ইসলামের ইতিহাস প্রশ্ন ও উত্তর সীরাত

প্রশ্নোত্তরে রাসূলুল্লাহ (সা) এর জীবনী (পর্ব -৩)

প্রশ্নোত্তরে রাসূল (সা)-এর জীবন পর্ব- ০৩

 

কা’বা সংস্কার ও সালিস-নিষ্পত্তি

 

প্রশ্ন: কুরাইশরা যখন কাবা সংস্কারের উদ্যোগ নেন তখন রাসূল (সা)-এর বয়স কত ছিল ?

উত্তর : ৩৫ বছর

 

প্রশ্ন: কা’বা মানে কি ?

উত্তর : কা’বা শব্দের অর্থ হল উঁচু স্থান, এটি পৃথিবীর প্রাচীন সবচেয়ে পুরনো মাসজিদ।

 

প্রশ্ন:  পবিত্র কা’বার আর কি কি নাম রয়েছে ?

উত্তর : বায়তুল্লাহ (আল্লাহর ঘর ), বায়তুল আতীক (পুরনো ঘর ), মাসজিদুল হারাম (পবিত্র মাসজিদ ) হারামে ইবরাহীম (ইবরাহীম (আ)-এর তৈরী ইবাদাত গৃহ )।

 

প্রশ্ন: কাবা শরীফ কে নির্মান করেন ?

উত্তর : নাবী ইবরাহীম (আ) ও তাঁর পুত্র ইসমাঈল (আ) আল্লাহর হুকুমে তাঁর ইবাদাতের জন্য এটি নির্মান করেন।

 

প্রশ্ন : কুরাইশরা কেন কা’বা সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিল ?

উত্তর : কারণ কা’বা ঘর যে পাথর দিয়ে তৈরী করা হয়েছিল, সেগুলো বন্যায় নষ্ট হয়ে যায় এবং ছাদশূন্য হয়ে ভিতরের সবকিছু প্রকাশ হয়ে যাচ্ছিল বলে তারা কা’বা সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেন।

 

প্রশ্ন: কাবা ঘরের উচ্চতা কত ছিল ?

উত্তর : ইহার উচ্চতা ছিল ৬.৩০ মিটার।

 

প্রশ্ন: কা’বা সংস্কারের জন্য কোন ধরণের টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা ?

উত্তর : শুধুমাত্র হালাল বা বৈধ অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ ছাড়া অন্য সকল অর্থ যেমন- অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ, সুদের টাকা ও বেশ্যাবৃত্তির মাধ্যমে উপার্জিত টাকা প্রত্যাহার করা হয়।

 

প্রশ্ন: কাবার দেওয়াল ভাঙ্গার কাজ কে শুরু করেন ?

উত্তর : ওয়ালী বিন মুগীরাহ মাখযুমি।

 

প্রশ্ন: কুরাইশরা কাবার দেয়াল ভাঙতে কেন ভয় পাচ্ছিল ?

উত্তর : তারা ভেবেছিল কোন অলৌকিক আযাব এসে তাদের গ্রাস করবে।

 

প্রশ্ন: সংস্কারের কাজটি তারা কীভাবে ব্যবস্থা করলেন ?

উত্তর: তারা বিভিন্ন গোত্রের মাঝে কাজ ভাগ করে দিলেন। তাই কা’বা সংস্কার প্রতিটি গোত্রেরই বিশেষ ভূমিকা ছিল।

 

প্রশ্ন: যিনি পাথর গেথেছিলেন তার নাম কি?

উত্তর: বাকুম। একজন রোমান স্থপতি বা রাজমিস্ত্রিী।

 

প্রশ্ন : কীভাবে কাজ চলছিল ?

উত্তর : ‘হাজরে আসওয়াদ’ বা কালো পাথরের কাছে আসা পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই কাজ করছিল।

 

প্রশ্ন: ‘হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর কী ? কাবা শরীফের দেয়ালে এটি  কে স্থাপন করেন ?

উত্তর: এটি হল একটি বিশেষ এবং চমতকার পাথর। কতিপয় ঐতিহাসিকের মতে, এ পাথরটি জান্নাত থেকে আনা হয়, আর এটি প্রথমে ছিল সাদা পরবর্তীতে কোন এক পাপিষ্ঠ লোকের স্পর্শে কালো হয়ে যায়। এ পবিত্র পাথরটি কা’বার দেয়ালে স্থাপন করেন নাবী ইবরাহীম (আ)।

 

প্রশ্ন: এটি কাবা শরীফের দেয়ালে লাগানো হয় কেন ?

উত্তর : হজ্জ যাত্রীরা যেন এখান থেকে তাদের ‘তাওয়াফ” শুরু এবং এখানে এসে শেষ করতে পারে। তাদের জন্য এটি একটি নিদর্শনস্বরূপ।

 

প্রশ্ন: বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে কী বিরোধ দেখা দিল এবং কেন ?

উত্তর : ‘হাজরে আসওয়াদ’ বা কালো পাথরকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে রাখা হয়েছিল এবং প্রত্যেক গোত্রই চেয়েছিল এটি ক উত্তোলন করে যথাস্থানে স্থাপনের গৌরব আর্জন করতে।

 

প্রশ্ন: বিরোধটি কত দিন পর্যন্ত ছিল ?

উত্তর : চার-পাঁচদিন যাবত বিরোধটি বিদ্যমান ছিল।

 

প্রশ্ন: সামাজিক এ বিরোধ সমাধানের জন্য  কে পরামর্শ দেন ?

উত্তর: আবু উমাইয়াহ, তিনি ছিলেন কুরাইশদের একজন প্রবীণ নেতা।

 

প্রশ্ন: তিনি কী পরামর্শ দিলেন এবং অন্যান্য অন্যান্য গোত্র প্রধানরা কি তার পরামর্শে একমত ছিল ?

উত্তর: তিনি বললেন, আগামী কাল সকাল বেলা সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি প্রাঙ্গনে আসবে, তাকে দিয়েই এ গোলযোগ সমাধা করা হবে। তার এ পরামর্শে অন্যান্য গোত্র প্রধানরাও রাজি হয়ে গেল। এরপর সবাই সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে অপেক্ষা করছিল।

 

প্রশ্ন: পরের দিন সকালবেলা সর্বপ্রথম কা’বা প্রাঙ্গনে কে প্রবেশ করেন ?

উত্তর : বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা) ছিলেন সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তি।

 

প্রশ্ন: মুহাম্মাদ (সা) কে দেখে লোকেরা কী বলাবলি করতে লাগলো ?

উত্তর: লোকেরা বললো, এ তো দেখছি আমাদের মুহাম্মদ সেতো সত্যবাদী এবং বিশ্বাসভাজন, তাকে আমরা বিশ্বাস করি। সুতরাই তাকেই সমস্যাটি সমাধান করতে  দেয়া হোক।

 

প্রশ্ন: মুহাম্মাদ (সা) কিভাবে বিরোধটি সমাধান করলেন ?

উত্তর : তিনি বড় এক টুকরা কাপড়েরর উপর হাজরে আসওয়াত বা কালো পাথরটি রাখলেন। তারপর তিনি সকল গোত্র প্রধানদের ডাকলেন এবং পাথরসহ কাপড়টি নিয়ে যথাস্থানে নিয়ে যেতে বললেন। এরপর বিশ্বনবী (সা) নিজ হাতে পাথরটি তুলে যথাস্থানে স্থাপন করলেন।

 

প্রশ্ন: মুহাম্মাদ (সা) কেন ‘হাজরে আসওয়াদ’ বা কালো পাথর চুম্বন করতেন ?

উত্তর : ইবরাহীম ও ইসমাঈল (সা)-এর পবিত্র হাত ঐ পাথর স্পর্শ করেছিল বলেই তিনি যখন কা’বা ঘর ‘তাওয়াফ’ করতেন তখনই ঐ পাথর চুম্বন করতেন।

 

প্রশ্ন: ‘হাজরে আসওয়াদ’ বা কালো পাথর চুম্বন অথবা স্পর্শ করা কি ইবাদাতের অন্তর্ভূক্ত ?

উত্তর : না, এটি কোন ইবাদত নয় বংর আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী এটি একটি বিশেষ ভক্তি প্রদর্শনমাত্র।

 

প্রশ্ন: ‘হাজরে আসওয়াদ’ বা কালো পাথর চুম্বন করতে গিয়ে উমার বিন খাত্তাব (রা) কী বলেছিলেন ?

উত্তর : আমি জানি, তুমি একটি পাথরমাত্র আর কিছুই নও। কারো কোনো উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা নেই। আমি যদি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে তেমাকে স্পর্শ করতে এবং চুম্বন করতে । যদি না দেখতাম তাহলে আমি তোমাকে স্পর্শ এবং চুম্বন করতাম না। ( সহীহ বুখারী, দ্বিতীয় খন্ড-এর হজ্জ পর্ব, অধ্যায় ৫৬, হাদীস নং-৬৭৫ )।

 

প্রশ্ন : হাজ্জ যাত্রী বা হাজীদের জন্য কি ‘কালো পাথর’ চুম্বন করা কী বাধ্যতামূলক ?

উত্তর : না, হাজ্জ যাত্রীদের জন্য ‘কালো পাথর’ চুম্বন বাধ্যতামূলক নয়। প্রচন্ড ভীড়েরর সময় অন্যের অসুবিধা সৃষ্টি না করে বরং দূর থেকে হাতে নির্দেশ করা বা স্পর্শ করাই যথেস্ট।

( চলবে )…………….

 

আর্টিকেলটি ডাউনলোড করতে চাইলে ক্লিক করুন।

 

আগের পর্বগুলো দেখতে চাইলে ক্লিক করুন।

 

মহানবীর  (সা ) শৈশব ও বাল্যজীবন

মহানবী (সা)-এর জন্ম ও বংশপরিক্রমা

মতামত দিন