সলাত

সলাতে মুবাশ্‌শির (পর্ব ৪০)

রচনায় : আব্দুল হামীদ ফাইযী

দুআ মাসূরার পূর্বে দরুদের গুরুত্ব

মহানবী (সাঃ) এক ব্যক্তিকে তার নামাযে দুআ করতে শুনলেন, লোকটি মহান আল্লাহর গৌরব বর্ণনা করল না, আর তাঁর নবীর উপর দরুদও পড়ল না। তিনি বললেন, “এ তো তাড়াতাড়ি করল।” অতঃপর তাকে ডেকে সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, “যখন তোমাদের মধ্যে কেউনামায পড়বে, তখন সে যেন তার প্রতিপালকের প্রশংসা বর্ণনার মাধ্যমে আরম্ভ করে। অতঃপর নবী (সাঃ) এর উপর দরুদ পাঠ করে। তারপর পছন্দ বা ইচ্ছামত দুআ করে।”

(আহমাদ, মুসনাদ, আবূদাঊদ, সুনান ১৪৮১ নং, নাসাঈ, সুনান, ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ,হাকেম, মুস্তাদরাক, মিশকাত ৯৩০ নং)

তিনি অন্য এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে নামাযে আল্লাহর প্রশংসা করল এবং নবী (সাঃ) এর উপর দরুদ পাঠ করল। তিনি তার উদ্দেশ্যে বললেন, “ওহে নামাযী! এবার দুআ কর। কবুল হবে।” (ঐ)

ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বলেন, একদা আমি নামায পড়ছিলাম। পাশে আবূ বকর  (রাঃ) ও উমার (রাঃ) সহ্‌ নবী (সাঃ) বসেছিলেন। অতঃপর যখন আমি (তাশাহ্‌হুদে) বসলাম, তখন আল্লাহর প্রশংসা শুরু করলাম, অতঃপর নবী (সাঃ) এর উপর দরুদ পাঠ করলাম, তারপর নিজের জন্য দুআ করলাম। এ শুনে নবী (সাঃ) বললেন, “চাও, তোমাকে দান করা হবে। চাও, তোমাকে দান করা হবে।” (তিরমিযী, সুনান ৫৯৮, মিশকাত ৯৩১ নং)

আর এ জন্যই তিনি বলেছেন, “ফরয নামাযের পশ্চাতে দুআ অধিকরুপে শোনা (কবুল করা) হয়।” (তিরমিযী, সুনান ৩৭৪৬, মিশকাত ৯৬৮নং) বলা বাহুল্য এটাই হল আল্লাহর সাথে প্রকৃত মুনাজাতের সময়। কারণ “নামাযী মাত্রই নামাযে আল্লাহর সাথে মুনাজাত করে।” (মালেক, মুঅত্তা, আহমাদ, মুসনাদ ২/৩৬, ৪/৩৪৪)

ওয়াজেব দুআয়ে মাসূরাহ্‌

নবী মুবাশ্‌শির (সাঃ) বলেন, “যখন তোমাদের মধ্যে কেউ(শেষ) তাশাহহুদ সম্পন্ন করবে, তখন সে যেন আল্লাহর নিকট চারটি জিনিস থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে। এরপর সে ইচ্ছামত দুআ করবে।”

দুআটি নিম্নরুপ:-

اَللّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَ فِتْنَةِ الْمَمَاتِ।
উচ্চারণ:- আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন আযা-বি জাহান্নাম, অ আঊযু বিকা মিন আযা-বিল ক্বাবর, অআঊযু বিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল, অআঊযু বিকা মিন ফিতনাতিল মাহ্‌য়্যা অ ফিতনাতিল মামা-ত।

 অর্থ:- হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি জাহান্নাম ও কবরের আযাব থেকে, কানা দাজ্জাল, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (মুসলিম,  আহমাদ, মুসনাদ ২/২৩৫, আবূদাঊদ, সুনান ৯৮৩, নাসাঈ, সুনান ১৩০৯, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান ৯০৯, দারেমী, সুনান, ইবনুল জারুদ ১১০, সিরাজ, আহমাদ, মুসনাদ ২/২৩৭, ৪৪৭, বায়হাকী ২/১৫৪, মিশকাত ৯৪০ নং)

তিনি বলেন, “তোমরা কবরের আযাব থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাও, জাহান্নামের আযাব থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাও, মাসীহ্‌ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাও এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাও।” (মুসলিম, সহীহ ৫৮৮ নাসাঈ, সুনান)

সুতরাং নামাযের শেষ তাশাহ্‌হুদে দরুদের পর অন্যান্য দুআর পূর্বে উক্ত চার প্রকার আযাব ও ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা ওয়াজেব।

এই দুআ তিনি নিজেও তাশাহ্‌হুদে পাঠ করতেন। (বুখারী, মুসলিম,  আবূদাঊদ, সুনান ৮৮০, ৯৮৪, আহমাদ, মুসনাদ, মিশকাত ৯৩৯ নং) পরন্তু সাহাবাগণকে কুরআনের সূরা শিখানোর মত উক্ত দুআও শিক্ষা দিতেন। (মুসলিম,  আহমাদ, মুসনাদ, মিশকাত ৯৪১ নং)

এ সব কিছু উক্ত দুআর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব  আরোপ করে।

(চলবে)

মতামত দিন