ইসলামিক বই ডাউনলোড

বই : শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ [রহ.]

শাইখুল ইসলাম

শব্দদ্বয় শুনলে অকপটে ইবনু তাইমিয়াহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর নামটি মুখে এসে পড়ে।

তিনিই কেন শাইখুল ইসলাম? [পৃ. ১৩, ৮০]

শিবলী নুমানী (১৮৫৭-১৯১৪ খ্রি) (রহিমাহুল্লাহ) তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন যেমন :

১) ইসলামী বিষয়ে গভীর পাণ্ডিত্য ২) সমকালীন দুনিয়াবী জ্ঞানে জ্ঞানী ৩) সশরীরে জিহাদে অংশগ্রহণ।

ইবনু তাইমিয়াহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মধ্যে মুজাদ্দিদ হওয়ার যে বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়েছিল তা ইমাম চতুষ্টয়ের মধ্যেও ছিল না।

আরবী ব্যকরণশাস্ত্রের পিতা হিসেবে পরিচিত শাইখ আবু বিশর `আমর ইবনে উসমান সীবওয়াহ (মৃত্যু ১৬১ হি.) ইমাম ইবনু তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) আরবী ব্যাকরণভিত্তিক কুরআনের ব্যাখ্যার সীবওয়াকৃত ভুলের সংখ্যা ৮০টি নির্ণয় করেন। [পৃ. ২0]

ইমাম গাযযালী (মৃ ৫০৫ হি), তার উস্তায ইমামুল হারামাইন-খ্যাত ইবনে আব্দুল্লাহ আল-যুয়াইনী (মৃ. ৪৭৮ হি), ইমাম রাযী (মৃ. ৬০৬ হি.) এবং অনুরূপ দার্শনিক ফকীহগণের হাদীস সম্পর্কে কোনো পাণ্ডিত্য ছিল না। এদের মধ্যে কেউ কেউ বুখারী-মুসলিমের নাম শোনা ব্যতীত তেমন কিছুই জানতেন না। যেমন সাধারণ লোকেরা বুখারী-মুসলিমের নাম জানে। সহীহ, মুতাওয়াতির, যঈফ ইত্যাদি বিষয়গুলো বুঝতেন না। কেননা তাদের নিকট কুরআনের কোনো আয়াত পাঠ করলে–বলে এই হাদীস সহীহ বলে মানি না। আবার একটি বাক্যকে রাসুলের আয়াত বলে, অথচ তা কুরআনের আয়াত। (মাজমুআল ফাতওয়া ৪র্থ খণ্ড পৃ. ৯৬)

ব্যতিক্রম: ইমাম গাযযালী মৃত্যুর কিছু দিন আগে একজন মুহাদ্দিস রেখে বুখারী মুসলিম অধ্যয়ন করেন।

ইবনু তাইমিয়াহর পিতা ও দাদা উভয়ে বড় আলেম ছিলেন। [পৃ. ৪১]

ইমাম যাহাবী তার পিতা আবদুল হালীম প্রসঙ্গে বলেন তিনি উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে অধিকারী ছিলেন, গণিতশাস্ত্রে যথেষ্ট ব্যুৎপত্তি ছিল, বড় মুহাক্কিক পণ্ডিত ছিলেন। বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী ও হিদায়াতের উজ্জ্বল তারকা ছিলেন।

কিন্তু সেই তারকার জ্যোতি হলো নিষ্প্রভ
চাঁদের আলোয় ও সূর্যের কিরণে

এখানে চাঁদ ইবনু তাইমিয়াহর দাদা মাজদুদ্দীন ও সূর্য ইবনু তাইমিয়াহ।

পিতা আবদুল হালীম অন্যান্য বাচ্চাদের নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার সময় শিশু আহমাদ ইবনু তাইমিয়াহকে নিতে চাইলেন। কিন্তু সে কোনোমতেই যাবে না। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আহমাদকে পিতা বললেন আজকের ভ্রমণটি চমৎকার ছিল। আফসোস তুমি গেলে না। আহমাদ হাতে একখানি কিতাব দেখিয়ে বলল : আপনার সঙ্গে গেলে এই কিতাব মুখস্থ কীভাবে করতাম? পিতা আশ্চর্যান্বিত হয়ে বললেন কি? তুমি এ কিতাবখানি সত্যিই মুখস্থ করে ফেলেছো? পুত্র বললেন জি হ্যাঁ। অতঃপর পিতাকে গোটা কিতাব মুখস্থ শুনিয়ে দিলেন। পিতা খুশিতে জড়িয়ে বললেন এ কথা কাউকে বলো না। কেননা এতে হিংসুকের কুনজর লেগে যেতে পারে। [পৃ. ৪৫]

নাসারা, মাজুসী, নজ্জুমী, খারেজী, শীআ, তাতার, গাউস কুতুব, জিন জাতি, তাতারীদের সঙ্গে যুদ্ধ, রিফায়ী ফিরকা, ওয়াহদাতুল ওয়াজুদ, শাইখ মুহীউদ্দীন ইবনে আরাবী, তাসাউফ, জাহমিয়া, মুতাযিলা-সহ অনেকগুলো বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। [পৃ. ৫০-২০৮]

তাই এটি জীবনী গ্রন্থের সঙ্গে সঙ্গে একটি আকীদার বইও বটে।

বই : শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়াহ (৬৬১-৭২৮ হি.) (রহিমাহুল্লাহ)

সংকলক : আলীমুদ্দীন নদীয়াভী (মৃত্যু ২০০১ খ্রি) (রহিমাহুল্লাহ)

পৃষ্ঠা : ২২৪

প্রকাশনা : আলীমুদ্দীন একাডেমী

মূল্য : ১৫০ টাকা

বইটি ডাউনলোড করতে নিচের লিংক এ ক্লিক করুন

Webserver

মতামত দিন