আখলাক

ছেলেদের দেরীতে বিয়ে এবং কিছু অপ্রিয় সত্য…

১. পড়ালেখা শেষ করে চাকরী পেতে তথা সমাজের চোখে ‘প্রতিষ্ঠিত’ হতে একটা ছেলের কমপক্ষে ৩০ বছর সময় লাগে।আর মেয়েরা যখন কলেজে উঠে তখন থেকেই তার পরিবার ‘উপযুক্ত/প্রতিষ্ঠিত’ পাত্রের সন্ধান করা শুরু করে।একই ক্লাসে পড়া ছেলেটা যখন বিয়ের পিড়িতে বসে,তার ক্লাসমেট মেয়েটা তখন তার বাচ্চাকে স্কুল থেকে নিয়ে এসে এক সময়ের সহপাঠী ছেলেটির বিয়ের অনুষ্ঠানে যায়।

২. ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের The National Marriage project এর এক গবেষণায় দেখা গেছে গত শতাব্দীতে ছেলেদের গড় বিয়ের বয়স ছিলো ২৩ বছর,মেয়েদের ২২ বছর।এই শতাব্দীতে ছেলেদের গড় বিয়ের বয়স ২৮ বছর, মেয়েদের ২৭ বছর।কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে,এই শতাব্দীতে ছেলে মেয়েরা তাদের ক্যারিয়ার সম্পর্কে বেশি সচেতন তাই তারা দেরি করে বিয়ে করে।পড়ালেখা শেষ করা একটা ছেলে যদি তার বাবার বড় ছেলে হয়ে থাকে তাহলে হয়তোবা তার বয়সে(২৭-২৮)তার বাবা তাকে হাত ধরে ধরে হাঁটা শেখাচ্ছিলেন!

৩. আমাদের সমাজের দিকে চেয়ে দেখুন,ছাত্রবস্থায় একটা ছেলে বিয়ে করছে শুনলে আমরা বড় বড় চোখে তার দিকে তাকাবো,যেনো কোলের শিশু এভারেস্ট বিজয় করে ফেলেছে!অথচ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হৈমন্তী গল্পে বিয়ের সময় অপুর বয়স ছিলো ১৯ বছর,কলেজের তৃতীয় বর্ষে থাকাবস্থায় ১৯ বছর বয়সে অপুর বিয়ে তখনকার সমাজে ছিলো একেবারে স্বাভাবিক নিয়ম।কেবল গল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই বিয়ে করেছেন ২২ বছর বয়সে।হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি বঙ্গবন্ধুও বিয়ে করেছিলেন ২২ বছর বয়সে।

৪. একটা ছেলের শারীরিক ম্যাচুরিটি যদি ১০ বছর বয়সে চলে আসে আর সে যদি ৩০ বছর বয়সে বিয়ে করে,তারমানে প্রায় ২০ বছর সে ‘Sex deprived’ ছিলো!পত্র-পত্রিকায় যেসব ধর্ষণের খবর ছাপা হয় তার বেশিরভাগই করে থাকে যুবকরা,আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে অবিবাহিত যুবকরা(বিবাহিতরা যে ধর্ষণ করে না তা নয়,তবে সেই সংখ্যাটা সর্বোচ্চ ১০ %হবে হয়তো)।

তাছাড়া আজকালকার প্রেম-ভালোবাসাগুলো একসময় রূপ নেয় ‘দৈহিক সম্পর্কে’।পর্দার সামনে আসা ‘লিটনের ফ্ল্যাট’ এর মতো পর্দার অন্তরালেও থাকে হাবলু-জগলুদের ফ্ল্যাট।ফ্লাটে নেবার সাহস কিংবা সম্মতি না থাকলে বৃষ্টির দিনে ফাঁকা রাস্তার রিক্সাগুলো পরিণত হয় ‘Dancing Rickshaw’ তে কিংবা বিকেলের পর সোহরাওয়ার্দী বা চন্দ্রিমা উদ্যানগুলোও পরিণত হয় উন্মুক্ত পতিতালয়ে!সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য ছেলেটির শারীরিক চাহিদা মেটাতে অনেকসময় সরল মেয়েটি ‘না’ বলতে পারেনা।

নিজের স্বার্থ হাসিল হবার পর সিমকার্ড চেঞ্জ করে ঐ মেয়েটির সাথে অপরিচিতের মতো আচরন করতেও ছেলেটির পা কাঁপেনা!দোষটা কাকে দেবো এখানে? ছেলেটির স্বার্থপরতার নাকি তার শারীরিক চাহিদার?

৫. দেরীতে বিয়ের যদি এতোই কুফলতা তাহলে কেনোই বা ছেলেদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়া হয়না? বাস্তব জীবনে ফিরে আসুন। আপনার বোন কিংবা কোনো আত্মীয়ের জন্য যখন বর দেখতে যান তখন আশা করেন,বরটা যেনো ভালো কোনো চাকরি করে, মোটামুটি টাকা-পয়সা যেনো থাকে যাতে আপনার বোনের ভরন-পোষন ভালো মতো করতে পারে।যেখানে নিজের বোনের জন্য একজন প্রতিষ্ঠিত বর খুজেন,সেখানে কিভাবে আশা করতে পারেন বেকার থাকাবস্থায় অন্য কোনো ভাই তার বোনকে আপনার হাতে তুলে দেবে?

আর্থিক স্বচ্ছলতা আর প্রতিষ্ঠিত বরের চাহিদা এই দুটির কারণে মূলত সকল প্রাপ্তবয়স্ক যুবকরা বিয়ের বাজারে ‘অনুপযুক্ত’!পড়ালেখা শেষ করে সমাজের চোখে ‘প্রতিষ্ঠিত’ হবার আগেই সে শেষ করে দেয় সমাজের কিছু অবলা নারীর ‘সম্ভ্রম’। অবলা নারীটি সবকিছু ভুলে যখন ছেলেটির বিয়ের অনুষ্ঠানে আসে,ছেলেটি তখন ঐ নারীর বাচ্চাটির দিকে চেয়ে নিজের ছায়ামূর্তি দেখতে পায়।বাচ্চাটি তার নয়তো? ৬। সমাধানের উপায়ঃ মুহাম্মাদ সা। বলেছেন, “আমার উম্মতের মধ্যে তারাই শ্রেষ্ঠ যারা বিয়ে করে,আর তারাই নিকৃষ্ট যারা বিয়ে করেনা এবং ব্যাচেলর জীবনকেই বেঁছে নেয়।” (মুসতাদারাকুল ওয়াসিল,ভলিওম২,পৃষ্ঠা ৫৩১)

মুহাম্মদ সা বিয়ে করার জন্য যুবকদের উৎসাহিত করে বলেন, “তোমাদের মধ্যে যাদের সামর্থ আছে তারা বিয়ে করে নাও,কেনপ্না বিয়ে তোমাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে।” (মুকাঋমুল আসলাক) ৬ষ্ঠ ইমাম,ইমাম সাদিক (রহ) বলেন, একজন ঘুমন্ত বিবাহিত যুবক একিজিন অবিবাহিত রোজাদার যুবিকের চেয়ে উত্তম।

মতামত দিন