ক্রিসমাস (Christmas)

ক্রিসমাস (Christmas)
লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী মু. ইউসুফ
সম্পাদনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী আব্দুল জলীল
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
২৫ ডিসেম্বর। খ্রিষ্টানদের বড়দিন। দিনটি খ্রিষ্টান বিশ্বে জাঁকজমক পূর্ণভাবে উদযাপিত হয় তাদের ধর্মীয় উৎসব হিসেবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে আজ মুসলিম বিশ্বেও দিনটি বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। তাই আলোচনা করতে চাচ্ছি যে, এই বড়দিন বা ক্রিসমাস কি?

❑ ক্রিসমাস কি
খ্রিস্টানদের এক সম্প্রদায়ের নিকট এই দিনটি স্রষ্টার জন্ম দিন আবার অপর সম্প্রদায়ের নিকট স্রষ্টার সন্তানের জন্ম দিন হিসেবে পরিচিত। এই দিনটিতে তারা বিভিন্ন রকম উপহার আদান প্রদান, আলোক সজ্জা, বিভিন্ন রকমের খাবার, বিশেষ চা পান, চার্চে গমন ইত্যাদির মাধ্যমে অতিবাহিত করে থাকে।
ইংরেজি Christmas শব্দটির দুটি অংশ একটি Christ অপরটি mas,
Christ এটি ঈসা আলাইহিস সালাম-এর একটি উপাধি, আর mas অর্থ জন্মদিন বা জন্মোৎসব। তাহলে Christmas-এর মাধ্যমে ঈসা আলাইহিস সালাম-এর জন্মোৎসব বোঝানো হয়ে থাকে।
যদিও আজকে খ্রিষ্টানরা এই দিনটিকে ঈসা আলাইহিস সালাম-এর জন্ম দিন হিসেবে পালন করে থাকে কিন্তু বাস্তবে ইতিহাসে তাঁর জন্ম তারিখ সঠিক ভাবে বর্ণিত নেই। এ নিয়ে স্বয়ং খ্রিস্টানদের মাঝেও মতবিরোধ আছে। তাই দেখা যায় ক্যাথোলিক খ্রিষ্টানরা ২৫ ডিসেম্বরকে ক্রিসমাস হিসেবে পালন করে থাকে আর অপর দিকে অর্থোডক্স (Orthodox) ৭ জানুয়ারিকে ক্রিসমাস হিসেবে পালন করে থাকে।
নিঃসন্দেহে ক্রিসমাস খ্রিস্টানদের একটি ধর্মীয় উৎসব, কিন্তু আজকে খ্রিষ্টানদের এই আনুষ্ঠানিকতা এবং সে সময় ঈসা আলাইহিস সালাম-এর জন্ম লগ্নে তাদের পূর্বসূরিদের প্রতিক্রিয়ার কথা আমাদের কে কী বার্তা দিচ্ছে? আজকের ক্রিসমাস পালনকারীরা কি তাদেরই পরবর্তী জেনারেশন নয় যারা ঈসা আ.-এর ভূমিষ্ঠকালে তাঁর মাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিল? যারা তাঁকে আল্লাহর পুত্র বলে আখ্যায়িত করেছিল? এবং যারা তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছিল?
আফসোস! যারা তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছিল তারা আজ তাঁর জন্মোৎসব পালন করছে। এ যেন চোরের মার বড় গলা।
❑ মূলত: ঈসা আলাইহিস সালাম এর জন্ম তারিখ কোনটি?
ক্যাথোলিকদের ধারণামতে ২৫ ডিসেম্বর না অর্থোডক্সদের ধারণামতে ৭ জানুয়ারি? মূলত: খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রন্থসমূহে এর সঠিক তারিখ নির্ধারিত করে বর্ণনা করা হয়নি। তবে কোরআন কারীমের ভাষ্য অনুযায়ী দেখা যায় যে, মারিয়াম আলাইহিস সালাম কে লক্ষ্য করে তার গর্ভাবস্থায় আল্লাহ বলছেন,
وَهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا
“আর তুমি নিজের দিকে খেজুর গাছের কাণ্ডে নাড়া দাও তাহলে তা থেকে তোমার উপর সুপক্ব খেজুর পতিত হবে।” [সূরা মারিয়াম: ২৫]
এখান থেকে বুঝা যায় যে, ঈসা আলাইহিস সালাম-এর জন্ম ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে নয় বরং জুন বা জুলাই মাসে। কারণ খেজুর একটি গ্রীষ্মকালীন ফল; শীতকালীন ফল নয়। তাহলে যদি তাঁর জন্ম তারিখটিই সঠিক ভাবে নির্ধারিত না হয় তাহলে কীসের ভিত্তিতে এই আনুষ্ঠানিকতা? আশ্চর্য জনক বিষয়।
দেখুন, আমাদের নবী মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্ম তারিখও নির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত নয়। এমনিভাবে ঈসা আলাইহিস সালাম-এর জন্ম তারিখও সঠিকভাবে প্রমাণিত নেই। আমার মনে হয়, এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর নবী দ্বয়কে মানুষের অতিরঞ্জন থেকে রক্ষা করেছেন।
❑ ক্রিসমাস সম্পর্কে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি:
অর্থগত দিক থেকে ক্রিসমাস শব্দটিই একটি শিরকি শব্দ। কারণ শব্দটির অর্থ “প্রভুর জন্মদিন বা প্রভুর পুত্রের জন্ম দিন”। নাউজু বিল্লাহি মিন জালিক। মহান আল্লাহ এ থেকে পুত পবিত্র।
আল্লাহর বাণী: لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ “তিন কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি।” [সূরা ইখলাস: ৩]। অতএব একজন মুসলিমের জন্য এই কথাটি মুখে উচ্চারণ করাই হারাম।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ، وَمَنْ أَحَبَّ قَوْمًا حُشِرَ مَعَهُمْ ”
“আবু উমামা আল বাহেলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে আর যে যেই জাতিকে ভালোবাসবে তাদের সাথে তার হাশর হবে।” [আবু দাউদ হাদিস নং ৪০৩১, মুসনাদ আহমদ, হাদিস নং-৫০৯৩]
❑ আলেমগণের মতামত:
শাইখ উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ক্রিসমাস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান করে, উপহার ও মিষ্টি বিতরণ করে, বিভিন্ন ধরণের খাবারের আয়োজন করে এবং ছুটি পালন করে কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা মুসলমানদের জন্য হারাম। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন জাতির সাদৃশ্যতা অবলম্বন করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।”
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ্) তার ‘ইক্তিযাউ সিরাতিল মুস্তাকীম’ গ্রন্থে বলেন, “তাদের (কাফেরদের) কিছু উৎসবে (মুসলমানদের জন্য)তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা তারা বাতিল পন্থী হওয়া স্বত্ত্বেও তাদের আত্মতৃপ্তির কারণ হবে। আবার কখনো হয়ত তা দুর্বল হৃদয়ের অধিকারী এবং সুযোগ সন্ধানীদের জন্য বৈধতার প্রমাণ গ্রহণের সুযোগ করে দিবে। যে ব্যক্তি তা করবে সে গুনাহগার বলে গণ্য হবে তা যে উদ্দেশ্যেই করে থাকুক না। কেন চাই তা সামাজিকতা রক্ষা, ভালোবাসা, লজ্জা বা অন্য কোন কারণে হোক না কেন। কেননা তা আল্লাহর দ্বীনে তোষামোদি এবং কাফেরদের মনোবলকে দৃঢ় করবে এবং তাদের ধর্ম নিয়ে তাদেরকে গৌরব করার সুযোগ করে দিবে।” [ফাতাওয়া ইবনে উসাইমিন ৩/৪৪]

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
slot gacor skybet88 slot online skybet88 skybet88 skybet88 slot gacor skybet88 skybet88 slot bonus new member skybet88 slot shopeepay skybet88 skybet88 skybet88 slot shopeepay slot gacor skybet88 demo slot skybet88 skybet88 skybet88 skybet88 skybet88