত বালার কোনো সুযোগ নেই। আর না সুন্নাত বা মুস্তাহাব বলার। বরং শুধু জায়েজ বলতে পারি আমরা।

সূত্র

মতামত দিন