জীবনী

আবু উমামা ইবন ছা’লাবা (রা)-এর জীবনী

আবু উমামা ইবন ছালাবা (রা) মাদীনার আনসার গোত্র বানূ আল-হারিছার সন্তান। আবূ উমামা তাঁর ডাকনাম, মূল নামের ব্যাপারে রিজাল শাস্ত্রবিদদের বেশ মতপার্থক্য আছে। যেমনঃ ছা’লাবা, সাহল, ইয়াস ইত্যাদি। তবে ইবনুল আছীর বলেন, একমাত্র ‘ইয়াস’ ছাড়া আর কোনটিই সঠিক নয়। তিনি ছিলেন আবু বারদাহর (রা) বোনের ছেলে।[1]

রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন বদর যুদ্ধের উদ্দেশ্যে মাদীনা থেকে বের হবার তোড়জোড় করছেন, আবু উমামাও রাসূলুল্লাহর (সা.) সংগে বের হবার সিদ্ধান্ত নিলেন। তাঁর বৃদ্ধা মা তখন জীবিত। এজন্য তার মামা আবূ বারদাহ ইবন নিয়ার তাঁকে তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে মায়ের পাশে থাকার জন্য বললেন।

জবাবে তিনি তাঁর মামাকে বললেন : না, বরং আপনি আপনার বোনের পাশে থাকুন। আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সংগে যাব। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে অবহিত করা হলো। রাসূলুল্লাহ (সা.) আবু উমামাকে বাড়িতে মায়ের পাশে থাকার জন্য নির্দেশ দিলেন। আবূ বারদাহ (রা) রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সংগে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বদর থেকে ফিরে এসে শুনলেন, আবু উমামার মা মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি তাঁর জানাযার সালাত আদায় করলেন।[2] তাঁর সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর তিনটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। যেমন :

مسلم بغرحقه فعليه لعنة الله. والملايكة، والناس أجمعين.

من اقتطع مال امری

১। কেউ যদি তার কোন অধিকার ছাড়াই কোন মুসলিম ব্যক্তির অর্থ-সম্পদ কেড়ে নেয়, তাহলে তার উপর আল্লাহর ফিরিশতাকুল ও সকল মানুষের অভিশাপ।[3]

البذاذة من الإيمان

২। ‘পোশাকের জরাজীর্ণতা ঈমানের অঙ্গ।[4]

أن النبي صلى الله عليه وسلم حتلى على أمه بعر ما دفنت

৩। নবী (সা.) তাঁর মাকে দাফন করার পর তাঁর জানাযার সালাত আদায় করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) এ হাদীসটিও বর্ণনা করেছেন:[5]

من اقتطع حق امر مسلم بيمينه، فقد أوجب الله له النار، وكوم عليه الجنة، فقال له رجل: وإن كان شيئا يسيرا یا رسول الله؟ قال: «وإن قضيبا من أراك»، ..

“কেউ যদি জোরপূর্বক কোন মুসলিমের কোন অধিকার ছিনিয়ে নেয়, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নামের আগুন অবধারিত এবং জান্নাত হারাম করে দেন। এক ব্যক্তি বললোঃ যদি তা অতি তুচ্ছ জিনিস হয়? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেনঃ আরাক গাছের একটি ডালই হোক না কেন। আবূ উমামা (রা) উহুদ যুদ্ধের পর মৃত্যুবরণ করেন। অবশ্য ভিন্ন মতও আছে।[6]

তথ্যসূত্র : 

[1] উসুদুল গাবা- ১/২১৩; ৫/১৭

[2] প্রাগুক্ত-৫/১৭

[3] আল-ইসাবা-১/৯; মুসনাদু আহমাদ-৫/২৬০

[4] সুনানু আবী দাউদ ও কিতাবুত তারাজুল-৪/৭৫; ইবনু মাজাহ : কিতাবুয যুহদ-২/১৩৭৯

[5] সাহীহ মুসলিম : কিতাবুল ঈমান-১৮৫

[6] উসুদুল গাবা-১/২১৩-২১৪।

গ্রন্থনায় : ড. মুহাম্মাদ আবদুল মাবুদ [মাসিক পৃথিবী পুরনো সংখ্যা থেকে সংগৃহীত]

মতামত দিন