কুরআন

ডিপ্রেশনের মহৌষধ সূরা আদ-দোহা

আমাদের সকলের জীবনেই এমন মূহুর্ত আসে যে,আমরা আমাদের জীবন নিয়ে হতাশ হয়ে পড়ি,আমরা আমাদের উপর বিশ্বাস রাখতে পারি না,মনে হয় আমার দোয়া আল্লাহর কাছে পৌচাচ্ছে না,তিনি আমাকে ভালোবাসেন না।কি লাভ আর ইবাদত করে,অনেকেই ইবাদত ছেড়ে দেই।আটকে পড়ি হতাশাগ্রস্ত এক জীবনে!! হুম আমাদের মত হতাশাগ্রস্ত দের জন্যই সূরা আদ-দোহা আল্লাহর এক বিশেষ রহমত।

“সূরা আদ-দোহা” পবিত্র কোর-আন শরিফের ৯৩ তম সূরা,এই সূরাটি নাযিল হয় যখন আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর নিকট ৬ মাস কোন অহী আসে নি।আল্লাহ সোবহানের পক্ষ থেকে আসে নি জিবরাইল (আ:) ,আসে নি স্বপ্ন যোগে কোন বার্তা। ৬ মাস!!

তখন নবী (সঃ) খুব হতাশ হয়ে পড়েন,ভাবেন যে নবীকে হয়তো আল্লাহ আর ভালোবাসেন না।তাকে(নবীকে) আল্লাহ ঘৃনা করে,তাকে(নবীকে) আর হয়তো নবী হিসেবে চান না আল্লাহ তায়ালা।নবী যখন হতাশায় আচ্ছন্ন তখন আল্লাহ সোবহান ও তায়ালা নাযিল করেন এই সূরা টি।

সূরার প্রথম আয়াতে আল্লাহ বলেন৷ (১) “” শপথ পূর্বাহ্নের “”

এই সূরাটি শুরুই করেছেন আল্লাহ এক ম্যাজিকাল শব্দ দিয়ে,”পূর্বাহ্নের”!! আমরা যারা হতাশায় জীবন কাটাই আমারা সকালে উঠতে পারি না,সারাদিন আমাদের আশাগ্রস্থ ভাবে অলসতায় কাটে।তাই যারা হতাশায় আচ্ছন্ন,সকালে উঠুন,ভোরের সূর্যদয় দেখুন।দেখুন মহান রাব্বুল আলামীন কত সুন্দর করে সকালকে সাজিয়েছেন। যা আপনার দিনটিকে সুন্দর করে সাজাতে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ।

সূরার দ্বিতীয় আয়াতে আল্লহ বলেন (২)”শপথ রাত্রি যখন গভীর হয়””

আমরা অনেকেই যারা হতাশায় থাকি,আমারা রাতে জেগে থাকি, ঘুমাই ৪/৫ টায়।এইভাবে আমাদের শরীর আরো অসুস্থ হয়ে যায়।মনে অসুস্থতা বেধে বসে।আপনি রাতে ঘুমিয়ে পড়ুন তাড়াতাড়ি,সুস্থ মনের জন্যে প্রথমেই দরকার ভালো ঘুম।আর গভীর রাতে উঠুন,আপনার স্রস্টাকে ডাকুন,তিনি অবশ্যই আপনাকে ভুলে যান নি,আপনাকে ঘৃনা ও করেন না।

আল্লাহ সূরাটির তৃতীয় আয়াতেই সেটা বলেন(৩) “”” আপনার পালন কর্তা আপনাকে ত্যাগ করেন নি,এবং আপনার প্রতি বিরূপ ও হন নি।

(৪)-আপনার জন্যে পরকাল ইহকাল অপেক্ষা শ্রেয়।

সূরার ৬ নাম্বারের আয়াতে আল্লাহ বলেন,””তিনি কি আপনাকে এতিমরূপে পাননি?অতঃপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন””

আমরা যারা আমাদের জীবনের এই অবস্থা নিয়ে হতাশায় থাকি, আল্লাহ এই সূরার ৬-১০ নাম্বার আয়াতে রেখেছে এর ঔষুধ।

আপনি যখনই হতাশা গ্রস্থ হয়ে পরেন,ভাবুন আপনার অতীতর কথা,আপনার কি কখনো অসুখ হয় নি? আপনি কি ব্যার্থ হয়েছে না জীবনে??কখনো ঝৃন গ্রস্থ হন নি?তখন আপনাকে সেই বিপদ হতে কে রক্ষা করেছে! নিশ্চয়ই আল্লাহ সোবহান ও তায়ালা।তাহলে এখনো হতাশ হবার দরকার নেই,আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখুন।অবশ্যই দূঃখের পরই রয়েছে সুখ।

আপনি ভাবুন,এতিমদের কথা যাদের বাবা -মা নেই।ঈদে তাদের কোথাও যাওয়ার নেই।আপনার ত মা-বাবা রয়েছেন।ফ্যামিলি আছে।সেটা আল্লাহর কত বড় নেয়ামত,তবুও আপনি ভাবছেন আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসেন না!

ভাবুন বিখারীদের কথা যারা আপনার কাছে খাদ্য চায়।একটু পেটভরে খাওয়ার জন্যে।আমরা কতদিন না খেয়ে থেকেছি?? দ্যা লাইফ উই আর লিড নাউ ইট ইস দ্যা ড্রিম অফ মিলিয়ন্স””তার পরও আমরা ভাবি আল্লাহ আমাদের ভালোবাসেন না।আমার দোয়া তিনি শোনেন না?? আমার স্বপ্ন গুলো পূরন করেন না??

সূরার শেষ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ডিপ্রেশন কাটানোর আরেকটা উপায়ের কথা বলেছেন আল্লাহ বলেন -(১১) “”এবং পালনকর্তার নিয়ামতের কথা প্রকাশ করুন”””

আল্লাহ যেই নিয়ামত দিয়েছেন তার কথা ভাবতে শিখুন,তিনি কি আপনাকে সুন্দর দুটি হাত-চোখ দেন নি? তার জন্যে কি আমরা আলহামদুলিল্লাহ বলতে পারি না!

তাই আমরা যারা আমাদের জীবন নিয়ে হতাশ,আসুন সকালে উঠি, নামাজ আদায় করে সুন্দর সূর্যদয় দেখি।আল্লাহর অপরূপ সৃষ্টি দেখে জোরে চিৎকার করে বলে উঠি আলহামদুলিল্লাহ ফর এভ্রিথিং.

সূত্র

মতামত দিন