জীবনী বিজ্ঞান ও ইসলাম

নাসির উদ্দিন তুসি-এর জীবনী

তাঁর জন্ম উত্তর-পূর্ব ইরানের তুস শহরে খ্রিষ্টীয় ১২০১ সনের ফেব্রুয়ারি মাসে। পুরো নাম খাজা নাসির উদ্দিন তুসি। নাসির উদ্দিন তুসি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, ধৈর্যশীল, দয়ালু ও সুদর্শন। সুসংস্কৃতির বিকাশ ও দরিদ্রকে সহায়তার জন্য তিনি সম্ভাব্য সব কিছুই করতেন। ইসলামের প্রকৃত আদর্শ প্রচারের জন্যও তিনি ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। তাঁর বাবার নাম ছিল মুহাম্মদ ইবনে হাসান। তিনি ছিলেন একজন ধর্মতাত্ত্বিক ও হাদিস-বিশেষজ্ঞ। নাসির উদ্দিন তুসি তার বাবার কাছেই কুরআন ও ধর্মতত্ত্বসহ নানা শাস্ত্রের প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করেন। নিজের চাচা নুরুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আলীর কাছে পড়েন হাদিস শাস্ত্র। এরপর তিনি যুক্তিবিদ্যা ও দর্শন পড়েন এবং ধর্মীয় শিক্ষা ও বিজ্ঞানের প্রচলিত নানা। শাখায় ব্যাপক দক্ষতা অর্জন করেন।

নাসির উদ্দিন তুসি ক্যালকুলাস, জ্যামিতি ও অ্যালজাবরাতেও দক্ষতা অর্জন করেন। সঙ্গীত শাস্ত্রও আয়ত্ত করেছিলেন তিনি। এরপর তিনি যৌবনেই জ্ঞানের সন্ধানে জন্মভূমি ছেড়ে চলে যান নিশাপুরে। সেখানে তিনি গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী হন।

উত্তর-পূর্ব ইরানে অবস্থিত প্রাচীন খোরাসানের অন্যতম প্রধান শহর নিশাপুর ছিল কয়েক শতক ধরে মুসলিম বিশ্বের জন্য জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। নাসির উদ্দিন তুসি নিশাপুরে অল্প কিছুকাল থেকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বহু শাখায় পারদর্শী হন। গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা ও ধর্মতত্ত্ব ছাড়াও আধ্যাত্মিক রহস্য, যুক্তিবিদ্যা, দর্শন, নীতি শাস্ত্র, সাহিত্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে অসাধারণ পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন নাসিরুদ্দিন তুসি। এ ছাড়াও তিনি গড়ে তুলেছিলেন অনেক জ্ঞান-গুণী ও বিজ্ঞানী। পণ্ডিত ও বিজ্ঞানীদের অনেকেই নাসির উদ্দিন তুসিকে দার্শনিকদের প্রধান বলে অভিহিত করেছেন।

নাসির উদ্দিন তুসি প্রায় ৫৬টি বই লিখেন। এরমধ্যে শুধু জ্যামিতি, গোলাকার ত্রিকোণমিতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে মোট ষোলটি গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি ত্রিকোণমিতিকে জ্যোতির্বিজ্ঞান হতে পৃথক করে সমতল এবং গোলাকৃৎ ত্রিকোণমিতি সম্পর্কে বর্ণনা করেন। গণিতশাস্ত্র প্রণীত তার গ্রন্থগুলোর মধ্যে মুতাওয়াসিতাত বাইনাল হান্দাসা ওয়াল হাইয়া (The Middle Books between Geometry and Astronomy), জামিউল হিসাব বিত তাখতে ওয়াত্বোরাব (Summary of the Whole of Computation with Table and Earth), কাওয়ায়েদুল হান্দাসা, তাহিরুল উসুল অন্যতম।

নাসির উদ্দিন তুসি তার সমস্ত প্রবন্ধ বা পুস্তিকা লিখেছিলেন আরবি ভাষায়। জ্ঞানের পরিধি ও গভীরতার দিক থেকে এই মহান মনীষীর জ্ঞানকে ইরানের মনীষী ইবনে সিনার সঙ্গে তুলনা করা হয়। এ দুজনের মধ্যে ইবনে সিনা চিকিৎসা শাস্ত্রে বেশি পারদর্শী ছিলেন। অন্যদিকে নাসির উদ্দিন তুসির দক্ষতা বেশি মাত্রায় প্রকাশিত হয়েছিল গণিতে। গণিতের নানা বিষয়ে বেশ কয়েকটি মূল্যবান বই লিখেছিলেন নাসির উদ্দিন তুসি।

জার্মান প্রাচ্যবিদ কার্ল ব্রোকেলম্যান মনে করেন নাসির উদ্দিন তুসি বড় ধরনের অবদান রেখেছেন গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যায়। কার্ল ব্রোকেলম্যান তার বইয়ে এটাও উল্লেখ করেছেন যে, নাসির উদ্দিন তুসি বিজ্ঞান সম্পর্কিত অনেক বই অনুবাদ করেছিলেন এবং তিনিই প্রথমবারের মত ত্রিকোনমিতিকে একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি দেন। জ্যোতির্বিদ্যার ওপরও কয়েকটি মূল্যবান রচনা রেখে গেছেন ইরানের এই মনীষী। গণিত বিষয়ে নাসির উদ্দিন তুসির বইগুলো মুসলিম পণ্ডিত বা আলেমদের শিক্ষা-কারিকুলামে স্থান পেয়েছিল। নাসির উদ্দিন তুসির কোনো কোনো মূল্যবান বই অনুদিত হয়েছিল কয়েকটি বিদেশী ভাষায়। ফলে ইউরোপীয় বিজ্ঞানীরা উপকৃত হয়েছিলেন এইসব বই থেকে।

তিনি ইউক্লেডিয় জ্যামিতির মূল নীতির বিষয়ে একটি ব্যাখ্যামূলক বই লিখেছিলেন। বইটি অক্ষত অবস্থায় আজও টিকে আছে। গ্রিক পণ্ডিত ইউক্লিডের জ্যামিতি বিষয়ক বই আব্বাসিয় খলিফার যুগে আরবি ভাষায় অনূদিত হয়েছিল কয়েক ব্যক্তির অনুবাদের সুবাদে। আর ওই আর ওই অনুবাদের আলোকে নাসির উদ্দিন তুসি বইটির ব্যাখ্যা ও পুনর্লিখন সম্পন্ন করেন। এ বইয়ে রয়েছে ১৩টি প্রবন্ধ। পরে আরও দুটি প্রবন্ধ এতে যুক্ত করা হয়। প্রথম থেকে ষষ্ঠ প্রবন্ধ সমতল জ্যামিতি সম্পর্কিত এবং সপ্তম থেকে দশম প্রবন্ধ ক্যালকুলাস ও সংখ্যার বৈশিষ্ট্য বিষয়ক। আর ১১ থেকে ১৩ তম প্রবন্ধ মহাকাশ-বিষয়ক জ্যামিতি।

প্রখ্যাত মার্কিন ঐতিহাসিক জর্জ সার্টন ‘বিজ্ঞানের ইতিহাস’ শীর্ষক বইয়ে লিখেছেন, নাসির উদ্দিন তুসির এই ব্যাখ্যামূলক বই ও ইউক্লিডের প্রতি তার অনুসরণের সুবাদে শত শত বছর ধরে প্রখ্যাত গণিতবিদরাও গণিতের এই দিকপালকে অনুসরণ করেছেন।

‘জিজে ইলখানি’ বা ‘ইলখানি সারণী’ নাসির উদ্দিন তুসির একটি বিখ্যাত বই। বইটি তিনি লিখেছেন ফার্সি ভাষায়। জিজ বলতে জ্যোতির্বিদরা গ্রহ-নক্ষত্রসহ আকাশের নানা বস্তুর অবস্থা আর গতিবিধির বর্ণনাকে বোঝান যা তারা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অর্জন করেন। নাসির উদ্দিন তুসি মহাকাশ-পর্যবেক্ষণ করে নানা সময়ে যা দেখেছেন তা লিখেছেন এ বইটিতে। বইটিতে রয়েছে চারটি প্রবন্ধ বা অধ্যায়। প্রথম প্রবন্ধটি ইতিহাস সম্পর্কিত, দ্বিতীয় প্রবন্ধটি গ্রহ-নক্ষত্রের গতিপথ ও অবস্থান সম্পর্কিত এবং তৃতীয় প্রবন্ধটি সময় বিষয়ক ও চতুর্থ প্রবন্ধটি গ্রহ-নক্ষত্রের অন্যান্য তৎপরতা সম্পর্কিত। নাসির উদ্দিন তুসি এ বইয়ের ভূমিকায় মোঙ্গল শাসক চেঙ্গিস খান ও তার বংশধরদের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। আর এই ভূমিকা থেকেই জানা সম্ভব হয় যে নাসির উদ্দিন তুসি মারাগের মানমন্দির বা মহাকাশ-পর্যবেক্ষণ ও বিজ্ঞান-গবেষণা কেন্দ্রটি নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন হিজরি ৬৫৭ সনে। তাঁর এ বইটির ব্যাখ্যা সম্পর্কেও কয়েকটি মূল্যবান ও নির্ভরযোগ্য বই লেখা হয়েছে।

‘আখলাকে নাসিরি’ বা ‘নাসিরি নৈতিকতা’ নাসির উদ্দিন তুসির লেখা আরেকটি বিখ্যাত বই। এ বইটিও তিনি লিখেছেন ফার্সি ভাষায়। ব্যবহারিক প্রজ্ঞা ও নৈতিকতার বিষয়ে কুহেস্তান তথা দক্ষিণ খোরাসানের তকালীন শাসক মোহতাশামের অনুরোধেই নাসির উদ্দিন তুসি এ বইটি লিখেছিলেন। অত্যন্ত সারগর্ভ এ বইয়ে চরিত্রকে উন্নত করা এবং পরিবার ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্বদের মতামতের পাশাপাশি এসব বিষয় উপলব্ধির জন্য সহায়ক প্রাচ্যের দর্শনও তুলে ধরা হয়েছে আকর্ষণীয় ও সর্বোত্তম পন্থায়।

চিকিৎসা বিষয়েও কয়েকটি বই লিখেছিলেন নাসির উদ্দিন তুসি। তবে তিনি গণিত, দর্শন, যুক্তিবিদ্যা ও জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ে যত গভীরভাবে মনোনিবেশ করেছিলেন ততটা গভীর মাত্রায় মনোনিবেশ করেননি চিকিৎসা বিদ্যার দিকে। তিনি কিছু দিন কুতুব উদ্দিন মিসরির কাছে চিকিৎসা বিদ্যা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। মিসরি ছিলেন ফখরুদ্দিন রাজির ছাত্র এবং চিকিৎসা ও প্রজ্ঞা শাস্ত্রের একজন বড় বিশেষজ্ঞ। নাসির উদ্দিন তুসি তার কাছে ইবনে সিনার বিশ্ববিশ্রুত বই কানুন অধ্যয়ন করেছিলেন।

নাসির উদ্দিন তুসি চিকিৎসা-বিজ্ঞান বিষয়ের দিকপাল ও অগ্রপথিক তথা আর রাজি, ইবনে সিনা, আহওয়াজি এবং ইসলামী চিকিৎসা বিদ্যার বিখ্যাত অনুবাদকদের মতামতকে সমর্থন করতেন। নাসির উদ্দিস তুসি তার পূর্বসূরি তথা রাজি ও ইবনে সিনার মত হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেননি, বরং তিনি গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা ও দর্শন নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকতে আগ্রহী ছিলেন।

নাসির উদ্দিন তুসি আরবি ও ফার্সিতে কবিতাও লিখেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর বেশিরভাগ জীবনী লেখক ও ঐতিহাসিক তাকে কবি বলেই মনেই করতেন। সাহিত্যের অঙ্গনে তিনি ছিলেন একজন নিখুঁত সমালোচক। জ্যোতির্বিদ ও কবি হিসেবে খ্যাত নাসির উদ্দিন তুসি। সাহিত্যের ক্ষেত্রে আসির উদ্দিন ও হুমাম তাবরিজির মত প্রখ্যাত ছাত্রও গড়ে তুলেছিলেন। সে যুগের জ্ঞানী-গুণিরা আরবিতে সাহিত্য ও জ্ঞান চর্চা করলেও নাসির উদ্দিন তুসি উভয় ভাষাতেই জ্ঞান চর্চা করেছেন। ফলে তিনি ফার্সি ভাষার বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

নাসির উদ্দিন তুসির লেখনীর বৈশিষ্ট্য হল তার লেখা সে যুগের অন্যান্য লেখকদের তুলনায় ছিল বেশি সহজ-সরল, সাবলীল ও কার্যকর। ‘আসাসুল ইকতেবাস’ তথা শিক্ষণের ভিত্তি, ‘মেইয়ারুল আশয়ার’ বা কবিতার মানদণ্ড এবং ‘তাজরিদই মানতেক’ বা যুক্তিবিদ্যার অস্পষ্টতা দূরীকরণ নাসির উদ্দিন তুসির আরও কয়েকটি বিখ্যাত বইয়ের নাম।

নাসির উদ্দিন তুসির ‘মেইয়ারুল আশয়ার’ বা উরুজে ফার্সি তথা ফার্সি কবিতার শব্দকাঠামো ও ছন্দ-বিশ্লেষণ বিষয়ক বইটি ৬৪৯ হিজরিতে লেখা হয়েছিল। তার ‘তাজরিদই মানতেক’ বা ‘যুক্তিবিদ্যার অস্পষ্টতা দূরীকরণ’ শীর্ষক বইটি লেখা শেষ হয় হিজরি ৬৫৬ সনে। তিনি এ বইটির শেষ অধ্যায়ে কবিতা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

‘আসাসুল ইকতেবাস’ তথা শিক্ষণের ভিত্তি শীর্ষক বইটি যুক্তি-বিদ্যা সম্পর্কিত। নাসির উদ্দিন তুসি এ বইটি লিখেছিলেন ফার্সি ভাষায়। বইটি লেখা সম্পন্ন হয়েছিল হিজরি ৬৪২ সনে। এ বইয়ে রয়েছে ৯টি প্রবন্ধ। প্রতিটি প্রবন্ধে কয়েকটি বৈজ্ঞানিক বিষয়ের আলোচনা রয়েছে। আর নয় নম্বর প্রবন্ধটিতে রয়েছে কবিতা সম্পর্কিত আলোচনা। দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার জগতে ইবনে সিনার ‘শাফা’ বইটির পরই ‘আসাসুল ইকতেবাস’ বইটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বই হিসেবে বিবেচিত হয়।

ধর্মীয় নীতিশাস্ত্র বা কালাম শাস্ত্রেও অবদান রেখেছেন নাসির উদ্দিন তুসি। এ বিষয়ে তার লেখা ‘তাজরিদুল আকায়েদ’ তথা ‘ধর্মীয় বিশ্বাসে অস্পষ্টতা দূরীকরণ’ শীর্ষক বইটি হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বই। ধর্মীয় বিশ্বাসের মূলনীতি তুলে ধরার ক্ষেত্রে এটি সংক্ষিপ্ত পরিসরের একটি শ্রেষ্ঠ বই। তিনি এ বইয়ে ৬টি বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। এ বিষয়গুলো হল: সাধারণ বিষয়াদি, অলঙ্কারিক বা অতি মূল্যবান ও ব্যতিক্রমী বিষয় বা ঘটনা, এস্টার অস্তিত্বের প্রমাণ ও তাঁর গুণাবলী, নবুওত, ইমামত এবং পরকাল ও তার প্রমাণ। বইটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করে এবং এর পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনা ও ব্যাখ্যামূলক লেখালেখিতে ব্যস্ত হন বিশেষজ্ঞ বা আলেম সমাজ।

তাছাড়া আরও বিখ্যাত অনেক গ্রন্থ রয়েছে যার মধ্যে মানবতার কল্যাণে বহু বিষয় তিনি অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

মোঙ্গল শাসনামলের ঘন অন্ধকারের অমানিশার মধ্যে নাসির উদ্দিন তুসি ছিলেন এক অত্যুজ্জ্বল তারকা। তিনি সে সময় মোঙ্গল সাম্রাজ্যের যে শহরেই গেছেন সে শহরেই প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও উন্নত নৈতিকতার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। মধ্যযুগের সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন শাসনামলে এমন এক মহান মনীষী ও বিজ্ঞানীর জন্ম ছিল মহা-বিস্ময়কর ঘটনা। নাসির উদ্দিন তুসিকে কেবল বই ও কলমের তৎপরতার গণ্ডিতে আবদ্ধ মনীষী বলা যায় না। তিনি জীবনকে কেবলই কিছু পরিভাষা বা শব্দার্থের মধ্যে সীমিত করেননি। যেখানে নৈতিকতা ও মানবতার প্রশ্ন আসত সেখানে তিনি খোদায়ী তথা ইসলামী মূল্যবোধকে সব কিছুর ওপর প্রাধান্য দিতেন। আত্মকেন্দ্রিকতা ও প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত করেছিলেন নাসির উদ্দিন তুসি র দাসত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য কেবল জ্ঞান ও প্রজ্ঞাই যথেষ্ট নয়, একইসঙ্গে মহান আল্লাহর ওপর গভীর বিশ্বাস, খোদাভীতি ও সৎকর্মও জরুরি। নাসির উদ্দিন তুসি এইসব দিকেও সমৃদ্ধ ছিলেন বলেই বহু শতক পর আজও তার বক্তব্য, আচরণ ও প্রজ্ঞা জ্ঞানী আর গুণীদের আসরের অলঙ্কার হয়ে আছেন।

তথ্যসূত্রঃ

১. বুক অব ইসলামিক নলেজ, ইকবাল কবীর মোহন।

২. উইকিপিডিয়া

৩. http://parstoday.com

সংকলনে : নাকিব মাহমুদ [মাসিক পৃথিবী পুরনো সংখ্যা থেকে অনুলীপিকৃত]

মতামত দিন