জীবনী

‘আমির ইবন রাবীআ (রা)-এর জীবনী

‘আমিরের (রা) পিতার নাম রাবি’আ ইবন মালিক এবং তাঁর ডাকনাম আবু আবদিল্লাহ। ইসলামের প্রথম পর্বে ‘আমির মাক্কায় ইসলাম গ্রহণ করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তখনও মাক্কায় দারুল আরকামে অবস্থান গ্রহণ করেননি। তারপর কুরায়শদের অত্যাচারের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে তিনি ও তাঁর স্ত্রী হাবশায় হিজরত করেন। সেখানে কিছুদিন অবস্থান করার পর মাক্কায় ফিরে আসেন। তারপর আবার সস্ত্রীক মাদীনায় হিজরত করেন। তাঁর স্ত্রীর নাম লায়লা বিনত আবী হাছমা। একটি বর্ণনা মতে মাক্কা থেকে মাদীনায় হিজরাতকারী প্রথম মহিলা হলেন এই লায়লা। আর পুরুষদের মধ্যে সর্ব প্রথম যিনি মাদীনায় হিজরাত করেন তিনি হলেন আবু সালামা ইবন আবদিল আসাদ।

‘আমির (রা) বদর সহ সকল যুদ্ধ ও অভিযানে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে কিছু হাদীছও বর্ণনা করেছেন।

‘আমির ইবন উবায়দিল্লাহ এক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেন, নাবী (সা.) তাঁকে বলেন :

‘আমার পরে এমন সব শাসক হবে যারা যথা সময়ে সালাত আদায় করবে, আবার দেরীও করবে। তোমরা তাদের সাথেই সালাত আদায় করবে। যদি তারা যথা সময়ে সালাত আদায় করে, আর তোমরা তাদের সাথে সালাত আদায় কর তাহলে তা তোমাদের ও তাদের উভয়ের জন্য কল্যাণকর হবে। আর যদি তারা দেরীতে সালাত আদায় করে আর তোমরাও যদি তাদের সাথে সালাত আদায় কর তাহলে তা হবে তোমাদের জন্য কল্যাণকর, আর তাদের জন্য অকল্যাণকর। আর যে দল ত্যাগ করবে, তার মৃত্যু হবে জাহিলী মৃত্যু। আর যে অঙ্গীকার ভঙ্গ করবে এবং অঙ্গীকার ভঙ্গকারী হিসেবে মৃত্যু বরণ করবে, কিয়ামতের দিন সে এমনভাবে উঠবে যার কোন যুক্তি-প্রমাণ থাকবে না।

বর্ণনাকারী ‘আসিমকে জিজ্ঞেস করা হয়, এ হাদীছটি কে আপনাকে বর্ণনা করেছেন? তিনি বলেন, আমি শুনেছি ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘আমির থেকে আর তিনি শুনেছেন তাঁর পিতা ‘আমির ইবন রাবীআ (রা) থেকে।

‘আমির ইবন রাবীআ (রা) রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নিমের হাদীছটিও বর্ণনা করেছেন :

“তোমাদের কেউ যখন কোন জানাযা (মৃতদেহ) যেতে দেখবে, তখন যদি তার সঙ্গে যেতে নাও পার, উঠে দাঁড়াবে- যতক্ষণ না তা চলে যায়, অথবা রাখা হয়।

‘আমির ইবন রাবীআ (রা) হিজরী ৩২ সনে বিদ্রোহীরা যখন খলীফা উছমানের বাড়ি ঘেরাও করে রাখে এবং তাঁকে হত্যা করে, সে সময় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর ছেলে ‘আবদুল্লাহ বলেন, যে রাতে বিদ্রোহীরা খলীফা ‘উছমানের গৃহে প্রবেশ করে তাঁকে হত্যা করে সেই রাতে তিনি ঘুম থেকে উঠে সালাত আদায় করেন। তারপর আবার ঘুমিয়ে যান। ঘুমের মধ্যে তিনি স্বপ্নে দেখেন, কেউ যেন বলছেঃ ওঠো! এই বিশৃঙ্খলা থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা কর যা থেকে আল্লাহ তাঁর নেক বান্দাদের বাঁচিয়েছেন। তিনি ঘুম থেকে উঠে আবার সালাত আদায় করে দু’আ করেন। তারপর ‘উছমানের (রা) জানাযার সালাতে অংশগ্রহণ ছাড়া আর ঘর থেকে বের হননি। একথাও বর্ণিত হয়েছে যে, খলীফা ‘উছমানকে (রা) হত্যার কয়েকদিন পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে হিজরী ৩৩, ৩৬ ও ৩৭ সনের কথাও বর্ণিত হয়েছে।

‘উমার (রা) এর পিতা খাত্তাব জাহিলী যুগের রীতি অনুযায়ী ‘আমিরকে ছেলে হিসেবে। গ্রহণ করেন। এ কারণে ইসলামী যুগেও তাঁকে ‘আমির ইবন আল-খাত্তাব অর্থাৎ খাত্তাবের ছেলে আমির বলে ডাকা হতো। তখন এ প্রথা বাতিল করে নাযিল হয়- তাঁদেরকে ডাক তাঁদের জন্মদাতা পিতার নামে।

খলীফা ‘উমারের (রা) ‘জাবিয়া’ সফরের সময় তিনি তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন। খলীফা “উছমান (রা) একবার যখন হাজ্জ আদায়ের জন্য মাক্কায় যান তখন মাদীনায় তাঁকে স্বীয় স্থলাভিষিক্ত করে যান।

তথ্যসূত্রঃ

১। উসুদুল গাবা-৩/১৬; তাহযীবুল কামাল ফী আসমা’আর-রিজাল-৯/৩৪৪

২। উসুদুল গাবা-৩/১৭; মুসনাদু-আহমাদ-৩/৪৪৫

৩। আল-ইসাবা-২/৭৪৯; তাহযীবুল কামাল ফী.আসমা আর-রিজাল-২/৭৪৯

৪। আল-ইসাবা-২/২৪৫

গ্রন্থনায় :  ড. মুহাম্মাদ আবদুল মাবুদ [মাসিক পৃথিবী পুরনো সংখ্যা থেকে অনুলীপিকৃত]

মতামত দিন