জীবনী

খাওলা বিনত হাকীম (রা)-এর জীবনী

হযরত খাওলা (রা) মক্কার বানূ সুলাইম গোত্রের হাকীম ইবন উমাইয়্যার কন্যা। ডাকনাম উম্মু সুরাইক।[1] তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি প্রখ্যাত সাহাবী হযরত উছমান ইবন মাজউনের (রা) সহধর্মিনী। এই উছমান (রা) মদীনায় হিজরাতকারী মুহাজিরদের অন্যতম নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন। বদর যুদ্ধের পর মদীনায় ইনতিকাল করেন। রাসূল (সা) তার জানাযার নামায পড়ান এবং মদীনার আল-বাকী গোরস্তানে তাকে দাফন করেন। আল-বাকী গোরস্তানে দাফনকৃত তিনি প্রথম সাহাবী। খাওলা (রা) হযরত রাসূলে কারীমের (সা) খালা সম্পর্কীয় ছিলেন।[2]

মক্কায় ইসলামী দাওয়াতের সূচনাপর্বে মুষ্টিমেয় যে কয়েকজন নারী-পুরুষ আগে-ভাগে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি তাঁদের একজন। ইসলাম গ্রহণের আগেই ‘উছমান ইবন মাজউনের (রা) সাথে তার বিয়ে হয়। সম্ভবত স্বামী-স্ত্রী একই সাথে ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি ঈমানের মজাদার স্বাদ পূর্ণরূপে পেয়ে যান এবং সত্যের আলোয় তাঁর চোখের সকল পর্দা ছিন্নভিন্ন করে দেয়। তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) সাহচর্য ও সান্নিধ্যে চলে যান। তাঁর সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন। রাসূলুল্লাহর (সা) আত্মীয় হওয়ার কারণে এ কাজ আরো সহজ হয়ে যায়। মক্কায় তিনি প্রতিদিন রাসূলুল্লাহর (সা) ঘর-গৃহস্থালীসহ সকল সুবিধা-অসুবিধার খোঁজ-খবর নিতেন। মদীনায় গিয়েও আমরণ এ কাজ অব্যাহত রাখেন। রাসূলুল্লাহর জীবনের কয়েকটি বড় ঘটনার সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতা তাঁকে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। ইবন আবদিল বার (রহ) তাঁর পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেনঃ —————

 “তিনি ছিলেন সৎকর্মশীলা ও গুণসম্পন্না মহিলা।’ হযরত উমার ইবন আবদিল ‘আযীয (রহ)ও তাঁকে সৎকর্মশীলা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি একটি প্রসঙ্গে বর্ণনা করতে গিয়ে এভাবে উল্লেখ করেছেনঃ[3]

زعمت المرأة الصالحة خولة بنت حكيم امرأة عثمان بن مظعون.

– ‘সৎকর্মশীলা মহিলা উছমান ইবন মাজউনের স্ত্রী খাওলা বিনত হাকীম ধারণা করেছেন।

এভাবে অনেক সীরাত বিশেষজ্ঞই তাঁকে সৎকর্মশীলা মহিলা বলে উল্লেখ করেছেন।

হযরত খাদীজা (রা) ছিলেন হযরত রাসূলে কারীমের (সা) প্রথমা ও প্রিয়তমা স্ত্রী। রাসূলুল্লাহর (সা) মক্কী জীবনের সকল সংকটে তিনি ছিলেন একান্ত সংগিনী। প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তিনি স্বামীকে সান্তনা দিতেন, সমবেদনা প্রকাশ এবং পাশে থেকে সকল বাধা অতিক্রমে সাহায্য করতেন। এমন একজন অন্তরঙ্গ স্ত্রী ও বান্ধবীর তিরোধানে রাসূল (সা) দারুণ বিমর্ষ ও বেদনাহত হয়ে পড়েন। তাছাড়া খাদীজা। ছিলেন রাসূলুল্লাহর সন্তানদের জননী ও গৃহকত্রী। তাঁর অবর্তমানে মাতৃহারা সন্তানদের লালন-পালন ও ঘর সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। উপরন্তু পৌত্তলিকদের জ্বালাতন। ও উৎপাতের মাত্রাও বেড়ে যায়। রাসূলুল্লাহর (সা) এমন অবস্থা তাঁর সাহাবীদেরকে দারুণভাবে ভাবিয়ে তোলে।

হযরত রাসূলে কারীমের (সা) জীবনের এমনই এক দুঃসময়ে খাওলা একদিন গেলেন। রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট এবং তাঁকে বিমর্ষ দেখে বলে ফেললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মনে হচ্ছে, খাদীজার তিরোধানে আপনি বেদনাকাতর হয়ে পড়েছেন এবং তাঁর অভাব বোধ করছেন। রাসূল (সা) বললেন : হাঁ, তা ঠিক। সে ছিল আমার সন্তানদের মা এবং ঘরের কর্ত্রী। নানা কথার ফাঁকে এক সময় খাওলা অত্যন্ত সশ্রদ্ধভাবে বলে ফেললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আবার বিয়ে করুন। রাসূল (সা) জানতে চাইলেন : পাত্রীটি কে? খাওলা বললেনঃ বিধবা ও কুমারী- দুই রকম পাত্রীই আছে। আপনি যাকে পসন্দ করেন তার ব্যাপারে কথা বলা যেতে পারে। তিনি আবার জানতে চাইলেনঃ পাত্রী কে? খাওলা বললেনঃ বিধবা পাত্রী সাওদা বিনত যাম’আ, আর কুমারী পাত্রী আবু বকরের মেয়ে আয়িশা। রাসূল (সা) বললেন : হাঁ, এ ব্যাপারে ভূমিকা পালনের জন্য মহিলারা যোগ্যতর।[4] যাও, তুমি তাদের দু’জনের নিকট আমার প্রস্তাব দাও।

রাসূলুল্লাহর (সা) সম্মতি পেয়ে খাওলা সর্বপ্রথম আয়িশা না সাওদার বাড়ীতে গিয়েছিলেন সে সম্পর্কে একটু মত পার্থক্য আছে। যাই হোক, তিনি গেলেন সাওদার গৃহে এবং সাওদাকে দেখেই বলে উঠলেনঃ আল্লাহ তোমার মধ্যে কী এমন কল্যাণ ও সমৃদ্ধি দান করেছেন? সাওদা বললেনঃ একথা কেন? বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (সা)। তোমার বিয়ের পয়গাম দিয়ে আমাকে পাঠিয়েছেন। সাওদা বললেনঃ আমি চাই, তুমি আমার পিতার সাথে কথা বলো।

সাওদার (রা) পিতা তখন জীবনের প্রান্ত সীমায়। পার্থিব সকল কর্মতৎপরতা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নিয়েছেন। খাওলা তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে “আন’ইম সাবাহান’ (সুপ্রভাত) বলে জাহিলী রীতিতে সম্ভাষণ জানান।

বৃদ্ধ প্রশ্ন করেন : কে তুমি? খাওলা উত্তর দেনঃ আমি খাওলা বিনত হাকীম। বৃদ্ধ তাকে স্বাগতম জানিয়ে কাছে বসান। খাওলা বিয়ের পয়গাম পেশ করেন এভাবে : মুহাম্মাদ ইবন আবদিল্লাহ ইবন আবদুল মুত্তালিব সাওদাকে বিয়ের প্রস্তাব করেছেন। বৃদ্ধ বলেনঃ এতো অভিজাত কুফু। তোমার বান্ধবী সাওদা কি বলে? খাওলা বলেনঃ তার মত আছে। বৃদ্ধ সাওদাকে ডাকতে বলেন। সাওদা উপস্থিত হলে বলেনঃ আমার মেয়ে! এই মেয়েটি (খাওলা) বলছে, মুহাম্মাদ ইবন আবদিল্লাহ তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে তাকে পাঠিয়েছেন। অভিজাত পাত্র। আমি তাঁর সাথে তোমার বিয়ে দিতে চাই, তুমি কি রাজি? সাওদা বলেনঃ হাঁ, রাজি। তখন বৃদ্ধ খাওলাকে বলেনঃ তুমি যাও, মুহাম্মাদকে ডেকে আন। রাসূল (সা) বরবেশে উপস্থিত হন এবং সাওদার পিতা সাওদাকে তার হাতে তুলে দেন।[5]

খাওলা (রা) হযরত রাসূলে কারীমের (সা) সম্মতি পেয়ে আবু বকরের বাড়ীতে গিয়ে ‘আয়িশার (রা) মা উম্মু রূমানের (রা) সাথে দেখা করলেন এবং বললেনঃ উম্মু রূমান! আল্লাহ আপনাদের বাড়ীতে কী এমন কল্যাণ ও সমৃদ্ধি দান করেছেন? তিনি বললেনঃ এমন কথা কেন? খাওলা বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (সা) আমাকে ‘আয়িশার বিয়ের পয়গাম দিয়ে পাঠিয়েছেন। উম্মু রূমান বললেনঃ একটু অপেক্ষা কর, আবু বকর এখনই এসে পড়বেন। আবু বকর ঘরে ফিরলেন এবং খাওলা তাঁর নিকট প্রস্তাবটি পাড়লেন। উল্লেখ্য যে, জাহিলী আরবের রীতি ছিল, তারা আপন ভাইয়ের সন্তানদের যেমন বিয়ে করা বৈধ মনে করতো না, তেমনিভাবে সৎ ভাই, জ্ঞাতি ভাই বা পাতানো ভাইয়ের সন্তানদেরকেও বিয়ে করা সঙ্গত ভাবতো না। এ কারণে প্রস্তাবটি শুনে আবু বকর বললেনঃ খাওলা! আয়িশা তো রাসূলুল্লাহর (সা) ভাতিজী। সুতরাং এ বিয়ে হয় কেমন করে? খাওলা ফিরে এলেন এবং রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন ? রাসূল (সা) বললেনঃ আবু বকর আমার দীনী ভাই। আর এ ধরনের ভাইদের সন্তানদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক করা যায়। আবূ বকর (রা) প্রস্তাব মেনে নেন এবং খাওলাকে বলেন রাসূলুল্লাহকে (সা) নিয়ে আসতে। অতঃপর খাওলা রাসূলকে (সা) নিয়ে গেলেন এবং বিয়ের কাজ সম্পন্ন হলো।[6]

হযরত খাওলার (রা) স্বামী হযরত উছমান ইবন মাজউন (রা) মক্কায় প্রথম পর্বের একজন মুসলমান। পৌত্তলিকদের হাতে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হন। তিনি হাবশায়ও হিজরাত করেন এবং কিছুকাল পরে আবার মক্কায় ফিরে আসেন। হযরত খাওলার হাবশায় হিজরাতের কোন কথা পাওয়া যায় না। উছমান ইবন মাজউনের। (রা) সঙ্গে খাওলার বিয়ে যদি ইসলামের প্রথম পর্বেই হয়ে থাকে তাহলে তিনিও ‘উছমানের পরিবারের সদস্য হিসেবে কুরাইশদের যুলুম-নির্যাতনের যাতায় পিষ্ট হয়ে থাকবেন। সেসব তথ্য পাওয়া যায় না। তবে তিনি স্বামীর সাথে মদীনায় হিজরাত করেন- একথা জানা যায়।

হযরত উছমান ইবন মাজউনের (রা) স্বভাবে রুহবানিয়্যাত বা বৈরাগ্যের প্রতি গভীর ঝোঁক ছিল। ইবাদাত ও শবগোজারী ছিল তাঁর প্রিয়তম কাজ। সারা রাত নামায আদায় করতেন। বছরের অধিকাংশ দিন রোযাও রাখতেন। বাড়ীতে একটা ঘর ইবাদাতের জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছিলেন। রাত দিন সেখানে ইতিকাফ করতেন। এক পর্যায়ে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি একেবারেই উদাসীন হয়ে পড়েন। হযরত খাওলার (রা) অভ্যাস ছিল নবীগৃহে আসার এবং রাসূলুল্লাহর বেগমদের খোঁজ-খবর নেওয়ার। একদিন তিনি নবীগৃহে আসেন। নবীর (সা) বেগমগণ তাঁর মলিন বেশ-ভূষা দেখে জিজ্ঞেস করেনঃ তোমার এ অবস্থা কেন? তোমার স্বামী তো কুরাইশদের মধ্যে একজন বিত্তবান ব্যক্তি। তিনি বললেন : তাঁর সাথে আমার কি সম্পর্ক! তিনি দিনে রোযা রাখেন, রাতে নামায পড়েন। বেগমগণ বিষয়টি রাসূলুল্লাহর (সা) গোচরে আনেন। তিনি সাথে সাথে উছমান ইবন মাজউনের বাড়ীতে ছুটে যান এবং তাকে ডেকে বলেনঃ উছমান! আমার জীবন কি তোমার জন্য আদর্শ নয়? উছমান বললেন : আমার মা-বাবা আপনার প্রতি কুরবান হোক! আপনি এমন কথা বলছেন কেন? রাসূল (সা) বললেনঃ তুমি দিনে রোযা রাখ এবং সারা রাত নামাযে দাঁড়িয়ে কাটিয়ে দাও। বললেনঃ হাঁ, এমনই করে থাকি। ইরশাদ হলো! এমন আর করবে না। তোমার উপর তোমার চোখের, তোমার দেহের এবং তোমার পরিবার-পরিজনের হক বা অধিকার আছে। নামায পড়, আরাম কর, রোযাও রাখ এবং ইফতার কর। এই হিদায়াতের পর তাঁর স্ত্রী খাওলা আবার একদিন নবীগৃহে আসলেন। সেদিন নববধূর সাজে সজ্জিত ছিলেন। দেহ থেকে সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ছিল।[7]

হযরত খাওলা (রা) একজন সুভাষিণী মহিলা ছিলেন। বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জল ভাষায় কথা বলতেন। কোমল আবেগ-অনুভূতির অধিকারিণী ছিলেন। কাব্য চর্চাও করতেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। স্বামী উছমানের (রা) ইনতিকালের পর তিনি একটি মরসিয়া রচনা করেন, তার কয়েকটি চরণ নিম্নরূপঃ[8]

ياعين جودی بدمع غير ممنون + على رزية عثمان بن مظعون على امرئ بات في رضوان خالقه + طوبی له من فقيد الشخص مدقون طاب البقيع له سکنی وغرقده + وأشرقت أرضه من بعد تفتین

وأروث القلب حزنا لاانقطاع له + حتى الممات فما ترقاله شونی.

হে আমার চক্ষু! অবিরত অশ্রু বর্ষণ কর

‘উছমান ইবন মাজউনের বড় বিপদে।

এমন ব্যক্তির জন্য যে তার স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য রাত্রি অতিবাহিত করেছে,

দাফনকৃত সেই মৃত ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ।

তার জন্য বাকী’ আবাসস্থল বানিয়েছে, বৃক্ষ ছায়া দান করেছে,

তার ভূমি আলোকিত হয়েছে প্রস্তরময় ভূমি হিসেবে পড়ে থাকার পর,

অন্তরকে ব্যথা ভারাক্রান্ত করেছে- মৃত্যু পর্যন্ত যার শেষ নেই।

আমার অশ্রু প্রবাহের শিরাগুলো তার জন্য অশ্রু প্রবাহে অক্ষম হয়ে পড়বে।

হিজরী ২য় সনে খাওলা (রা) বিধবা হওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। সবসময় বিমর্ষ থাকতেন। হাদীছ ও সীরাতের গ্রন্থসমূহের বর্ণনায় জানা যায়, বেশ কিছু নারী স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে নিজেদেরকে নবীর (সা) নিকট বিয়ের জন্য নিবেদন করেছিলেন। হযরত আয়িশা (রা) বলেন, খাওলা তাঁদের একজন। উরওয়া ইবন আয-যুবাইর (রা) বলেনঃ আমরা বলাবলি করতাম যে, খাওলা নিজেই রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট নিজেকে নিবেদন করেছেন। তিনি ছিলেন একজন সৎকর্মশীলা মহিলা। ইবন আব্বাস (রা) বলেনঃ যে সকল নারী নিজেদেরকে রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট অর্পণ করেছিলেন, এমন কাউকে তিনি গ্রহণ করেননি। যদিও আল্লাহ তা’আলা নবীকে (সা) এমন নারীকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার এখতিয়ার দিয়েছিলেন। এ এখতিয়ার কেবল তাকেই দান করা হয়েছিল। আল্লাহ বলেনঃ[9]

وامرأة مؤيئة إن وهبت نفسها للبى إن أراد اللي أن يستنكها.

‘কোন মু’মিন নারী নবীর নিকট নিজেকে নিবেদন করলে এবং নবী তাকে বিয়ে করতে চাইলে সেও বৈধ।[10]

উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ ধরনের নারীকে মু’মিন নারী বলে আখ্যায়িত করেছেন। এটা তাঁদের জন্য বিরাট গর্ব, গৌরব ও সফলতা। হযরত খাওলাও এ গর্ব ও গৌরবের অধিকারিণী।

তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে জিহাদে অংশ গ্রহণের গৌরব অর্জন করেন। তায়িফ অভিযানে তিনি শরীক ছিলেন। এ সময় তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট আবেদন জানানঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি তায়িফ বিজয় হয় তাহলে আমাকে বাদিয়া বিনত গায়লান অথবা ফারি’আ বিনত ‘আকীলের অলঙ্কার দান করবেন। উল্লেখ্য যে, এ দু’জনের অলঙ্কার ছিল ছাকীফ গোত্রের মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ও মূল্যবান। রাসূল (সা) তাঁকে বলেন : তাদের ব্যাপারে এখনো আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং আমি ধারণা করি না যে, এখনই আমরা তাদেরকে জয় করবো। খাওলা (রা) রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট থেকে বেরিয়ে এসে একথা ‘উমার ইবন আল-খাত্তাবকে (রা) বললেন। উমার (রা) রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট গিয়ে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! খাওলা যে একটি কথা বলছে এবং সে ধারণা করছে যে আপনি তা বলেছেন- এটা কি? রাসূল (সা) বললেনঃ আমি তা বলেছি। উমার (রা) বললেনঃ আমি কি প্রস্থানের ঘোষণা দেব? রাসূল (সা) বললেন : হাঁ, দাও। উমার (রা) প্রস্থানের ঘোষণা দেন।[11]

হযরত খাওলা (রা) হযরত রাসূলে কারীমের (সা) কিছু হাদীছও সংরক্ষণ করেছিলেন। তার সূত্রে মোট পনেরোটি (১৫) হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। ইমাম মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবন মাজাহ তাদের সংকলনে সেগুলো বর্ণনা করেছেন। হযরত সা’দ ইবন আবী ওয়াক্কাস (রা) ও সাঈদ ইবন আল-মুসায়্যিব বিশর ইবন সাঈদ, উরওয়া (রহ)ও আরো অনেকে তাঁর থেকে হাদীছ বর্ণনা করেছেন।[12]

তথ্যসূত্র : 

[1] তাবাকাত-৮/১৫৮; আল-ইসতী’আব-৪/২৮১; উসুদুল গাবা-৫/৪৪৪; তাহযীব আত-তাহযীব১২/৪১৫

[2] মুসনাদে আহমাদ-৬/৪০৯

[3] আল-ইসাবা-৪/২৯৩

[4] তাবাকাত-৮/৫৭; সীরাতে ‘আয়িশা (রা)-২৪

[5] তাবারী ও তারীখ-২/২১১; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-২/১৩০, আয-যাহাবী ও তারীখ-১/১৬৬; আনসাব আল-আশরাফ-১/৪০৮; মুসনাদে আহমাদ-৬/২১০; তাবাকাত-৮/৫৩।

[6] সাহীহ বুখারী, বাবু তাবীয আস-সিগার মিনাল কিবার; ইবন কাছীর, আস-সীরাহ আননাবাবীয়্যাহ-১/৩১৬-৩১৮; আসহাবে রাসূলের জীবনকথা-৫/৫৬।

[7] সিয়ারু আ’লাম আন-নুবালা’-১/১৫৭, ১৫৮; নিসা’ মিন ‘আসর আন-নুবুওয়াহ্-১৬

[8] নিসা’ মিন ‘আসর আন-নুবুওয়াহ্-১৬৯; হায়াতুস সাহাবা-২/৬১১

[9] সূরা আল-আহযাব-৫০

[10] তাফসীর আল-কুরতুবী ও তাফসীর ইবন কাছীর-সূরা আল-আহযাব, আয়াত-৫০, ৫১; আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া-৫/২৫৯; তাবাকাত-৮/১৫৮; আল-বায়হাকী, দালায়িল আন-নুবুওয়াহ-৭/২৮৭

[11] ইবন হিশাম, আস-সীরাহ-২/৪৮৪; উসুদুল গাবা-৫/৪৪৪; আল-ইসাবা-৪/২৯১; আস-সীরাহ্ আল-হালাবিয়্যাহ-৩/৮১, ৮২

[12] নিসা’ মিন ‘আসর আন-নুবুওয়াহ্-১৭০; সাহাবিয়াত-২৫১

সংকলনে : ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ [মাসিক পৃথিবী পুরনো সংখ্যা থেকে সংগৃহীত]

মতামত দিন