ইসলামী শিক্ষা

দোয়া কবুলের বিশেষ ২৮ টি স্থান

হাদিসের রেফারেন্স সহ দোয়া কবুলের বিশেষ ২৮ টি স্থান বা ক্ষনগুলো নিম্নরূপঃ

১) অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য দোয়া (কোন মুসলিমের পিছনে বা অগোচরে অন্য মুসলিমের দোয়া)। (মুসলিম ৬৮২২)

২) জালিমের বিরুদ্ধে মজলুম ব্যক্তির দোয়া। (জামে আত তিরমীযি ৩৪৪৮)

৩) বাবা তার সন্তানের জন্য দোয়া (নেক দুয়া বা বদ দুয়া) (তিরমীযি ৩৪৪৮)

৪) নেককার সন্তানের পিতামাতার জন্য দোয়া ( আবু দাউদ ২৮৮০)

৬) আরাফাতের ময়দানে দোয়া।(তিরমীযি ৩৫৮৫)

৬) বিপদগ্রস্ত অসহায় ব্যক্তির দোআ (সূরা নামাল ৬২,৫৭ ও সূরা ইসরার ৬৭ নাম্বারর আয়াত)

৭) সেজদায় দোয়া।(নাসায়ী ১০৪৫)

৮) হজ্জের স্থানসমূহে দোয়া (যেমন: আরাফা, মুজদালিফা, মিনা…)(ইবনে মাজাহ২৮৯২)

০৯) হাজ্জীর দোয়া (হজ্জ করা অবস্থায়)।(ইবনে মাজাহ২৮৯৩)

১০) উমরাহকারীর দোয়া (উমরাহ করার সময়)।(নাসায়ী ২৬২৫

১১) আযানের পর দোয়া।(তিরমীযি ২১০)

১২) যুদ্ধ চলাকালীন সময় দোয়া।(আবু দাউদ২৫৪০)

১৩) বৃষ্টি বর্ষণকালে দোয়া।(আবু দাউদ ২৫৪০)

১৪) শেষ রাতে তাহাজ্জুদে দোয়া(বুখারী ১১৪৫)

১৫) জুম্মার দিনে দোয়া (আছর থেকে মাগরিব পর্যন্ত)(নাসায়ী১৩৮৯)

১৬) লাইলাতুল কদরের দোয়া।(বুখারী ও মুসলিম)

১৭) আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময় দোয়া।(আহমাদ ১৪৬৮৯)মুসলিম ৬৬৮

১৮)ফরয সালাতের শেষে দোয়া।(রিয়াদুস স্বালেহিন ১৫০৮,তিরমিযি ৩৪৯৯)

১৯) মুসাফির ব্যক্তির দোয়া (সফর অবস্থায়)।(তিরমীযি ৩৪৪৮)

২০) রোজাদার ব্যক্তির দোয়া (রোজা অবস্থায়)।(ইবনে মাজাহ ১৭৫২)

২১) ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া।(তিরমীযি ২৫২৬)

২২) ঘুম থেকে উঠে বিশেষ দোয়া পাঠ করার পর দোয়া করলে কবুল হয়।(বুখারী ১১৫৪)

২৩) দোয়া ইউনুস পাঠ করে দুয়া করলে কবুল হয়।(তিরমিযি৩৫০৫)

২৪) ইসমে আযম পড়ে দোয়া করলে কবুল হয়।(ইবনে মাজাহ ৩৮৫৬)

২৫) বিপদে পতিত হলে যে দোয়া পড়া হয়(ইন্না লিল্লাহি……রাজিউন)এবং (আল্লা-হুম্মা আজিরনি ফি মুসিবাতি ওয়া ওয়াখলিফলী খইরাম মিনহা…) তখন দোয়া কবুল হয়।(মিশকাতুল মাসীবাহ ১৬১৮,মুসলিম ৯১৮)

২৬) জমজমের পানি পান করার পর দোয়া।(ইবনে মাজাহ ৩০৬২,আহমদ ৩/৩৫৭)

২৭) নির্যাতিতের দোয়া (তিরমিযি৩৪৪৮)

২৮) দু’হাত তুলে দোয়া করা,আল্লাহ খালি হাত ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। (আবু দাউদ ১৪৮৮)

(বিস্তারিত জানতে উল্লেখ্য রেফারেন্স সমূহ দ্রষ্টব্য)

দোয়া কবুলের আদব/বৈশিষ্ট্য:

হালাল খাদ্য খাওয়া,হারাম খাদ্য ও কাজ থেকে দুরে থাকা।[মিশকাত হা:২৭৬০]

খাটি অন্তরে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে দোয়া করা।[বুখারি,মিশকাত ১]

ওযু করে দোয়া করা[বুখারি ৬৩৮৩]

নেক আমল বা ভালো কাজ আল্লাহ’র কাছে তুলে ধরে দোয়া করা।[বুখারি হা:৪৯৩৮]

দু’য়া করার শুরুতে আল্লাহ্’র প্রশংসা ও নাবী(সা:) এর উপর দরুদ পাঠ করা।[তিরমিযি হা:৩৭২৪]

কিবলামুখি হয়ে দোয়া করা।[বুখারি হা:৬৩৪৩]

দুই রাকাত সালাত আদায় করে দোয়া করা।[আবু দাউদ ১৫২১]

নম্রতা ও বিনয়ের সাথে দোয়া করা।[সুরা আরাফ ২০৫]

পাপ স্বীকার করে দোয়া করা।[মিশকাত হা:২৩৩৩]

আল্লাহ্’র সুন্দর সুন্দর নামের উসিলায় দোয়া করা।[সুরা আরাফ ১০৮[

নিরবে দোয়া করা।[সুরা আরাফ ৫৫,২০৫]

মনে আশা নিয়ে দৃঢ়তার সাথে দোয়া করা।[মিশকাত ১৪৮৪]

দোয়ার ফলাফল নিয়ে তাড়াহুড়া না করা(সহি বুখারী ৬৩৪০) দু’হাত তুলে দোয়া করা(আবু দাউদ ১৪৮৮)

 আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নের দোয়া না করা কিনবা অন্যায় কাজের দোয়া না করা (সহি মুসলিম ৬৮২৯)

উপরে বর্ণিত সময়ে উল্লেখিত পন্থায় দোয়া করলে ইনশাআল্লাহ দোয়া কবুল হবে।

Source

মতামত দিন