প্রবন্ধ

সুইজারল্যান্ডের রাজধানী স্টকহোমের মসজিদ থেকে এখন শোনা যাবে আজানের ধ্বনি

সুইজারল্যান্ডের রাজধানী স্টকহোমের মসজিদ থেকে এখন শোনা যাবে আজানের
ধ্বনি। সরকারিভাবে অনুমতি পাওয়ার পর গত ২৬ এপ্রিল শুক্রবার স্টকহোমের
ফিট্টাজা মসজিদের মিনার থেকে জুমার নামাজের আজান দেওয়া হয়। ইউরোপের কোনো মসজিদের মিনার থেকে এই প্রথম আজান দেওয়া হলো। স্টকহোমের মুসলিম
অধ্যুষিত বটকিরকা পৌরসভার ইসলামিক কালচারাল সেন্টার গত বছর জুমার
নামাজের জন্য মিনারের মাইক থেকে আজান দেওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। পৌর কর্তৃপক্ষ সর্বসম্মতিতে অনুমোদন করে এই আবেদন।

শুক্রবার ইউরোপের কোনো মসজিদের মিনার থেকে প্রথম আজানের সাক্ষী হতে পুরো সুইডেন থেকে বহু মুসলমান ফিট্টাজা মসজিদে জড়ো হন। সুইডেনে এটিই একমাত্র মসজিদ, যেখানে মিনার রয়েছে। এ ঘটনা সুইডেনের মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচার পায়। সুইডিশ মিডিয়া মিনার থেকে আজান দেওয়ার ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করে। এখন থেকে সুইডেনের মসজিদগুলো থেকে প্রতি ওয়াক্তে পবিত্র আজানের ধ্বনি প্রচারিত হবে। নতুন এই আইন ঘোষণার পর কেউই এর বিরোধিতা করেনি। যদিও ইতিপূর্বে কেউ কেউ আজান প্রচারকে উদ্বিগ্নতা ও অস্থিরতা সৃষ্টির কারণ বলে আখ্যায়িত করে অনেকেই এর বিরোধিতা করেছে। এর আগে সুইজারল্যান্ডের মসজিদের মিনার নির্মাণ নিয়ে দেশটিতে তুমুল বিতর্ক চলে।
এমনকি এটি গণভোটে পর্যন্ত গড়ায়। ২৯ নভেম্বর ২০০৯ তারিখে এক গণভোটের
মাধ্যমে মসজিদের মিনার নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত হয়। গণভোটে ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার ও দেশের ২৬টি ক্যান্টনের মধ্যে চারটি ছাড়া সবক’টি এ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। তবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও মুসলিম বিশ্ব এ প্রস্তাবের তুমুল বিরোধিতা করে। এটাকে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত বলেও আখ্যায়িত করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মামলাও দায়ের করা হয়। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে মিনার নির্মাণের অনুমতি পাওয়া যায়। মিনার নির্মাণ প্রশ্নে সুইজারল্যান্ডের মুসলমানরা সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন মসজিদে আমন্ত্রণ জানায়। এতে বিপুলসংখ্যক অমুসলিম সুইস নাগরিক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মসজিদগুলোতে এসে ইসলাম সম্পর্কে জানার সুযোগ পান। মুসলিম পণ্ডিতরা ইসলামের সৌন্দর্যের কথা তাদের সামনে তুলে ধরেন। পূর্ব সুইজারল্যান্ডের একজন মুসলমান জনপ্রতিনিধি হিশাম মাইজার জানান, সুইজারল্যান্ডের সাধারণ
নাগরিকরা মসজিদে এসে ইসলাম সম্পর্কে ভালো ধারণা লাভ করেন। এর মধ্য
দিয়ে ইসলাম সম্পর্কে তাদের প্রচলিত ভুল ধারণা ভেঙে যায়। এমনকি অনেকেই ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং এক পর্যায়ে ইসলামের ছায়ায় আশ্রয় নেন।
দেশটিতে ইসলামের যাত্রা বেশি দিন আগের নয়। গত শতাব্দীর মাঝামাঝি প্রথমে সুইজারল্যান্ডে আরব দেশগুলোর পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়। সত্তরের দশকে প্রথম মুসলিম বসবাস শুরু হয়। মসজিদ ও বিভিন্ন ইসলামিক সেন্টার স্থাপিত হয় নব্বইয়ের দশকে। এ সময়ই বিভিন্ন দেশ থেকে মুসলিম নাগরিকরা এখানকার অভিবাসী হন। তবে সংখ্যায় অল্প হলেও এখানে বসবাসরত মুসলমানরা ধর্মেকর্মে বেশ আছেন।
-Collected

মতামত দিন