ইসলামী শিক্ষা

নাবী ও আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের পার্থিব পরীক্ষা

লেখক : মুহাম্মাদ আতাউর রহমান সালাফী

অনুলিখন : আফফান বিন তৈয়ব

মুসআব বিন সা’দ স্বীয় পিতা সা’দ বিন আবু ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (সা’দ) বলেন, “আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল ﷺ! কোন মানুষ সর্বাধিক কঠিন পরীক্ষাগ্রস্ত?’ তিনি ﷺ উত্তরে বলেন, ‘নাবীগণ, অতঃপর সর্বোত্তম ব্যক্তি, অতঃপর উত্তম ব্যক্তি। বান্দাকে তার দ্বীন অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। যদি সে দৃঢ় দ্বীন সম্পন্ন হয়, পরীক্ষা কঠিন হয়। যদি দ্বীনে দুর্বলতা থাকে, দ্বীনের মান অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। বান্দা সর্বদা পরীক্ষার সম্মুখীন হতে থাকে এমতাবস্থায় পরীক্ষা তাকে ছেড়ে দেয়, ধরার বুকে সে চলতে থাকে এবং তার কোনো পাপ থাকে না (সাহীহ ইবনু মাজাহ্ আলবানী/৩২৪৯, সাহীহাহ/১৪৩, তিরমিযী/২৩৯৮)।

মহান আল্লাহ্ সফলতা প্রদানের জন্য শুধুমাত্র ক্বিয়ামাত দিবসে হিসাবের সম্মুখীন করবেন তাই নয়, বরং আমরা তার দ্বীনে কতটুকু সঠিকভাবে অবস্থান করছি তার মূল্যায়ণের জন্য পার্থিব জীবনেই বহুভাবে পরীক্ষার সম্মুখীন করে আমাদের দ্বীনের মর্যাদা উন্নীত করেন; যদি আমরা এই পরীক্ষা সমূহে উত্তীর্ণ হতে পারি তবে পরকালীন পরীক্ষায় ইনঁশাআল্লাহ সফল হতে পারবো।

বক্ষ্যমাণ হাদীছে এ রকম পরীক্ষা ও তার ফাযীলাত বর্ণনা দিয়ে নাবী মুহাম্মাদ ﷺ বলেন, আল্লাহর প্রতি যে যত বেশি আস্থাশীল, সে ততবেশি পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। যেহেতু নাবীগণ সর্বোচ্চ ঈমানদার ও আল্লাহর প্রতি আস্থাশীল তাই তারা সব থেকে বেশি কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। অতঃপর ক্রমানুযায়ী উত্তম ও আল্লাহর নিকটবর্তী লোকেরা স্বীয় মর্যাদা ও মানানুযায়ী পরীক্ষার সম্মুখীন হন। দ্বীনের দৃঢ়তা থাকলে পরীক্ষা কঠিন হয়। দ্বীনে দুর্বলতা থাকলে পরীক্ষা শিথিল হয়।

আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা পরীক্ষাগুলি বাহ্যতঃ বিপদ হলেও সেগুলি মূলতঃ রহমত স্বরূপ। কারণ আল্লাহ তাআ’লা এ রকম পরীক্ষার মাধ্যমে একজন মু’মিনকে শুধু বিপদগ্রস্ত করেন না বরং এর দ্বারা সর্বদা পরীক্ষা করতে করতে সম্পূর্ণরূপে পাপমুক্ত করেন ও একজন মু’মিন ব্যক্তি পূর্ণমাত্রায় নিষ্পাপ হয়ে যায়।

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট প্রবেশ করলাম এমন অবস্থায় যে, তিনি ﷺ জ্বরাক্রান্ত ছিলেন। আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল ﷺ! আপনি চরম জ্বরাক্রান্ত হোন !’ তিনি ﷺ বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তোমাদের দু’জন মানুষের সমপরিমাণ জ্বরাক্রান্ত হই।’ আমি বললাম, ‘এটা এজন্যই যে, আপনি দ্বিগুণ প্রতিদান পেয়ে থাকেন।’ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, ‘হ্যাঁ, বিষয়টি তেমনই; যখনই কোনো মুসলিম কোনো কাঁটার কষ্ট অথবা তার চেয়ে অধিক কষ্ট অনুভব করে, আল্লাহ তার পরিবর্তে তার পাপমোচন করে দেন, যেমন গাছ তার পাতা ঝরিয়ে দেয়” (বুখারী, হা/৫৬৪৮)।

নাবীগণের জীবন চরিতের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করলে মুহাম্মাদ ﷺ এর বাণী “নাবীগণ সর্বাধিক কঠিন পরীক্ষাগ্রস্ত” স্পষ্ট হয়ে যায়। কেননা নাবীগণ তাদের দ্বারা হয়ে যাওয়া ত্রুটি সংশোধনের জন্য কিংবা দ্বীনের দৃঢ়তার প্রমাণে অকল্পনীয় পরীক্ষা ও বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। আদম আলাইহিস সালাম এর পোষাক ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং জান্নাত থেকে পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হয়, অতঃপর তাওবার দ্বারা পাপমুক্ত হন। ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েও মুক্তি পাননি বরং শেষ পর্যন্ত আত্মীয়স্বজন, স্বীয় জন্মভূমি পরিত্যাগ করতে বাধ্য হন। জনহীন, পানাহারহীন প্রান্তরে স্ত্রী-পুত্র নির্বাসন এবং পুত্র ক্বুরবানীর মতো পরীক্ষার সম্মুখীন হয়ে দ্বীনের দৃঢ়তা প্রমাণ করেন।

ইয়াকুব আলাইহিস সালাম পুত্র বিয়োগে শোকাহত হয়ে অন্ধ হয়ে যান। ইউসুফ আলাইহিস সালাম নির্জন কুপে নিক্ষিপ্ত, বিক্রিত ও কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। মূসা আলাইহিস সালাম সদ্য জন্মের পরে পরেই প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে বাক্সবন্দি অবস্থায় সমুদ্রে নিক্ষিপ্ত হন। ফিরআউনের মতো শত্রুর তত্বাবধানে পালিত হয়ে তার বিরুদ্ধেই সংগ্রাম করে দেশ ত্যাগ করতে হয়। আইয়ুব আলাইহিস সালাম অনেক সন্তানের অধিকারী ও বিত্তবান নাবী ছিলেন। আল্লাহ তাকে পরীক্ষা করার জন্য সকল সম্পদ নষ্ট করে দেন, আবাস ভেঙে ঘর চাপা দিয়ে সন্তানাদি ছিনিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত আপাদমস্তক দুরারোগ্য চর্মরোগে আক্রান্ত হন। ফলস্বরূপ শরীর থেকে মাংস খসে খসে পড়তে থাকে। এ রোগগ্রস্ত অবস্থা দীর্ঘ ১৮ বছর মতান্তরে ১৩ বছর স্থায়ী হয়। একমাত্র তার স্ত্রী ব্যতীত সকলেই সঙ্গ ত্যাগ করে। [উল্লেখ্য যে, একথাগুলো ইয়াহুদীদের তৈরি করা, যা ব্যাপক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে; নবীদের কাহিনী ১/২৫৬ (অনুলেখকের সংযোজন)]তবুও ঈমান ও ধৈর্য্যে বিন্দুমাত্র ত্রুটি দেখা যায় নি। তাই চরমভাবে কোনো ব্যক্তি বিপদগ্রস্ত হলে আইয়ুব আলাইহিস সালাম এর ন্যায় ধৈর্য্য ধারণ করার উপদেশ প্রদান করা হয়।

আল্লাহ তাআ’লা তার প্রশংসায় বলেন,

إِنَّا وَجَدْنَاهُ صَابِرًا ۚ نِّعْمَ الْعَبْدُ ۖ إِنَّهُ أَوَّابٌ

“আমি তাঁকে (আইয়ুব) পেয়েছি ধৈর্য্যশীল, কত উত্তম বান্দা সে। সে ছিল আমার অভিমুখী।” (সূরা সোয়াদ ৩৮/৪৪) (মুখতাসার কাসাসুল আম্বিয়া, ফাতহুল বারী)

আমাদের নাবী মুহাম্মাদ ﷺ কতভাবে পরীক্ষার সম্মুখীন হন সে বিষয়ে সবিস্তার পাঠকমহল অবগত। বিভিন্নভাবে অত্যাচারের সম্মুখীন হওয়ার পরে যখন দ্বীন থেকে পিছুপা করানো সম্ভব হয় নি, তখন রুদ্ধদ্বার বৈঠক করা হয়। যে বৈঠকে ইবলিশ শয়তানও অংশগ্রহণ করে এবং প্রাণে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ফলস্বরূপ জন্মভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য হন। মহান আল্লাহ শুধু নাবীগণকে পরীক্ষা করেন নি। ঈমান ও দ্বীনের মান অনুযায়ী অন্যদেরও পরীক্ষা করেন সে ইঙ্গিতও এ হাদীছে রয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেন,

وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ

الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ

أُولَٰئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ ۖ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ

“নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, প্রাণ ও ফল শস্যের অভাবের কোনও একটি দ্বারা পরীক্ষা করবো, (হে মুহাম্মাদ ﷺ) তুমি ঐ সকল ধৈর্য্যশীলদের সুসংবাদ প্রদান করো, যাদের উপর কোনও বিপদ এলে তারা বলে, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ (নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তারই দিকে ফিরে যাবো), এদের উপর তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে করুনা বর্ষিত হয় এবং এরাই হল সুপথপ্রাপ্ত” (সূরা বাক্বারাহ ২/১৫৫-৫৭)।

উপরের আয়াতে বর্ণিত পরীক্ষাসমূহ একজন মানুষের জীবনে আমরা সচরাচর প্রত্যক্ষ করি। এ রকম পরীক্ষা আমাদের জীবনে এলে আমরা তাকে বিপদ বলে থাকি। এরূপ বিপদনামী আল্লাহর পরীক্ষায় একজন মু’মিনের ধৈর্য্যধারণই হল মূল হাতিয়ার। নিজেকে তিরস্কৃত কিংবা পর্যুদস্ত মনে করে অবিচল হয়ে আল্লাহর প্রতি আস্থা হারানো কোনও মতেই সমীচীন নয়। আল্লাহর প্রতি আস্থাশীল হয়ে বিপদ থেকে মুক্তি তার নিকটেই কামনা করা উচিৎ। ধৈর্য্যধারণের মাধ্যমে ঈমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মর্যাদা বৃদ্ধি এবং পাপমোচনের পথ সুগম করে জান্নাতের সুবাস অনুভব করা উচিৎ।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, “মু’মিনের ব্যথা-বেদনা কিংবা ক্লান্তি কিংবা অসুস্থতা কিংবা দুশ্চিন্তা এমনকি ভাবনা যা তাকে ভাবিয়ে তোলে এদের বিনিময়ে আল্লাহ তাআ’লা তার পাপ মিটিয়ে দেন।” (মুসলিম/৬৭৩৩)

ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আবু রাবাহকে বলেন, আমি কি তোমাকে এক জান্নাতী মহিলা দেখাব? আবু রাবাহ বলেন, হ্যাঁ। ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এই কৃষ্ণকায় মহিলাটি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকটে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল ﷺ!আমি মৃগীগ্রস্ত হই এবং আমি আমার লজ্জাস্থান খুলে যাওয়ার ভয় করছি, কাজেই আমার জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করে দিন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, “তুমি চাইলে ধৈর্য্যধারণ করো, জান্নাত পাবে; আর চাইলে আল্লাহর নিকট সুস্থতার দুআ করে দিচ্ছি।” মহিলাটি বললেন, ‘ধৈর্য্যধারণ করবো।’ পুনরায় মহিলাটি বললো, ‘আমি লজ্জাস্থান খুলে যাওয়ার ভয় করছি, যেন লজ্জাস্থান খুলে না যায় সে দুআ করে দিন।’ তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ তার জন্য দুআ করে দিলেন। (বুখারী/৬৭৩৬)

আমাদের আপনজন বিদায় নিলে অনেকে মাসজিদে যথারীতি হাজিরা দেয়। আবার অনেকে বিপদ ঘনীভূত হলে আল্লাহকে ডাকে। পায়খানার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে হয় না, কিন্তু যদি কোষ্ঠকাঠিন্য হয় অথবা আমাশয়ের ফলে পেটে কুনকুনে ব্যথা হয়, তখন নিষেধের কথা ভুলে আল্লাহ, আল্লাহ বলে তাকে স্মরণ করা হয়। এর থেকেও বুঝা যায় যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত পরীক্ষা আমাদের জন্য বিশেষ অনুগ্রহ। কারণ এর ফলে তাকে স্মরণ করা আমাদের জন্য সহজ হয়ে যায়, যার অর্থ হল অপরাধ হ্রাস। আর অপরাধ হ্রাসের অর্থই হল মর্যাদা বৃদ্ধি ও পাপমোচন। বিপদ কেটে গেলে আল্লাহর স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া মু’মিনের লক্ষণ বিরোধী কাজ।

মহান আল্লাহ বলেন,

وَإِذَا مَسَّ الْإِنسَانَ الضُّرُّ دَعَانَا لِجَنبِهِ أَوْ قَاعِدًا أَوْ قَائِمًا فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُ ضُرَّهُ مَرَّ كَأَن لَّمْ يَدْعُنَا إِلَىٰ ضُرٍّ مَّسَّهُ ۚ كَذَٰلِكَ زُيِّنَ لِلْمُسْرِفِينَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

“আর যখন মানুষকে কোনও ক্লেশ কষ্ট স্পর্শ করে তখন আমাকে ডাকতে থাকে শুয়ে, বসে এবং দাঁড়িয়েও; অতঃপর যখন আমি ওর কষ্ট দূর করে দিই তখন সে নিজের পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে, যে কষ্ট তাকে স্পর্শ করেছিল তা মোচন করার জন্য সে যেন আমাকে কখনো ডাকেই নি। এই সীমালঙ্ঘনকারীদের কার্যকলাপ তাদের কাছে এইরূপই চাকচিক্যময় মনে হয়” (সূরা ইউনুস ১০/১২)।

আল্লাহর পরীক্ষায় করণীয় :

আল্লাহর পরীক্ষায় করণীয় হিসাবে মহান আল্লাহ তাআ’লা সূরা বাক্বারাহ এর ১৫৫-১৫৬ নং আয়াতে ধৈর্য্যধারণ ও ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পাঠের শিক্ষা দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ আরো সংযোজন করে যে দুআ পাঠের শিক্ষা দিয়েছেন তা হল —

إِنَّا ِللهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ

اَللَّهُمَّ أَجِرْنِيْ فِيْ مُصِيْبَتِيْ وَأَخْلِفْ لِيْ خَيْرًا مِّنْهَا

(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহুম্মা জুরনী ফী মুসিবাতী ওয়া আখলিফ লী খাইরাম মিনহা)।

অর্থ : নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তারই দিকে ফিরে যাবো। হে আল্লাহ তুমি আমাকে এই পরীক্ষার প্রতিদান দাও এবং এর চাইতে উত্তম বিকল্প দান করো (মুসলিম/২১৬৫)।

সাহাবিয়া উম্মু সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা এর স্বামী আবু সালামা ইন্তেকাল করলে উক্ত দুআ তিনি পাঠ করেন ও মনে মনে ভাবেন যে, রাসূলের ﷺ ডাকে সাড়া দিয়ে প্রথম হিজরতকারী আবু সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর থেকে কোন মুসলিম ব্যক্তি আর উত্তম আছে যে আবু সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর বিকল্প হিসাবে আমার স্বামী হবে? তিনি বলেন, “তবুও আমি এ দুআ পাঠ করি। ফলস্বরূপ আল্লাহ আমাকে তার উত্তম বিকল্প হিসাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে স্বামী হিসাবে দান করেন” (মুসলিম/২১৬৫)।

পরিশেষে আল্লাহর কাছে দুআ – হে আল্লাহ, তোমার পরীক্ষায় আমাদের ধৈর্য্যধারণ করার তাওফীক দাও। পরীক্ষা শুধু বিপদ নয়, পাপমোচনের ওয়াসীলা বানাও এবং পরকালে জান্নাতুল ফিরদাউস দান কর (আমীন)

***মাসিক সরল পথ থেকে সংগৃহিত

মতামত দিন