কুরআন

কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে যেসব উপকার লাভ করতে পারেন

কুরআন পাঠের মাধ্যমে  আপনি যেসব উপকার লাভ করতে পারেন

 লেখক : শাহাদাত হুসাইন।

সম্পাদনা : সম্পাদনা পরিষদ।

কুরআন আল্লাহর বাণী। সৃষ্টিকুলের উপর যেমন স্রস্টার সম্মান ও মর্যাদা অপরিসীম,তেমনি সকল বাণীর উপর কুরআনের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অতুলনীয়। মানুষের মুখ থেকে যা উচ্চারিত হয়, তন্মধ্যে কুরআন পাঠ সর্বাধিক উত্তম।

পবিত্র রমাদান মাস কুরআন এর মাস। এ মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে। তাই আমাদের উচিত কুরআনের মাসে কুরআন পাঠ করা। এবং তা বুঝে বুঝে পড়া। কুরআন পাঠ করার পাশাপাশি তা আমল করার প্রতি গুরুত্ব দেয়া উচিত। আমরা যারা কুরআন পড়তে জানি, তাদের প্রতি অনুরোধ পরিচিত দের কুরআন শিখানোর আহবান করছি।

কুরআন শিক্ষা করা, অন্যকে শিক্ষা দান করা ও কুরআন অধ্যয়ন করার মধ্যে রয়েছে অফুরন্ত ফযীলত এবং উপকার ।  নিম্নে তার মধ্যে কতগুলো উল্লেখ করা হলো :

কুরআন পাঠকারীর াযীলাতকুরআন পাঠকারী সবচেয়ে উন্নত। এ ব্যাপারে হাদীসে উল্লেখ রয়েছে যে, আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা) বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, কুরআন পাঠকারীকে বলা হবে পাঠ করতে থাক এবং উপরে উঠতে থাক। অক্ষর অক্ষর ও শব্দ শব্দ স্পষ্টভাবে পাঠ করতে থাক। যেভাবে দুনিয়াতে পাঠ করতে । কেননা, তোমার স্থান শেষ আয়াতের নিকটে, যা তুমি পাঠ করবে। – আহমাদ,তিরমিযী, আবূ দাউদ ও নাসায়ী।

কুরআন শিখানোর প্রতিদান: নাবী (সা) বলেন: তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে নিজে কুরআর শিক্ষা করে ও অন্যকে তা শিক্ষা দেয়। -বুখারী।

আর আমরা জানি যে, যে  ব্যক্তি প্রথম ভালো কাজ শুরু করে পরবর্তীতে যারা করে তাদের সাওয়াবও তার নামে লিখা হয় অথচ দ্বিতীয় ব্যক্তির সাওয়াব একটুও কমে না। আল্লাহ আমাদের কুরআন শিখার সেই সাথে কুরআন শিখানোর তাওফিক দিন।

কুরআন পাঠে অসংখ্য সাওয়াব: কুরআন পাঠের প্রতিদান অনেক। রাসূল (সা) বলেন, “যে ব্যক্তি পবিত্র কুরআনের একটি অক্ষর পড়বে, সে একটি নেকী পাবে আার একটি নেকী দশ নেকীর সমপরিমাণ।আমি বলছি না যে, ‘আলিফ লাম-মীম এক একটি অক্ষর। বরং ‘আলিফ’ একটি অক্ষর, ‘লাম’ একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর। (সুতরাং আলিফ,লাম ও মীম বললে ত্রিশটি নেকী পাবে)। -তিরমিযী। এছাড়াও বিভিন্ন কুরআনের সূরা ও আয়াত পাঠ করার ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত ধারাবাহিক পোষ্ট শীঘ্রই আসছে।

কুরআন পাঠকারী ফেরেশতার সাথে থাকবে : আয়েশা (রা) বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, কুরআন পাঠে দক্ষ ব্যক্তি সম্মানিত লিপিকার ফেরেশতাদের সাথে থাকবেন। আর যে কুরআন পড়ে ও তাতে আটকায় এবং কুরআন তার পক্ষে কষ্টদায়ক হয়, তার জন্য দুটি পুরষ্কার রয়েছে। – মুত্তাফাকুন আলাইহি।

কুরআন শিক্ষা করা,মুখস্থ করা ও তাতে দক্ষতা লাভ করার ফযীলত:  আল কুরআন মুখস্থ করার বহু লাভ রয়েছে । এ মাধ্যম আল্লাহর পরিবারের সদস্য হওয়ার সৌভাগ্যবান হওয়ার সুযোগ হয়েছে। কারণ হাদীসে হাফিয ও আমলকারীগণ আল্লাহর পরিবারের সদস্য বলে ঘোষণা করেছেন। অর্থ্যাত তাঁরা আল্লাহর খুবই প্রিয়। রাসূল (সা) বলেছেন, আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সা) বলেছেন, কতক লোক আল্লাহর পরিবার-পরিজন। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল ! তারা কারা ? তিনি বললেন, কুরআনি তিলাওয়াতাকারীরাই আল্লাহর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর বিশেষ বান্দা।

সন্তানকে কুরআন শিখানোর প্রতিদান :

নবী (সা) বলেছেন : “যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করবে, শিক্ষা করবে ও তদানুযায়ী আমল করবে। তার পিতা-মাতাকে কিয়ামত দিবসে একটি নূরের তাজ পড়ানো হবে, যার আলো হবে সূর্যের আলোর মত উজ্জল। তাদেরকে এমন দু’টি পোষাক পরিধান করানো হবে, যা দুনিয়ার সকল বস্তুর চেয়ে অধিক মূল্যবান। তারা বলবে : কোন আমলের কারণে আমাদেরকে এত মুল্যবান পোষাক পরানো হয়েছে ? বলা হবে, তোমাদের সন্তানের কুরআন গ্রহণ করা কারণে। (হাকেম, আলবানী হাদীসটিকে হাসান লিগাইরিহি বলেছেন।)।

কুরআনের আলোচনার ফযীলত:

রাসুল (সা) বলেছেন : “কোন সম্প্রদায় যদি আল্লাহর কোন ঘরে একত্রিত হয়ে কুরআন পাঠ করে এবং তা পরষ্পর শিক্ষা লাভ করে, তবে তাদের উপর প্রশান্তি নাযিল হয়, আল্লাহর রহমত তাদেরকে আচ্ছাদিত করে এবং ফেরেশতারা তাদেরকে ঘিরে রাখে। আর আল্লাহ তাঁর নিকটস্থ ফেরেশতাদের সামনে তাদের কথা আলোচনা করেন। ( মুসলিম )

কুরআন পাঠকারীকে কিয়ামতের দিন ছায়া দিবে:

কিয়ামতের দিন সুরা বাকারাহ ও আল-ইমরান ছায়া দান করবে। নাওয়াস ইবন সামআন (রা) বলেন, আমি রাসূল (সা)-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন উপস্থিত করা হবে কুরআন এবং তার পাঠকদের, যারা কুরআন অনুযায়ী আমল করত। তাদের আগে থাকবে সুরা বাকারাহ ও আল-ইমরান, যেন তারা দুটি মেঘখন্ড অথবা দুটি কালো ছায়া,যার মধ্যস্থলে থাকবে দীপ্তি। অথবা দু’টি পক্ষ প্রসারিত পাখির ঝাঁক। যারা অনুযোগ করবে আল্লাহর কাছে তাদের পাঠকদের পক্ষে।– মুসলিম।

কুরআন সুপারিশকারী:

পরকালে কুরআন আমাদের জন্য সুপারিশ করবে। রাসুল (সা) বলেছেন : “তোমরা কুরআন পাঠ কর। কেননা কিয়ামত দিবসে কুরআন তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হবে। -মুসলিম।

আরো বর্ণিত আছে যে, ‘কিয়ামত দিবসে সিয়াম ও কুরআন বান্দার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে। – আহমাদ, হাকেম, হাদীস সহীহ।

কুরআন রহমত এর কারণ

কুরআন তিলাওয়াত করার কারণে রহমত নাযিল হয়। হযরত বারা (রা) বলেন, এক ব্যক্তি সুরা কাহফ পড়ছিল, আর তার পার্শ্বে তার ঘোড়া বাঁধা ছিল দু’টি রশি দিয়ে। এ সময় এক খন্ড মেঘ তাকে ঢেকে নিল এবং তার কাছ থেকে নিকটতর হতে লাগল আর তার ঘোড়া লাফাতে লাগল। সে যখন ভোরে উঠল, তখন রাসূল (সা)-এর কাছে বর্ণনা করল। তিন বললেন, তা ছিল রহমত নেমে এসেছিল কুরআনের কারণে। -মুত্তাফাকুন আলাইহি, মিশকাত হা/২০০৯।

কুরআন দিয়ে জাতির উন্নয়ন বা অবনমন :

হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, এ কিতাব দিয়ে আল্লাহ তাআলা উন্নত করেন কোন কোন জাতিকে এবং অবনত করেন অপরদিগকে।– মুসলিম, মিশকাত হা/২০০৭।

দু:খের সাথে বলতে হয় আজ আমরা কুরআন থেকেই অনেক দুরে এজন্যেই মুসলিম উম্মাহ আজ নির্যাতিত, নিষ্পেষিত এবং সেই সাথে তলানীতে। আমরা কুরআনকে ভুলে গিয়েছি। কুরআন পাঠ করার এবং তার নিয়ে গবেষণার করার কোন উদ্যোগ আজ দেখা যায় না। আল্লাহ আমাদের হিদায়াত দিন।

আপনিও আপনার নতুন পুরনো লেখা পাঠাতে পারেন । pureislam4u@gmail.com এই ঠিকানায়।

মতামত দিন