সাম্প্রতিক বিষয়

মজলুম বাবরি মসজিদের কান্না এবং মুসলিমদের প্রতি জেগে ওঠার আহ্বান

– ওরা জোর করে মুসলিম পুরুষদের কপালে তিলক আর নারীদের মাথায় সিঁদুর পরিয়ে হিন্দু বানানোর চেষ্টা করে!

– জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলিয়ে হিন্দু বানানোর চেষ্টা করে! এ জন্য তারা কত মুসলিমকে হত্যা করেছে আর কত মা বোনের ইজ্জত-সম্ভ্রম নষ্ট করেছে তার কোন ইয়ত্তা নেই।

– ওরা গরু জবেহের অপরাধে মুসলিমদেরকে পিটিয়ে হত্যা করে!

– ওরা বিনা প্রমাণে আদালতের নির্লজ্জ রায়ে ৪০০ বছরের পুরনো মসজিদ ভেঙ্গে সেখানে রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু করেছে!

– ঐ তো কদিন আগেও ওরা দিল্লীতে অতর্কিত মুসলিমদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এবং ঘরবাড়ি, দোকানপাটে অগ্নি সংযোগ করেছে।

– বিভিন্ন মসজিদে অগ্নি সংযোগের পাশাপাশি মসজিদের মিনারে হিন্দু গেরুয়া পতাকা বেধে দিয়েছে।

– ২০০২ সালে ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গুজরাটে স্মরণকালের ভয়াবহ মুসলিম নিধন তো ভুলার নয়।

– ভূস্বর্গ কাশ্মীরে মুসলিমদের প্রতি নিষ্ঠুরতম অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে-চলছে এখনো। অদ্যবধি দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে স্বাধীনচেতা বীর কাশ্মীরীদের।

এসব নতুন নয়। হিন্দুদের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার পর থেকেই ওরা মুসলিমদের উপর এভাবে চালাচ্ছে জুলুম-নির্যাতন। এত ঘটনার ফিরিস্তি দিয়ে শেষ করা যাবে না।

এসব উগ্র ও বর্বর হিন্দুদের প্রতি প্রশ্ন হল, তোমরা এসব করে কি তোমাদের হিন্দু ধর্মকে টিকিয়ের রাখতে চাও চাও? নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য পাগল হয়ে গেছো তাই না?

কিন্তু বাস্তবতা বলছে উল্টো কথা। তোমাদের এই জিঘাংসা ও জুলুম-নির্যাতনে হিতে বিপরীত হয়েছে। তোমরা জানো না, মুসলিম জাতির উপর যত বেশি নির্যাতন আসে তারা তত বেশি পুনর্জীবিত হয়। সে কারণেই দেখা যাচ্ছে, এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী মুসলমানদের জনসংখ্যা বছরে ০.৮ শতাংশ হারে বাড়ছে অপরদিকে হিন্দুদের সংখ্যা বছরে ০.৭ শতাংশ হারে কমেছে। আর তাই তো হিন্দুদের অস্তিত্বকে টেকানোর আর্তি ফুটে উঠেছে বিজেপি নেতা শ্যামল গোস্বামীর কণ্ঠে। সে বলেছে, “হিন্দু পরিবারে পাঁচ জন করে সন্তান থাকা উচিত। অন্যথায় ভবিষ্যতে কোন হিন্দু থাকবে না। হিন্দু ও সনাতন ধর্মকে রক্ষা করতে সবার পাঁচটি করে সন্তান থাকা উচিত।”

তারা লিফলেট ছড়াচ্ছে, ‘ভারত যখন স্বাধীন হয়, তখন ভারতে ৩ কোটি মুসলমান ছিল। আজ ওরা ৩৫ কোটি।’ (সূত্র: গুজরাট দিচ্ছে ডাক, সম্পাদনা অশোক দাশ গুপ্ত, পৃ. ২৬-২৮, ইতিহাসের এক বিস্ময়কর অধ্যায়: গোলাম আহমদ মোর্তজা, পৃ. ৩৪)

স্মরণ রেখো, ভারতে সর্বপ্রথম মুসলমানগণই সভ্যতা গড়ে তোলে। তার পূর্বে তারা ছিল, অসভ্য, বর্বর, মানবাকৃতির বস্ত্রহীন জংলী পশুর মতো। তাদের না ছিল কোনও দেশাত্ববোধ, না ছিল কোনও সভ্যতা, না কোনও স্বাধীনতার প্রতীক, না জাতিগত কোনও বৈশিষ্ট্য। মুসলিমরা ক্ষমতার মসনদে আরোহনের পরে এসব কুসংস্কারাচ্ছন্ন হিন্দুদেরকে সভ্যতা শিক্ষা দিয়েছে। তারা প্রায় ৭০০ বছর ধরে মহা প্রতাপে ভারত শাসন করেছে এবং তাকে তিলে তিলে সাজিয়েছে।

তারা যদি হিন্দুদের উপর নির্যাতন করত বা মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ করত তাহলে ভারতের মাটিতে একজন হিন্দুও খুঁজে পাওয়া যেত না, থাকত না তাদের কোন মন্দিরের অস্তিত্ব। কিন্তু মাত্র ক বছর ধরে তোমরা ক্ষমতায় আসার পরে হিংস্র উন্মাদনায় পাগল হয়ে মুসলিমদেরকে ভারত ছাড়ার হুমকি দিচ্ছ আর শ্লোগান দিচ্ছ” হিন্দুস্তান হিন্দুদের!”

যাহোক, বিশ্বাস করি, এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতের মাটিতে মুসলিমদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস থেকে মুসলিমরা নতুনভাবে পুনরুজ্জীবিত হবে, যে সব মুসলিম এখনো জেগে জেগে ঘুমাচ্ছে তাদের ঘুম ভাঙ্গাতে সাহায্য করবে এবং শিরক, বিদআত, কুসংস্কার ও অপসংস্কৃতির গাঢ় অন্ধকার ভেদ করে ঈমানের বহ্নিশিখা জ্বলে উঠবে ভারতের প্রতিটি মুসলিম যুবক-যুবতির হদয়ে এবং তারা প্রজ্ঞা-প্রতীতি উন্নত করে সংহতি গড়ে তুলবে ইনশাআল্লাহ।

তাহলেই খুব অদূর ভবিষ্যতে আবারও ঐ মজলুম বাবরি মসজিদের স্থানে নির্মিত রাম মন্দিরের গেরুয়া পতাকার পরিবর্তে সুউচ্চ মিনার বিশ্ববাসীকে বিজয়ের জানান দিবে। আর পূজার ঢাকঢোলের আওয়াজের পরিবর্ততে আজানের তাকবির ধ্বনিতে প্রকম্পিত হবে অযোধ্যার প্রতিটি গৃহকোণ এবং তা বিজয়ের ধ্বনি হয়ে ছড়িয়ে পড়বে ভারতের প্রতিটি প্রান্তে ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তাআলা যথার্থই বলেছেন,

وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

“আর তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও তবে, তোমরাই জয়ী হবে।” (সূরা আলে ইমরান: ১৩৯)

হে দয়াময়, হে মহা প্রতাপশালী আল্লাহ, তুমি মুসলিমদের হৃদয়ে নির্ভেজাল তওহিদ ও ঈমানের মশাল জ্বালিয়ে দাও, তাদেরকে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি দাও এবং তাদেরকে রক্ষা করো সব ধরণের জুলুম-নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রের কবল থেকে। নিশ্চয় তোমার শক্তি অপরাজেয়। আল্লাহুম্মা আমিন।

লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

সূত্র

মতামত দিন