সলাত

আমাদের সালাতে খুশূ’ নিয়ে আসব কীভাবে (পর্ব-২)

লেখক: কবীর আনোয়ার

আগের পর্বের লিংক

সালাতের মধ্যে করণীয়ঃ 

  • “আল্লাহু আকবার” বলার সময় ভাবুন-“এখন সমস্ত কিছুই নিষিদ্ধ আমার জন্য। তারা আকবার নয়, একমাত্র আল্লাহই আকবার। গভীরভাবে মনের মধ্যে গেঁথে নিন যে আপনি এখন দুনিয়াবী সমস্ত কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আপনার চিন্তায় আর কিছুই নেই।” 
  • “সানা”-র উপর মনোনিবেশ করুন। ছোটবেলা থেকে মুখস্থ পড়ে আসা একটাই সানা বাদ দিয়ে নতুন কিছু সানা মুখস্থ করে নিন। প্রতিটি শব্দের অর্থ কোন ‘আলিমের কাছ থেকে জেনে নিন এবং তা নিয়ে চিন্তা করুন।  

“আল্লাহুম্মা বা’ঈদ বাইনি…” এই সানার উপর শায়খ আব্দুল নাসির জাংদা খুব সুন্দর একটি বাখ্যা দিয়েছেন। এটি জানা থাকলে আপনার খুশূ’র জন্য সহায়ক হতে পারে। শায়খ বলেন, আগুন/তাপ যত বেশী উষ্ণ হবে তত বেশি ঠাণ্ডা পানি লাগবে তা নেভানোর জন্য। পানির চেয়ে তুষার বেশি ঠাণ্ডা আর তুষার এর চেয়েও বরফ বেশি ঠাণ্ডা। আমরা প্রথমে আমাদের পাপগুলি পানি দিয়ে ধুয়ে দেওয়ার প্রার্থনা করি। পাপ মাফ হলেও পাপের ফলে ঈমানের যে ঘাটতি দেখা যায় তা আরও ভয়ানক। তাই ঈমানের এই ঘাটতিকে মুছে দেওয়ার জন্য পানির চেয়েও শীতল তুষার এবং এরপর তার চেয়েও শীতল বরফ দিয়ে ধুয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

  • সূরা ফাতিহার উপর একনিষ্ঠভাবে মন দিন। এই সূরার প্রতিটি আয়াতের পর আল্লাহ আপনার উত্তর দিবেন, আপনার সাথে কথা বলবেন। তাই প্রতিটি আয়াত পড়ার সময় আল্লাহর সাথে কথা বলার মানসিকতা তৈরী করুন।  

চিন্তা করুন, কারও প্রথম পিচ্চি যাই করে তাই তার বাবা-মার ভাল লাগে। বাচ্চা যদি তার বাবা-মার ছবি আঁকতে গিয়ে কার্টুন এঁকে ফেলে তবুও বাবা-মা খুশি হয়ে সেটা সবাইকে দেখিয়ে বলে-“আমার ছেলে এটা এঁকেছে!!” আমাদের সালাতের এত ত্রুটি সত্ত্বেও আমরা যখন বলি, “সকল প্রশংসা রব্বুল ‘আলামীন আল্লাহর জন্য” তখন আল্লাহ বলেন, “আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল!” আল্লাহ কত খুশি হন সেটা চিন্তা করুন, উপলব্ধি করুন তিলাওয়াতের মধ্যে।

  • প্রতিটি গতিবিধিতে যথেষ্ট সময় নিন। রুকূ, রুকূ থেকে উঠে দাঁড়ানো, সিজদাহ, দুই সিজদাহ-র মধ্যে শান্তভাবে বসা ইত্যাদি জায়গায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দিন কারণ এসব জায়গায় তাড়াহুড়ো করা আমাদের অভ্যাস হয়ে গিয়েছে।
  • প্রতিটি আয়াত এবং দূয়া নিয়ে চিন্তা করুন। এজন্য চারটি কাজ করতে হবে আপনাকে-

(১) যে সূরাগুলি বেশি পড়ে থাকেন সেগুলোর তাফসীর পড়ুন এবং মনে রাখার চেষ্টা করুন। সালাতের মধ্যে সেগুলো মনে করার চেষ্টা করুন।

(২) আয়াতের পুনরাবৃত্তি করুন এবং বারবার ভাবুন।

(৩) আয়াতের সাথে Interact করুন। আল্লাহর আযাবের আয়াতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করুন এবং আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে যান। রহমতের আয়াতে আল্লাহর রহমত প্রার্থনা করুন এবং আশাবাদী হোন।

(৪) যত বেশি সম্ভব সূরা এবং দূয়া মুখস্থ করুন এবং সালাতের মধ্যে তিলাওয়াতে ভিন্নতা আনুন। বারবার কয়েকটি সূরা ঘুরেফিরে পড়লে খুশূ’ নিয়ে আসা কঠিন হয়ে যাবে।

  • সামান্য চুলকানি, হাঁচি-কাশি, হাই ইত্যাদি ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করুন। শরীর স্থির থাকলে মন স্থির রাখাও সহজ। তাই চেষ্টা করুন, খুব সমস্যা না হলে শরীর না চুলকাতে এবং যথাসম্ভব শারীরিক নড়াচড়া কম করতে।
  • মন বিক্ষিপ্ত হয়ে গেলে বুঝবেন এটা শয়তানের ওয়াসওয়াসা। তখনই আল্লাহর কাছে আশ্রয় চান।
  • সিজদাহ, দুই সিজদাহর- মাঝে এবং তাশাহহুদ এর পর সালামের আগে প্রচুর দূয়া করুন। দূয়ার অর্থ অবশ্যই জেনে নিবেন এবং দূয়া করার সময় সেগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবেন। 
  • সুন্দরভাবে সালাম ফিরিয়ে তাড়াহুড়ো করে না উঠে ধীর স্থিরভাবে বসুন।

সালাতের পর করণীয়ঃ  

মাসনূন যিকরগুলো অর্থ বুঝে পাঠ করুন। ফরয সালাতের পর দূয়া কবুল হয়। তাই মাসনূন যিকর এর পর নিজের প্রয়োজনমত দূয়া করতে পারেন।

আল্লাহু আ’লাম।

                                          ***   ***   ***

যেসব সোর্স আমাকে সাহায্য করেছেঃ

বই-

# 33 Ways to Increase Khushoo’ in Salaah: Shaykh Saalih al Munajjid ( শীঘ্রই বাংলা অনুবাদ আসছে)

# যে সালাতে হৃদয় গলেঃ আবু বকর বিন হাবিবুর রহমান [তাওহীদ পাবলিকেশন]

লেকচার-

# Meaningful Prayer: Shaykh Abdul Nasir Jangda

# The Salah Like You Never Heard It Before: Brother Imran Ibn Mansur (***)

আর্টিকেল-

# কিভাবে নামাজের মাধুরতা আস্বাদন করা যায় ? [কুরআনের আলো.কম এ প্রকাশিত সিরিজ অনুবাদ]

এবং- নিজের অল্প দিনের অভিজ্ঞতা।

মতামত দিন