সলাত

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ৪৩) 

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

চতুর্থ রাকআত 

নামায ৩ রাকআত বিশিষ্ট (মাগরেবের) হলে ৩ রাকআত পড়ে, নচেৎ ৪ রাকআত বিশিষ্ট হলে তা তৃতীয় রাকআতের মত পড়ে শেষ তাশাহহুদের জন্য বসে যেতেন। এই বৈঠকে তিনি তাঁর বাম পাছার উপর বসতেন। এতে তাঁর দু’টি পায়ের পাতা এক দিকে হয়ে যেত। (বুখারী ৮২৮, আবূদাঊদ, সুনান ৯৬৫নং, বায়হাকী) বাম পা-কে ডান পায়ের রলা ও ঊরুর নিচে রাখতেন। (মুসলিম, সহীহ ৫৭৯ নং, আহমাদ, মুসনাদ) আর ডান পায়ের পাতাকে খাড়া রাখতেন। (বুখারী ৮২৮নং) কখনো কখনো খাড়া না রেখে বিছিয়েও রাখতেন। (মুসলিম, সহীহ ৫৭৯, আহমাদ, মুসনাদ) পায়ের আঙ্গুলগুলো কেবলামুখী করে রাখতেন। তাঁর হাত দু’টি প্রথম বৈঠকের মতই থাকত। অবশ্য বামহাত দ্বারা বাম জানুর উপর ভরনা দিতেন। (আবূদাঊদ, সুনান ৯৮৯, সহিহ,নাসাঈ, সুনান ১২০৫ নং)

সুতরাং পাছার উপর বসা কেবল ৩ বা ৪ রাকআত (অন্য কথায় দুই তাশাহহুদ) বিশিষ্ট নামাযে সুন্নত। পক্ষান্তরে এক তাশাহহুদ বিশিষ্ট ২ রাকআত নামাযে বাম পায়ের পাতার তলদেশ বিছিয়ে তার উপর বসা সুন্নত। (সিফাতু স্বালাতিন নাবী (সাঃ), আলবানী ১৫৬, ১৮১, আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৪/১০০, মাজমূআতু রাসাইল ফিস স্বালাহ্‌ ১২৮পৃ:) কারণ পাছার উপর বসার কথাহাদীসে কেবল দুই তাশাহহুদ বিশিষ্ট নামাযের ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে। নচেৎ নামাযে বসার সাধারণ সুন্নত হল, বাম পায়ের পাতার উপরেই বসা। (নাসাঈ, সুনান ১১৫৬, ১১৫৭, ১১৫৮, ১২৬১, দারেমী, সুনান ১৩৩০ নং)

সালাম

অতঃপর নবী মুবাশ্‌শির (সাঃ) তাশাহহুদ ও দুআ আদি পড়ে ডান দিকে মুখ ফিরিয়ে বলতেন,

اَلسَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ الله।
‘আস্‌সালা-মু আলাইকুম অরাহ্‌মাতুল্লা-হ্‌।’

অর্থাৎ, তোমাদের উপর শান্তি ও আল্লাহর করুণা বর্ষিত হোক।

তিনি এতটা মুখ ফিরাতেন যে, (পেছন থেকে) তাঁর ডান গালের শুভ্রতা দেখা যেত। অতঃপর বাম দিকে মুখ ফিরিয়ে অনুরুপ বলে সালাম ফিরতেন। আর এতেও তাঁর বাম গালের শুভ্রতা (পেছন থেকে) দেখা যেত। (মুসলিম, সহীহ ৫৮২, আবূদাঊদ, সুনান ৯৯৬ নং, নাসাঈ, সুনান)

কখনো কখনো তিনি ডান দিকের (প্রথম) সালামের সাথে ‘—অবারাকাতুহ্‌’ও যোগ করতেন। (আবূদাঊদ, সুনান ৯৯৭, ত্বাবারানী, আব্দুর রাযযাক, মুসান্নাফ, দারাক্বুত্বনী, সুনান, আবূ য়্যা’লা ৩/১২৫২)

আবার কখনো ডান দিকে ‘আস্‌সালা-মু আলাইকুম অরাহ্‌মাতুল্লা-হ্‌’ এবং বাম দিকে কেবল ‘আস্‌সালা-মু আলাইকুম’ বলে সালাম ফিরতেন। (নাসাঈ, সুনান ১৩২০ নং, আহমাদ, মুসনাদ, সিরাজ) আবার কখনো বা ডান দিকে একটু ঝুঁকে ঐ মুখেই ‘আস্‌সালা-মু আলাইকুম’ বলে মাত্র একটি সালাম ফিরতেন। (ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ ৭২৯, বায়হাকী, মাক্বদেসী, আহমাদ, মুসনাদ, ত্বাবারানীরানী, মু’জাম আউসাত্ব,হাকেম, মুস্তাদরাক, ইরওয়াউল গালীল, আলবানী ৩২৭ নং)  মা আয়েশা رضي الله عنها এরও এই আমল ছিল। (ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ ৭৩০, ৭৩২, বায়হাকী ২/১৭৯) অনুরুপ এক সালামের আমল ছিল যুবাইর (রাঃ) এরও। (ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ ৭৩১ নং, বায়হাকী ২/১৭৯) অতএব কখনো কখনো এ সুন্নাহ্‌ পালন করা আমাদেরও উচিত।

সালাম ফিরার সময় হাত দ্বারা ইশারা বৈধ নয়। একদা সাহাবাদেরকে এমন ইশারা করতে দেখলে তিনি বললেন, “কি ব্যাপার তোমাদের? দুরন্ত ঘোড়ার লেজের মত করে হাত দ্বারা ইশারা করছ? যখন তোমাদের কেউ সালাম ফিরবে, তখন সে যেন তার (পার্শ্ববর্তী) সঙ্গীর প্রতি চেহারা ফেরায় এবং হাত দ্বারা ইশারা না করে।” অতঃপর সাহাবাগণ এরুপ ইশারা করা হতে বিরত হয়ে যান।

অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি বললেন, “তোমাদের প্রত্যেকের জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে, (সালাম ফিরার সময়) হাত নিজ ঊরুর উপর রাখবে। অতঃপর ডাইনে ও বামে (উপবিষ্ট) ভাই-এর প্রতি সালাম দেবে।” (মুসলিম, সহীহ ৪৩১, আহমাদ, মুসনাদ, সিরাজ, ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ ৭৩৩ নং, ত্বাবারানীরানী, মু’জাম)

উক্ত হাদীসে ইঙ্গিত রয়েছে যে, জামাআতের নামাযে নামাযী সালাম দেয় পাশের নামাযীকে। কিন্তু একা নামাযে সালাম দেওয়া হয় ফিরিশ্‌তাকে। পরন্তু পাশের নামাযী সালাম ফিরলে তার জওয়াব দিতে হয় না। কারণ, সে সময় সকলেই একে অপরকে সালাম দিয়ে থাকে। অতএব জওয়াব থাকে তাতেই। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৩/২৮৮-২৮৯)

যেরুপ সালাম ফেরার সময় হাতের ইশারা বৈধ নয়, তদ্রুপ বিধেয় নয় মাথা হিলানোও। (মুখালাফাত ফিত্বাহারাতি অসস্বালাহ্‌ ১৮৯পৃ:)

সালাম ফিরেই নামাযের কাজ শেষ হয়ে যায়। তবে খেয়াল রাখার বিষয় যে, যে তরতীব ও পর্যায়ক্রমে মহানবী (সাঃ) নামায ও তার সকল আমল সম্পন্ন করেছেন, সেই পর্যায়ক্রমেই নামায পড়া নামায শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত অথবা ফরয। (ফিকহুস সুন্নাহ্‌ উর্দু ৯৫পৃ:)

(চলবে)

মতামত দিন