ইসলামী শিক্ষা

কেউ যদি বলে ‘এসো জুয়া খেলি’ সে যেন সদকাহ করে!!!

জুয়া অনেক প্রকার হতে পারে। জুয়া শুধু প্রচলিত ক্যাসিনো বা ক্লাবেই সীমাবদ্ধ নয়। ফুটবল, ক্রিকেট অথবা অন্যান্য যে কোণো খেলায়ও মানুষ জুয়ায় বাজি ধরে। এমনকি লুডু, ক্যারান বোর্ড ইত্যাদির মাধ্যমেও হতে পারে। আর এগুলো সবই হারাম। জুয়া খেলা নিকৃষ্ট ও শয়তানী এবং ইসলামে নিষিদ্ধ একটি কাজ। জুয়ার মাধ্যমে শয়তান পরস্পরের মধ্যে বিদ্বেষ ও শত্রুতা সৃষ্টি করে এবং আল্লাহকে স্মরণ করা ও সলাত থেকে বিরত রাখে। কেউ যদি বলে ‘এসো জুয়া খেলি’ সে যেন এর কাফফারা হিসাবে সদকাহ করে।

জুয়ারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না মর্মে হাদীসে কঠিনভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

নিম্নে এ মর্মে কয়েকটি দলীল উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি ইনশাআল্লাহ। জুয়া খেলা ইসলামে নিষিদ্ধ একটি কাজঃ

দলীল নঃ ১

আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাঃ) মদ, জুয়া, কুবাহ (দাবা), গুবায়রা (গম বা ভুট্টা হতে প্রস্তুতকৃত মদ) থেকে নিষেধ করেছেন’’ আবু দাউদ ৩৬৮৫; মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৬৫২, ৪৫০৪ (আলবানি সহীহ বলেছেন)

দলীল নঃ ২

আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা মদপান করা, জুয়া খেলা এবং ঢোল তবলা বাজানো হারাম করেছেন এবং বলেছেন প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তু হারাম’’ আবু দাউদ ৩৬৯৬; মিশকাতুল মাসাবীহ ৪৫০৩ (আলবানি সহীহ বলেছেন)

দলীল নঃ ৩

আবু মুসা আশ’আরী (রাঃ) হতে বপ্রনিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’যে ব্যক্তি ‘নারদ’ খেলল, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নাফরমানী করলো’’ আবু দাউদ ৪৯৩৮; ইবন মাযাহ ৩৭৬২; মিশকাতুল মাসাবীহ ৪৫০৫ (আলবানি হাসান বলেছেন)

নোটঃ কুবাহ অর্থ কেউ কেউ তবলা করেছেন। গুবায়রা এক প্রকার মদ যা হাবশীরা ভুট্টা বা বাজরা হতে প্রস্তুত করতো। তা তাদের ভাষায় সুকুররাহ। ‘নারদ’ হচ্ছে গুটি দ্বারা এক প্রকার খেলা। এই খেলা এমনিতেই হারাম। আর যদি এর মাধ্যমে জুয়া খেলা হয় তাহলে তা আরও বড় পাপ হওয়ার ব্যাপারে সম্ভাবনা রয়েছে। জুয়া নিকৃষ্ট ও শয়তানী কাজ। জুয়ার মাধ্যমে শয়তান পরস্পরের মধ্যে বিদ্বেষ ও শত্রুতা সৃষ্টি করে। আর আল্লাহকে স্মরণ করা ও সলাত থেকে বিরত রাখেঃ

দলীল নঃ ৪

‘’হে বিশ্বাসীগণ! মদ, জুয়া আর আস্তানা ও ভাগ্য নির্ধারক তীর ঘৃণিত শয়তানী কাজ, তোমরা তা বর্জন করো, যাতে তোমরা সাফল্যমণ্ডিত হতে পার। মদ আর জুয়ার মাধ্যমে শয়ান তো চায় তোমাদের মাঝে শত্রুতা আর বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে, আল্লাহর স্মরণ আর সলাত থেকে তোমাদেরকে বাঁধা দিতে। কাজেই তোমরা এসব থেকে বিরত থাকবে কি?’’ মায়িদাহ ৫/৯০

কেউ যদি বলে ‘এসো জুয়া খেলি’ সে যেন সদকাহ করেঃ

দলীল নঃ ৫

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’যে ব্যক্তি বলে ‘লাত’ ও ‘উযযার’ কসম, সে যেন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে। আর যে ব্যক্তি তার সঙ্গীকে বলে, এসো জুয়া খেলি, তার জন্য সদকাহ করা কর্তব্য অথবা সে যেন সদকাহ করে’’ বুখারী ৪৮৬০, ৬১০৭, ৬৩০১, ৬৬৫০; মুসলিম ৪১৫২-(৫/১৬৪৭); আবু দাউদ ৩২৪৭; তিরমিযি ১৫৪৫; রিয়াদুস স্বালিহীন ১৮১৬; ইবন মাযাহ ২০৯৬; মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৪০৯

জুয়ারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে নাঃ

দলীল নঃ ৬

আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাঃ) বলেছেনাঃ ‘’মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান, জুয়ারী, অনুগ্রহ করে খোঁটা দানকারী ও সর্বদা মদপানকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ্য করবে না’’ মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৬৫৩ (আলবানি সহীহ বলেছেন)মহান আল্লাহ তায়ালা আমদেরকে সবরকম নিষিদ্ধ কাজ থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন।

তথ্যসূত্র:

মতামত দিন