ইসলামিক গল্প নারী

একজন বিমানবালার কথা

বিমানের কেবিন ক্র মানেই এয়ার হোস্টেস নারীদের আধিপত্য। কড়া মেকাপে পণ্যের মত নিজেদের উপস্থাপন করে বিমানযাত্রীদের সেবা করাই তাদের কাজ। সঊদী এয়ারলাইন্সসহ সকল এয়ারলাইন্সেই একই অবস্থা। প্রায়ই বিব্রতবোধ করতে হয়। গতকাল ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরার পথে সুযোগ পেয়ে আমার স্ত্রী ইউএস বাংলার একজন সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর বিমানবালার সাথে কথা বলল এবং তাঁর পেশা সম্পর্কে জানতে চাইল। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বললেন, আমি পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করি ও ধর্ম মেনে চলার সাধ্যমত চেষ্টা করি।

পর্দা নিয়ে আলোচনা করলে তিনি বলেন, পর্দার বিধান পালন করতে না পারায় অপরাধ বোধ করি। আমরা কেবিন ক্ররা ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষকে বলেছি আমাদের একটা আব্রুর ব্যবস্থা করেন। কমপক্ষে যারা হিজাব করতে চায় তাদের জন্য ব্যবস্থা রাখেন। আশাকরি তারা ব্যবস্থা করবেন। আমার স্ত্রী শেষ বেলায় তাকে আরও নছীহত করল ভিন্ন কোন পেশা বেছে নেয়ার জন্য। তিনি যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথে শুনলেন এবং পরে পেছন থেকে শুনতে পেলাম আরেকজন বিমানবালার সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করছেন। তাতে মনে হল তিনি বেশ প্রভাবিত হয়েছেন।

স্ত্রীর মাধ্যমে একজন বিমানবালাকে এভাবে দাওয়াত দেওয়ার সুযোগ হওয়ায় যেমন খুশী হলাম, তারচেয়ে বেশী খুশী হলাম দাওয়াত গ্রহণে উক্ত বিমানবালার আন্তরিকতা ও দ্বীনের প্রতি অনুরাগ দেখে। এসব পেশার মানুষকে দেখে আমরা সাধারণত এড়িয়ে যেতে চাই। অথচ এদের মাঝেও দ্বীনের কথা বললে যে এমন ইতিবাচক প্রভাব পড়ে তা দেখে সত্যিই উৎসাহিত বোধ করলাম। আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন, যাদের সাথেই মিশি না কেন, কাউকে দূরের না ভেবে যদি আপন করে নিতে পারি এবং সুযোগমত দ্বীনের সত্য, সঠিক ও কল্যাণের দাওয়াত পৌঁছে দিতে পারি, নিঃসন্দেহে সমাজে এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বেই। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন

লেখকঃআহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব

মতামত দিন

কমেন্ট