জীবনী

আবু ‘আমারাহ আল-আনসারী (রা)-এর জীবনী

রচনায়ঃ ড. মুহাম্মাদ আবদুল মাবুদ

আবু ‘আমারাহ মাদীনার খাযরাজ গোত্রের একজন আনসারী সাহাবী। ‘আবু আমারাহ’ তাঁর কুনিয়াত বা ডাকনাম, আর এ নামেই প্রসিদ্ধ। তাঁর আসল নামের ব্যাপারে সীরা বিশেষজ্ঞদের মত-পার্থক্য আছে। যেমন কেউ বলেছেন ‘বাশীর’, আবার কেউ বলেছেন ‘ছা’লাবা’। ইবনুল কালবী তাঁর নাম ‘ছা’লাবা’ বলেছেন। আবু নু’আইম বলেছেনঃ তিনি উহুদ ও পরবর্তী কালের সকল যুদ্ধ ও অভিযানে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সাথে অংশগ্রহন করেন। অনেকে বদর যুদ্ধেও তার অংশ্রহণের কথা বলেছেন।[1]

মুহাম্মাদ ইবন আল-হানাফিয়্যা বলেনঃ আমি সিফফীন যুদ্ধের দিন আবূ আমারাহকে দেখেছি। তিনি ছিলেন একজন ‘আকাবার বায়’আতকারী, বদর ও উহুদের যোদ্ধা। সিফফিনে যুদ্ধের দিন তিনি ছিলেন সাওম পালন অবস্থায় এবং পিপাসায় কাতর। এ অবস্থায় তিনি তার এক দাসকে বললেনঃ আমার ঢালটি দাও। সে একটি ঢাল দিল। তিনি শামবাসীদের দিকে একটি তীর নিক্ষেপ করলেন। কিন্তু তা খুব দুর্বলভাবে বের হলো। এভাবে তিনি তিনটি তীর ছুড়লেন। তারপর তিনি বললেনঃ ‘আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছিঃ যে আল্লাহর রাস্তায় একটি তীর ছুড়বে, অতঃপর তা লক্ষ্যস্থলে পৌছক বা না পৌছুক, সেই তীরটি কিয়ামতের দিন তার জন্য নূর (আলো) হবে’।

আবূ ‘আমারাহর (রা) পুত্র ‘আবদুর রাহমান তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বদর অথবা উহুদ যুদ্ধের দিন তার কয়েকজন ভাইকে সংগে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিকট যান। রাসূলুল্লাহ (সা.) (গনীমতের সম্পদ) থেকে পদাতিক সৈনিকদেরকে এক ভাগ একভাগ এবং অশ্বাবেশী সৈনিকদেরকে দু’ভাগ করে দেন।[2]

আবু ‘আমারা (রা) বলেন, আমরা একটি যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সংগে ছিলাম। মানুষ ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে। লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নিকট তাদের বাহন একটি উট যবেহ করার অনুমতি চাইলো। তারা বললোঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! আগামীকাল ক্ষুধার্ত অবস্থায় আমরা যখন শত্রুর মুখোমুখি হবো তখন আমাদের কি অবস্থা হবে? তবে ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি যদি চান, মানুষকে বলতে পারেন, যার কাছে যতটুকু খাদ্য সামগ্রী আছে তা একস্থানে জমা করুক। তারপর আপনি তাতে বরকতের জন্য দু’আ করবেন?

অতঃপর নাবী (সা.) মানুষকে আহ্বান জানালেন, তারা যেন তাদের অবশিষ্ট খাদ্যসামগ্রী এক স্থানে জমা করে। লোকেরা সে আবেদনে সাড়া দিয়ে প্রত্যেকেই তার কাছে থাকা সামান্য খাবার হাজির করলো। রাসূলুল্লাহ (সা.) সেগুলো একস্থানে জমা করে উঠে দাঁড়ালেন। তারপর আল্লাহর কাছে দু’আ করলেন। তারপর সৈনিকদেরকে তাদের প্রত্যেকের কাছে যে সব পাত্র আছে তা নিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানালেন।

তারপর তাদেরকে নিজ নিজ হাত দিয়ে খাবার উঠিয়ে যার যার পাত্র ভরে নিয়ে যাবার জন্য বললেন। সবাই সে আদেশ-পালন করলো। সকল সৈনিকদের সকল পাত্র পূর্ণ হবার পরও প্রথমে যে পরিমাণ খাদ্য ছিল, সে পরিমাণ অবশিষ্ট থেকে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) এমনভাবে হেসে দিলেন যে তাঁর দাঁতগুলো বেরিয়ে গেল।[3]

তিনি সিফফীন যুদ্ধে আলীর (রা) পক্ষে যোগদান করে সেখানে শাহাদাত বরণ করেন।[4]

সূত্রঃ মাসিক পৃথিবী, নভেম্বর সংখ্যা।

তথ্যসূত্রঃ

[1] আল-ইসাবা-৪/১৪১; উসুদুল গাবা-৫/২৩১

[2] উসুদুল গাবা-৫/২৩২; মুসনাদু আহমাদ-৩/৪০৮, ৪১৭।

[3] প্রাগুক্ত

[4] উসুদুল গাবা-৫/২৩২।

মতামত দিন

কমেন্ট

  • […] রচনায়ঃ ড. মুহাম্মাদ আবদুল মাবুদ আবু ‘আমারাহ মাদীনার খাযরাজ গোত্রের একজন আনসারী সাহাবী। ‘আবু আমারাহ’ তাঁর কুনিয়াত বা ডাকনাম, আর এ নামেই প্রসিদ্ধ। তাঁর আসল নামের ব্যাপারে সীরা বিশেষজ্ঞদের মত-পার্থক্য আছে। যেমন কেউ বলেছেন ‘বাশীর’, আবার কেউ বলেছেন ‘ছা’লাবা’। ইবনুল কালবী তাঁর নাম ‘ছা’লাবা’ বলেছেন। আবু নু’আইম বলেছেনঃ তিনি উহুদ ও পরবর্তী কালের সকল যুদ্ধ […] Source link […]