অন্যান্য

মুসলিম সমাজে ঐক্যবদ্ধতা ও মিডিয়ার প্রয়োজনীয়তা

মুসলিম সমাজ আজ নানা দলে উপদলে বিভক্ত, ইতিহাসের কাল বেয়ে মুসলিমদের অবস্থা যে এত সংকীর্ণতার বেড়াজালে আবদ্ধ হবে অতি বড় শত্রু ও মনে হয় কল্পনা করেনি৷ ভারতবর্ষে 712 খৃষ্টাব্দের পর থেকে 1757 পর্যন্ত হাজার বছরের ইতিহাস আজ ধূলায় ধুসরিত৷ আমার সোনার ভারতে মুসলিমরা কোনদিন সংখ্যায় অধিক হয়নি, কিন্তু তারপরও দেশশাসনে তাদের কোন অসুবিধা ছিলনা, আর আজ মুসলিমরা নগন্য সংখ্যার কারনে উচ্ছিষ্ট আহরণে সদা উন্মুখ৷

সে যুগের মুসলিম আর এযুগের মুসলিম! আকাশ পাতাল পার্থক্য৷ শেরশাহ তাহাজ্জুদ, ইশরাক, আওয়াবিন, চাশত, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, ওযিফা, দোয়া দরুদ দেশশাসনের পাশাপাশি মুসাফির ও মুকিম কোন অবস্থাতেই ত্যাগ করেন নি, ইতিহাস তাই বলে, আর আজকের শের শাহ ঐ সমস্ত কাজের জন্য গ্রামে গ্রামে হোজরা শরীফ, খানকা শরীফ খুলে বসেছে৷ বড় মুহাদ্দিস, মুফাসসির, আলেমে দ্বীন, ফকিহ ভারতবর্ষের অখন্ডতা রুখতে ও সম্প্রীতির সোনালী আলো ছড়িয়ে দিতে জীবন উৎসর্গ পর্যন্ত করেছেন হাসিমুখে৷ সে যুগে হাজী মহম্মদ মহসীন শিয়া সম্প্রদায়ের হওয়া সত্ত্বেও আজকের মত এত কাদা ছোড়াছুড়ি ছিলনা৷ মুসলিমদের উন্নয়নের জন্য যতটুকু রেখে গেছেন আজও মুসলিম সমাজ সমান ভাবে উপকৃত হচ্ছে ও হবে৷ সেযুগেও শিয়া- সুন্নি, ফেরকাবাজী, মাযহাবী দ্বন্দ্ব, মসলাগত প্রভেদ সব ছিল, তারপরও মুসলিমদের মধ্যে এত ঐক্যহীনতা ছিলনা৷ হঠাৎ কারো মনে হল তো ফতওয়াবাজী করতে পারতেন না, কিন্তু আজ পাড়ায় এত ফতওয়ার বাহার শুরু হয়েছে যে মুসলিম জাতিকে এক সূতোয় গাঁথা তেলে আর জলে মিল করানোর মতোই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ অপরাপর জাতির জনগণ যখন রকেটে চড়ার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখনই আমাদের ভাবনায় রেলগাড়ীর ঝমঝমাঝম কুঝিকঝিক আওয়াজ ধরা পড়েছে, কিন্তু স্বপ্ন রেলগাড়ী অথচ কাঠের চাকার বাইরে আমরা ভাবতেই পারছি না৷ আজও সমাজকে নানা ফেরকাবাজীর মধ্যে ফেলে দিয়ে প্রিন্টিং ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া ভাবনার বীজ বপন করে চলেছি ৷ ভাল কথা এই মুহুর্তে সমাজে নিজেদেরকে সভ্য ও সংস্কৃতি সম্পন্ন জাতি হিসাবে প্রতিপন্ন করতে চাইলে মিডিয়ার একান্ত প্রয়োজন, অন্যথায় পিছিয়ে পড়া জাতির শিরোপা আরো একবার মাথায় শোভা পাবে৷ কিন্তু ইসলামিক মিডিয়া বললেই যে মুসলিম সমাজ সাদরে গ্রহন করবে তা বলাইবাহুল্য ৷ সবার আগে দরকার মুসলিম জনগণকে এক আল্লাহ, এক রাসুল সঃ, এক ক্বুরআন, এক ইমাম এই নীতিতে সড়গড় করে তোলা৷ এটা করতে পারলে কাঙ্খিত স্বপ্ন পূরনে অগ্রসর হওয়া যাবে৷

বিচ্ছিন্নতার মধ্য দিয়ে যে মিডিয়ায় করা হোক না কেন পিছনে কাটি মারবে৷ জলন্ত প্রমান পিস টিভি৷ যেমন ফুরফুরা খুললে তবলিগ ফতোয়া দেবে, জামায়াতে ইসলামী খুললে ফতোয়া দেওয়ার মুফতি গজাবে, আহলে হাদিস মিডিয়া চালু করলে হানাফীরা লেজ ধরে টানবে, পীর পন্থীরা চালু করলে লা মাযহাবীরা কটাক্ষ করবে, ফেডারেশন মিডিয়া চালু করলে ফাউন্ডেশন পিছনে লাগবে, তাহলে কিভাবে ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া মুসলিমদের হাতে থাকবে? দরকার জাতির মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা৷ তবেই সবরকমের মিডিয়া গ্রহনযোগ্য হবে৷ কয়েকদশক আগে আল্লামা সাঈদী সাহেবের ধর্মীয় বক্তৃতা আমাদের বাংলার মুসলিমদের একটা অংশ ভিডিও ক্যাসেট করে গ্রামে গ্রামে মুসলিমদেরকে দেখাত,ফলে সাঈদী সাহেবের ভিডিও ক্যাসেট দেখা হারাম এবং তার উপর ফতোয়ার কেতাব ও লেখা হয়েছিল তিন দশক আগে৷ আজকে আবার তাদের ফতোয়ার কলম যে গর্জে উঠবে না তার কি গ্যারান্টি আছে৷ যদিও সেই সমস্ত মহান বরেন্যব্যাক্তি বর্গের বক্তব্যের ভিডিও ক্যাসেট ইউ টিউব্ এ ছড়িয়ে আছে ভুরি ভুরি৷ আজ আর সেগুলি হারাম হয় না৷ কারন মোড়লের পোলা মসজিদে প্রস্রাব করলে দোষ নেই, তুমি ব্যাটা চাষার ছেলে হয়ে মসজিদের দিকে তাকিয়ে থুতু ফেলেছ মানেই তোমাকে এক ঘোরে করে দেওয়া হবে এটাই শাস্ত্রীয় বিধান৷ আমার বক্তব্য এই সমস্ত মনগড়া শাস্ত্রীয় বিধানের বিনাশ ঘটিয়ে মুসলিম সমাজের মধ্যে একতা ফিরিয়ে আনতে পারলেই মিডিয়া সময়ের দাবী মেনে হয়ে যাবে, কোন প্রচেষ্টা লাগবে না৷

আরো বলব, প্রতিটি মাযহাবী, লা মাযহাবী, অ রাজনৈতিক মুসলিম সংগঠনের যতগুলো চেয়ারম্যান, রাজ্য সভাপতি, সম্পাদক, ডাইরেক্টর, পীরজাদা,ভাইজান , আমীরে হালকা, নায়েবে আমীর যারা আছেন তারা কোলকাতার বড় এক সভাঘরে বসুন, এবং মসলাগত যত মতানৈক্য রয়েছে সমস্ত মতানৈক্য দূরে সরিয়ে ইসলামের মৌলিক বিষয়ে একক সিদ্ধান্তের জায়গায় উপনীত হোক, আর সেই সাথে কোন বিষয়ের ঘোষণা করার পূর্বে সম্মিলিত সিদ্ধান্তের পূর্বে ঘোষণা হবে না এই বিষয়ে একমত হোন, তবেই সব সম্ভব৷ অন্যথায় অরন্যে রোদন সার হবে৷

বাংলার প্রতিটি গ্রামে তবলীগ, জামাআত, ফুরফুরা, সালাফিয়া, বেরেলভী,আজানগাছী, বসিরহাট, পীরপন্থী, হুজুর পন্থী, মুফতি পন্থী , ফেডারেশন, ফাউন্ডেশন এর সমর্থক বিদ্দমান৷ এই সমস্ত বড় মাথাগুলো একক সিদ্ধান্তে আসতে পারলে সমাজ লাভবান হবে, অন্যথায় যেমন একশ বছর পিছিয়ে আছে তেমনই থাকবে৷

লিখেছেন:আবদুর রউফ

Original Source

মতামত দিন