মায়ের দু’আ ( ইসলামী গল্প )

মায়ের দুআ

গল্প অনুলিখন : মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী

সম্ভ্রান্ত এক রমণীর বিয়ে ইসমাঈল নামের এক ব্যক্তির সাথে হয়। ইসমাঈল এক বুযুর্গ পরহেযগার এবং অনেক বড় আলেম ছিলেন। তিনি ইমাম মালিক (রা)-এর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এই পবিত্র বিয়ের ফলাফল স্বামী-স্ত্রীর জন্য এক নামী-দামী শিশুর জন্ম হল; যার নাম তাঁরা মুহাম্মদ রেখেছেন। বিয়ে হল মাত্র কয়েক বছর অতীত হয়েছিল এরই মধ্যে ইসমাঈল তার স্ত্রী ও শিশুসহ রেখে এই নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায় নেন আর রেখে যান তাদের জন্যে যথেষ্ট ধন-সম্পদ।

 

মাতা অত্যন্ত যত্ন সহকারে নিজ সন্তানকে লালর-পালন করেন। তার শিশুর ভবিষ্যতের কল্যাণ ও অগ্রগতি এবং তার আশার পূর্ণতায় বাধা সৃষ্টি হল। শৈশবেই শিশুটি তার দৃষ্টি হারিয়ে ফেলল। এখন অন্ধ হওয়ার কারণে এই শিশুটি শিক্ষা গ্রহণের জন্য উলামাদের দরসে অংশ গ্রহণের সামর্থ ছিল না। আর না অন্য কোন শহরে যেতে পারতেন। মা খুবই দুঃশ্চিন্তায় ছিলেন যে, শেষ পর্যন্ত এই শিশুটির কি হবে? আলেম দ্বীন কিভাবে হতে পারবে?

 

এই আশা পূরণে একটি মাত্র উপায় অবশিষ্ট ছিল আর তা হল প্রার্থনা সুতরাং তিনি আল্লাহর নিকটে চোখের পানি ফেলে ফেলে প্রার্থনা করতে লাগলেন। বহুদিন থেকে তার সন্তানের দৃষ্টির জন্য আল্লাহর নিকটে প্রার্থনা করতে থাকেন। এক রাতে তিনি এক আশ্চর্য ধরনের স্বপ্ন দেখতে পান। ইব্রাহীম খলীলুল্লাহকে দেখেন, তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বলছেনঃ

 

হে নারী! তোমার অত্যধিক প্রার্থনায় আল্লাহ তায়ালা তোমার সন্তানের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছেন। যখন মুহাম্মাদের মা ঘুম থেকে জাগলেন তখন দেখলেন যে বাস্তবেই তার সন্তানের দৃষ্টি ফিরে পেয়েছে। তার মুখ থেকে অনিচ্ছায় এই কথা বের হয়ে আসেঃ

 

অর্থঃ “বল তো কে নিঃসহায়ের ডাকে সাড়া দেন যখন সে ডাকে এবং কষ্ট দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে পূর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত করেন, সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি?।” (সূরা নামলঃ ৬২)

 

হে আমার প্রভু! অতি সমস্যায় জড়িত ব্যক্তির প্রার্থনা তুমি ছাড়া কে শুনতে পারে? আর কে আছে যে বান্দার সমস্যা দূর করতে পারে।

 

এই মহিয়সী রমনী যে অবিরত প্রার্থনা করছিলেন তিনি ছিলেন ইমামুল মুহাদ্দিসীন মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী (রা)-এর শ্রদ্ধেয়া মা। যিনি তার সন্তানের দৃষ্টি ফিরে এলে তার শিক্ষা-দীক্ষার জন্য এত বেশি শ্রম দেন যে, আল্লাহ তায়ালা তার ছেলের প্রতি সর্ব প্রকারের ইলমের দরজা খুলে দেন এবং পরবর্তীতে এই শিশুটিই এক অনেক বড় হাদীস শাস্ত্রে পান্ডিত্য ও ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। আর আল্লাহর কিতাবের পর দুনিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ কিতাব প্রণয়ন করেন যা সহীহ বুখারী নামে প্রসিদ্ধ। আর সেই শিশুটিকেই মুসলিম বিশ্বে ইমাম বুখারী বলে জানে। যার পূর্ণ নাম মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী (রা)।

উত্স: যে গল্পে প্রেরণা যোগায় সিরিজ এর বই, পিস পাবলিকেশন্স

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
kiw kow kan