ইসলামের ইতিহাস

ফিলিস্তীনে ইহুদীবাদের জন্ম ও তাদের দাবীর যথার্থতা

বিশ্ব মানচিত্রে ফিলিস্তীন রাষ্ট্রের অবস্থান মুসলিম বিশ্বের নিকটে এক জাতিগত প্রাণস্পন্দন স্বরূপ। কেননা সেখানে অসংখ্য নবী ও রাসূলের আগমন ঘটেছে। বিশেষ করে মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর আগমন ফিলিস্তীনের প্রতি সমগ্র মুসলিম জাতির এক বিরাট হৃদ্যতার কারণ। কিন্তু খ্রিষ্টান ও ইহুদী সাম্রাজ্যবাদ মুসলিম বিশ্বকে বিমূঢ় ও হতবাক করে ১৯১৮ সালে ফিলিস্তীন ভূখন্ডের একাংশকে ইহুদীদের ‘স্বাধীন আবাসভূমি’ হিসাবে ঘোষণা করে। শুরু হয় মুসলিমদের উপর অত্যাচারের স্টীমরোলার। ঘোষিত হয় ফিলিস্তীনে মুসলমান উজাড়ের পরিকল্পনা। অবশেষে জোটবদ্ধ হয় পাশ্চাত্যের সকল দেশ ও জাতি। নিম্নে ফিলিস্তীনে ইহুদীবাদের জন্ম ও তাদের দাবীর যথার্থতা কতটুকু তা বিশ্লেষণ করা হ’ল।

ইহুদীবাদের পরিচয়:

ইহুদী সম্প্রদায় বিভিন্ন খেতাবে পরিচিত। মহান আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে তাদেরকে বনী ইসরাঈল, আহলে কিতাব ও ইহুদী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন- ‘হে বনী ইসরাঈলের বংশধর! তোমরা আমার প্রদত্ত নিয়ামত সমুহের কথা স্মরণ কর। যা আমি তোমাদেরকে প্রদান করেছি’ (বাক্বারাহ ২/৪০)।

হযরত ইয়াকুব (আঃ)-এর একটি খেতাব ছিল ইসরাঈল। হিব্রু ভাষায় যার অর্থ আল্লাহর বান্দা বান্দা (নবীদের কাহিনী ২/১২)। আর তারা যে ইহুদী পরিচয় দিয়ে থাকে, সেই ইয়াহুদ ছিল হযরত ইয়াকুব (আঃ)-এর ৪র্থ পুত্র। ইংরেজীতে এ জাতি জু (JEW) নামে এবং তাদের ধর্ম জুডাইজম (Judaism) নামে পরিচিত। যাকে তারা ‘জুডিস’ নামক এক স্থানের নামানুসারে নামকরণ করেন। বর্তমানে তারা জায়োনিস্ট (Zionist) নামেও পরিচিত। যা জেরুজালেমে অবস্থিত ‘জায়োন’ (Zion) নামক এক পাহাড়ের নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে। ১৮৮০ সালে নাকান বেরেনবুয়ান নামে এক অস্ট্রিয়ান ইহুদী তাদের তথাকথিত পবিত্র ভূমি জেরুজালেমে ফিরে যাওয়ার জন্য একটি আন্দোলনের প্রস্তাব করেন এবং উক্ত নামে আন্দোলন গড়ে তোলেন। অতঃপর ১৮৯৬ সালে অস্ট্রিয়ান এক দুর্ধর্ষ ইহুদী সাংবাদিক ডঃ থিওডর হার্জেল (১৮৬০-১৯০৪) তার রচিত The Jewish State গ্রন্থটির মাধ্যমে জায়োনিস্ট আন্দোলনের রূপরেখা প্রণয়ন করেন এবং International Zionist Organization নামে একটি রাজনৈতিক দল গড়ে তোলেন (দৈনিক সংগ্রাম, ০১/০১/২০০১ইং)। আবার এই ইহুদী সাংবাদিকের নেতৃত্বেই ১৮৯৭ সালের ২৯ ও ৩০ আগস্টে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে এই ইহুদীবাদের শক্ত ভিত্তি তৈরী হয় সুইজারল্যান্ডের বাযিল (BAZIL) নগরীতে। অতঃপর বিশ্বের ৩০টি ইহুদী সংগঠনের প্রায় ৩০০ জন ইহুদী নেতা ইহুদীবাদকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয় এবং সারা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পিত নীল-নকশা প্রণয়ন করেন। পরবর্তীতে যে পরিকল্পনাটি ২৪ প্রটোকল আকারে প্রণীত হয়। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে জনৈকা খ্রিষ্টান মহিলা সেই প্রটোকলের এক কপি চুরি করে দুনিয়ার সম্মুখে প্রকাশ করে দেন (তথ্য সন্ত্রাস-জহুরী; উত্লু প্রকাশনী, ঢাকা; প্রথম প্রকাশ-মার্চ ১৯৯৯ইং, পৃঃ ১২১)। আবার বৃটেনে সংঘটিত হয় ২ বছরব্যাপী (১৯০৫-১৯০৭) এক কনফারেন্স। সেখানে যে সমস্ত সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণ করা হয় তন্মধ্যে অন্যতম হ’ল- মুসলিম বিশ্বকে চিরস্থায়ী পঙ্গু করার জন্য সুয়েজ খাল ও ভূমধ্যসাগরের পূর্বতীরে মুসলিম বিশ্বের অন্তঃস্থলে এমন এক জাতিকে পুনর্বাাসিত করা, যারা হবে মুসলমানদের চির শত্রু এবং তাদের ভ-ূগর্ভস্থ স্বর্ণ, তৈল সম্পদ লুন্ঠন ও মিডিয়াকে নিজেদের ইচ্ছেমত ব্যবহার করবে। আর এই কনফারেন্সের সুপারিশক্রমে বৃটেন বিশ্বের সকল মুসলমানদের চিরস্থায়ীভাবে পরাস্ত ও পঙ্গু করার এক দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড বালফোর (Lord Balfour) ইহুদীবাদ আন্দোলনের নেতা লর্ড রোথসচাইল্ডকে একটি চিঠি লিখেন। যা ‘দ্য বালফোর ডিক্লারেশন’ (The Balfour Declaration) নামে খ্যাত। চিঠিতে বলা হয়, ‘Britain would use its best endeavors facilitate the establishment in Palestine of a national home for the Jewish people’. অর্থাৎ ‘ফিলিস্তীনে ইহুদী জাতির জন্য একটি জাতীয় বাসস্থান প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে বৃটেন সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে’।
১৯১৭ সালের ০২ নভেম্বর The Balfour Declaration সম্পন্ন হয় এবং একই বছরের ডিসেম্বরে বৃটিশরা ফিলিস্তীনের অর্ধাংশ দখল করে। অতঃপর ১৯১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তারা পুরো ফিলিস্তীন দখল করে নেয়। আর জনসংখ্যা জরিপ অনুযায়ী সে সময়ে ফিলিস্তীনের মোট ৭ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৫ লাখ ৭৪ হাজার ছিল মুসলমান, ৭৪ হাজার খ্রিষ্টান এবং ৫৬ হাজার ইহুদী। এছাড়া সেময়ে ৫০ হাজার ইহুদী রাশিয়া, জার্মান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইয়েমেন, ভারত ও চীন থেকে আগমন করে ফিলিস্তীনে পূনর্বাসিত হয়। এভাবে ৩১ বছর পর ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তীনে আগন্তুক ইহুদীদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ লাখ ৫০ হাজার। যার মধ্যে আধুনিক অস্ত্র সজ্জিত ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সৈন্য ছিল ৭০ হাজার। অতঃপর ১৯৬৭ সালে তারা ‘বায়তুল মুকাদ্দাস’ দখল করার সাথে সাথে গাজা, জেরিকো, গোলান মালভূমি, সিনাই উপত্যকাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে নেয় (দৈনিক সংগ্রাম, ০১/০১/২০০১ইং)। আর এমনিভাবেই শুরু হ’ল ফিলিস্তীনে জায়োনিস্ট বা ইহুদীদের উপনিবেশ বা বর্তমান ইসরাঈল রাষ্ট্রের যাত্রা। অন্যদিকে সূচনা হয় ফিলিস্তীনী মুসলমানদের লাশের মর্মন্তুদ মিছিল। যার ধারাবাহিকতায় অদ্যবধি সারা বিশ্বে একযোগে চলছে ইহুদী-খ্রীষ্টান সাম্রাজ্যবাদীদের পরিচালিত মুসলমান নিধনের নিয়মিত হোলিখেলা।

ফিলিস্তীনের আদিবাসীদের পরিচয় :

মুসলমান ও ইহুদী সম্প্রদায় উভয়ের দাবী হ’ল, হযরত ইবরাহীম (আঃ) তাদের জাতির পিতা এবং ফিলিস্তীন তাদের আদি বাসভূমি। আর মুসলমানদের এ দাবীর স্বপক্ষে মহান আল্লাহ বলেন, وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ مِلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِنْ قَبْلُ وَفِي هَذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ ‘তিনি (আল্লাহ) তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন। তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন কঠোরতা আরোপ করেন নাই; এটা তোমাদের পিতা ইবরাহীম (আঃ)-এর মিল্লাত। তিনি পূর্বে তোমাদের নামকরণ করেছেন মুসলিম এবং এই কিতাবেও, যাতে রাসূল (ছাঃ) তোমাদের জন্যে সাক্ষ্যদাতা হন এবং তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও সমস্ত মানব জাতির জন্য’ (হজ্জ ২২/৭৮)।

মূলতঃ মুসলমানরা হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর প্রকৃত বংশধর। আর ইহুদীরা দাবী করে তারা হযরত ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর বংশধর। কিন্তু ঐতিহাসিক তথ্যমতে, অধিকাংশ ইহুদীরাই কাষ্পিয়ান ও কৃষ্ণসাগরের মধ্যবর্তী ককেশাস এলাকায় বসবাস করত। প্রায় ২০০০ বছর ধরে সম্পূর্ণ ফিলিস্তীন এলাকা ইহুদী শূন্য ছিল। তাছাড়া তাদের ধর্মীয় দাবীর পাশাপাশি ঐতিহাসিক দাবী হ’ল, তারা কোন এক সময় প্রায় চারশত বছর ধরে এ এলাকা শাসন করেছে, কাজেই এটা তাদের ভূখন্ড। অথচ তৎপরবর্তীতে মুসলমানরা ১৩৫০ বছর যাবৎ ফিলিস্তীন শাসন করেছে। সুতরাং তাদের এই হাস্যকর দাবী আমলে নিলেও তাদের চেয়ে এখানে মুসলমানদের অধিকার বেশী। কেননা মুসলমানরা এখানে ইহুদীদের চেয়ে তিনগুন বেশী সময় ধরে শাসন করেছে। অতএব এটা মুসলমানদের প্রকৃত ভূখন্ড।

ফিলিস্তীনীদের উৎপত্তির ঐতিহাসিক ক্রমধারা :

আধুনিক সভ্যতার যাত্রা শুরু হয় মূলতঃ আনুমানিক ৩০০০ বছর পূর্বে ব্যাবিলনে এবং ২৮০০ বছর পূর্বে ফিলিস্তীনে। কেননা জাতির পিতা হযরত ইবরাহীম (আঃ) যখন হিজরত করে খ্রীষ্টপূর্ব ২০০০ সালে ফিলিস্তীনে আসেন তখনও তিনি সেখানে জনবসতি ও সভ্যতার উৎকর্ষতা লক্ষ্য করেন (দৈনিক সংগ্রাম, ০১/০১/২০০১ইং)। কারণ হযরত নূহ (আঃ) ইরাকের মূছেল নগরীতে স্বীয় সম্প্রদায়ের সাথে বসবাস করতেন। তারা বাহ্যতঃ সভ্য হলেও শিরকের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। তিনি তাদের হেদায়েতের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। মহাপ্লাবনের পর তার সাথে নৌকারোহী মুমিন নর-নারীদের মাধ্যমে সমগ্র পৃথিবীতে নতুন করে আবাদ শুরু হয় এবং তাদেরকে তিনি সত্যের পথে পরিচালিত করেন। এ কারণেই তাকে ابو البشر الثانى বা ‘মানব জাতির দ্বিতীয় পিতা’ বলা হয় (নবীদের কাহিনী ১/৫৩ পৃঃ)। আর তিনিই ছিলেন পৃথিবীর প্রথম রাসূল (মুত্তাফাক্ব আলাইহ্, মিশকাত হা/৫৫৭২)। পৃথিবীর সমস্ত মানব জাতি একই ভূখন্ডে বসবাস করত এবং পরবর্তী কালে তাদের চাহিদামত পৃথিবীর বিভিন্ন চারণভূমিতে ছড়িয়ে পড়ে (সীরাতে সারওয়ারে আলম ২/৬ পৃঃ)। মহান আল্লাহ বলেন, وَجَعَلْنَا ذُرِّيَّتَهُ هُمُ الْبَاقِينَ ‘আমরা তার (নূহের) বংশধরগণকেই অবশিষ্ট রেখেছি’ (ছাফফাত-৩৭/৭৭)। অর্থাৎ নূহের মহাপ্লাবনের পর কেবল তার তিন পুত্রসহ মুমিন নর-নারীগণই অবশিষ্ট ছিল।
ঐতিহাসিকদের মতে, সবচেয়ে পূরাতন জাতি হল সেমেটিক জাতি। সেমেটিক শব্দটি আদি বাইবেল (Old testment)-এ সেম (Shem) হতে উদ্ভূত বলে উল্লেখিত হয়েছে (বাইবেল, কুরআন ও বিজ্ঞান, ৫১ পৃঃ)।

হযরত নূহ (আঃ)-এর জৈষ্ঠ্য পুত্র সাম (سام )-এর বংশধর সেমেটিক জাতি নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন ابو العرب বা আরব জাতির পিতা। আর তাঁর বংশধরগণের মধ্যেই হযরত ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক (আঃ)-দের মত বিশ্ববিশ্রুত মহান ব্যক্তিদের আবির্ভাব। আর ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশধর ছিলেন মানব জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত, শেষনবী হযরত মুহাম্মাদ (ছাঃ) (নবীদের কাহিনী ১/৫২ পৃঃ)। সৈয়দ আমীর আলীর মতে, ‘সেমিটিক জাতির আদি বাসস্থান মেসোপটেমিয়া। আনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব ৩৮০০ সালে ব্যাবিলন সভ্যতার বিকাশ লাভ করে এবং খ্রীষ্টপূর্ব ৩৫০০ হতে ৫০০ সালের মধ্যে তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে মেসোপটেমিয়া থেকে ফোরাত-দজলা উপত্যকা, সিরিয়া, ফিলিস্তীন, সিনাই এলাকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন ভূমিতে ছড়িয়ে পড়ে’ (ইসলামের ইতিহাস, ৩-৫)। খ্রীষ্টপূর্ব ২৮০০ হতে ২৫০০ সালের মাঝে বনু কেনান ফিলিস্তীনে এসে স্থায়ী বসতি স্থাপন করে। আর এটা ঘটেছিল বনী ইসরাঈলদের আসার ১৫০০ বছর পূর্বে (বাইবেল, কুরআন ও বিজ্ঞান, পৃঃ ২০-২২।) আবার আনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব ১৪৪৬ থেকে ১৪২৩ সালের মধ্যবর্তী সময় হযরত মূসা (আঃ) ফেরাউনকে তাওহীদের প্রতি দাওয়াত দিতে থাকেন। কিন্তু আল্লাহর গযবের শিকার হয়ে খ্রীষ্টপূর্ব ১৪২৩ সালে ফেরাউন ও তার দলবল সকলেরই সাগরে ডুবে সলিল সমাধি হয়। অতঃপর হযরত মূসা (আঃ) খ্রীষ্টপূর্ব ১৩৮৬ সাল পর্যন্ত রাসূল হিসেবে বনী ইসরাঈলদের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং তবীহ প্রান্তরে ৪০ বছর বন্দী অবস্থায় থাকা কালে খ্রীষ্টপূর্ব ১৩৮৬ সালে মারা যান (নবীদের কাহিনী ২/১৪-১৫পৃঃ)। খ্রীষ্টপূর্ব ১০৯১ সালে শ্যামূয়েল (شمويل ) নবী তালূতকে তাদের বাদশা বানিয়ে দেন। খ্রীষ্টপূর্ব ১০৯১-১০৭৫ সালে তালুত(সীরাতে সারওয়ারে আলম ২/৬৬), খ্রীষ্টপূর্ব ১০৭৫-১০১৫ সালে হযরত দাউদ (আঃ) এবং তাঁর পুত্র হযরত সুলাইমান (আঃ) খ্রীষ্টপূর্ব ১০১৫-৯৭৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১০০ বছর পর্যন্ত শাসন করেন (নবীদের কাহিনী ২/১৬৪পৃঃ)। এছাড়াও খ্রীষ্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীতে ৭৮৭-৭৪৭ সাল পর্যন্ত আমুস নবী ও ৭৪৭-৭৩৫ সাল পর্যন্ত হোসি নবী ইহুদীদের বার বার সাবধান করেন (সীরাতে সারওয়ারে আলম ২/৬৯ পৃঃ)। কিন্তু খ্রীষ্টপূর্ব ৭২১ সালে সামারিয়ার পতনের মধ্য দিয়ে ইহুদী রাজত্বের পরিসমাপ্তি ঘটে (বাইবেল, কুরআন ও বিজ্ঞান ২১ পৃ।

খ্রীষ্টপূর্ব ৫৮৭ সালে ইহুদীদের পরপর দুইবার নির্বাসিত হতে হয়। খ্রীষ্টপূর্ব ৫৬০ সালে তারা ব্যাবিলন বাদশাহ বুখ্তে নছরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, ফলে বুখ্তে নছর আবারও তাদেরকে আক্রমণ করে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও লুটতরাজ চালায়। আর এই ঘটনাটি ঘটেছিল হযরত সোলাইমান (আঃ) কর্তৃক বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদ নির্মাণের প্রায় ৪১৫ বছর পর (তাফসীর মা’আরেফুল কুরআন ৭৬৬ পৃঃ)। এই আক্রমণে জেরুজালেমের পতনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইহুদী সাম্রাজ্যের পতন এবং তা খ্রীষ্টপূর্ব ৫৩৮ মতান্তরে ৫৩১ সালে ইরানী সম্রাট সাইরাসের (খসরুর) ঘোষণায় ইহুদীদের ব্যাবিলন নির্বাসনের পরিসমাপ্তি ঘটে। এরপর আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট পারস্য সাম্রাজ্য দখল করেন এবং খ্রীষ্টপূর্ব ৩২৩ সালে আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর তার সকল সাম্রাজ্যকে বিভক্ত করা হয়। এদের একজন সেলুকাস একটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন, যারা খ্রীষ্টপূর্ব ২০০ সালে ফিলিস্তীনের নিয়ন্ত্রণ লাভ করে (মাসিক পৃথিবী জানুয়ারী ২০০০ ৫১ পৃঃ)। খ্রীষ্টপূর্ব ১৭০ সালে এন্তাকিয়া শহরের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট ইহুদীদের উপর আক্রমণ করে ৪০ হাজার ইহুদী হত্যা করে এবং ৪০ হাজারকে বন্দী করে গোলাম বানায় (তাফসীর মা’আরেফুল কুরআন ৭৬৬ পৃঃ)। এরপর সেলুসিড নামক নতুন শাসকরা ইহুদীবাদ অনুশীলন নিষিদ্ধ করে এবং এর ফলে ফিলিস্তীনে ইহুদীরা বিদ্রোহ করে। অতঃপর ম্যাকাবী নামক বেশ কয়েকজন নেতার অধীনে ইহুদীরা সলুসিডদের থেকে স্বাধীনতা লাভ কওে এবং আবারও জেরুজালেমে ফিরে আসে। তারা সেখানে নতুন করে ইহুদী সভ্যতা গড়ে তোলে। সেখানে খ্রীষ্টপূর্ব ১৪৫ সালে জুদাহ নামে একটি ইহুদী রাষ্ট্র টিকে থাকে। পরবর্তীতে খ্রীষ্টপূর্ব ৯৮ সালে সলুকী রাজ্যের শাসক তৃতীয় এন্টিউকাস ফিলিস্তীন অধিকার করেন এবং খ্রীষ্টপূর্ব ৬৩ সালে রোমান সৈন্যরা জুদাহে আগ্রাসন চালিয়ে তা রোম সাম্রাজ্যের অংশ করে নেয় এবং এই এলাকাকে তারা ‘জুডিয়া’ বলত (সীরাতে সারওয়ারে আলম ২/৭৫-৭৬)।
আবার খ্রীষ্টপূর্ব ৪০ সালে ইহুদীরা হিরোডস নামের জনৈক ইহুদীর নেতৃত্বে প্রকাশ্যে রোম সম্রাটের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। ফলে রোম সম্রাট তাইতিস (যে ইহুদী ও খ্রীষ্টান কোন ধর্মালম্বী ছিল না) ফিলিস্তীনে আক্রমণ করে শহরের সমস্ত উপাসনালয় ধ্বংস করে পুরো শহর পূর্বের ন্যায় ধ্বংসস্ত্তপে পরিণত করে (তাফসীর মা’আরেফুল কুরআন ৭৬৬ পৃঃ)। এরপর ৭০ থেকে ১৩২ সালে টিটাস সামরিক শাসন প্রয়োগ করে কঠোরহস্তে বিদ্রোহ দমন করেন। পরিশেষে তিনি ইহুদীদের আবারও পতন ঘটান এবং সেখানে ইহুদীদের ১ লক্ষ ৩৩ হাজার লোক নিহত হয় ও ৬৭ হাজার লোক বন্দী হয়ে কৃতদাসে পরিণত হয় (সীরাতে সারওয়ারে আলম ২/৭৫-৭৬)। আবারও ১৩৫ সালে রোমানরা ইহুদীদেরকে ফিলিস্তীন থেকে বিতাড়িত করে। সে সময় তারা এ এলাকার নামকরণ ‘ফিলিসতিয়া’র পরিবর্তে ‘ফিলিস্তীন’ করে। ইহুদীরা এ সময় স্থায়ীভাবে ফিলিস্তীন ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ৫০০ বছর ফিলিস্তীন রোমান সাম্রাজ্যের অঙ্গীভূত হয়ে থাকে (মাসিক পৃথিবী; জানুয়ারী, ২০০০; ৫২পৃঃ)। এভাবে ফিলিস্তীনে ইহুদীদের প্রভাব এমনভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায় যে, বিগত প্রায় দুই হাজার বছর ধরে তারা মাথা তুলবার কোন সুযোগ পায়নি (সীরাতে সারওয়ারে আলম ২/১৩১-১৩৩ পৃঃ)।
৬৩৭ খ্রীষ্টাব্দে মুসলমানরা সর্বপ্রথম ফিলিস্তীনকে করতলগত করে আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহের নেতৃত্বে। হযরত উমর (রাঃ) সশরীরে উপস্থিত থেকে খ্রীষ্টানদের কাছ থেকে জেরুজালেমের কর্তৃত্ব গ্রহণ করেন। মুসলমানদের এই বিজয়ের পর সুদীর্ঘ ৫০০ বছর পর ইহুদীরা ফিলিস্তীনে তাদের উপাসনা-অর্চনা করার অধিকার ফিরে পায়। যে অধিকার তাদের কাছ থেকে রোমকরা কেড়ে নিয়েছিল। পরবর্তী ক্রসেডারদের আক্রমণের পূর্ব পর্যন্ত ৪০০ বছর যাবৎ ফিলিস্তীন রাষ্ট্র মুসলমানদের একচ্ছত্র অধিকারে ছিল।
১০০০ সাল থেকে ১০৭১ সালের মধ্যে সেলজুক নামক তুর্কী মুসলিম জনগোষ্ঠী ফিলিস্তীনের নিয়ন্ত্রণ লাভ করে। সেখানে তাদের শাসনামল ৩০ বছরের কম সময় স্থায়ী হয়। ১০৯৬ সালে ইউরোপের খ্রীষ্টান কর্তৃক ক্রুসেড শুরু হয় এবং ১০৯৯ সালে তারা জেরুজালেম দখল করে। অতঃপর ১১৮৭ সালে মুসলিম শাসক গাজী সালাহুদ্দীন আইয়ূবী ফিলিস্তীন আক্রমণ করেন এবং খ্রীষ্টানদের বিতাড়িত করে জেরুজালেমের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। ১২০০ শতকের মাঝামাঝি মামলুক নামক মিশরীয় শাসকরা একটি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। যাতে এক সময় ফিলিস্তীনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তারা ১৫১৭ সাল পর্যন্ত শাসন ক্ষমতায় থাকে। ১৮০০ সালে পূর্ব ইউরোপে ইহুদীরা চরম নিপীড়নের শিকার হলে তারা ইহুদী উদ্বাস্ত্ত হয়ে গণহারে দেশান্তরিত হয়ে ফিলিস্তীনে আশ্রয় গ্রহণ করতে থাকে। ১৮৮০ সালে ফিলিস্তীনে বসবাসরত ইহুদীদের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২৫ হাজারে। এ সময় তারা জায়োনাবাদ নামক একটি আন্দোলন গড়ে তোলে। এরপর ১৯১৪ সালে ইহুদীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮৫ হাজারে। আর তখন সেসময়ে মুসলমান ফিলিস্তীনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ লক্ষ। ১৯১৭ সালে বৃটেন তার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় ইহুদী সমর্থন লাভের জন্য The Balfour Declaration প্রকাশ করে, যা ১৯১৮ সালে ফিলিস্তীন ভূখন্ডে ইহুদীদের জন্য একটি ‘জাতীয় আবাসভূমি’ গড়ে তোলার পক্ষে জোরালো সমর্থন করে (দৈনিক সংগ্রম ০১/০১/২০০১ইং)।
অতঃপর ১৯২০-১৯২৩ সালে ফিলিস্তীনের বিভিন্ন ভূখন্ড ইহুদীরা দখল করে নেয় এবং আরবরা ইহুদী বসতি স্থাপনের বিরোধিতায় আন্দোলন গড়ে তোলে (সীরাতে সারওয়ারে আলম ২/১৩৬)। আবার ১৯৩০ সালে জার্মানীতে ইহুদী নির্যাতনের ফলে বিপুল সংখ্যক ইহুদী উদ্বাস্ত্ত হয়ে ফিলিস্তীনে আশ্রয় গ্রহণ করে। ১৯৩৬ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে ফিলিস্তীনের মুসলমানরা ও আরববিশ্ব বৃটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। অবশেষে বৃটেন ফিলিস্তীনে ইহুদী বসতি স্থাপন সীমিত করে এবং পাঁচ বছরের মধ্যে সকল আগন্তুক ইহুদীকে স্ব স্ব দেশে ফিরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ইহুদীরা এই সিদ্ধান্তকে চরমভাবে প্রত্যাখ্যান করে (দৈনিক সংগ্রাম, ০১/০১/২০০১ইং)।
অতঃপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে (১৯৩৯-১৯৪৫ সালে) যুদ্ধ শেষের প্রাক্কালে নাৎসীরা প্রায় ৬০ লক্ষ ইউরোপীয় ইহুদীকে হত্যা করে। বেঁচে যাওয়া ইহুদীরা অনেকেই বিদেশে উদ্বাস্ত্ত হয়। ফলে ১৯৪৭ সালে বৃটেন জাতিসংঘের নিকট ফিলিস্তীনের সমস্যা নিরসনের জন্য চূড়ান্তভাবে আহবান জানায়। ফিলিস্তীনকে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে রাখার আহবানে জাতিসংঘের ‘সাধারণ পরিষদ’ ১৯৪৭ সালের ২৯ নভেম্বর একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ফলশ্রুতিতে ১৯৪৮ সালে মে মাসের ৪ তারিখে ইহুদীরা স্বাধীন ‘ইসরাইল’ রাষ্ট্রের ঘোষণা করে এবং বৃটিশরা ফিলিস্তীন থেকে প্রত্যাবর্তন করে। অতঃপর সেখানে ১৯৫১ সালে ৭ লক্ষ ইহুদী বসতি স্থাপন করে। ১৯৫৬-১৯৫৭ সালের আরব যুদ্ধের সময় ইহুদীরা ফিলিস্তীনের পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা দখল করে। ১৯৬৭ সালে এবং ১৯৭৩ সালে আবারও আরব-ইসরাইল যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৭৪ সালে জুন মাসে যুদ্ধ বিরতি ঘটে এবং ১৯৮৭ সালের শেষের দিকে ফিলিস্তীনে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে ও ইসরাইলী সৈন্য বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তীনীকে হত্যা করে (মাসিক পৃথিবী, জানুয়ারী ২০০০, ৫৩ পৃঃ)। এভাবেই ফিলিস্তীনে ইহুদীদের উত্থান-পতনের ইতিহাস পরিদৃষ্ট হয়।
এভাবে গোটা ইহুদী জাতির ইতিহাসে দেখা যায় যে তারা হ’ল ভীতু, কাপুরুষ, অভিশপ্ত ও হঠকারী এক নিকৃষ্ট জাতি। তাদের এই হঠতকারিতার ইতিহাস পবিত্র কুরআনে বার বার বিধৃত হয়েছে।

যেমন হযরত মূসা (আঃ) বনী ইসরাঈল সম্প্রদায়কে বলেছিলেন,يَا قَوْمِ ادْخُلُوا الْأَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ الَّتِي كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَرْتَدُّوا عَلَى أَدْبَارِكُمْ فَتَنْقَلِبُوا خَاسِرِينَ (21) قَالُوا يَا مُوسَى إِنَّ فِيهَا قَوْمًا جَبَّارِينَ وَإِنَّا لَنْ نَدْخُلَهَا حَتَّى يَخْرُجُوا مِنْهَا فَإِنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا فَإِنَّا دَاخِلُونَ ‘হে আমার সম্প্রদায়! পবিত্র ভূমি মুকাদ্দাসে প্রবেশ কর, যা আল্লললাহ্ তোমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং পেছন দিকে প্রত্যাবর্তন করনা। অন্যথায় তোমরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়বে। তারা বলল, হে মূসা! সেখানে একটি প্রবল পরাক্রান্ত জাতি রয়েছে। আমরা কখনও সেখানে যাব না, যে পর্যন্ত না তারা সেখান থেকে বের হয়ে যায়। তারা যদি সেখান থেকে বের হয়ে যায় তবে নিশ্চিয়ই আমরা প্রবেশ করব’ (মায়েদা ২১-২২)।

সুতরাং যে জাতি তাদের পবিত্র ভূমির সম্মান টিকিয়ে রাখার যোগ্যতা রাখে না, তারা এখন কি করে সেই ভূমি নিজেদের বলে দাবী করে? তারা তো নিজেরাই অনীহা প্রকাশ করেছে। এমনকি তারা তাদের নবীর আদেশ পর্যন্ত উপেক্ষা ও অবহেলা করেছে। আর পরবর্তীতে যেহেতু সকল নবী ও তাদের উপর প্রেরিত ঐশী কিতাবে বিশ্বাসী মুসলমানরা ফিলিস্তীন অধিগ্রহণ করেছে এবং মহান আল্লললাহ্র ঘোষণা অনুযায়ী হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর প্রকৃত উত্তরসূরী হ’ল এই উম্মতে মুহাম্মাদী এবং ইসলামের ইতিহাসে বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের দ্বিতীয় কেবলা হিসেবে আজও সমাদৃত ও সুপ্রসিদ্ধ (ছহীহ বুখারী হা/৪১৩৪, কিতাবুত তাফসীর অধ্যায়)। সেহেতু আদিবাসী হিসেবে ফিলিস্তীন এলাকা মুসলমানদেরই সর্বাধিকার প্রাপ্য।
উপসংহার :
পরিশেষে বলব, ইহুদীদের উদাহরণ হ’ল বোঝা বহনকারী গাধার মত। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যাদেরকে তাওরাত দেয়া হয়েছিল, অতঃপর যারা তার অনুসরণ করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত সেই গাধার মত যে পুস্তক বহন করে। যারা আল্লাহর আয়াত সমূহকে মিথ্যা করে, তাদের দৃষ্টান্ত কতই না নিকৃষ্ট! আর আল্লাহ যালেম সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না’ (জুম’আ ৬২/৫)। এছাড়া ইহুদীরা মুসলমানদের চির শত্রু, যতক্ষণ পর্যন্ত না মুসলমানরা তাদের আচার-আচরণকে অনুকরণ না করবে। যেমন- তিনি বলেন, ‘আর ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা কখনই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্ম অনুসরণ করেন…’ (বাক্বারাহ্ ২/১২০)। অথচ দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে এক শ্রেণীর মুসলমানরা এমনভাবে অনুসরণ করে চলেছে যে, বিপদের আশংকা আছে জেনেও তাদের গুহাতে প্রবেশ করতে একটিবারও দ্বিধাবোধ করেনা। ঐ সকল লোকদের সম্পর্কে রাসূলুল্লললাহ্ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে এমনভাবে অনুসরণ করবে যে, এক বিঘত পরিমাণও ব্যবধান থাকবে না। এমনকি তারা যদি গুই সাপের গর্তেও প্রবেশ করে থাকে, তোমরাও তাতে প্রবেশ করতে শংকিত হবে না। ছাহাবারা আরয করলেন, হে আল্লললাহর রাসূল (ছাঃ) ! তারা কি ইহুদী ও খ্রীষ্টান? তিনি বললেন, তবে আর কে? (ছহীহ বুখারী হা/৩১৯৮। অন্যত্র বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য কোন জাতির সঙ্গে সাদৃশ্য রাখে, সে ঐ জাতির মধ্যে গণ্য হবে’ (ছহীহ আবুদাঊদ হা/৪০৩১; মিশকাত হা/৪৩৪৭)। সুতরাং এ কথা স্পষ্টতই বলা যায় যে, ইহুদীরা কপট জাতি। তারা মুখে এক কথা বলে এবং অন্তরে ভাবে আরেক কথা। তাদের প্রধান লক্ষ্য হ’ল যে কোন উপায় অবলম্বন করে মুসলমানদের ঈমান ও আক্বীদা নষ্ট করা। আর ঈমানী শক্তি একবার নষ্ট হয়ে গেলে সে মুসলমান দ্বারা যে কোন অপকর্ম করা সম্ভব। অতএব আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য সচেতনতার সাথে ইহুদীদের কূটচালের হিংস্রতা থেকে আত্মরক্ষা করতে হবে। আসুন, আমরা ইহুদীদের কপটতার জাল ভেদ করে সম্মুখপানে অগ্রসর হই। যে পথ সুন্দর, সরল, সুদৃঢ় ও ঋজু। আল্লললাহ্ আমাদের সহায় হোন। আমীন!!
লেখক : -মুহাম্মাদ লিলবর আল-বারাদী

(সূত্র)

মতামত দিন